জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে এখন ঘটনার ঘনঘটা। ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন হলেও যেন একই সুরে বাঁধা। ওয়াকফ আইন পাশ, সংশ্লিষ্ট বিক্ষোভ, মুর্শিদাবাদে হিন্দুদের উপর হামলা, কাশ্মীরের পহলগামে হিন্দু পর্যটকদের উপর ইসলামপন্থী জঙ্গিদের হানা, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহ থেকে শুরু করে দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন।

এই ঘটনা পরম্পরায় পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া রাজনীতির ছাত্র হিসাবে বেশ আগ্রহ তৈরি করে।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

রাজ্যের মানুষের সুরক্ষা হোক আর জাতীয় সুরক্ষা, দুটিই রাজনীতির জাঁতাকলে পড়ে গেছে। মুর্শিদাবাদের ঘটনার পরে খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি তাঁর শান্তির আবেদনে বিজেপির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসকে রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য আক্রমণ করেছিলেন। লিখেছিলেন ‘আমি আগে কখনও আরএসএস-এর নাম নিইনি, কিন্তু এবার বাধ্য হয়েই বলতে হচ্ছে যে, রাজ্যে যে কুশ্রী মিথ্যার প্রচার চলছে তার মূলে তারাও আছে।’

একথা ঠিক যে পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু সংখ্যাগুরু জনগণকে ‘জাগিয়ে’ তোলার কাজটি রাজনৈতিকভাবে যদি বিজেপি করে থাকে, একইসঙ্গে সামাজিকভাবে হিন্দুদের মধ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে আরএসএস বা সংঘ পরিবারের বিভিন্ন শাখা সংগঠন। প্রায় দশ বছর ধরে যে কোনো ছোট বা বড় সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় হিন্দুদের এক ছাতার তলায় নিয়ে আসার কাজটি সুচারুভাবে সংঘ পরিবার করে আসছে।

যদিও মমতা বলেছেন, তিনি আগে কখনো আরএসএসের নাম নেননি, নথি বলছে, উত্তর দিনাজপুরের দাড়িভিটের স্কুলে উর্দু শিক্ষক নিয়োগ করা নিয়ে সাম্প্রদায়িক লড়াই হোক বা সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় গ্রামবাসী, বিশেষত মহিলাদের অভিযোগ নিয়ে গণ্ডগোলের সময়েই হোক — মমতা রাজ্যের বিভিন্ন ঘটনায় আরএসএসের হাত আগেও দেখেছেন। অবশ্য তিনি আরএসএসের সবাই খারাপ নন বলেও মন্তব্য করেছেন একদা।

তিনি তো ভুঁইফোড় রাজনীতিক নন। মমতা নিজের রাজ্যটিকে হাতের তালুর মত চেনেন। তিনি ব্যবস্থা নিন বা না নিন, নিতে পারুন বা না পারুন, জানেন রাজ্যের কোথায় কী চলছে। কাজেই এই রাজ্যে তাঁর সরকারের আমলে যে আরএসএসের বাড়বাড়ন্ত হয়েছে সেটা তাঁর অজানা নেই। শুধুমাত্র খবরের কাগজের পরিসংখ্যান নয়, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে পরিষদীয় রাজনীতিতে বিজেপির বিপুল উত্থানের পিছনে যে আরএসএসের বিভিন্ন শাখা সংগঠন কাজ করেছে তাও তিনি বিলক্ষণ জানেন। কীভাবে একটি হনুমান মন্দির তৈরি করে বজরং দল নির্বাচনের সময়ে তৃণমূলের দুর্নীতির ইস্যুতে গ্রামবাসীদের বিজেপির পক্ষে এনেছিল — তা ২০১৯ নির্বাচনেই চাক্ষুষ করা।

কিন্তু সব জেনেও তিনি কেন আরএসএসের মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন সেটা বুঝতে গেলে মমতার রাজনীতির আরও গভীরে যেতে হবে। সঙ্গে সংঘের রাজনীতিও বুঝতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের বামেদের মত আরএসএস মমতাকে ‘দুর্গা’ বলেছিল বা আরএসএস-মমতার ‘সেটিং’ আছে বলে সরল করে দেখলে হবে না।

আরো পড়ুন মুখ্যমন্ত্রীর আরএসএস: বিশ্বাসে মিলায় বস্তু

আরএসএসের অস্তিত্ব অনেকটা হাওয়ার মত। সবসময় টের পাওয়া যাবে না, কিন্তু সব জায়গায় আছে। সে অস্তিত্ব কখনো কখনো টের পাওয়া যাবে। আমার আপনার চারপাশে আরএসএসের সঙ্গে কোনো এক সময়ে সরাসরি সম্পর্ক ছিল বা তাদের ভাবধারায় সত্যিই বিশ্বাস করে — এমন লোক ঘুরে বেড়াচ্ছে। আপনি বুঝতেও পারবেন না। কিন্তু হঠাৎ একদিন আবিষ্কার করবেন যে তিনি সংঘ পরিবারের ঘোরতর সমর্থক। আসলে সংঘের প্রচারক ছাড়াও লক্ষ লক্ষ সংঘ-লাভ্যার্থী বা সংঘ-শিক্ষার্থী সারা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। যাঁরা কোনো এক সময়ে আরএসএসের শাখায় শস্ত্রপূজা করে এসেছেন বা লাঠি খেলা শিখে এসেছেন অথবা সংঘ পরিচালিত স্কুলে পড়াশোনা করেছেন বা সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়ে সংঘ পরিচালিত আইএএস ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা সংঘ পরিবারের কোনো সংগঠনে গিয়ে সন্ধেবেলায় কীর্তনে যোগ দিয়েছেন। তিনি কপালে তিলক কেটে হয়ত প্রকাশ্যে রোজ ‘হিন্দু খতরে মে হ্যায়’ বলে বেড়ান না বা নরেন্দ্র মোদীর গুণগান করেন না। কিন্তু তিনি আদতে আরএসএস। তিনি আছেন।

শুধু আরএসএসের বিজ্ঞান ভারতীর সম্মেলনে সারা দেশের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানী, অধ্যাপক, শিক্ষক, কর্মীদের একত্রিত হওয়ার ছবি দেখলেই ঘাবড়ে যাবেন। এরকম বহু সংগঠন রয়েছে আরএসএসের ছাতার তলায়।

আগে আরএসএস বিজেপির সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক মানতে চাইত না। আজকাল অবশ্য সেই ভণ্ডামি আরএসএস কর্তারা করেন না। তবে এটা ঠিক যে, রাজনৈতিক ক্ষমতা নিয়ে আরএসএস ততটা ভাবিত নয়, যতটা তারা সমাজের ভোল বদলে দিতে মনোযোগী। গত ১০০ বছর ধরে তারা এই কাজটিই করে এসেছে। বিজেপি সরকারে থাকায় রাজনৈতিকভাবে রামমন্দির থেকে সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বিলোপের মত আরএসএস এজেন্ডা পূরণ হচ্ছে বটে, তাদের কাজ করতেও সুবিধা হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতা হাতে না থাকলেও আরএসএস তাদের কাজ নিঃশব্দে করে যায়।

শ্যামাপ্রসাদের এবং হিন্দু মহাসভার বাংলায় যে আরএসএস ২০১১ সালের আগে মাথা তুলতে পারেনি, তার অনেক কারণ রয়েছে। কিছুটা বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর কিছুটা আরএসএসের নিজস্ব খামতি। কিন্তু মমতা সরকার ক্ষমতায় আসার পরে আরএসএস পশ্চিমবঙ্গের দিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েছে। ২০১৭ সালে আরএসএসের অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় নজিরবিহীনভাবে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে একটি আলাদা প্রস্তাব পাশ হয়। সেখানে বাংলাদেশ লাগোয়া, অনুপ্রবেশের সমস্যায় জর্জরিত, মুসলমান অধ্যুষিত জেলা এবং জেহাদি কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়া, হিন্দুদের নিরাপত্তাহীনতা ইত্যাদি নিয়ে কড়া কড়া কথা লেখা হয়েছিল। তাতেই বোঝা গিয়েছিল যে আরএসএস পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে উদ্যোগী হচ্ছে।

আসলে বাম জমানায় রাজ্যজুড়ে সিপিএমের লোকাল কমিটির যে দাপট ছিল, তার মাঝে সংঘ পরিবার খাপ খুলতে পারেনি। সিপিএমের মনে এলাকা দখল এবং ‘পার্টি-চিন্তা’ দখলের ভয় ছিল। তৃণমূল জমানাতেও স্থানীয় স্তরে যে একদমই প্রতিরোধ ছিল না তা কিন্তু নয়। মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় আরএসএসের প্রচারক ভিন জেলা থেকে এসে কাজ করতে গিয়ে তৃণমূল নেতাদের হাতে মার খেয়েছেন — এমন ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তার কারণ যতটা এলাকা বেদখল হয়ে যাওয়ার ভয়, ততটা আদর্শগত ভয় নয়।

এখানেই মমতার ব্যর্থতা। বামপন্থী দলগুলো বা বিজেপির মোকাবিলা তিনি করেছেন একটি রাজনৈতিক দলের মত করে। কিন্তু ওভাবে আরএসএসের মোকাবিলা করা যায় না। আরএসএস একটি চিন্তা। তারা নিজেদের ভাবধারা লোকের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়ে বসে থাকে। তারা সবসময় চায় না যে সবাই তাদের শাখায় আসুক বা যে শাখায় এসেছে সে-ই রাজনীতি করুক। আরএসএসের কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই যে বিজেপির সদস্য হতে হবে — এমন কোনো নিয়মও বানানো নেই। মস্তিষ্ক প্রক্ষালন করে আরএসএস সবাইকে ‘স্বাধীন’ করে দেয়। তাই আরএসএসের বুলিতে কোনো সাংবাদিক বিশ্বাসী হতে পারেন বা কোনো আমলা, কোনো শিক্ষক বা বিজ্ঞানী, এমনকি তৃণমূলের নেতাকর্মীও।

এহেন সংগঠনের মোকাবিলা করার জন্য মমতার পায়ের তলায় আদর্শগত ভিত দরকার ছিল। তা তাঁর নেই। তৃণমূলের সংবিধান অনুযায়ী দলটির একটি উদ্দেশ্য রয়েছে বটে। সেটি হল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিল্প, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, কৃষি ক্ষেত্রে ভারতের সার্বিক উন্নয়ন এবং বহুভাষিক, বহুমুখী, বহুজাতিক, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে সামনে রেখে ভারতকে একটি বিশ্বশক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা। পরের অনুচ্ছেদে ভারতীয় সংবিধানের প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র এবং সামাজিক সমতা নিশ্চিত করার কথাও রয়েছে।

কিন্তু এগুলি কথার কথাই। কীভাবে এমন ভারত প্রতিষ্ঠা করা যাবে তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট আদর্শগত পথ জানা নেই তৃণমূলের। তাই তারা কখনো ইমাম ভাতা দেওয়ার পথে হাঁটে, কখনো জগন্নাথ মন্দির তৈরি করে, কখনো ছোট শিল্পের উপর জোর দেওয়ার কথা বলে, কখনো আদানি গ্রুপকে কয়লাখনি দেওয়ার পরিকল্পনা করে, কখনো মহিলাদের জন্য ভাতা চালু করে, কখনো ক্লাবে ক্লাবে অনুদান দেয়, কখনো সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে পুলিসি ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ঢাকে, আবার কখনো নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার রায়ে চাকরিহারাদের ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। আসলে তৃণমূল দলটি যখন যেমন তখন তেমন।

এমন দলকে নিয়ে যে যেরকম পারে সেরকমভাবে ব্যবহার করে নিতে পারে। ২০১১ সালে বামফ্রন্ট সরকারের পতনের সময়ে মমতার পিছনে অতি বাম থেকে সংঘ পরিবারের চিন্তায় বিশ্বাসী সমর্থক — সকলেরই যে ভূমিকা ছিল তা ঠিক। মমতাকে দিয়ে বাম শক্তির পতনের কাজটি করিয়ে নেওয়া আরএসএস এবং বিজেপি — দুই সত্তারই প্রয়োজন ছিল। শুনতে ক্লিশে লাগলেও একথা ঠিক যে আরএসএসের দুই প্রধান শত্রুর মধ্যে একটি হল কমিউনিস্ট, দ্বিতীয়টি মুসলমানরা। কমিউনিস্ট মানে শুধুই যে খুব কমিউনিজমে বিশ্বাসী বাম কর্মী তা নয়। যে কোনো ধরনের বাম ধারায় বিশ্বাসী সব মানুষই আরএসএসের শত্রু। তাই এখনো মোদীকে জওহরলাল নেহরুর কথা তুলতে হয়, এখনো আক্রমণের লক্ষ্য হয় ‘সেকু-মাকু’-রা। পশ্চিমী শিক্ষায় শিক্ষিত বা প্রভাবিত, বাম মনোভাবাপন্ন লোকেদের সাধারণের চোখে হেয় করাই হচ্ছে প্রধান লক্ষ্য।

এবার দেখুন, মমতা ‘বামেদের থেকেও বেশি বাম’ হিসাবে ক্ষমতায় এসেছিলেন। তাঁর মঞ্চে তখন বামপন্থী, নকশালপন্থীদের ভিড়। তারপরেই তিনিই সংখ্যালঘু-দরদী হয়ে পড়লেন। এখন আবার জগন্নাথ মন্দির তৈরি করিয়ে উদ্বোধন করতে চলেছেন। সিপিএমকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য, বাম মনোভাবাপন্ন রাজ্যে তিনি আরও ভাল বামপন্থী হিসাবে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন। এমন একজন যিনি কৃষকদের জমি কেড়ে নিতে দেবেন না, যিনি গরিব অত্যাচারিত মানুষের পক্ষে লড়ে এসেছেন এবং লড়বেন। কিন্তু গরিব মুসলমানদের কথা ভেবে তিনি সংখ্যালঘু-দরদী হলেন না। তিনি ভোটের অঙ্ক কষে বাম-কংগ্রেসের কাছ থেকে সংখ্যালঘুদের সমর্থন তাঁর দিকে নিয়ে এলেন। আবার যেই দেখলেন ভোটের অঙ্কেই পিছিয়ে পড়বেন, অমনি হিজাব পরিহিত ছবিগুলি সরিয়ে দিয়ে মন্দিরে মন্দিরে পুজো দিতে ছুটলেন (নেত্রীর এক্স বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুঁটিয়ে দেখলেই বুঝবেন)। যিনি আজীবন কালীপুজো করে এসেছেন নিজের বাড়িতে বা দুর্গাপুজোর শ্রেষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক হিসাবে পরিচিত, তাঁকে সরকারি-রাজনৈতিক মঞ্চে মন্ত্র উচ্চারণ করে প্রমাণ করতে হল তিনি কত বড় হিন্দু। আর এখন তিনি সরকারি টাকায় উদ্বোধন করতে চলেছেন জগন্নাথ মন্দির।

অন্যদিকে তাঁর ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জি এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি অসাধারণ পোস্ট করে ভেলকি দেখিয়েছেন। এরকম স্ববিরোধী পোস্ট যুবরাজের থেকে আশা করা যায় না। প্রথম কয়েকটি লাইনে তিনি উল্লেখ করেছেন যে জাতীয়তাবাদের হিড়িক তুলে একটি রাজনৈতিক দল ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। আবার শেষের দিকে রাখঢাক না রেখে একেবারে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অধীনে নিয়ে আসার ডাক দিয়েছেন। পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করলে কি বিজেপিরই ফায়দা হবে না? নাকি তার ফায়দা অভিষেকই তুলবেন পশ্চিমবঙ্গে বসে?

দলের সংবিধানে যা-ই লেখা থাকুক, নিজেদের মনের সংবিধানে কোনো কিছুই লেখা নেই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা, নেত্রীদের। তাই আরএসএসের মোকাবিলা করা এঁদের কম্ম নয়।

মমতা মাঝে মাঝে আরএসএসকে গাল পাড়লেও সংঘের কিছু যায় আসে না। কিন্তু মমতা জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন করলে আর অভিষেক পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখলের ডাক দিলে একজন নিশ্চয়ই শুভ্র গুম্ফের আড়াল থেকে হাসেন। তিনি মোহন ভাগবত। পিসি, ভাইপোকে তাঁদের অজান্তেই বৃহত্তর সংঘ পরিবার নিজেদের লাইনে নিয়ে এসেছে। চিন্তার আলোকে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও। নয়ত যে দল রামনবমীর অস্ত্র মিছিলের বিরোধিতা করে ২০১৭ সালে, ২০২৫ সালে এসে তারাই ঘটা করে রামনবমীর মিছিল বের করে?

মমতা হয়ত বুঝেও বুঝছেন না যে, বামেরা নিশ্চিহ্ন হলেই বিজেপি গপ করে তৃণমূলকে খেয়ে ফেলবে। যেমন ওড়িশা থেকে কংগ্রেস নিশ্চিহ্ন হতেই অসুস্থ নবীন পট্টনায়েকের হাত থেকে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটন নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। মহারাষ্ট্রে শিবসেনার অর্ধেক খেয়ে ফেলেছে তারা। দিল্লিতে বিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধে অভিমান করে আরএসএস প্রধানকে চিঠি লেখা আর হনুমান চালিশা পড়া কেজরিওয়ালকেও বিজেপি উপড়ে ফেলেছে।

বাঙালী অস্মিতা মমতার একটি বড় অস্ত্র হতে পারত। যে ডানায় ভর করে তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পার করেছেন। কিন্তু সেই জমিও তিনি একটু একটু করে হারাচ্ছেন। তার মূলেও কিন্তু ‘যখন যেমন তখন তেমন’ নীতি।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

মতামত জানান

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.