সেকালে দুর্গোৎসবের ছুটিতে হাওড়া হতে এলাহাবাদ পর্যন্ত রেলওয়ে খুলেচিল, একালে রাতের লকডাউন আনলক হয়েচে। কোরোনা অ্যাতোকাল দিনমানে কেবল স্কুল, কালেজ, ইউনিভার্সিটিতে আর রাতের বেলা পথে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। পুজোয় সকলে ছুটি কচ্ছেন দেকে তারও ভ্যাকেশন নেয়ার সাধ হল, রাতে ইনফেকশনে ক্ষান্ত দিলে। তাই ছোট সরকার বাবু বিবিকে গিলে করা ধুতি পরে টেরি কেটে, কাঞ্জীভরম রুজ পমেটম সহকারে রাত জেগে ঠাকুর দ্যাকার লাইসেন্স দিলেন। জজসায়েবরা সরকারের অধিক বুদ্ধি ধরেন, তাই গোড়ায় প্যান্ডেলে ঢুকতে মানা কল্লেন। দূর হতে নেতা দ্যাকা যায়, ঠাকুর দ্যাকা যাবে না এ বা কি কতা? শুনে বাবু বিবি ও তেনাদের ছেলেপুলেরা ঘরে ঘরে আইন আদালতের চোদ্দ গুষ্টি উদ্ধার কত্তে লেগেছিলেন। ভ্যাক্সিনামৃত দু পাত্তরই নেয়া থাকলে মায়ের কাচে যেতে দেয়া হবে শুনে ঠান্ডা হলেন।

গ্যালো বারে অঞ্জলি দেয়া বাদ গিয়ে, সিঁদুর খেলা বন্দ হয়ে যে বাবু বিবি একটি বৎসর মনোকষ্টে ভুগেচেন, তেনারা ভ্যাক্সিন যে মা দুর্গারই দয়া, সে কতা শত মুখে বল্লেন। সেকুলার বাবু বিবি পুজোয় মটন বিরিয়ানি খাওয়া হবে বল্লে একটি বানরও এ বারে হিঁদু খতরে মে হ্যায় বলচে না, সে কতা স্মরণ করিয়ে দিলেন। অর্থাৎ কিনা মুখ্য সেবিকা আচেন তাই মটন আচে, বিরিয়ানি আচে, মা দুর্গা আচেন বল্লেও অধিক বলা হয় না। আশ্বিনের শারদ প্রাতে এই কতাটি ফের মনে করিয়ে দেয়া হল। তবে ভোলবার জো ছিল না। প্যান্ডেল হতে প্যান্ডেলে ঠাকুর দেবতা, মনিষীদের মাঝে তিনি বিরাজমান। তবে অ্যাতো যত্নআত্তি করেও পুজোয় মুখ্য সেবিকার মুখে লাইমলাইটটি টিকতে পেলে না। সেটি দেবীপক্ষ আরম্ভ হবার আগেই বাগানবাবু ও গার্লফ্রেন্ড মাস্টারনী টেনে নিলেন।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

সেকুলার-কমুনাল, চাষাদের গাড়ীর নীচে পিষে দেয়া, তেলের দাম, প্যান্ডোরার বাক্স নয়। তেনাদের ধেইধেইনাট্যম কলিকাতার সকল আলোচনার মূল হয়ে পল্ল। কেউ বল্লে দুটিতে ময়ূর ও ময়ূরীর মতন মিষ্ট লাগচে। দু চার জিমকেষ্ট বাগানবাবুর তাকিয়ার মত ভুঁড়ি নে ডান্স করবার ফিটনেস দেকে ভাবলে, বাপের মেলা টাকা খরচ করে অ্যাতো কসরত না করে বাবুর মোসায়েব হলেই চুকে যেত। এ সওয়ায় আর পাঁচজনের মতন রোল, চাউমিন খাওয়াও চলত। যে বাবুদের মেদের কারণে গৃহিণীর সনে ভগিনী সম্পর্ক হয়ে পড়েচে, তেনাদের পেত্যয় হল দোষটি তাঁদের নয়। অমনি নৃত্যপটিয়সী গার্লফ্রেন্ড পেলে তেনারাও তাণ্ডব কত্তে পারেন। তবে বাঙালীদের মদ্যে নিন্দুকের অভাব নেই। তেনারা বল্লেন পদ্মবনে দুটি মত্ত হস্তি নেত্য করচে, তা দেকে অ্যাতো লাইক কিসের? আরেক দল বল্লে পাবলিকের টাকায় পেটটি ঢাউস হয়েচে, ও ভুঁড়ি ফাঁসানো কর্তব্য। হিংসুটে বাবুরো বল্লেন ও যদি নাচ হয়, তবে মশার বিনবিনও ওস্তাদের আলাপ। পাগলের ঘ্যানঘ্যানও পোইট্রি। শুনে হুতোমের ঠাওর হল, কতাটি মোটে বুদ্ধিমানের মতন হয়নি। পোইট্রির সংজ্ঞাটি যে বদলে গ্যাচে বাবুরো খোঁজ রাকেন না। কোবতে লেকার এলিটিজম ঘুচিয়ে অ্যাকন জোর ডেমোক্রেসি চলচে। ছন্দ মিললেও হয়, না মিললেও হয়। অর্থ হলে কী, না হলেই কী? পা ও মাতা একত্র হাঁটলেও পোইট্রি, মাতা অধিক হাঁটলেও পোইট্রি। ক্লাসে শেষ বেঞ্চে বসে পড়ায় কান না দিয়ে কোবতে লেকার জন্যে যে বাবুরো বেত্রাঘাত সহ্য করেছিলেন, তেনারা এবার বুজতে পাল্লেন কেনো মাস্টারমশায় পইপই করে পোইট্রি লিখতে মানা করেচেন।

 

গান্ধ্যসুরমর্দিনী

থিমপুজোয় কলিকাতার বাবুরো ফি বৎসর জগতের সেরা প্রাইজ পেয়ে থাকেন। এবারেও অন্যথা হবার জো নেই। নর্থ পোল হতে সাউথ পোল অবধি দু পেয়ে জন্তুটির আমোদ হতে পেটের খিদে অবধি সকলি থিম হয়েচে। কোতায় মা দুর্গা ডিটেনশন ক্যাম্পে যাচ্চেন, কোতায় চাষাদের পা রয়েচে স্থির, চটি হাঁটচে। তা দেকে চাট্টি বানরের মা দুর্গার মান থাকল না ভেবে রাতে ঘুম হচ্চে না। তবে এবার এক সারপ্রাইজ থিম এসেচে। দেবীর নূতন রূপ। গান্ধ্যসুরমর্দিনী। দেবীর কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী সকলি গান্ধ্যসুর বধ কত্তে লেগেচেন। অ্যাতোদিনে জানা গিয়েচে সঙ্ঘাসুর নয়, গান্ধ্যসুরই আসল শত্তুর। অতেব দেশজুড়ে ওই অসুরটিকেই গাল পাড়া হচ্চে। দেবীর এই রূপটিই উপস্থিত হুতোমের ফেভারিট।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.