নিতান্ত ভয়ে ভয়েই সেদিন রবীন্দ্রনাথের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন পঙ্কজকুমার মল্লিক। যে গান নিয়ে কবির নিপুণ অধিকারবোধ, সেই গানকে কি তিনি বাংলা ছায়াছবিতে ব্যবহার করার অনুমতি দেবেন? সেটা বিশ শতকের তিনের দশক, তার অল্প আগেই চলচ্চিত্র মাধ্যমটি নির্বাক থেকে উত্তীর্ণ হয়েছে সবাকে। নায়ক-নায়িকাদের কথা বলা গান গাওয়া – সবই এখন দেখা সম্ভব পর্দায়। সেই যুগমুহূর্তে পঙ্কজ মল্লিক দায়িত্ব পেয়েছিলেন নিউ থিয়েটার্স প্রযোজনার মুক্তি (১৯৩৭) ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করার। ছবির নায়ক-নায়িকা সে যুগের বিখ্যাত জুটি – প্রমথেশ বড়ুয়া আর কানন দেবী।
সেই শুরু। পঙ্কজকুমারই প্রথম ভেবেছিলেন বাঙালির এমন একটি সম্পন্ন সাঙ্গীতিক ভাঁড়ারকে ছবিতে কাজে লাগানোর কথা। অবশ্য খেয়াল রাখতে হবে, গত শতকের তিনের দশক পর্যন্ত ৭০ পেরনো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে মাপের সব গান লিখে ফেলেছিলেন, বাংলা ছবি তার তুলনায় নিতান্তই লিলিপুট। তবু মনের সমস্ত জানলা খুলে রাখায় যিনি আজীবন বিশ্বাস করে এসেছেন, সেই রবীন্দ্রনাথ টের পেয়েছিলেন যে সবাক চলচ্চিত্র এমন এক মাধ্যম, যার শরীরে রয়েছে অসীম সম্ভাবনা। এই মাধ্যমে তাঁর গান ব্যবহৃত হলে সেই অভিঘাতে শান্তিনিকেতনের চৌহদ্দি ছাড়িয়ে জন্মান্তর ঘটে যাবে সে গানের। ঘটলও তাই। মুক্তি ছবিতে রবীন্দ্রনাথের গান বাস্তবিকই মুক্তি ঘটিয়ে দিল ওই ‘আশ্রমিক’ গন্ধমাখা গানের, যাকে কেউ কেউ তখনই ‘প্যানপ্যানানি’ বলে মনে করতেন। এরপর বাংলা চলচ্চিত্রকে বারবার হাত পাততে হয়েছে তাঁর গানের কাছে। কমবেশি ২৫০ রবীন্দ্রনাথের গান এখন অবধি ব্যবহার হয়েছে বাংলা ছবিতে।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
তবে ব্যাপার হল, ফিল্মের গানের ক্ষেত্রে এই কুবেরের বিষয়আশয় কাজে লাগানোর নান্দনিক ফন্দিফিকিরগুলো গোড়ার দিকের চলচ্চিত্র নির্মাতারা তেমন বুঝতে পারেননি। আর বাংলা সিনেমার সেই আড়ষ্টতার যুগে এই বোধও সেইভাবে জাগেনি যে যতই সেরা সেরা রবীন্দ্রনাথের গান আমাদের সিন্দুকে থাকুক, তার ব্যবহারে সংযম থাকা দরকার। কারণ ছবিতে সের দরে গান ঢুকিয়ে দিলেই তা ভাল ছবি হয় না। সিনেমার প্রয়োজনে গান, গানের প্রয়োজনে সিনেমা নয়। ফলে বাংলা ছবিতে রবীন্দ্রনাথের গান ব্যবহারের সূত্রপাত হওয়ার পরেও অন্তত ৩০ বছর এ বিষয়ে চলচ্চিত্রকারদের ণত্ব-ষত্ব জ্ঞান তেমন ছিল না। স্বয়ং পঙ্কজকুমার যে এত গান তাঁর পরিচালিত ছবিতে ব্যবহার করেছেন, তার সবই প্রত্যেক ক্ষেত্রে ফিল্মের স্বার্থে – তাও ভরসা করে বলার জায়গা নেই।
রবীন্দ্রনাথের গানকে তাঁর উপযুক্ত মূল্য ও প্রেক্ষিতে যদি কেউ প্রথম বাংলা ছবিতে ব্যবহার করে থাকেন, তিনি তপন সিংহ। কোথাও কোথাও গানের বুদ্ধিদীপ্ত প্রয়োগ হয়েছে তরুণ মজুমদার, অজয় কর, পূর্ণেন্দু পত্রীর হাতে। তপন সিংহের অতিথি (১৯৬৫), হাটে বাজারে (১৯৬৭) ছবিতে রবীন্দ্রনাথের গানের প্রয়োগ উপভোগ্য। কিন্তু আলাদা করে মনে পড়ে যায় আপনজন (১৯৬৮) ছবির সেই দৃশ্যের কথা, যেখানে এলাকার ‘অন্ধকার’ জগতের ছেলেরা পাড়ার মধ্যে একখানা বোম নিয়ে নিজেদের মধ্যে লোফালুফি খেলে। সেখানে ব্যবহার করা হয় ‘আলো আমার আলো ওগো’ গানটি।
সুতীব্র বিরোধাভাসে এই গান ছবিকে উত্তীর্ণ করে অন্যমাত্রায়। তরুণ মজুমদারের ছবি মানেই যে একগুচ্ছ রবীন্দ্রনাথের গানের ডালি, এ ছিল প্রায় স্বতঃসিদ্ধ। তবে গানকে সরাসরি চরিত্রের চালচলন ও প্রতিক্রিয়ার ঢেউয়ে ভাসিয়ে দিয়ে ম্যাজিক দেখাতেন তিনি। নিমন্ত্রণ (১৯৭১) ছবিতে ‘থিম সং’ হিসাবে ‘দূরে কোথায় দূরে দূরে’-র সুরকে বারবার ফিরিয়ে আনা আসলে পরিচালকের বিবৃতি। আর বিপুল জনপ্রিয় দাদার কীর্তি (১৯৮০) ছবির নায়ক চরিত্রের নায়িকার প্রতি আধোজাগা প্রেমের ফুটে ওঠায় ‘চরণ ধরিতে দিও গো আমারে’ অব্যর্থ নিক্ষেপ।
তবে একখানা দু-আড়াই ঘন্টার ছবিতে আট-দশখানা গানের প্রয়োগ কিছু কিছু সময় যেন ক্লান্তিকর। আটের দশকে ওই ছবির দশটি গানের একটি রেকর্ড বেরিয়েছিল, বিপুল ছিল তার বিক্রি। সেই সময় ওই গানগুলিকে ‘দাদার কীর্তির গান’ বলে চিনতেন অধিকাংশ দর্শক, রবীন্দ্রনাথের গান বলে আলাদা করে নয়। তরুণের আলো (২০০৩) ছবিতেও অত্যন্ত সুপ্রযুক্ত হয়েছে ‘শ্রাবণের ধারার মতো’ গানটি।
কিন্তু একটা ছবিতে অত গান? একটু থামতে পারতেন কি? একইভাবে তপন সিংহ তাঁর শেষ ছবি আজব গাঁয়ের আজব কথা (১৯৯৮)-তে রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে একটু কাঁচামি দেখিয়েছেন, যা তাঁর থেকে প্রত্যাশিত ছিল না।
এতক্ষণ আমরা বাংলা ফিল্মের তিন কিংবদন্তী সত্যজিৎ-মৃণাল-ঋত্বিক বিষয়ে কিছু বলিনি। তার কারণ তাঁরা যে ধারার ছবিতে বিশ্বাস করতেন তাতে সঙ্গীতের ভূমিকা থাকলেও আলাদা করে গানের ভূমিকা তেমন ছিল না। সত্যজিৎ রায় নিজেই বলেছেন, এমনভাবে তিনি গান ব্যবহার করতে চান যা ছবির শরীরে সামান্যতম মেদেরও জন্ম না দেয়। পথের পাঁচালী (১৯৫৫) ছবিতে কথাই বা কতটুকু? এহেন সত্যজিৎ এমনকি রবীন্দ্রনাথের পাঁচটি গল্প, উপন্যাস নিয়ে যখন ছবি করেন, তখনো তাঁর গান ব্যবহারের সংযম খেয়াল করার মত। রবীন্দ্রনাথের গানের আবেদন এমনিতেই প্রবল। কিন্তু এই প্রাবল্য যাতে ছবির নির্মাণকে এতটুকু টোল না খাওয়ায় সে বিষয়ে তিনি ছিলেন বৌদ্ধিকভাবে সচেতন। মৃণাল সেনের চিত্রভাবনা যে প্রখর বাস্তববাদের উপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাতে তাঁর চরিত্রগুলির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের গান ঠিক মানায় না। তিনি সে চেষ্টাও করেননি। ভালই করেছেন। কারণ ছবিতে রবীন্দ্রনাথের গান থাকলে বাঙালি মধ্যবিত্তের একটি অংশের কাছে সে ছবি ভাল বিক্রি হয় – এমন এক স্বতঃসিদ্ধ ধারণা চালু ছিল। ‘বছরে তিরিশবার শ্যামা শাপমোচনের অশ্রুমোচন’ করা বাঙালি সিনেমার পর্দাতেও প্রিয় নায়ক-নায়িকার গলায় রবি ঠাকুর শুনতে চান। এমনকি কোনো নিভৃত দৃশ্যে যখন বাজানো হয় সেই গান, তার সঙ্গে বেজে ওঠে গানের যন্ত্রানুষঙ্গ হিসাবে তালবাদ্য, সুরবাদ্য। এঁরা কি ক্যামেরার ফ্রেমের আড়াল থেকে প্রেমদৃশ্য অবলোকন করেন আর তেড়ে তবলা, এস্রাজ, বাঁশি বাজান? সত্যজিৎ তাঁর ছবিতে কক্ষনো এই ভুল করেননি।
ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গীতবোধ ছিল অতি উচ্চমানের। পুনের ফিল্ম ইন্সটিটিউটে অধ্যাপনা করার সময়ে নিজের ছাত্রদের নিয়ে তিনি চলে যেতেন শহরের প্রান্তে। ঝোপঝাড়, ঝিঁঝিঁর আওয়াজ, ঝুপড়ি চায়ের দোকান, সেখানে হয়ত রেডিওতে বেজে চলেছে কোনো আঞ্চলিক গান। তিনি বলতেন, এই হল ‘ন্যাচারাল সাউন্ডস্কেপ’। তাঁর ছবিতে এই ভাবনার ছায়াই বেশি। অথচ তিনিই একমাত্র পরিচালক, যিনি তাঁর তিনটি ছবিতে রবীন্দ্রনাথের গান ব্যবহার করেছেন অত্যন্ত শৈল্পিকভাবে, আর গান দিয়ে ছবির অভিপ্রায়কে উন্মোচিত করেছেন মহত্তর ব্যঞ্জনায়। তার মধ্যে মেঘে ঢাকা তারা (১৯৬০) ছবিতে ব্যবহার করা ‘যে রাতে মোর দুয়ারগুলি’, চলচ্চিত্রে গানের প্রয়োগের পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম দৃষ্টান্তের অন্যতম।
কারণ ওই গানের দৃশ্যায়নের ঢংটিই অনন্য। ঘরভরা অন্ধকারে নীতা আর তার দাদার বিষণ্ণ কথোপকথনের মধ্যে ছোটবোনের বাসরে গাইবার জন্যে অনুশীলন শুরু হয় এই গানের। প্রচণ্ড এক ঝড়ের ইশারা, আলো কাঁপছে। গানের শেষদিকে ভেসে আসে শপাং শপাং চাবুকের শব্দ। উদ্বাস্তু পরিবারের বিধ্বস্ত মেয়ে হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে। গানই যেন বিজয়গড় কলোনির নীতাকে করে তোলে কুমারসম্ভব কাব্যের উমা। গানই জানান দেয় – আমরা আসলে আমাদের মেয়েকে হত্যা করলাম। এরকম ইতিহাস বারবার তৈরি হওয়ার নয়।
রবীন্দ্রনাথের গানের একটা সুরকে ফিল্মের ‘থিম সং’ হিসেবে সত্যজিৎ ব্যবহার করেছেন চারুলতা (১৯৬৪) ছবিতে। এ বেশ অভিনব সংযমের উদাহরণ। একই ঘটনা ঘটেছে ঘরে বাইরে (১৯৮৪) ছবিতে। আসলে কাহিনির একটি সুরের মানচিত্র এখানে ব্যক্ত করা হয়। তবে রবীন্দ্রনাথের গানকে একেবারে ভিন্নভাবে প্রয়োগ করার তিনটি মোক্ষম দৃষ্টান্ত আছে সত্যজিতের ছবিতে – কাপুরুষ (১৯৬৫), জন অরণ্য (১৯৭৬) ও কাঞ্চনজঙ্ঘা (১৯৬২)। কাপুরুষ ও মহাপুরুষ ছবির কাপুরুষ অংশে প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে আচম্বিত দেখা হওয়ার পরে নায়িকা যখন তার বর্তমান স্বামীর সঙ্গে পাহাড়ি পথে বেড়াতে বেরোয়, খুব নিচু গলায় সে গায় ‘এ পথে আমি যে গেছি বার বার’। কিন্তু পুরোটা নয়, প্রথম দুলাইন এবং তাও যন্ত্রানুষঙ্গ ছাড়া একেবারেই স্বগতগায়ন। এইটুকুতেই যেন চৌম্বক শক্তিতে ফিল্মের শরীরে জেগে ওঠে ভিন্ন এক সম্পর্কের বিভা, যার যোজক হয়ে থাকেন রবীন্দ্রনাথ। ঠিক একইভাবে জন অরণ্য ছবির শেষে সোমনাথ যখন টের পায়, বাণিজ্যের স্বার্থে কী এক অন্ধকার দুনিয়ার সঙ্গে ক্রমশ জড়িয়ে যাচ্ছে, তখন খুব সন্তর্পণে রাতে বাড়ি ফেরে সে। ঠিক সেইসময় বারান্দায় বসে থাকা তার বৃদ্ধ পিতার হাতে ধরা রেডিওয় বাজতে থাকে ‘ছায়া ঘনাইছে বনে বনে’। ব্যাকরণগতভাবে বর্ষার গান, অথচ গানের কথা আর সুর ছিন্নভিন্ন করে দেয় পুরো পরিস্থিতিকেই। এইটিই সৎ চলচ্চিত্র পরিচালকের কাজ।
কাঞ্চনজঙ্ঘা ছবিতে রায়বাহাদুর স্বামীর পারিবারিক কর্তৃত্বের চাপে নিজের সত্তাকে হারিয়ে ফেলা তাঁর স্ত্রী দার্জিলিং ম্যালের নিভৃতে বসে যখন গেয়ে ওঠেন ‘এ পরবাসে রবে কে’ – সেই উচ্চারণ একেবারেই তাঁর নিখাদ অনুভব, সেখানে কোথাও রবীন্দ্রনাথ নেই। ছবিটি দেখতে দেখতে শিউরে উঠি, এই পরিস্থিতিতে যদি কোনো সংলাপ লিখে ফেলতেন সত্যজিৎ, সে তো হত এক বিপর্যয়! কথা যেখানে ফুরোয়, সুরের শুরু সেখানেই। কাঞ্চনজঙ্ঘা তৈরি না হলে এই আপ্তবাক্যে ভরসা রাখা মুশকিল হত। সত্যজিৎ আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছেন।
উত্তর-বিশ্বায়ন যুগে বাংলা সিনেমার দৃষ্টি ও ভঙ্গি সবই বদলে গেল এক লপ্তে। আর এর মধ্যেই রবীন্দ্রনাথের গানের উপর থেকে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি। রবীন্দ্রনাথের গান ছবিতে ব্যবহার আরও সহজ ও বাঁধনহারা হয়ে পড়ল। কথাটা ওঠে এই কারণে যে, সত্যজিৎ রায় তাঁর শেষ ছবি আগন্তুক (১৯৯১)-এ যখন ‘বাজিল কাহার বীণা’ ব্যবহার করার কথা ভাবেন তখন সেই গানের রেকর্ডিং সঙ্গীত সমিতি প্রাথমিকভাবে অনুমোদন করেনি। সেটা ১৯৯০-৯১ সাল, তখন বাংলা সিনেমায় সত্যজিতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধতা করা ছিল দুঃসহ স্পর্ধা।
অথচ অঞ্জন দত্ত যখন তাঁর সিনেমায় কেবল নিরীক্ষার নামে ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’ গানটির সর্বস্ব হরণ করলেন তখন কেউ রা কাড়ল না। হায় এ কি সমাপন!
তবে পরের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে গৌতম ঘোষ,অপর্ণা সেন, ঋতুপর্ণ ঘোষ বা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ যথেষ্ট মেধাবী। নানান মোচড়ে তাঁরা বার করে এনেছেন রবীন্দ্রনাথের গানের নানা রং। পারমিতার একদিন (২০০০) ছবিতে সনকা চরিত্রটির মৃত্যুর পরে মেয়ে খুকুর অসহায়তার পটভূমিকায় ‘বিপুল তরঙ্গ রে’ গানটির ব্যবহার আমাদের অনেকেরই স্মরণে আছে।
ঋতুপর্ণ ঘোষের দোসর (২০০৬) ছবিতে গানের প্রয়োগও পরিচালকের মতই দীপ্ত। সাম্প্রতিককালে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের অর্ধাঙ্গিনী (২০২৩) ছবিতে ‘জীবন যখন ছিল ফুলের মতো’ গানটি অসম্ভব ব্যঞ্জনাময়।
আরো পড়ুন হাল আমলের রবীন্দ্রসঙ্গীত: প্রিলিউড, ইন্টারলিউডের অত্যাচার
আসলে রবীন্দ্রনাথের গানের বিপুল ভাণ্ডার ছবিতে কাজে লাগানোর মত পরিচালক আজও বাংলা সিনেমায় বিরল নন। তবে একইসঙ্গে এমন অপার মণিমুক্তো এত সুলভ বলে তার মেধাহীন কুৎসিত প্রয়োগও যে হয় না তা নয়। ঠিক ছবি না হলেও, বছর কুড়ি আগে থেকে ‘মিউজিক ভিডিও’ নামের এক জাতের জিনিসের উপদ্রব ঘটেছে বাংলা বাজারে। আশ্চর্য এই যে, রবীন্দ্রনাথের গানের মিউজিক ভিডিও তৈরি করার উৎকট দুঃসাহস কেউ কেউ দেখিয়েছেন। এমনই এক ভিডিওতে ‘চক্ষে আমার তৃষ্ণা’ গানের আবহে দেখানো হয়েছে এক প্রকাণ্ড মাটির জালা। এমন আকাট মননহীনতা কেবল বাঙালিকেই মানায়! বাংলা সিরিয়ালেও দেখা গেছে সুসজ্জিত খাবার টেবিলে ফুলের বোকের আবহে বেজে উঠছে ‘ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে’! এমন বেশরম শয়তানির তুলনা পাওয়া ভার। হায় রবীন্দ্রনাথের গান! এ নাকি বাঙালির শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার?
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







