২০২০ সালের মার্চ মাসে কোভিড-১৯ সংক্রমণ আটকাতে যখন কোনো নোটিস ছাড়াই ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা হল, তখনই গুরুগ্রামের শিল্পতালুকের এক কারখানার শ্রমিক, ৩১ বছর বয়সী প্রমোদের চাকরি যায়। ২৪ মার্চ রাত আটটার সময়ে টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হওয়া বক্তৃতায় যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মাঝরাত থেকেই লকডাউন বলবত হবে ঘোষণা করলেন, তখন পজিটিভ কেস ছিল ৫০০-র একটু বেশি। আচমকা লকডাউনের জন্য দেশের কেউ তৈরি ছিল না।

হঠাৎ চাকরি চলে যাওয়ায় প্রমোদ প্রবল মানসিক চাপের শিকার হন। ওঁর ব্যবহার অসংলগ্ন হয়ে পড়ে এবং স্ত্রী সরিতার সাথে ঝগড়ার তীব্রতা বাড়তে থাকে। রোজ ঝগড়াঝাঁটি হচ্ছিল এবং দ্রুত ব্যাপারটা শারীরিক হিংসা হয়ে দাঁড়ায়। মেয়ের চোখের সামনে সামান্য ব্যাপার নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হতে থাকে। একদিন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় এবং প্রমোদ রাগের মাথায় স্ত্রীকে খুন করে ফেলেন। তারপর আত্মহত্যা করেন।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

দ্য উইক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রমোদের মেয়ের পুলিসকে দেওয়া বিবৃতি থেকে বোঝা যায় বাড়ির অবস্থা কতটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। “গত ১০ দিন রোজ বাবা-মার ঝগড়া হয়েছে, মারামারিও হত। আজকে সকাল থেকে অশান্তি হচ্ছিল। সন্ধেবেলা মা কিছু একটা বলতেই বাবা রেগেমেগে রান্নাঘরে দৌড়ে গেল। বাবা অনেকক্ষণ ধরে মাকে মারল, তারপর মা মরে গেল। বাবা তারপর আমাকে ঘরে নিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে দিল। বাবা ঘর থেকে বেডশিটটা তুলে নিয়ে গেল দেখে আমি ভয় পেয়ে পুলিসে ফোন করি।” পুলিস পৌঁছবার আগেই প্রমোদ বাথরুমে বেডশিট বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

প্রসন্ন আর পি বসন্ত ছিলেন দুই সন্তানসহ এক সুখী দম্পতি। বেঙ্গালুরুর গ্রামীণ অঞ্চল মড়নয়কনহাল্লিতে সরকারি বাস চালাতেন প্রসন্ন। তাঁর মাইনেয় স্ত্রী আর দুই ছেলেমেয়ের মোটামুটি ভালই চলে যেত। কিন্তু ২০২০ সালের মাঝামাঝি তিনি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই হঠাৎ মৃত্যুতে পরিবারের অস্তিত্বের সংকট দেখা দেয়। আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়ে এবং বসন্ত মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকেন। ছ মাস পরে তিনি দুই ছেলেমেয়েকে মেরে ফেলেন, তারপর নিজেও আত্মহত্যা করেন।

অতিমারী সামলানোর জন্য সারা দেশে বারবার যে লকডাউনগুলো চাপানো হয়েছিল, তার ফলে উদ্বেগ আর মানসিক অবসাদ কতটা বেড়ে গিয়েছিল, এই দুটো ট্র্যাজেডি তার প্রমাণ। সামান্য গুগল সার্চেই এমন অসংখ্য ঘটনা উঠে আসে, যেখানে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ার ট্র্যাজিক ফল হয়েছে, বিশেষ করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

মানসিক স্বাস্থ্য কোভিড-১৯ অতিমারীর এমন একটা দিক যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী, কিন্তু জনসমক্ষে সবচেয়ে কম আলোচিত হয়। কারণ মনে করা হয় এটা খোলাখুলি আলোচনা করার বিষয় নয়।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, কাজ হারানো, আর্থিক নিরাপত্তার অভাব, একাকিত্ব, অতিমারীর একের পর এক ঢেউয়ের কারণে সংক্রমিত হওয়ার ভয় এবং পরিবারে বা বন্ধুদের মধ্যে কোভিড-১৯-এর কারণে মৃত্যু মানুষকে উদ্বেগ, মানসিক অবসাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যার ফল কখনো কখনো ট্র্যাজিক। ভারতে এমনিতেই মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা কম, আর সমাজের কোনো কোনো অংশে এই বিষয়টা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা বারণ। ফলে সমস্যাটা কত গভীর সে হিসাব করা মুশকিল।

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর “অ্যাকসিডেন্টাল ডেথস অ্যান্ড সুইসাইডস ইন ইন্ডিয়া ২০২০” রিপোর্ট অনুসারে মোট ১,৫৩,০৫২ জন আত্মহত্যা করেছেন। দৈনিক মৃত্যুহার ৪১৮, যা ২০১৯ সালের থেকে ১০% বেশি। আগের বছরের একই সময়কালের চেয়ে আত্মহত্যার হার বেড়েছে ৮.৭%। এই রিপোর্টে যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন তাঁদের কর্মসংস্থান অনুযায়ীও ভাগ করা হয়েছে।

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো পুলিসি তথ্য সংকলন করে এই রিপোর্টে জানিয়েছে “১,০৮,৫৩২ জন পুরুষ আত্মহত্যাকারীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আছেন দিনমজুররা (৩,৩১৪) আর কর্মসংস্থানহীন মানুষ (১২,৮৯৩)। দেশে ২০২০ সালে মোট ৪৪,৪৯৮ জন মহিলা আত্মহত্যা করেছেন। তাঁদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ (২২,৩৭২) হলেন গৃহবধূরা। তারপরেই আছেন ছাত্রছাত্রীরা (৫,৫৫৯) এবং দিনমজুররা (৪,৪৯৩)। মোট ২২ জন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। এই ২২ জনের মধ্যে পাঁচজন কর্মসংস্থানহীন আর নজন দিনমজুর। দুজন স্বনিযুক্ত, দুজন গৃহবধূ, আর বাকি চারজন ‘অন্যান্য’ শ্রেণিভুক্ত।”

এই রিপোর্টে কোভিড-১৯ কথাটা ব্যবহার করা হয়নি ঠিকই, কিন্তু গতবছর কেরালার ইদুক্কির কংগ্রেস সাংসদ ডন কুরিয়াকোসের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে সংসদে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী ডঃ ভারতী প্রবীণ সিং এই রিপোর্ট থেকেই তথ্য দিয়েছিলেন। প্রশ্নটা ছিল, সরকারের কাছে ২০২০ সালের মার্চ মাসের পর হওয়া আত্মহত্যাগুলো সম্পর্কে কোনো তথ্য আছে কিনা। ওই মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর ২০২১ পর্যন্ত কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে মোট ৪,৬৮,৯৮০ জন মারা গেছেন।

সম্প্রতি প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়াতে ইনস্টিটিউট অফ হিউম্যান বিহেভিয়ার অ্যান্ড অ্যালায়েড সাইন্সেজের প্রাক্তন ডিরেক্টর ডাঃ নিমেষ দেশাই বলছিলেন “মানসিক স্বাস্থ্যের উপর অতিমারীর স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব অবশ্যই স্বীকার করা দরকার। একটা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পর আচার ব্যবহার বদলে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। চিকিৎসার পেশায় যুক্ত লোকেরা এসব ক্ষেত্রে কিছুদিন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ব্যবহার লক্ষ করেন এবং অপেক্ষা করেন। অস্বাভাবিক লক্ষণগুলো থেকে গেলে তবেই মেডিকাল সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যথাসময়ে ধরা না পড়লে ওরকম মানসিক অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নিজের ক্ষতি করে ফেলতেই পারেন।”

কোনো সন্দেহ নেই যে এই অতিমারী মানবিক আচার আচরণের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে। ফলে কিছু মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে যাদের আশেপাশে নির্ভর করার মত মানুষজন নেই তাদের এই সমস্যা হয়েছে। এমনকি সরকারও এই সমস্যা স্বীকার করেছে এবং শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক, বৃদ্ধ, মহিলা, স্বাস্থ্যকর্মীর মত আলাদা আলাদা গোষ্ঠীকে মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক সাহায্য দেওয়ার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন এমন পেশাদারদের নিয়ে ২৪ ঘন্টার হেল্পলাইন চালু করেছে।

বিদ্যাসাগর ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো অ্যান্ড অ্যালায়েড সাইন্সেজে কর্মরত নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক মনোবিদ বললেন “এরকম রোগীদের সাথে কাজ করার সবচেয়ে বড় অসুবিধা হল এদের বেশিরভাগই মানতে চায় না যে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক নেই। “কোভিড-১৯ অতিমারীর সময়ে অনেক পুরুষ এবং মহিলা রোগীর সাথে আমাদের দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে। আমরা দেখেছি যে তাঁরা নিজেদের এমন একটা পরিস্থিতিতে নিয়ে যান, যেখান থেকে বিরাট বিপর্যয় হতে পারে। আর যেসব সমস্যা নিয়ে তাঁরা ভীষণ চিন্তিত সেগুলো কিন্তু সহজেই এড়ানো যায়। অনেকসময় পরিবারের লোকেরা লক্ষণগুলো সময় থাকতে ধরতে পারেন না বা রোগীরা নিজের মানসিক অবস্থা যে ভাল নয় তা মানতে চান না। এরকম পরিস্থিতিতে একজন মনোবিদের পক্ষে চিকিৎসা করা সত্যিই খুব শক্ত হয়ে যায়।”

ন্যাশনাল মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রামের অধীন ডিস্ট্রিক্ট মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম ৬৯২টা জেলার স্কুল কলেজে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করে। সরকার মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করার জন্য সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করেছে এবং জানিয়েছে ডিস্ট্রিক্ট মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম স্কুল কলেজে কাউন্সেলিং ছাড়াও কর্মস্থলে মানসিক চাপ সামলানো, জীবনযাপনের দক্ষতার প্রশিক্ষণ এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধের পরিষেবা দিয়ে থাকে।

ডাঃ দেশাইয়ের মতে “ভারতীয়রা মানসিক স্বাস্থ্যের কথা প্রকাশ করতে ইতস্তত বোধ করে। ফলে আমাদের বাধ্য হয়ে সেমি-ফর্মাল অ্যাপ্রোচ নিতে হয়। আদর্শ পরিস্থিতিতে মনোবিদের কাছে আসার আগে একজন মানুষের পরিবার, বন্ধুবান্ধবদের সাথে কথা বলা উচিত, যারা তাকে অনেক বেশি ভাল করে বোঝে। তবে যদি কোনো ব্যক্তির আত্মহত্যা করার কথা মনে হতে থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে একজন মনোবিদের কাছে যাওয়া উচিত। আমার মনে হয় মানসিকভাবে ভাল থাকার জন্য পেশাদারদের সাহায্য যত কম নেওয়া যায় তত ভাল। আমরা মনোবিদরা, বিশেষ করে মনোবিদ্যার অধ্যাপক এবং বিশেষজ্ঞরা যত কম হস্তক্ষেপ করব তত ভাল হবে। আমার মনে হয় পরিবারভিত্তিক সামাজিক সাংস্কৃতিক ব্যাপারগুলো মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় বেশি কাজ দেয়।”

ভারতে বেশকিছু বড় বড় বিপর্যয় ঘটেছে। যেমন ১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা, ১৯৮০-র দশকের শেষ দিকে এবং ৯০-এর দশকের প্রথম দিকে সুপার সাইক্লোন, ২০০১ সালের গুজরাট ভূমিকম্প, ২০০৪ সালের সুনামি। সবকটাতেই মানুষকে প্রচুর ধ্বংস এবং মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু কোভিড-১৯ অতিমারীর মত কিছুর জন্যে কেউ তৈরি ছিল না। অতিমারীর আগেই মানসিক স্বাস্থ্য ভারতে একটা টাইম বোমা হয়ে বসেছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র একটা রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৭ সালেই ৫৬ মিলিয়ন ভারতীয় মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। আরও ৩৮ মিলিয়ন মানুষ উদ্বেগের শিকার।

সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে “ভারতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার কর্মীবাহিনী ভীষণ অপ্রতুল। যত লোক মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যায় ভোগে, সেই তুলনায় মনস্তত্ত্ববিদ (psychologist) এবং মনোবিদ (psychiatrist) অনেক কম। প্রতি ১,০০,০০০ মানুষে মাত্র ৩ জন মনস্তত্ত্ববিদ ও মনোবিদ আছেন। অনুমান করা হচ্ছে অতিমারীর প্রভাবে কোনো না কোনো মানসিক অসুস্থতা আছে ভারতে এমন রোগীর সংখ্যা ২০ শতাংশে পৌঁছবে।”

২০২০ সালে কোভিড-১৯-এর প্রথম ঢেউয়ের পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে একটা অ্যাডভাইসরি দিয়েছিল, যা মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের প্রতিফলন। কমিশন বলেছিল “কোভিড-১৯ অতিমারী শুরু হওয়ার পরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে মানসিক সমস্যাগুলো দেখা যাচ্ছে তার কারণ হয় অভিভূত করে দেওয়ার মত পরিস্থিতির মধ্যে পড়া অথবা আগে থেকেই তৈরি হওয়া মানসিক অবস্থা। হয়ত অতিমারীর কারণে সেই অবস্থার অবনতি হয়েছে। দেশে ইতিমধ্যেই গুরুতর মানসিক অসুখের রোগীদের ৭৫ শতাংশের বেশি মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলো বলছে, তিন থেকে চারজনের মধ্যে একজন মানুষে মানসিক অবসাদ বা উদ্বেগের মত সাধারণ মানসিক অসুখের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। শিশু, বৃদ্ধ, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, আগে থেকেই মানসিক অসুখে ভোগা মানুষ, যাঁরা একা থাকেন এবং যেসব পরিবারে কোভিড-১৯-এ কেউ মারা গেছেন, তাদের মধ্যে মানসিক রোগের তীব্রতা খুব বেশি হতে পারে। স্বাস্থ্যকর্মী এবং পুলিসের মত ফ্রন্টলাইন কর্মীদের মানসিক অসুখ ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি, কারণ তাঁরা সারাক্ষণ সংক্রমিত রোগীদের সঙ্গে রয়েছেন, লম্বা সময় ধরে কাজ করছেন এবং নিজের সমস্যা নিয়ে সাহায্য চাওয়ার মত যথেষ্ট পথ পাচ্ছেন না।”

এ বছরের মার্চে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আরও একবার এই বিষয়টা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং রাজ্য সরকারগুলোকে আত্মহত্যা ও অন্যান্য নিজের ক্ষতি করা প্রতিরোধ করার মত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত করতে বলে।

ওই মাসেই হু অতিমারীর বিপদ সম্পর্কে একটা বৈজ্ঞানিক ব্রিফ প্রকাশ করে। তাতে বলা হয় “কোভিড-১৯ অতিমারির প্রথম বছরে সারা পৃথিবীতে উদ্বেগ ও মানসিক অবসাদ বিরাট বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধির পরিমাণ ২৫%।” ওই রিপোর্টে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার সুযোগের উপর অতিমারী কী প্রভাব ফেলেছে তা-ও বলা হয়েছে।

এই পেপার প্রকাশ করতে গিয়ে হু ডিরেক্টর জেনারেল ডঃ টেড্রস আডহানম গেব্রেসিউস বলেন “আমরা এখন বিশ্বের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর কোভিড-১৯-এর প্রভাব সম্পর্কে যা তথ্য পেয়েছি সেটা হল হিমশৈলের চূড়া। এটা সমস্ত দেশের প্রতি একটা সতর্কবার্তা, যে মানসিক স্বাস্থ্য আরও মনোযোগ দাবি করে এবং দেশের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যরক্ষায় আরও সাহায্য দরকার।”

ভারতে এই সমস্যার যা গভীরতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে যে ছুঁতমার্গ রয়েছে, তাতে পরিবার সমেত সবাইকে এই সংকট মোকাবিলায় অনেক বেশি উদ্যোগী হতে হবে।

এই লেখাটি তৎসৎ ক্রনিকল-এ ইংরেজিতে প্রকাশিত। লেখকের অনুমতিক্রমে বাংলা ভাষান্তর প্রকাশ করা হল। মতামত ব্যক্তিগত

আরো পড়ুন

অতিমারীর সংকটে বিপজ্জনক ওষুধ ও ভাইরাল পরামর্শের ইনফোডেমিক: একটি জরুরি আলোচনা

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.