নকশাল। শব্দটাকে ঘিরে আজ এতদিন পরেও বাঙালির যতখানি অন্তর্লীন দ্বন্দ্ব, পক্ষে বিপক্ষে যতখানি রোম্যান্টিকতা এবং বৈরিতা প্রকাশ পায়, তাতে নিছক ইতিহাসের খাতিরেও কারোর পক্ষে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ কৌতূহলহীন থাকা মুশকিল। সেই কৌতূহলের বশেই সন্তোষ রাণার রাজনীতির এক জীবন হাতে তুলে নেওয়া। এই বই পড়ার আগে খবরের কাগজের কদাচিৎ টুকরো খবর আর মাঝেসাঝে এক আধটা ফিচার ছাড়া সন্তোষ রাণার লেখার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার বিশেষ সুযোগ ছিল না। তবে নকশাল আন্দোলন নিয়ে কিছু লেখাপত্র পড়ে আবছা আবছা ধারণা জন্মেছিল যে ডেবড়া-গোপীবল্লভপুরে সাতের দশকে প্রায়-মুক্তাঞ্চলের তিনি ছিলেন বেতাজ বাদশা। সেই সময়ের প্রান্তিক বাংলা থেকে উঠে আসা এক গ্রামীণ যুবকের মেধায়-মননে সর্বার্থে রাজ্য কাঁপানোর গল্পে নাগরিক মন অনেক এলোমেলো কল্পনার রসদ পেত। সেই রূপান্তর ঠিক কোন জাদুকাঠির ছোঁয়ায় সম্পন্ন হল তা জানার তাগিদও এই বই পড়তে শুরু করার পিছনে অবশ্যই ছিল।

তবে প্রথমেই বলে রাখা ভাল যে রাজনৈতিক তত্ত্বের নিরিখে এই বইকে বিচার করার সাধ্য অন্তত এই তত্ত্ব-অনভিজ্ঞ, রাজনৈতিক দর্শনজ্ঞানে বঞ্চিত পাঠকের বৌদ্ধিক সীমানার বাইরে। তাই এই বই নিয়ে লেখার কথা ভাবাও হয়ত বামন হয়ে চাঁদে হাত বাড়ানোর সাধ। তবু পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়েছে, এই বই যেন গোষ্ঠী রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এক অন্যতর কিছুর আভাস দিয়ে গেছে। সেই আভাসটুকু ধরে রাখার তাগিদেই লিখতে বসা।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

কী পেলাম এই বই থেকে? প্রথমত পাওয়া গেল স্বাধীনতার অব্যবহিত পরের আমলের এক গ্রামের জনজীবনের অন্তরঙ্গ ছবি। চাষবাস, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, ক্ষমতার বিন্যাস – সবদিক ছুঁয়ে গ্রামীণ জনজীবনের বিশদ বিবরণ। ভাষার মাধুর্য, কাব্যময়তা খুঁজলে হতাশ হতে হবে। কিন্তু নিজের দেখাটুকু ভণিতাহীনভাবে তুলে ধরার সৎ চেষ্টা চোখে পড়ে। যেমন যেখানে সন্তোষবাবু বলছেন

ছোটবেলায় দেখেছি, এই তেলিরা নিজেদের বর্ধমানিয়া (অর্থাৎ বর্ধমান থেকে আসা) একাদশ তেলি বলে পরিচয় দিতেন এবং জাতি-কাঠামোয় তাঁদের অবস্থান যে দ্বাদশ তিলিদের চেয়ে একধাপ উপরে সেটা দাবি করতেন। আমার ঠাকুরদা পঞ্চানন রাণার নামে স্বাধীনতার আগে তৈরি হওয়া একটি জমির দলিলে দেখেছি তার জাতি-পরিচয় ছিল ‘তেলি’। দেশভাগের আগে এই এলাকার মানুষের যোগাযোগ বেশি ছিল উড়িষ্যার সঙ্গে, কারণ এলাকাটা ময়ূরভঞ্জের রাজার জমিদারির মধ্যে পড়ত। দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে মেলামেশা বাড়ে। আমার ধারণা, সেই সময়ে লোকেরা নিজেদের বর্ধমানিয়া এবং একাদশ তিলি বলে দাবি করতে শুরু করেন। এখন আবার নিজেদের ‘তেলি’ বলে দাবি করছেন। কারণ পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি তালিকা তৈরি হওয়ার পর তাতে ‘তেলিরা’ ওবিসি বলে চিহ্নিত কিন্তু ‘তিলিরা’ নন। আমার ঠাকুরদার যে দলিলের কথা উল্লেখ করলাম সেই দলিল দেখিয়ে আমার বংশের লোকরাই প্রথম ওবিসি সার্টিফিকেট জোগাড় করেন। তারপর, গ্রামের প্রায় সব তেলিরাই সেই সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেছেন।

অকপট, বিশ্বাসযোগ্য বিবরণ! গ্রাম এবং সংলগ্ন এলাকার কথা, পরিবারের কথা তিনি যেভাবে যতখানি খুঁটিয়ে বিভিন্ন সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছেন, তার থেকে ভূমিজ ও ভূমিলিপ্ত এক অধুনালুপ্ত প্রজাতির নেতার ছবি ফুটে ওঠে। তবে অবশ্যই এই দেখার থেকে বাদ পড়ে গেছে অন্দরমহলের কথা। যে সময়ের গল্প তিনি বলেছেন, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এক রাজনৈতিক পুরুষের কাছ থেকে অন্যরকম কিছু আশা করাও হয়ত উচিত নয়। তবু যা পাওয়া যায়, তাও অনেক। যেমন তিনি তুলে এনেছেন গ্রামীণ বিচারসভার ছবি। কীভাবে সেই বিচারে প্রান্তিক মানুষদের উপর কারণে-অকারণে রোষের খড়্গ নেমে আসত। তিনি বলেছেন এই সভা আসলে সংখ্যালঘু দ্বারা সংখ্যাগুরুকে দমনের হাতিয়ার। এর পাশাপাশি তিনি নিকটবর্তী আদিবাসী সমাজের সিদ্ধান্তগ্রহণের ব্যবস্থা উল্লেখ করেছেন। সেখানে সকলের আলোচনায় অংশগ্রহণ আবশ্যিক এবং সকলে একমত না হওয়া অবধি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রথা। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “শ্রেণিহীন আদিবাসী সমাজ থেকে শ্রেণি ও জাতিবিভক্ত সমাজে উত্তরণ হয়তো ইতিহাসের অনিবার্য গতি। কিন্তু একইসঙ্গে এটা ছিল একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে একটা দমনমূলক ব্যবস্থায় রূপান্তর।” সেই ছয়ের দশক থেকে অনেকবার ঘড়ির কাঁটা পুরো ঘুরে এসেছে। তাও আজও এ কথা ভুল বলে প্রমাণ করা যায় কি?

বরং যা অবাক করে, তা হল গ্রামের জীবন বা ঝাড়গ্রামের ছাত্রজীবনের তুলনায় প্রেসিডেন্সি কলেজের জীবনের কথা এই বইতে খুবই সামান্য। তাঁরই সমসাময়িক আরেক গ্রামের ছেলে, বীরভূম থেকে আসা অসীম চট্টোপাধ্যায়ের লেখা নকশালবাড়িনামা বইতে তাঁর কলেজজীবনের যতখানি বিবরণ মেলে, তা থেকে স্পষ্ট ধারণা করা যায় প্রেসিডেন্সি ও তখনকার ছাত্র আন্দোলন সম্পর্কে। সন্তোষবাবুর বইতে কিন্তু সেই প্রেসিডেন্সি পর্বের উপস্থিতি খুবই সীমিত। প্রশ্ন জাগে, তাহলে কি প্রেসিডেন্সির নাগরিক বৈদগ্ধ্য শুধু কিছু নাগরিক বা নাগরিক হয়ে উঠতে চাওয়া ছাত্রের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল? না হলে সেই সময়ের গর্বের প্রেসিডেন্সির বিখ্যাততম তারকাখচিত পদার্থবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক তথা সহপাঠীদের কথা ৩০০ পাতার বইয়ের মাত্রই দেড় পাতায় এঁটে যায় কেন? অথবা কোথাও কি ব্যক্তি হিসাবে নিজের চাওয়া-পাওয়ার হিসাবের গরমিল এই অনুপস্থিতির পিছনে লুকিয়ে আছে? সেইসঙ্গে ব্যক্তিগত পাঠে এও মনে হয়েছে, লেখকের জীবন-সঞ্জাত, ইতিমধ্যেই সঞ্চিত বিপুল অভিজ্ঞতার সঙ্গে কীভাবে তত্ত্বের মিশেলে তাঁর রাজনৈতিক পথ নির্দিষ্ট হল, তাও যেন খানিক আবছা রয়ে গেল। ভালভাবে বোঝা হল না তাঁর রাজনৈতিক প্রস্তুতির কথাও। তাই ১৯৬৭ সালে তাঁর গবেষণা অসমাপ্ত রেখে একাকী গোপীবল্লভপুরে ফিরে গিয়ে কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্তও কেমন আচমকা ঘটল বলে মনে হয়।

বরং অনেক বেশি বাস্তবের মাটিতে পা রাখা অন্তর্দৃষ্টির হদিশ মেলে যখন দেখি তিনি বলছেন, বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংগ্রামী মেজাজ একরকম নয়। সেই প্রসঙ্গে বলছেন, ভারতীয় সমাজে “রয়েছে সামাজিক অবস্থানের নানাবিধ ধাপ। সামাজিক উৎপাদনে কোন ব্যক্তি কীভাবে অংশগ্রহণ করবে এবং ফলত সামাজিক উৎপন্নের কতখানি অংশ সে ভোগ করবে তা অনেকটা নির্ভর করে সে কোন ধাপে জন্মেছে তার উপর।” সে কারণে তাঁর দেখায়, ক্ষমতাবান মধ্যজাতিদের সঙ্গে লেপ্টে থাকা বাগদিরা তুলনায় কম সংগ্রামী। ভারি যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা।

তিনশো পাতার এই বইতে জায়গায় জায়গায় এইরকম ভিন্ন ভিন্ন ঝলক পাঠককে জোর করে ভাবতে বসায়। জাতিব্যবস্থার বিন্যাসের সঙ্গে শোষণের ঘনিষ্ঠ যোগের কথা অথবা জাতি-বর্ণ-পরিচিতি বা লিঙ্গগত বৈষম্য তথা শোষণের অবসানও যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের লক্ষ্য হতে পারে – এই কথাগুলো এ দেশে বহুল প্রচলিত বাম চিন্তাধারার সামান্য যেন বেঁকে যাওয়াই মনে হয়। অবশ্য মেয়েদের সমস্যা যে এক বিশাল সামাজিক সমস্যার পাহাড় হলেও সেদিকে বামপন্থীদের যথেষ্ট নজর নেই – এই অভিযোগ যখন লেখক করেন, তখন তাঁর প্রতি অনেকটা অতিরিক্ত ভালবাসা জন্ম নেয়। মনে পড়ে যায়, এদেশে মন্ডল কমিশনের বিরোধিতায় প্রধান বাম-ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রবল বিরোধিতার ইতিহাস। অর্থনৈতিক বৈষম্য ছাড়া আর কোনো বৈষম্যকে দেখতে না পাওয়ার সমস্যা আজও ‘Money is the new caste” মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ নাগরিক বঙ্গসমাজে প্রকট। অথচ মন্ডল কমিশনের সর্বভারতীয় প্রেক্ষিতে লেখা রিপোর্ট কোনোদিন অন্তর দিয়ে নিজে পড়ে থাকলে এতখানি বিরোধিতা সম্ভব ছিল কিনা সে প্রশ্ন হাওয়ায় ভাসতেই থাকে। বিশেষত, কদিন আগেই কাগজে এক সুলেখক চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে এক খবরে যখন প্রকাশ পায় যে সেই সংবেদনশীল মানুষটাকেও তাঁর জাতের কারণে এই ২০২৩ সালেও নিচু জাতের দূষিত রক্তের মানুষ বলে অভিহিত হতে হয়েছে, তখন আরও বেশি করে পিতৃতান্ত্রিক জাতিগত ক্ষমতার বন্টনের ইতিহাসের দিকে নজর পড়ে।

নকশাল আন্দোলনের শ্রেণিশত্রু খতমের লাইন বনাম গণসংগ্রাম থেকে বিচ্যুতি নিয়ে নকশাল সংগঠনগুলোর একাংশের দ্বিধা সম্পর্কে সন্তোষবাবু বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কারণ গোড়ায় নকশালবাড়ি আন্দোলন তাঁদের উজ্জীবিত করলেও, পরে তাঁরা ছিলেন চারুবাবুর খতমের পথের বিরোধী। যদিও এই লেখা থেকে সেই সময়ের অবিশ্বাসী রাজনীতির ৩৬০ ডিগ্রি দর্শন হয় না, বরং একে খণ্ডচিত্রের মর্যাদা দেওয়াই শ্রেয়। তবু ভিন্ন ভিন্ন সূত্র ধরে যে গবেষক অখণ্ড চিত্র তৈরি করতে আগ্রহী, তাঁর কাছে নিশ্চয়ই এই বইয়ের ১৯৬৮ থেকে ১৯৭১ সাল অবধি, বা আরও একটু বাড়িয়ে দেখলে, ১৯৭৭ সালে সন্তোষবাবুর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তথা সংসদীয় রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার শর্তে কারামুক্তির পর্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে একদলীয় প্রায়-স্বৈরতান্ত্রিক আধিপত্যের বিপরীতে তৃণমূল স্তর থেকে উঠে আসা, স্বশক্তিকরণের চাহিদায় গড়ে ওঠা গণসংগ্রামের প্রতি তাঁর অকুন্ঠ সমর্থনের কথা এই বইতে বারবার এসেছে।

আরো পড়ুন মাওবাদী দমনের নামে মধ্য ভারতে ঠিক কী চলছে? অতি সাম্প্রতিক ঘটনার প্রিজমে

এর পরবর্তী পর্বে এই আত্মজীবনীতে মূলত তাঁর ভোটে অংশগ্রহণ এবং বিবিধ জাতীয় ইস্যুতে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথা লিপিবদ্ধ আছে। সেই সূত্রে তখনকার বিভিন্ন বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং শাসক বামফ্রন্টের কিছু সমালোচনাও রয়েছে। এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে সিপিএমপন্থীদের বিবিধ নকশালপন্থী সংগঠন সম্পর্কে তুমুল বিরাগের কথা। এমনকি পরবর্তীকালে নীতির প্রশ্নে অজস্র টুকরো হয়ে যাওয়া অতিবাম গোষ্ঠীগুলোর কেউ কেউ সন্তোষ রাণা-ভাস্কর নন্দী গোষ্ঠীর পুঁজিবাদীদের থেকে অর্থসাহায্য নিয়ে গ্রাম গঠনের কাজের বিরুদ্ধে তুমুল নীতিগত আপত্তিও তোলে। নকশাল নেতা কিষেণজি একদা সন্তোষবাবুকে বিপ্লবের পথ বর্জন করা বুর্জোয়া গণতন্ত্রের ধ্বজাধারী বলেও ধিক্কার দিয়েছিলেন। এইসব বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে সন্তোষবাবুর নিজের নৈতিক বক্তব্য জানা গেল না – এই দুঃখ এ বই পড়ার পরেও রয়ে গেল। যেমন এই বইয়ের পরিধির বাইরেই থেকে গেল, আপাদমস্তক পুঁজিবাদী আনন্দবাজার গোষ্ঠী যখন ২০১৮ সালে তাঁর এই বইকে আনন্দ পুরস্কারে ভূষিত করে, তখন সেই খবর পেয়ে তাঁর আত্মমন্থনের ফলাফল।

এ বই বস্তুত শেষ হয়েছে আটের দশকের মাঝামাঝি এসে। তাই আগুনখেকো রাজনৈতিক নেতার শেষদিককার কাজকর্মের বিশদ বিবরণ এখানে মেলে না। যদিও তাঁর প্রজ্ঞার পরিণতির ছাপ ছড়িয়ে আছে গোটা বই জুড়েই। তাঁর অভিজ্ঞতামথিত রাজনৈতিক দিকনির্দেশ সকলের পছন্দ না হতে পারে, তা নিয়ে বহুবিধ তাত্ত্বিক বিতর্ক হতেই পারে, তবু তাঁর প্রান্তিকতার মাটি ছুঁয়ে থাকা কথাগুলো বিনা বিবেচনায় উড়িয়ে দেওয়ার নয়।

একথা অবশ্যই মনে রাখার, যে একটা আত্মজীবনীতে একটা নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণেরই প্রতিফলন দেখা যায়। সেখানে সাধারণভাবে কোন পূর্ণ সত্যের অনুসন্ধান হয় না। সেই সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই যে কোনো আত্মজীবনী হাতে তুলে নেওয়া উচিত। সেই সীমাবদ্ধতা মাথায় রাখলে এই বইয়ের ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হীরকখণ্ডসম আত্মচিন্তন নিতান্ত সাধারণ পাঠককেও নিজের মনের গভীরে ডুব দিয়ে নিজস্ব অভিজ্ঞতার সঙ্গে তত্ত্বকথাকে মিলিয়ে দেখতে উৎসাহ দেয়। এই বইয়ের নানাবিধ সার্থকতার মধ্যে এটাও হয়ত অন্যতম।

রাজনীতির এক জীবন
লেখক: সন্তোষ রাণা
প্রকাশক: আনন্দ পাবলিশার্স
মূল্য: ৪০০ টাকা

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.