অগ্নীশ্বর চক্রবর্তী
ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যাওয়া আমিনা ডান হাতে আঁকড়ে ছিল নীল বেলুনের সুতো। উদ্ধারকর্মীরা যখন তাকে বের করল, তখন তার মুখে জমে থাকা রক্তের মধ্যে মিশে ছিল একটি অসমাপ্ত হাসি।
রাফা শহরের আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে অবস্থিত একটি স্কুলের ধ্বংসাবশেষ ঘেঁটে চলেছেন স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ আবু হাতাব। তাঁর হাতে একটি ছেঁড়া খাতা – ১২ বছর বয়সী রাহাফের বিজ্ঞান খাতা। শেষ পৃষ্ঠায় রাহাফ লিখেছিল ‘আমি বড় হয়ে ডাক্তার হব, গাজার সব শিশুকে বাঁচাব।’ কিন্তু রাহাফের সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই ইজরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যায় তার স্কুলটি। উদ্ধারকর্মীরা পরদিন সকালে খুঁজে পায় রাহাফের নিথর দেহ, তার বুকের উপর রাখা সেই বিজ্ঞান খাতা।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
অক্সফ্যাম জানাচ্ছে, গত এক বছরে ১১,০০০ ‘জিহাদি’ শিশুকে কবরে পাঠিয়েছে ইজরায়েল। এই ভয়ঙ্কর ধ্বংসস্তূপ ও রক্তের গন্ধ মাখা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে ইজরায়েলের রাজনীতিবিদ মোশে ফিগ্লিনের উক্তি ‘শত্রু হামাসও নয়, হামাসের সামরিক বাহিনীও নয়। গাজার প্রতিটি শিশুই শত্রু। আমাদের গাজা দখল করে নিয়ে ওখানে বসতি স্থাপন করতে হবে এবং গাজার একটা শিশুকেও আস্ত রাখা হবে না। এছাড়া আর কোনো জয় নেই।’ বিশ্ববাসী হতবাক হয়ে এই আস্ফালন শুনেছে।
ওমর এল আক্কাদ তাঁর ওয়ান ডে, এভরিওয়ান উইল হ্যাভ অলওয়েজ বিন এগেনস্ট দিস বইতে লিখেছেন ‘পৃথিবীর অন্য প্রান্তে যদি কোনো ড্রোন একজন নিরীহ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়, আমরা কে-ই বা প্রতিবাদ করব? কী হবে যদি সে সত্যিই সন্ত্রাসবাদী হয়? যদি তাকে শুরু থেকে সন্ত্রাসবাদী বলে ধরেই নেওয়া হয়, আর আমরা যদি ‘সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থক’ বলে চিহ্নিত হই, গালি খাই, সমাজচ্যুত হই? মানুষ সাধারণত সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ ঘটনার ভয়েই নিশ্চুপ থাকে। কারও কাছে সবচেয়ে খারাপ হল মিসাইল আক্রমণে তার বংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া, তার সমস্ত জীবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া। আর এই সবকিছুই ‘ন্যায্য’ হিসাবে পার পেয়ে যাওয়া কারণ, কিছু না করা সত্ত্বেও, আক্রমণে যারা মারা গেছে, তারা মারা গেছে বলেই ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আবার, কারও কাছে সবচেয়ে খারাপ সম্ভাবনা হল — গালি খাওয়া।’
গোটা বিশ্বের দক্ষিণপন্থীরা এই শিশুবলিতে উল্লসিত। ‘গাজা ট্রিটমেন্ট’-এর নিদান দেওয়া চলছে বিশ্বজুড়ে। যদিও এটা নতুন কিছু নয়। ১৯৪৮ সালের দেওয়ার ইয়াসিন গণহত্যার সময় ইরগুন বাহিনীর নেতা মেনাখেম বেগিন বলেছিলেন ‘শিশুরা বড় হয়ে সন্ত্রাসী হবে, তাই তাদের এখনই শেষ করতে হবে।’ মেনাখেম ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হন, নোবেল শান্তি পুরস্কারও পান। আজ সেই নীতি অবলম্বন করেই গাজার ১১ লক্ষ শিশুকে চাঁদমারি করা হয়েছে। অক্সফ্যামের পাশাপাশি সম্মিলিত জাতিপুঞ্জও জানাচ্ছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ১৩,০০০ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় শিশু নিধনযজ্ঞ।
যখন ব্রিটিশ সাংবাদিক গাজায় ইজরায়েলি বোমাবর্ষণে নিহত শতাধিক শিশুর বিষয়ে প্রশ্ন করেন, ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ত্বিপি হোটোভেলির চোখে একফোঁটা অপরাধবোধও দেখা যায় না। ক্ষমাপ্রার্থনা নেই, শোকপ্রকাশ নেই, এমনকি ‘শিশু’ শব্দটি উচ্চারণ করতেও তিনি কুণ্ঠা বোধ করেন। তাঁর উত্তর তৈরি হয় ইজরায়েলি প্রোপাগান্ডার সেই পুরনো রেকর্ড বাজিয়ে – ‘হামাস’, ‘মানব ঢাল’ আর ‘আত্মরক্ষার অধিকার’।
ইজরায়েলের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের উপস্থাপনা আরও নিষ্ঠুর। নিহত প্যালেস্তিনীয়দের কেবলমাত্র ‘নিউট্রালাইজড টেররিস্ট’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাদের কোনো পরিচয় নেই, বয়স নেই, মানবিক আখ্যান নেই। প্রখ্যাত ইজরায়েলি সাংবাদিক ওরলি নয় বলছেন ‘ইজরায়েলি মিডিয়া সম্পূর্ণভাবে এই ধারণা নিয়েই বসে আছে যে গাজা উপত্যকায় কোনো নির্দোষ মানুষের অস্তিত্ব নেই।’
এই রক্তশীতল শব্দচয়ন অবশ্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং বলা যেতে পারে এটি একটি সুগঠিত কৌশল। নয়ের ভাষায় ‘এই বিশেষ পরিভাষা সচেতনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে প্রধানমন্ত্রী [বেঞ্জামিন] নেতানিয়াহু এবং সামরিক বাহিনী তাদের এই জাতি বিনাশ অভিযান নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারেন।’ এটি সাংবাদিকতার ত্রুটি নয়, পরিকল্পিত সত্য বিলোপ কৌশল।
গত নভেম্বরে, ইজরায়েলের গাজা গণহত্যার এক বছর পূর্তিতে, গাজাভিত্তিক সংগঠন ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট ফর কমিউনিটি ট্রেনিং সেন্টারের রিপোর্টে এক ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছিল – ‘এই যুদ্ধবিধ্বস্ত প্যালেস্তিনীয় ভূখণ্ডের প্রায় সব শিশুই মনে করে তাদের মৃত্যু আসন্ন এবং তাদের প্রায় অর্ধেকই এখন মৃত্যু কামনা করে।’
তার আগের মাসেই গাজায় স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করা প্রায় ১০০ মার্কিন স্বাস্থ্যকর্মী রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন এবং উপরাষ্ট্রপতি কমলা হ্যারিসকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। ‘আমরা প্রত্যেকেই যারা এমার্জেন্সি, আইসিইউ বা সার্জিকাল ইউনিটে কাজ করেছি, নিয়মিত, এমনকি প্রতিদিনই, ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের মাথায় বা বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখেছি। পুরো গাজা জুড়ে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এত বিপুলসংখ্যক শিশুকে গুলি করা কখনোই দুর্ঘটনাবশত হয়নি বা ইজরায়েলি অসামরিক ও সামরিক কর্তৃপক্ষের অজানা নয়।’ সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এই শিশুদের অনেককেই ইচ্ছাকৃতভাবে ইজরায়েলি স্নাইপার ও সৈনিকরা হত্যা করেছে।
ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যকেন্দ্রিক গোষ্ঠী অ্যাকশন অন আর্মড ভায়োলেন্সের নির্বাহী পরিচালক ইয়ান ওভারটন বলেছেন ‘গাজার শিশুদের রক্ষা করতে সারা বিশ্বের ব্যর্থতা একটি বিশাল নৈতিক ব্যর্থতা। আমাদের দৃঢ়ভাবে এবং মমতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে যাতে এই শিশুদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় এবং তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হয়।’ বামপন্থী সাংসদ জেরেমি করবিন আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন ‘ইজরাইলকে অস্ত্র সরবরাহকারী প্রত্যেকের হাতে রক্ত লেগে আছে এবং বিশ্ব তাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।’
এইসব উক্তি, শিশুদের রক্তাক্ত ছবি ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমাদের কাছে নিরন্তর স্রোতের মত আসতে থাকে। আমরা স্ক্রোল করে যাই এক হত্যা থেকে অন্য হত্যায়, কখনো বা ভয়ে চোখ বুজে ফেলি। গাজা সহ গোটা প্যালেস্তাইনে শিশুদের লাশের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
তথ্য আমাদের পরিস্থিতির গভীরতা বুঝতে সাহায্য করে মাত্র, অনুভবে সামান্যই পরিবর্তন আনতে পারে। তবুও তথ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, প্যালেস্তাইনের গাজা উপত্যকায় শিশুহত্যা কেবল একটি সামরিক ঘটনা নয়, এটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। এই ভয়ঙ্কর সহিংসতার গভীরে প্রোথিত আছে ইজরায়েলের রাষ্ট্রীয় আদর্শ, ভূরাজনৈতিক স্বার্থ এবং একটি সমাজকে ধ্বংস করার সুচিন্তিত পরিকল্পনা। রোজ শিশুদের হত্যা করা ইজরায়েলি রাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।
ওই রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই প্যালেস্তিনীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তার সংঘাতের সম্পর্ক। ১৯৪৮ সালের নাকবা পর্বে সাত লক্ষ প্যালেস্তিনীয় বাস্তুচ্যুত হন। সেইসময় থেকেই ইজরায়েলি নীতি নির্ধারকরা বুঝতে পেরেছিলেন, প্যালেস্তিনীয় সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দুর্বল করে দিতে পারলেই তাদের দমিয়ে রাখা সহজ হবে। ইতিহাসবিদ ইলান পাপের তাঁর দি এথনিক ক্লিনজিং অব প্যালেস্টাইন বইতে দেখিয়েছেন, কীভাবে ১৯৪৮ সাল থেকেই ইজরায়েলি বাহিনী শিশুহত্যাকে কৌশল হিসাবে ব্যবহার করেছে। ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর অসম শক্তি প্রয়োগের নীতি (দাহিয়া ডকট্রিন) অনুযায়ী, প্যালেস্তিনীয় প্রতিরোধ ভাঙতে হলে পুরো সমাজকে আতঙ্কিত করে তুলতে হবে। ২০০৬ সালে লেবানন যুদ্ধের সময়ে ইজরায়েলি জেনারেল গাদি আইজেনকোট বলেছিলেন ‘শত্রুর মনোবল ভাঙতে হলে আপনাকে তার পরিবারকে টার্গেট করতে হবে।’ গাজায় এই নীতিরই প্রতিফলন দেখা যায় প্রতিদিনকার বোমাবর্ষণে।
বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে গাজার স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকাগুলিকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ইজরায়েলি হামলায় ধ্বংস হয়েছে ৩২০টি স্কুল (সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের তথ্য)। এগুলি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত কৌশল, যাতে প্যালেস্তিনীয় সমাজ তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হারিয়ে ফেলে।
মনোবিজ্ঞানী প্রফেসর স্টিভেন পাইকের গবেষণা অনুসারে, ইজরায়েলি নীতি নির্ধারকরা ভালো করেই জানেন যে শিশুদের উপর সহিংসতা পুরো সমাজকে চিরকালীন আতঙ্কে ফেলে। ইউনিসেফ বলছে, গাজার ৯১% শিশু এখন পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারে (PTSD) ভুগছে। এই শিশুরা বড় হলে তাদের মধ্যে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে। হয় তারা গভীর হতাশায় নিমজ্জিত হবে, নয়ত তাদের মধ্যে প্রতিশোধস্পৃহা জেগে উঠবে। দুই ক্ষেত্রেই ইজরায়েলি রাষ্ট্রের সুবিধা। কারণ একটি ভঙ্গুর সমাজ কখনোই কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না।
ইজরায়েলি রাজনীতিবিদরা বছর দুয়েক আগে এক কঠিন গাণিতিক হিসাব কষে দেখেছিলেন যে প্রতিটি প্যালেস্তিনীয় শিশুর মৃত্যু ভবিষ্যতে কম জন্মহার, কম জনশক্তি এবং কম প্রতিরোধ তৈরি করবে। ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৪৭% জনসংখ্যার বয়স ১৮ বছরের নিচে। এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে যদি ধ্বংস করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে প্যালেস্তিনীয়দের দাবির ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে।
অথচ জেনিভা কনভেনশনের আর্টিকেল ৭৭ স্পষ্টভাবে শিশুদের বিশেষ সুরক্ষার কথা বলে। কিন্তু ইজরায়েলি আদালত বারবার রায় দিয়েছে যে গাজায় আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য নয়। এই আইনগত ফাঁকটি ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এড়ানো যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের সমর্থন ছাড়া ইজরায়েল এই গণহত্যা চালাতে পারত না। ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলকে ১৪.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সাহায্য দিয়েছে। সেইসব অস্ত্র সরাসরি শিশুহত্যায় ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু পাশ্চত্যের নেতারা নীরব কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে, যা আমরা প্রায় সবাই জানি। ইজরায়েল পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার কৌশলগত ঘাঁটি। আবার গাজার ধ্বংসযজ্ঞ লাভজনক ব্যবসাও বটে। ইজরায়েলি অস্ত্র কোম্পানিগুলি, যেমন রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস লিমিটেড, তাদের নতুন অস্ত্র গাজার অসামরিক জনগণের উপর পরীক্ষা করে। পরে এই পরীক্ষিত অস্ত্র তারা বিশ্ববাজারে চড়া দামে বিক্রি করে। আগে উল্লিখিত ফিগ্লিনের নিষ্ঠুর উক্তির পরও আমেরিকার বিদেশমন্ত্রক শুধু বলেছে ‘এটি আমাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়’। কিন্তু ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অথচ এই একই দেশ ২০২২ সালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৩০০ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ইউক্রেনে শিশুহত্যার অভিযোগে।
আরো পড়ুন ন হন্যতে হন্যমানে শরীরে: রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ, একাধিপত্য, সান্ত্বনাবাক্য
যাদের চুপ করে থাকার দায় আছে, তারা চুপ করেই থাকবে। কিন্তু সেটাই শেষ কথা নয়। মে ২০২৪ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৪০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যালেস্তাইনের সমর্থনে ক্যাম্পাস দখল কর্মসূচি চলেছে। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএলএ, হার্ভার্ড ও মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ তীব্র রূপ নিয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুধু এপ্রিল মাসেই ২,১০০ জন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের আরএমটি ইউনিয়ন ইজরায়েলি পণ্য বহনকারী জাহাজে কাজ বন্ধ করেছে, ইতালির বন্দর শ্রমিকরা দশটি ইজরায়েলি জাহাজের মাল খালাস করতে অস্বীকার করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (COSATU) ইজরায়েলের সঙ্গে সবরকম বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছে। মায়েরা শিশুদের নিয়ে সামরিক অস্ত্র সরবরাহ কারখানার সামনে প্রতিবাদ করছেন, ‘আর্ট বম্বিং’ শিল্পীরা ইজরায়েলি দূতাবাসের সামনে রক্তের মত লাল রং ছিটিয়ে দিচ্ছেন। লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন রাস্তায় নামছেন খুনি রাষ্ট্র ইজরায়েলের বিরুদ্ধে।
আমিনার নীল বেলুনটা বাতাসে ভাসিয়ে রাখার দায় আমাদের। আমাদেরই।
নিবন্ধকার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মী। মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








