সেই কবে কোনকালে আমাদের সহজীবী এক বিশিষ্ট কবি, পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলাল, তাঁর রাত্রি চতুর্দশী কাব্যগ্রন্থে লিখেছিলেন – ‘ঈশ্বর, তোমাকে জানি মলমূত্রবৎ,’ পার্থ কি চূড়ান্ত আস্তিক অথবা নাস্তিক – এসব জিজ্ঞাসা তখন মাথায় এসেছিল। বিশ্বাস ও চালিয়াতির করমর্দন থেকেই কবিরা ভাষাগত পরীক্ষানিরীক্ষায় লিপ্ত হন – ভেবেছিলাম সেরকমও। কিন্তু আজ মর্মে মর্মে বুঝতে পারছি পার্থ দিব্যদৃষ্টির পরিচয় দিয়েছিল। কেননা কবিদেরও তো সময়বিশেষে কর্তব্যপরায়ণ হতে হয়।
শহরের সড়ক গলি উপগলিসমূহ সবাই বিনা বিজ্ঞপ্তিতে নানা টালির টুকরোয় সেজে উঠেছে। তাতে নানা দেবদেবীর ছবি। পয়ঃপ্রণালী রুদ্ধস্রোত, গৃহের প্রাচীরের নিম্নদেশ ধারণ করে আছে রামকৃষ্ণদেব ও লোকনাথ বাবার মুখচ্ছবি। জগন্নাথ, মহাদেব ও বংশীধারীকে বাড়ির তলদেশে নর্দমার ঠিক উপরে স্থাপন করে অভূতপূর্ব হিন্দু পুনর্জাগরণের আবেদন রেখেছে কলকাতা।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
বস্তুত আজ এই শহর ঈশ্বরকে আর কীভাবে নিজের প্রয়োজনে নিযুক্ত করতে পারে? বাঙালির ষোলোকলা পূর্ণ হল, যাঁদের মায়ের নামটি দয়াময়ী, ভোলানাথ বাবার নাম – তাঁরা পাড়ায় পাড়ায় থুতু ও পেচ্ছাপ আটকানোর জন্যে যে কৈলাস থেকে ডেকে এনে শঙ্কর ও পার্বতীকে চৌকিদার নিযুক্ত করবে – এতে আর অবাক হওয়ার কী আছে? স্বর্গের সঙ্গে বং-কানেকশন। মেগাসিরিয়াল বাদ দিলে ওয়েব সিরিজেও আপাতত এই প্রস্রাব প্রতিরোধের ‘পুর পরিষেবা’-য় নাগরিকের তেমন আস্থা নেই। কলকাতা বহুদিন ধরেই পার্থিব নরক। কিন্তু ভগবানের উপর যত্রতত্র মলমূত্র নিঃসরণ আটকানোর দায় চাপিয়ে যে সে রসাতলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল, তা অভিনবত্বের জন্য ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবেই। আশা করা যায় আজ না হোক, কাল বা পরশু নাগরিকদের জন্য থরে থরে ঝরে পড়বে দেবতাদের ঝলমলে মুখোশ।
আরো পড়ুন ৭৫ বছরে প্রজাদের তন্ত্রসাধনা
যে জনপদ ঈশ্বর পরিত্যক্ত তার আর মুখ লুকনোর দরকার নেই। যদি ঈশ্বর না থেকে থাকেন তবে সবকিছুই অনুমোদিত হতে পারে। ফিওদর দস্তয়েভস্কির কিরিলভ এইজন্যই আত্মহত্যা করে। দেবতা ও মার্কস, দুজনেই অবসর নিলে নাগরিকবৃন্দ ফেসবুকে সংযোগচ্ছলে নার্সিসাসের মত স্বমেহন করে, নারীরা না হয় ‘মল’-ত্যাগই করল। ‘সহস্র চোখ না যোনি এতদিন পরে আজ কলকাতায় ইন্দ্রের শরীরে’।
সমস্যা তা নয়। যে নাগরিক বাতিস্তম্ভে ঝুলন্ত প্রৌঢ়ার প্রতি উদাসীন, সে আজ সদর্পে দু ঘন্টা হাঁটে ধর্ষণের প্রতিবাদে; তার হাতে জ্বলন্ত শিশ্নের মত মোমবাতি। আগে সে অন্তত পার্কে বেড়াতে যেত পুত্রবধূ অথবা বেয়ানের নিন্দা করার অছিলায়, এমনকি সুগার কমানোর বাহানাটুকু ছিল তার মর্নিং ওয়াকে। কলকারখানায় খেতে খামারে শিল্পায়নে সেমিনার থেকে কুটীর শিল্প না হোক উৎপন্ন হয়েছে রক্তবীজের মত বাচিক শিল্পী।
আমি আদার ব্যাপারী – পাড়ায় পাড়ায় খোল করতাল সহযোগে হিন্দু বাঁচাও আন্দোলনের সময়ে জানলা খুলেই রাখি – পেচ্ছাপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজের খোঁজ রাখতে গিয়ে দেখি, কলকাতায় ‘অ্যাংকর’ আছে; জল নেই।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







