ব্যারাকপুর স্টেশনের ঠিক উল্টোদিকেই বিখ্যাত দাদা বৌদির বিরিয়ানির দোকান। সেখান থেকে ঘোষপাড়া রোড ধরে সোজা মিনিট কুড়ি গাড়ি চালালেই ইছাপুরের স্টোরবাজার এলাকা। নোয়াপাড়া বিধানসভার অর্ন্তগত। রাস্তার উপরেই তৃণমূলের ‘শহিদ’ বিকাশ বসুর মূর্তি। প্রায় আড়াই দশক আগে খুন হওয়া বিকাশবাবুর নাম বারবার শোনা যাচ্ছে এবারের নির্বাচনের হাওয়ায়। তৃণমূলের প্রার্থী পার্থ ভৌমিক বলছেন, তিনি জয়ী হলে বিকাশ হত্যাকাণ্ডের ফাইল নতুন করে খুলবেন। জগদ্দল বিধানসভার তৃণমূলের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম আরও স্পষ্ট করে বলছেন, বিকাশের হত্যার নেপথ্যে ছিলেন অর্জুন সিং, যিনি বিদায়ী সাংসদ এবং এবারের বিজেপি প্রার্থী। পার্থ ভৌমিক ভোটে জিতলে অর্জুনের জেলযাত্রা নাকি অবধারিত। এমনকি স্বয়ং মমতা ব্যানার্জি পলতায় জনসভায় এসে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন বিকাশের বিধবা স্ত্রী তথা নোয়াপাড়ার বিধায়ক মঞ্জু বসুকে। তুলেছেন বিকাশ খুনের প্রসঙ্গ।
বিকাশ ছিলেন ইছাপুর অঞ্চলের জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। প্রথমে সিপিআই করতেন, পরে তৃণমূলে আসেন। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই ইছাপুর এলাকায় গড়ে তুলেছিলেন শক্ত সংগঠন। ২০০০ সালের ১ এপ্রিল প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় বিকাশকে। শোনা যায় ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন বিকাশ হত্যার নেপথ্যে। অনেকের দাবি, সেই নেতা অর্জুনই। তিনি তখনো বিধায়ক নন, ভাটপাড়া পৌরসভার একজন কাউন্সিলর। কিন্তু তখন থেকেই এলাকায় ‘দাবাং’ নেতা হিসাবে পরিচিত অর্জুন। তাঁর বিরোধীদের অভিযোগ, অর্জুন নাকি একসময় রীতিমতো সেটিং করে চলতেন ব্যারাকপুরের ২০ বছরের সিপিএম সাংসদ তড়িৎবরণ তোপদারের সঙ্গে। দুজনের মধ্যে নাকি ছিল ‘মামা-ভাগ্নে’ সম্পর্ক। আবার বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর নাকি চিরকালই মসৃণ যোগাযোগ। নিজের দল তৃণমূলও বছরের পর বছর তাঁর উপর নির্ভরশীল ছিল। গোটা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে দ্বিতীয় কোনো নেতা তুলতেই পারেনি জোড়াফুল শিবির। অর্জুনই ছিলেন দলের সর্বেসর্বা। বিরোধীদের অভিযোগ, জমানা পালটেছে। অর্জুনের দাপট কমেনি। কখনো তাঁর রোষের বলি হয়েছেন বিকাশ, কখনো ‘প্রভাবশালী’ মুন্না মাড়োয়ারি, কখনো অন্য কেউ।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
গত ১ এপ্রিল পলতার জনসভায় বিকাশ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নোয়াপাড়ায় আমার প্রথম আসা নয়। এখানে ফ্যান্টাস্টিক একজন ছেলে ছিল বিকাশ বসু। কিন্তু তাকে খুন হতে হয়। তখন সিপিএম আমল। সে দিনের সেই হত্যাকাণ্ড চাপা দিয়ে দেওয়া হয়। আমি নাম বলব না। আপনারা অনুমান করে নিন কে খুন করেছিল বিকাশকে। সিপিএমের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করে বেঁচে গেছে। এখন আবার ভাজপার ওয়াশিং মেশিনে ঢুকেছে।’
কারোর নাম করেননি মমতা। কিন্তু ইঙ্গিত তো স্পষ্ট। তাঁর দলের প্রার্থী পার্থও কার্যত একই কথা বলছেন। কিন্তু তৃণমূলের জন্যও তো আছে এক ঝাঁক অস্বস্তিকর প্রশ্ন। ২০০০ সালে অর্জুন যদি নিজের দলেরই গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে খুন করিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি কীভাবে পরের বছর (২০০১) বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট পেলেন? কীভাবে এমন একজন ‘খুনি’-কে বছরের পর বছর প্রশ্রয় দিল তৃণমূল? দল ছাড়তেই কি মনে পড়ল অর্জুনের কুকীর্তির কথা? বস্তুত, ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এক আশ্চর্য ঘটনার সাক্ষী ছিল ব্যারাকপুর লোকসভা অঞ্চল। নোয়াপাড়া বিধানসভায় তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন শহিদের স্ত্রী মঞ্জু, আর ভাটপাড়া বিধানসভায় প্রার্থী ছিলেন অর্জুন, যিনি বিকাশ হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত।
২০০৪ সালে ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুনকে লোকসভায় প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। তড়িৎবাবুর কাছে তিনি হেরে যান। ২০০৬ এবং ২০১১ সালে সহজ জয় পান ভাটপাড়া বিধানসভায়। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময়ে বিধানসভা ভাঙচুরেও প্রধান ভূমিকা ছিল তাঁর। নিন্দুকেরা বলেন, নন্দীগ্রামের ‘প্রতিরোধ’ও নাকি তাঁর ‘পরিকাঠামোগত’ সাহায্য পেয়েছিল। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর অনেকেই মনে করেছিলেন, অর্জুনের মন্ত্রিত্ব নিশ্চিত। কিন্তু মমতার মন্ত্রিসভায় তাঁর ঠাঁই হয়নি। তখন থেকেই কি তিনি ক্ষুব্ধ? অনেকের তো তেমনই ধারণা। ২০১৪ সালে তৃণমূল প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদী ব্যারাকপুর থেকে দ্বিতীয়বারের জন্য জেতেন বটে, কিন্তু অর্জুনের খাসতালুক ভাটপাড়ায় তৃণমূলের ফল খুব খারাপ ছিল।
অর্জুনের দাবি অগ্রাহ্য করে ২০১৯ সালেও দীনেশকে লোকসভায় টিকিট দেয় তৃণমূল। প্রতিবাদে বিজেপিতে যোগ দেন অর্জুন। সেসময় অভিষেক ব্যানার্জি দাবি করেছিলেন, অর্জুন দু লক্ষ ভোটে হারবেন। কিন্তু মাত্র সপ্তাহ দুয়েকের নিবিড় প্রচার এবং ভোটের দিন দুর্দান্ত এলাকা দখল দেখিয়ে জিতে যান অর্জুন। শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক ভাষ্যকারদের একাংশের মতে, মোদী হাওয়া ছিল ঠিকই, কিন্তু পাঁচবছর আগের ফলাফল ছিল অর্জুনের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার জয়। তারপর অবশ্য খেলা ঘুরিয়েছে তৃণমূল। বছর দুয়েক অর্জুনের দাপট সহ্য করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাঘাত করেছে রাজ্যের শাসক দল। ভাটপাড়ায় ছেলে পবন সিংকে জিতিয়ে আনলেও ব্যারাকপুর লোকসভার বাকি সব কেন্দ্রেই বিজেপিকে জেতাতে ব্যর্থ হয়েছেন অর্জুন। হু হু করে কমেছে বিজেপির ভোট। ২০১৯ সালের ৪৩.৩% ভোট কমে হয়েছে ৩৭%। তৃণমূলের ভোট ৪২% থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৬.৪%। যার ধাক্কায় ২০২২ সালে কার্যত আত্মসমর্পণ করে তৃণমূলে যোগ দেন অর্জুন। তবে ছেলে পবন রয়ে যান বিজেপিতেই। সম্প্রতি অভিষেক বলেছেন, অর্জুনকে খাঁচায় বন্দি করতেই তাঁকে তৃণমূলে ফেরানো হয়েছিল।
গত ১০ মার্চ ব্রিগেডের মঞ্চে বসে অর্জুন জানতে পারেন, দল তাঁকে টিকিট দেয়নি। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিকিট আদায় করেন তিনি। তবে লড়াই এবার কঠিন, খুব কঠিন। বস্তুত এবারের ভোট অর্জুনের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। চক্রব্যূহে পড়ে গিয়েছেন তিনি। তাঁর দিকে ত্রিমুখী আক্রমণ শানাচ্ছে তৃণমূল।
২০১৯ সালে অর্জুনের জয়ের পর ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্য নায়ক তিনজন। তাঁদের একজন এবারের প্রার্থী, নৈহাটির বিধায়ক পার্থ। অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক। তৃণমূলের অন্য নেতাদের মত অসংখ্য অভিযোগের তীরে বিদ্ধ নন। সিনেমা, থিয়েটার করেন। খেলাধূলা নিয়ে অত্যন্ত উৎসাহী। আপাদমস্তক বাঙালি রাজনীতিবিদ। ভোটের প্রচারে নিজের এই বাঙালি পরিচিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টার ত্রুটি নেই। অন্য দুজনের নাম সুবোধ অধিকারী এবং সোমনাথ শ্যাম। প্রথমজন বীজপুরের বিধায়ক, দ্বিতীয়জন জগদ্দলের। পার্থ ভৌমিক যেমন ‘ভদ্রলোক’, এই দুজনকে ঠিক তেমন বললে কিঞ্চিৎ অত্যুক্তি করা হবে। দুজনকেই বরং বাহুবলী বলা যায়। এঁরা অর্জুনের কট্টর বিরোধী। অর্জুন তৃণমূলে থাকার সময়েও প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন, সংঘাতে জড়িয়েছেন। পার্থ-সুবোধ-সোমনাথের ব্যারিকেড কি আদৌ ভাঙতে পারবেন অর্জুন? উত্তর পেতে আর হপ্তা দুয়েকের অপেক্ষা।
আরো পড়ুন তৃণমূল না বিজেপি? একই অঙ্গে এত রূপ!
ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের কতই না সমীকরণ! টিটাগড়ের অলিগলিতে হাঁটলে এখনও শোনা যায় বাহুবলী মনীশ শুক্লার নাম। প্রথমে সিপিএম, তারপর তৃণমূল হয়ে বিজেপিতে ঢোকা মনীশ খুন হন একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে। তাঁরা বাবাকে তৃণমূলের রাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রার্থী করেন অর্জুন। সেবার অবশ্য সফল হননি, ভাল ব্যবধানে জয়ী হন রাজ। এবারের নির্বাচনের আগে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, ব্যারাকপুর আসনে নাকি রাজই ছিলেন তৃণমূলের প্রথম পছন্দ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ক্যামাক স্ট্রিটের কর্তার ইচ্ছায় টিকিট পেয়েছেন পার্থ। আবার অর্জুন দলবদল করলেও নাকি তাঁর বেশ কিছু খাস লোক রয়ে গিয়েছেন তৃণমূলেই। তাঁরা নাকি অর্ন্তঘাত করতে তৈরি। উপরন্তু বিস্তর আলোচনা আমডাঙা বিধানসভা নিয়ে।
ব্যারাকপুর লোকসভায় মুসলমান ভোটারের সংখ্যা নেহাত কম নয় – ২৫.৮২%। এই শিল্পাঞ্চলের ভোটারদের বিরাট অংশ জুটমিলের শ্রমিক। মজদুর বস্তিতে ঢুকলে মনেই হয় না পশ্চিমবঙ্গে আছি। ঠিক যেন উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের কোনো এলাকা। এই শ্রমিকদের মধ্যে যাঁরা হিন্দু, তাঁদের বড় অংশই বিজেপির সমর্থক। তাঁরা অর্জুনের বিরাট ভরসার জায়গা। বাবা সত্যনারায়ণ সিংয়ের সময় থেকেই অর্জুনদের পরিবার জুটমিল রাজনীতির অংশ। অর্জুনের বাড়ির নাম শ্রমিক ভবন। আবার শ্রমিক বস্তির মধ্যেই রয়েছে সংখ্যালঘুদের মহল্লা, যেখানে বিজেপি ঢুকতে পারে না। রামনবমীর মত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গোলমাল প্রায় বাৎসরিক ঘটনা।
কিন্তু আমডাঙা বিধানসভার চরিত্র অনেকটাই আলাদা। মূলত গ্রামীণ এলাকা, ৪১.৩% সংখ্যালঘু মানুষের বাস। ২০১৯ সালে এই বিধানসভায় বিপুল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিলেন অর্জুন। তৃণমূলের দীনেশ পেয়েছিলেন ৫০% ভোট, অর্জুন ৩২%। অনেক পিছিয়ে থাকা সিপিএম পেয়েছিল ১৩% ভোট। অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক বিষয় হল, আমডাঙা বিধানসভায় তৃণমূলের ভোট একুশের বিধানসভা নির্বাচনে এক লাফে ৮% কমে যায়। বিয়াল্লিশ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃণমূল প্রার্থী জেতেন ঠিকই, কিন্তু সংযুক্ত মোর্চার ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) প্রার্থী পান ২৪% ভোট। এই নির্বাচনেও আমডাঙায় বেশ নজরকাড়া প্রচার করছে আইএসএফ। খামে যত ভোট পড়বে, ততই সুবিধা অর্জুনের। আইএসএফের সাড়া জাগানো প্রচারের নেপথ্যেও কি তাহলে অর্জুন? আইএসএফ মানছে না। অর্জুনও অস্বীকার করছেন। কিন্তু পাটের রোঁয়ার মত বাতাসে তো কত কথাই ভাসে।
মঙ্গল পাণ্ডের ব্যারাকপুর। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ব্যারাকপুর। ভাটপাড়ার নামজাদা পণ্ডিতদের ব্যারাকপুর। এখানে ১৯৫২ সালের প্রথম নির্বাচনে জয়ী হন কংগ্রেসের রামানন্দ দাস। পরের নির্বাচনে জেতে প্রজা সোশালিস্ট পার্টি। ১৯৬২ সালে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী হিসাবে জয়ী হন বিলেত ফেরত রাজনীতিবিদ রেণু চক্রবর্তী। তারপর দুবার, ১৯৬৭ এবং ১৯৭১ সালে জয়ী হন সিপিএমের কিংবদন্তি শ্রমিক নেতা মহম্মদ ইসমাইল। ১৯৭৭ সালে জিতে যান কংগ্রেসের সৌগত রায়। ১৯৮০ সালে ফের জয়ী হন ইসমাইল। ১৯৮৪ সালের সহানুভূতির ভোটে জেতেন কংগ্রেসের দেবী ঘোষাল। তারপর পরের নির্বাচন থেকে শুরু হয় তড়িৎবরণ তোপদারের রাজত্ব, চলে ২০ বছর।
সিপিএম এবার এই আসনে প্রার্থী করেছে অভিনেতা দেবদূত ঘোষকে। রীতিমতো ঘাম ঝরাচ্ছেন তিনি। কিন্তু এই আসনের কেন্দ্রীয় চরিত্র তো একজনই – অর্জুন। এটা তাঁর রাজ্যপাট রক্ষার লড়াই। পার্থ বনাম অর্জুনের এই কুরুক্ষেত্রে বাকিরা নেহাতই পার্শ্বচরিত্র।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








