সায়ন্তন চক্রবর্তী এবং দেবাঞ্জন দাস

মাননীয় কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে যেসব ছায়াছবিতে ধূমপানের দৃশ্য আছে সেগুলি প্রদর্শনের আগে একটি বিজ্ঞাপন প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করেছেন। বিজ্ঞাপনটিতে একটি চরিত্র গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন এবং অন্য চরিত্রটি সেখানে পৌঁছে প্রথম চরিত্রের সাথে বার্তালাপ শুরু করেন । বোঝা যায় যে অপেক্ষারত ব্যক্তির স্ত্রী স্ত্রীরোগে আক্রান্ত এবং অন্য ব্যক্তিটি তাঁকে ধূমপান করে স্বাস্থ্য নষ্ট না করে সেই টাকার একটি সামান্য অংশ ব্যয় করে স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনে দিয়ে ভবিষ্যতে স্ত্রীর স্বাস্থ্য রক্ষা করার পরামর্শ দেন। বিজ্ঞাপনটির উদ্দেশ্য মহৎ এবং এর মাধ্যমে এই কঠোর বাস্তব কেন্দ্রীয় সরকারও স্বীকার করে নিচ্ছেন, যে আমাদের দেশের প্রান্তিক অঞ্চলে একজন স্ত্রীকে নিজের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য কুড়ি টাকা দামের স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতেও স্বামীর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয় । তাই লক্ষ্মীর ভান্ডারের অবতারণা।

“ভবিষ্যতে কেমনভাবে তাঁরা জীবনধারণ করবেন, সে বিষয়ে সাধারণ দরিদ্র মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে। তাদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দিতে হবে । প্রয়োজনে এই কাজের জন্য অতিরিক্ত টাকা ছাপাতে হবে। আর অতিমারীতে অবরুদ্ধ গরীবদের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে।” বলেছেন অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

২০১৮-১৯ এর জাতীয় অর্থনৈতিক সমীক্ষার হিসাব অনুযায়ী ভারতের শ্রমজীবী মানুষদের প্রায় ৯৩% অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করেন। ২০১৬ সালের নোটবন্দী এবং পরিকল্পনা ছাড়া জিএসটি রূপায়ণের জোড়া ধাক্কার কারণস্বরূপ ২০১৮-১৯ থেকে আর্থিক মন্দায় জর্জরিত ভারতবর্ষে এই শ্রেণির অধিকাংশই খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের নিশ্চয়তা পাননি। আলিগড়ের তালা শিল্প, মোরাদাবাদের পিতল শিল্প প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং শ্রমিকদের প্রাপ্য, মালিক অথবা কেন্দ্রীয় সরকার কেউই নিশ্চিত করতে পারেননি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিযায়ী শ্রমিকদের চরম দুর্দশা আমরা সকলেই প্রত্যক্ষ করেছি।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয়সঙ্কোচ নীতির প্রভাব এখন সর্বসমক্ষে প্রকট হয়ে উঠেছে। খাতায় কলমে ২০২১ সালের বাজেটে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পসংস্থাগুলির জন্য ১৫,৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। কিন্তু বাজেট রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, বিভিন্ন কর ছাড় ও বাণিজ্যিক সুবিধার মাধ্যমে এই টাকার প্রায় পুরোটাই যাবে মালিকপক্ষের হাতে, শ্রমিকদের হাতে থাকবে সেই পেন্সিল।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সরাসরি মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পুরনো নজিরও রয়েছে। এর আগে দেখা গেছে বহু আলোচিত ও বিতর্কিত ক্লাব খয়রাতি, মেলা এবং উৎসবে সরকারি বিনিয়োগ। এই অনুদান, আপাতদৃষ্টিতে বাজে খরচ মনে হলেও, এটাকে আদতে প্রান্তিক স্তরে টাকা পৌঁছে দেবার একটি মাধ্যম বলা যায়। কীভাবে? ধরুন কোন মধ্যবিত্ত মানুষকে দু লক্ষ টাকা দেওয়া হল , একই সাথে পাড়ার ক্লাবও পেল দু লাখ। আমি বা আপনি ওই টাকার কিছুটা হঠাৎ করে ব্যয় করলেও ,প্রয়োজন না থাকায় অধিকাংশ অর্থ সঞ্চয় করব। এতে সামগ্রিক অর্থনীতির কোনো লাভ হবে কি?

পক্ষান্তরে ক্লাব অনুদান পেলে , সেই অর্থ তারা শীতলা পুজো, তাসা পার্টি, প্যান্ডেল করে জলসা ইত্যাদি আপাতদৃষ্টিতে বাজে খরচের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ব্যয় করবে। সেই অর্থই বিভিন্ন হাত ঘুরে সমাজের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছে যাবে। যে গতিতে বহুবার আর্থিক লেনদেন এবং বিনিময় হবে, ঠিক সেই গতিতেই অর্থনীতির বৃদ্ধি ঘটবে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ এই পদ্ধতিই নিয়েছিলেন, যথাক্রমে পরিকাঠামো বৃদ্ধির ব্যয়ের পাশাপাশি মনরেগার মতো একটি প্রকল্পের মাধ্যমে, যার দ্বারা প্রান্তিক মানুষের হাতে সরাসরি টাকা পৌঁছে দিয়ে তিনি অর্থনৈতিক বৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

ঠিক এই কারণেই ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার ছোঁয়া ভারতবর্ষকে সেভাবে স্পর্শ করেনি।

বিংশ শতাব্দীর তিরিশের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আর্থিক মন্দার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অনুরূপ কৌশল নিয়েছিলেন অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইনস। তাঁর বক্তব্য ছিল, সরকার তার মুদ্রানীতির দ্বারা দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।

প্রান্তিক মানুষের হাতে বাড়তি টাকা থাকলে ,তাঁরা বাজারে সে টাকা ব্যয় করবেন এবং তাঁদের এই ব্যয়ের কারণে বিপুল চাহিদার সৃষ্টি হবে, সেই চাহিদা পরিপূর্ণ করতে উৎপাদন বৃদ্ধি হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান হবে। কাজেই সরকার যদি সরাসরি প্রান্তিক মানুষের হাতে টাকা তুলে দেন, তার সুফল পরোক্ষভাবে মধ্যবিত্তরাও ভোগ করবেন। অর্থাৎ অনুদানকে ভিক্ষা বলে তা নিতে অস্বীকার করে কাজের দাবী যাঁরা করছেন, তাঁদের বোঝা উচিত যে প্রান্তিক মানুষের হাতে তাঁদের কল্যাণের জন্য পৌঁছে দেওয়া অনুদানের সুফল মধ্যবিত্তরাও ভোগ করছেন।

এবার আসুন আলোচনা করি, লক্ষ্মীর ভান্ডার কেন দরকারি? ঐতিহাসিকভাবে ভারতীয় উপমহাদেশে লিঙ্গ বৈষম্য একটি কঠিন বাস্তব যা আমাদের দেশ, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, সমাজের সমস্ত স্তরে প্রভাব ফেলে এসেছে। ভ্রুণ অবস্থা থেকে মৃত্যুকাল পর্যন্ত বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে উঠে আসা তথ্য দেখলেই আমাদের দেশের কন্যাসন্তানরা যে চূড়ান্ত বৈষম্যের শিকার তা পরিষ্কার হয়ে যায়। জম্মহারে নারীর তুলনায় পুরুষ বেশি — এই তথ্য প্রায় সারা দেশেই এক। অর্থাৎ জন্মের পূর্বে লিঙ্গ নির্ধারণ প্রক্রিয়া বেআইনি হলেও, যথারীতি কন্যা ভ্রুণ হত্যা চলছে। প্রাথমিক এবং উচ্চবিদ্যালয়ে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের ভর্তির হার সারা দেশেই উদ্বেগজনকভাবে কম । বাংলায় সেই ছবির ক্রমশ পরিবর্তন হচ্ছে গত দশ বছরে। স্কুল ছুটের সংখ্যাও সারা দেশে মেয়েদের মধ্যে বেশি। এ রাজ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে মেয়েদের স্কুলে ভর্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে স্কুলছুটের সংখ্যা কমছে, কারণ কন্যাশ্রী।

ভারতীয় উপমহাদেশে বিবাহে সরাসরি যৌতুক অর্থাৎ বরপক্ষকে অর্থ দেওয়া ছাড়াও দানসামগ্রী, অলঙ্কার ইত্যাদির খরচের কথা ভেবে কন্যাসন্তান জন্মানো মাত্র পরিবারের উদ্বেগ শুরু হয়ে যায়। কন্যা যে দায় নয় তা প্রান্তিক মানুষের কাছে আজও পরিষ্কার নয়।

বাংলায় নারী পাচার গত সত্তর বছর ধরেই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রান্তিক ঘরের কন্যাসন্তানের ভাগ্যে ভিনরাজ্যে পণ্য হিসাবে পাচার হয়ে যাওয়াই যেন ভবিতব্য ছিল। তাই রূপশ্রী। এর ফলে বাংলায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মেয়েদের সংখ্যা কমছে।

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থাৎ বাড়িতে যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নারীর সক্রিয় যোগদান আশু প্রয়োজন। কারণ:

১) নারী দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫০%। তাঁদের উপার্জনহীন শ্রম অর্থাৎ গৃহকর্মে আবদ্ধ করে না রেখে যদি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যায়, তাহলে দেশের অর্থনীতির ছবি বদলে যাবে।

২) বিভিন্ন গবেষণায় একথা প্রমাণিত যে নারী যখন খরচ করেন তখন সেই খরচের অভিমুখ সন্তানদের কল্যাণের দিকে হয় । কাজেই মহিলাদের উদ্বৃত্ত অর্থ খরচের মাধ্যমে সন্তানদের উন্নতি হয় । অর্থাৎ নারীর হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ মানে একইসঙ্গে শিশুদের সামগ্রিক উন্নতি।

৩) অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নারীর ক্ষমতায়নেরই অঙ্গ, যার দ্বারা সামগ্রিকভাবে সমাজে তাদের ক্ষমতায়নের পরিসর সৃ্ষ্টি হবে।

৪) নারীর সামাজিক তথা রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তথ্য দিয়ে প্রমাণ করা যায় যে দেশের যেসব এলাকায় নারী জনপ্রতিনিধি আছেন, সেইসব এলাকা শৌচাগার, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ইত্যাদি সূচকে বাকি এলাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভাল অবস্থানে আছে।

নারীর ক্ষমতায়নে একটি বড় পদক্ষেপ লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প। এর দ্বারা গৃহবধূরা সামান্য হলেও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার মুখ দেখবেন । সারাদিন ধরে মজুরি ছাড়া গৃহকাজ করে যাওয়া নীরব কর্মী বধূ সামান্য খরচ করার জন্য নিজের স্বামী অথবা সন্তানের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবেন না। আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে মহিলাদের ব্যয় শিশুদের উন্নতি এবং অগ্রগতি ঘটাবে এবং সার্বিকভাবে প্রান্তিক সমাজের কাছে উদ্বৃত্ত অর্থ এলে ব্যয় বাড়বে, ফলে চাহিদা এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। উৎপাদনের বৃদ্ধির কারণে নতুন কর্মসংস্থান হবে, যার দ্বারা অর্থনীতির অগ্রগতির চাকা সচল থাকবে। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের রূপরেখা দেখে উৎসাহিত হয়ে সহজ শর্তে এবং কম সুদে ঋণ দিয়ে সাহায্য করার অঙ্গীকার করেছে বিশ্বব্যাঙ্ক।

পরিশেষে রাজ্যের দুই সরকারবিরোধী শিবিরের অন্তঃসারশূন্য রাজনীতি নিয়ে দুটো কথা ।আগের প্রকল্পগুলোর মতই লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্রোক্তি শুরু হয়েছে। যেমন অতীতে ডিম ভাত বা দুয়ারে সরকার নিয়ে কিছু আপাতদৃষ্টিতে রাজনীতি সচেতন মানুষ করেছিলেন।

লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে শুরু হয়েছে শ্রেণি রাজনীতির পুরোধাদের উচ্চশ্রেণিসুলভ দম্ভের প্রদর্শন। প্রান্তিক জনগণের খবর তাঁরা রাখেন না বলেই এমন শিশুসুলভ আচরণ করার ধৃষ্টতা দেখাতে পারেন। সামাজিক মাধ্যম আজ একাধারে সকলকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে অর্থনীতিবিদ , গণিতজ্ঞ বানিয়েছে।

স্বাস্থ্যসাথী কেন ভাঁওতা এবং কেন সরকার ভোটের পরে এই প্রকল্প তুলে নেবে সেটা বোঝাতে , বিধানসভা ভোটের আগে সচেষ্ট ছিলেন সরকারবিরোধী দুই শিবিরই। আবার দুই শিবিরেরই শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা লাইন দিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড তৈরি করিয়েছেন। এই হাস্যকর বৈপরীত্য সত্ত্বেও তাঁরাই নেতা।

লক্ষ্মীর ভান্ডারের প্রদেয় অর্থ দিয়ে কটা সরকারি চাকরি হতে পারত তা নিয়ে একটি প্রচার চলছে। সরকারি চাকরির নিয়োগ যথাযথভাবেই সুসম্পন্ন হবে এবং যেখানে সমস্যা আছে , সেটার সমাধানও সফল ভাবে করার চেষ্টা করছেন রাজ্য সরকার। তার সাথে এই প্রকল্পের কোনরকম যোগাযোগ নেই।

লক্ষ্মীর ভান্ডার সমাজে নারীর ক্ষমতায়নের পথে একটি সদর্থক পদক্ষেপ, যা নারীকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা প্রদান করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির কাজও করবে। সমাজের প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা প্রদান যে কোন সরকারেরই প্রধান কর্তব্য। সরকারবিরোধী শিবিরের উচিত এই কর্মকান্ডে যোগদান করে তাকে সাফল্যমণ্ডিত করার চেষ্টা করা এবং কোথাও বিচ্যুতি লক্ষ্য করলে সেটি সরকার তথা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা, যাতে সমস্ত ত্রুটিবিচ্যুতি সংশোধন করে রাজ্যব্যাপী ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সের প্রতিটি নারীর এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া সুনিশ্চিত হয়।

~মতামত লেখকদ্বয়ের ব্যক্তিগত।

লেখক পরিচিতি : সায়ন্তন এবং দেবাঞ্জন দু’জনেই বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরত।

আরো পড়ুন : লক্ষ্মীর ভান্ডার গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু লিঙ্গসাম্যের সাথে যোগ খুঁজতে যাওয়া অপ্রাসঙ্গিক

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.