আধুনিক সভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে গণহত্যার উপর নির্ভর করে। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তব। মানুষ যত বেশি সভ্য হয়েছে, সভ্যতার তথাকথিত বিকাশের প্রয়োজনে গরিব প্রান্তিক মানুষের শোষণ তত বেড়েছে। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বললে “এ জগৎ মহা হত্যাশালা”।

জমি হারিয়ে ফসলের দাম না পেয়ে এবং ঋণের ফাঁদে স্বাধীন ভারতবর্ষে লক্ষ লক্ষ কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। সেই আত্মহত্যাকে আমরা কীভাবে দেখি? শুধুই আত্মহত্যা, নাকি খুন ?আত্মহত্যা, নাকি গণহত্যা? শাসকের অস্ত্রের ঝংকার এবং রক্তে ভেসে যাওয়া মাটি দেখলে তবেই আমরা গণহত্যা শব্দটা ব্যবহার করতে অভ্যস্ত। কিন্তু বছরের পর বছর কৃষকের আত্মহত্যা দেখে ভর্তি পেটে নিস্তব্ধ থাকা আমাদের, অর্থাৎ আমরা যারা বর্ণ এবং শ্রেণিগতভাবে সমাজের মতামত গঠন ও নিয়ন্ত্রণ করার মত অবস্থায় আছি, অবস্থান কতটা স্পষ্ট? বিভিন্ন কারণে কৃষক তাঁর নিজের জমি থেকে বিচ্ছিন্ন হন। অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক – সবরকম কারণই থাকে। একদিকে ফসলের দাম না পেয়ে মারা যান, অথবা এক অর্থে ফসলের ন্যায্য দাম না দিয়ে কৃষককে খুন করা হয়। অন্যদিকে নিজের জমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বহু কৃষক প্রবাসী শ্রমিক হতে বাধ্য হন ক্ষিদের জ্বালায়, সন্তানদের ভবিষ্যতের তাগিদে। এঁদের একটা অংশ শহরে এসে থাকতে শুরু করেন এবং তাঁদের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি ক্রমাগত আরও খারাপ হতে থাকে। শহরের বিভিন্ন বস্তি বস্তি অনুসন্ধান করলে কৃষকদের দুরবস্থার ইতিহাস আরও স্পষ্ট হয়। আরেক পক্ষ কাজের তাগিদে প্রবাসী শ্রমিক হয়ে কাজ করতে যায় বিভিন্ন কারখানায়। একটা সময় দেখা যায় শহরের উপকণ্ঠে গরীবের তৈরি বস্তি উচ্ছেদ হয় জমির লোভে, তৈরি হয় বিত্তবানের প্রমোদকুঞ্জ। আবার বিত্তবানদের এই বিলাসক্ষেত্র তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় ইঁট, বালি, পাথর সিমেন্ট; প্রয়োজন হয় প্রচুর শস্তা শ্রমিক। কৃষক থেকে প্রবাসী শ্রমিকে পরিণত হওয়া মানুষ নিজেদের জীবনের বিনিময়ে এই কাজগুলোই করছেন বছরের পর বছর। আমরা যারা সামান্যতম স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের জীবন অতিবাহিত করে ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার পরিকল্পনা করছি, তাদেরও মাথার উপরের ছাদ আর পায়ের তলার মার্বেল সভ্যতার বিকাশের স্বার্থে গণহত্যার ফল। গোটা জীবনে বন্দুক না দেখেও এই গণহত্যায় আমাদেরও অবদান কিছু কম নয় কিন্তু। তফাত বলতে আমরা নিজেদের অজান্তেই এই গণহত্যার অংশীদার। হাজার বছর প্রাচীন এই গণহত্যার নাম সিলিকোসিস (silicosis), যা একটা পেশাগত রোগ হিসাবেই পরিচিত।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

সভ্যতার নির্মাণের পথে তৈরি হওয়া প্রাচীনতম পেশাগত রোগগুলোর মধ্যে সম্ভবত সবথেকে উল্লেখযোগ্য মারণ রোগ সিলিকোসিস। মিশরে বেশ কিছু শ্রমিকের মমি পাওয়া গেছে, তাদের এক্স-রে করে প্রস্তরীভূত ফুসফুসের ছবি ধরা পড়েছে, যা সিলিকোসিসের লক্ষণ। মিশরের পিরামিড তৈরির যুগেও এই রোগের অস্তিত্ব দেখা গেছে।

সিলিকোসিস রোগটা ঠিক কী? এই রোগের মূল কারণ হল ক্রিস্টালাইজড সিলিকা, অর্থাৎ স্ফটিকাকৃতি বালি বা পাথরের কণা। যে সমস্ত জায়গায় বাতাসে এ ধরনের কণার উপস্থিতি বেশি, সেখানে দিনের পর দিন ধরে কাজ করলে ওই বালি অথবা পাথরের কণা ফুসফুসের উপরিভাগে জমতে থাকে। ধীরে ধীরে ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে সিলিকোসিস হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের খনি, পাথর খাদান, পাথর ক্রাশার, ইটভাটা, সিমেন্ট কারখানা, নির্মাণ শিল্প, পরিবহন প্রভৃতি কাজের সাথে যুক্ত শ্রমিকদের এই পেশাগত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যে কোনো নির্মাণকার্যে পাথর প্রয়োজন। তাই বিশ্বজুড়ে এই পাথর ভাঙার শ্রমের ভূমিকা অপরিসীম। গরিব মানুষ কার্যত নিজেদের অজান্তে এইসব কাজ করছেন কোনোরকম সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই। মারণ রোগ সিলিকোসিসের প্রকৃতপক্ষে কোনো চিকিৎসা নেই। কিছু ওষুধ এবং শেষপর্যন্ত চব্বিশ ঘন্টা অক্সিজেনের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকা। চিকিৎসা করাতে গিয়ে সিংহভাগ শ্রমিক নিজের শেষ সম্বলটুকুও বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই রোগে আক্রান্ত শ্রমিকদের মৃত্যুর সময়ে গড় বয়স থাকে ৩০-৩৩ বছর। পরিবারের উপার্জনকারী পুরুষের মৃত্যুর পর স্ত্রী, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয় প্রশ্ন চিহ্ন। সিলিকোসিসে আক্রান্ত এবং মৃত শ্রমিকদের পরিবার ক্রমাগত হারিয়ে যেতে থাকে কৃষ্ণগহ্বরে। সভ্যতার বিকাশে শুধুমাত্র শারীরিক নয়, সিলিকোসিসে আক্রান্ত পরিবারগুলোর মানসিক গণহত্যা চলতে থাকে।

সিলিকোসিসবিরোধী আন্দোলনের সাথে যুক্ত হওয়ার ইতিহাস

২০১২ সালে প্রথম একটি সংবাদপত্রে এই রোগের উল্লেখ খেয়াল করি আমরা কয়েকজন বন্ধু। তার আগে পর্যন্ত ওই নামটা পর্যন্ত জানতাম না। মিনাখাঁর গোয়ালদহ গ্রামে বহু মানুষ এই রোগে আক্রান্ত শুনে কিছুটা দান খয়রাতির উদ্দেশ্যে আমরা চাল, ডাল, আলু নিয়ে সেখানে পৌঁছই। আলাপ হয় সিলিকোসিসে আক্রান্ত শ্রমিক আবুল পাইকের সাথে। নাকে অক্সিজেন নল নিয়ে মিনাখাঁ হাসপাতালে শুয়েছিল আবুল। গ্রামে পৌঁছনোর পর গ্রামের মানুষের হাহাকার দেখে মনে হয়েছিল আফ্রিকার কোনো দুর্ভিক্ষপীড়িত এলাকায় পৌঁছে গেছি। চোখে পড়ছিল হাড়ের উপর স্রেফ চামড়া নিয়ে ঘুরে বেড়ানো কিছু যুবক, যারা এই রোগের শিকার।

গোয়ালদহ গ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে পরবর্তী দুবছর চালানো হল মেডিকেল ক্যাম্প, অসুস্থ হলে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রক্রিয়া। যত দিন যাচ্ছিল, খোঁজ পাচ্ছিলাম একের পর এক গ্রামের, যেখান থেকে যুবকরা একটু ভাল থাকার জন্য কাজ করতে গেছিল বিভিন্ন পাথর কারখানায়। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল অসুস্থ মানুষের সংখ্যার, মৃতের সংখ্যা। প্রথম দেখার তিন মাসের মাথায় আবুল মারা যায়। বিশ্বজিৎ, ক্ষুদে – মৃত্যুর তালিকায় যুক্ত হতে থাকে একটার পর একটা নাম। ক্রমেই আমরা বুঝতে পারলাম এই বিপুল সংখ্যক অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা করা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের দ্বারা সম্ভব নয়। আমরা এনজিও ব্যবসাকে কোনোভাবে মদত দেওয়ার পক্ষপাতি ছিলাম না। ফলে গ্রামবাসীদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নিই, সভ্যতা নির্মাণের জন্য দায়ী এই গণহত্যার দায় রাষ্ট্রকে এবং কারখানার মালিকদেরই নিতে হবে। শুরু হয় অধিকারের চেতনা তৈরি এবং অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াই।

উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন গ্রামের পাথর ভাঙার কারখানা যাওয়া প্রবাসী শ্রমিকরা গড়ে তোলেন সিলিকোসিস আক্রান্ত সংগ্রামী শ্রমিক কমিটি। নেতৃত্ব দেন আক্রান্ত শ্রমিকরাই। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে থাকে মৃত্যুর মিছিল। মিনাখাঁর, হাড়োয়া, দেগঙ্গা, ক্যানিং প্রভৃতি ব্লকের সিলিকোসিস আক্রান্ত সংগ্রামী শ্রমিকদের লড়াইয়ের ফলে শেষপর্যন্ত সরকার বাধ্য হয় সিলিকোসিস নীতি ঘোষণা করতে। তবে সে নীতি আজ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি কোনো অজ্ঞাত কারণে। নিজেদের তৈরি সংগঠনের ব্যানারের তলায় দাঁড়িয়ে দুই ২৪ পরগনার আক্রান্ত শ্রমিকরা নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। সমস্যা হল, অন্যান্য জেলার প্রবাসী শ্রমিকরা এই রোগ সম্বন্ধে সচেতন নন। ২০১৬ সালের এক সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী দুই ২৪ পরগনা বাদ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলায় ছয় লক্ষের উপর শ্রমিক সিলিকোসিসে ভুগছেন। অথচ রাষ্ট্র এবং বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন আশ্চর্যরকম উদাসীন এই পেশাগত রোগ এবং গণহত্যা নিয়ে। দীর্ঘ ধারাবাহিক লড়াই আন্দোলনের ফলে আজ বেশকিছু মানুষ এই রোগ সম্বন্ধে জানেন, কিন্তু সংখ্যাটা নগণ্য। সিলিকোসিস সম্পর্কে অজ্ঞানতাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন এনজিও এই রোগ নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা করে গেছে এবং সরকারের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসা এবং মৃত্যুর দায় এড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন সময়ে ওই এনজিওগুলোকে ব্যবহার করেছে।

গোয়ালদহ গ্রামের সিলিকোসিসে খুন হওয়া শ্রমিক নাসিরউদ্দিন মোল্লা তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন “এই পৃথিবীতে একটাই চাওয়া। বুক ভরে নিশ্বাস নিতে চাই।” যারা বেঁচে আছে মহামারী সিলিকোসিস কেড়েছে তাদের বাঁচার অধিকার। ফুসফুসে পাথরকুচি নিয়ে মৃত্যুর অপেক্ষায় ওরা। ভারতে সিলিকোসিস আক্রান্তের ছবিটা ভয়ঙ্করতম। এই মুহূর্তে ভারতে সিলিকোসিস আক্রান্তের সংখ্যা বেসরকারি মতে প্রায় দেড় কোটি। শ্রমিকরা আক্রান্ত এবং মৃত্যুপথযাত্রী হলেও অবৈধ পাথর খাদানগুলো বন্ধ হয়নি। এই মুহূর্তে দু কোটি বা তার বেশি মানুষ এই সব খাদানে কর্মরত। অদূর ভবিষ্যতে সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়াবে তিন কোটিতে। আক্রান্ত শ্রমিকের সাথে সাথে তার পরিবারও সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে। তিন কোটি শ্রমিকের যদি গড়ে পাঁচজনের পরিবার হয়, তাহলে সর্বস্বান্ত হওয়া মানুষের সংখ্যাটা দাঁড়ায় প্রায় পনের কোটি। এই রোগে মৃত্যুর হার ৪০%। শুধু পাথর খাদান নয়, ইটভাটা, সিমেন্ট কারখানা, অ্যাসবেস্টসের কাজ, বিভিন্ন খনিজের খাদান, পরিবহন শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিকসহ বিভিন্ন ধাতুর কাজের শ্রমিকরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা কোথায় যেতে পারে ভাবলে শিউরে উঠতে হয়।

আরো পড়ুন দেউচা-পাঁচামি খোলামুখ কয়লাখনি সর্বনাশের আঁতুড় ঘর

দেশে অসংখ্য মন্দির, মসজিদ, গির্জা আছে। সেসব নির্মাণ করতে ঈশ্বর, আল্লা বা যিশু নেমে আসেন না। সবটাই তৈরি করেন রক্তমাংসের শ্রমিকরা। ভারতের বেশিরভাগ বিখ্যাত মন্দিরের পাথর তৈরির কাজ চলে রাজস্থানের পিন্ডওয়ারাতে। সেখানকার প্রায় ২৩০টি ফ্যাক্টরিতে ১৫,০০০-এর বেশি শ্রমিক (আদিবাসী ও দলিত) কর্মরত, যাঁদের অনেকেই ভুগছেন সিলিকোসিসে। রাজস্থানের রাণীধারা, বাগধারি, কুন্দল, ধাপাভাস ইত্যাদি গ্রাম ‘বিধবা গ্রাম’ নামে পরিচিত। কারণ এই গ্রামগুলোর মহিলাদের স্বামীরা খুন হচ্ছেন মুনাফালোভী কারখানার মালিকদের হতে। খরচ কমাতে এবং মুনাফা বাড়াতে মালিকরা ওয়েট ড্রিলিংয়ের ব্যবহার করে না বা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাটুকু শ্রমিকদের দেয় না। বদলে শ্রমিকদের বলা হয় “ভগওয়ান কা কাম হ্যায়”, এই কাজ করলে তাদের পুণ্য হবে। অথচ বেশিরভাগ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে ৪০ বছর বয়সের মধ্যেই।

এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। আমেরিকার মত পুঁজিবাদী দেশ কিন্তু শ্রমিকদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে। সুদূর ১৯৩৮ সালেই আমেরিকান শ্রম বিভাগের তৈরি সিলিকোসিস নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও আজও ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। কিন্তু ২০২২ সালে ভারত সিলিকোসিস আক্রান্ত শ্রমিকদের ব্যাপারে কী করছে? সাম্প্রতিককালে ভারত থেকে দলিত শ্রমিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাচার এবং তাদের বন্ধক শ্রমিক হিসাবে কাজ করানোর ভয়াবহ ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বোচাসানবাসী শ্রী অক্ষয় পুরুষোত্তম স্বামী নারায়ণ সংস্থার অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কেনিয়ায় বহু মন্দির নির্মাণ হয়েছে। বড় বড় পাথরের ওই মন্দিরগুলো নির্মাণ করতে অত্যন্ত দক্ষ পাথর কাটার শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। সংস্থার এজেন্টরা ভারত থেকে ওইসব দেশে মন্দির নির্মাণের জন্য প্রধানত দলিত শ্রমিকদের নিয়ে যায়। তাঁদের অনেকেই সিলিকোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন।

এই লম্বা হতাশাজনক বিবৃতির পর কিছু আশার আলো দেখানো যাক। শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ফলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাধ্য হয়েছে কিছু মৃত শ্রমিককে চার লক্ষ টাকা এবং আক্রান্ত শ্রমিককে দু লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে, তবে সিংহভাগ শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ এখনো অন্ধকারে। সিলিকোসিস আক্রান্ত সংগ্রামী শ্রমিক কমিটি, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং অন্যান্য গণসংগঠন একসাথে গড়ে তুলেছে কোঅর্ডিনেশন কমিটি এগেনস্ট সিলিকোসিসে অ্যান্ড আদার অকুপেশনাল ডিজিজেজ। এরা একত্রে পশ্চিমবঙ্গে সিলিকোসিসের বিরুদ্ধে বৃহত্তর লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সিলিকোসিস গরিব মুসলমান, আদিবাসী এবং দলিতদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। কারণ অর্থনৈতিক এবং সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকার জন্য মূলত এঁরাই বাধ্য হন ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো করতে এবং প্রাণের ঝুঁকি আছে না জেনেই এই কাজগুলো করেন। আমরা যারা উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবর্গীয়, তাদের প্রথম দায় এই মানুষগুলোর ঋণ শোধ করা, আমাদের সভ্যতার বিশ্বকর্মাদের রক্ষা করা। আমাদের কাজ গরিব শ্রমিক, কৃষককে দয়ার পাত্র না করে অধিকারের চেতনা সৃষ্টি করা।

~মতামত ব্যক্তিগত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.