‘ঘুসপেটিয়া’ দেশ থেকে তাড়াতে ভারত জুড়ে চিল চিৎকার করছে বিজেপি। অথচ একজন ঘুসপেটিয়ার অস্তিত্ব হাতেনাতে প্রমাণ করে দেখালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। রাহুলের অভিযোগ সত্য হলে, এই ঘুসপেটিয়া বিজেপিকে হরিয়ানার বিধানসভা ভোটে জিততে সাহায্য করেছেন। হরিয়ানায় ভোটার তালিকায় তিনি নানা নামে উপস্থিত। কোথাও তাঁর নাম সীমা, কোথাও বা সুইটি, সরস্বতী, বিমলা, রশ্মি বা অন্য কিছু। অবশ্য তাঁকে এর জন্য সশরীরে ভারতে উপস্থিত হতে হয়নি। স্রেফ ছবি দিয়েই ভোটার তালিকায় তাঁর অনুপ্রবেশ ঘটেছে। অভিযোগ – সেই অনুপ্রবেশের কাণ্ডারি স্বয়ং নির্বাচন কমিশন। ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় এমনই ‘ভার্চুয়াল’ ঘুসপেটিয়ার উদাহরণ পেশ করলেন রাহুল গান্ধী। গত বুধবারের (৫ নভেম্বর) সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি হরিয়ানার বিধানসভা ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। একে বলেছেন – সরকার চুরি। অভিযোগের পক্ষে তথ্যপ্রমাণ পেশ করতে গিয়ে তিনি দেখান যে, একজন ব্রাজিলিয়ান মহিলার ছবি দিয়ে হরিয়ানার দশটি বুথে ২২ জনের নাম রয়েছে। সেই মহিলা পরে সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, এটি তাঁর অনেক বছর আগে তোলা ছবি। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর ছবি এভাবে কোথাও ব্যবহৃত হয়েছে বলে তিনি জানতেন না।
কেবল এই ব্রাজিলিয়ান মহিলার ছবির অপব্যবহারই করা হয়নি। হরিয়ানার ভোটার তালিকায় ১,২৪,১৭৭ জনের নামের সঙ্গে ভুয়ো ছবি রয়েছে বলে রাহুলের অভিযোগ। একজন মহিলার ছবি ১০০ জনের নামের পাশে রয়েছে। দুটি বুথে ২২৩ জনের নামে একজনের ছবিই দেওয়া রয়েছে। লোকসভা ভোটে সেই দুটি বুথ আলাদা ছিল না, বিধানসভা ভোটের আগে আলাদা করা হয়। পুরুষ ভোটারের নামের পাশে মহিলাদের ছবির অজস্র উদাহরণ রয়েছে। ভুয়ো ছবি, ঝাপসা ছবি, উত্তরপ্রদেশের লোকের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকানো, বাড়ির নম্বর ‘০’, একই ঠিকানায় বহু ভোটারের নাম তোলা ইত্যাদি রকমারি কৌশলে হরিয়ানার ভোটার তালিকায় ২৫,৪১,১৪৪ ভুয়ো নাম তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ, যাঁদের মধ্যে ৫,২১,৬১৯ জন ডুপ্লিকেট ভোটার। পাশাপাশি ৬ ও ৭ নম্বর ফর্মের অপব্যবহার করে নাম যোগ-বিয়োগেও কারচুপি করা হয়েছে। লোকসভা ভোটে নাম ছিল এমন ৩,৫০,০০০ ভোটারের নাম মাত্র কয়েক মাস পরে হওয়া হরিয়ানা বিধানসভা ভোটের আগে কেটে দেওয়া হয়। এমন কারচুপি করে তৈরি ভোটার তালিকা দিয়েই ২০২৪ সালের হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল। রাহুলের পেশ করা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশের হাজার হাজার ভোটারের নাম হরিয়ানার ভোটার তালিকাতেও ঢোকানো হয়েছে। এদের আন্তঃরাজ্য ঘুসপেটিয়া বলা হবে কিনা বিজেপি জানে। রাহুল উদাহরণ হিসাবে দেখিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশের এক বিজেপি সরপঞ্চের নাম হরিয়ানার ভোটার তালিকায় রয়েছে।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
আরও অভিযোগ, ৯৩,১৭৪ জন ভোটারের ঠিকানা অবৈধ। আগেই বিভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকায় বহু মানুষের বাড়ির নম্বর ‘০’ থাকায় কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সাফাই গাইতে গিয়ে বলেছিলেন, যাঁরা ফুটপাথে বা রাস্তায় থাকেন, নির্দিষ্ট বাসস্থান নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে এমন হয়। তাঁর বক্তব্যে ফুটে উঠেছিল গৃহহীন গরিব মানুষকে ভোটাধিকার দেওয়ার গর্ব। যদিও এসআইআর হলে গৃহহীন প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাহুল জ্ঞানেশের সেই বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ দেখিয়ে অভিযোগ করেছেন, কারচুপি ঢাকতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এই যুক্তি দিয়েছিলেন। উদাহরণস্বরূপ রাহুল এক ব্যক্তির উল্লেখ করেছেন যাঁর নাম নরেন্দ্র। তাঁর ঘর আছে, অথচ ভোটার তালিকায় বাড়ির নম্বর ০।
একই বাড়ির ঠিকানায় অসম্ভব বেশি সংখ্যক ব্যক্তির নাম রয়েছে, এমন ভোটারের সংখ্যা (‘বাল্ক ভোটার’) হরিয়ানায় ১৯,২৬,৩৫১ জন। রাহুল দেখান, একই বাড়ির ঠিকানায় কোথাও ৫০১ জনের, কোথাও ১০৮ জনের নাম রয়েছে। উমেশ নামে একজন বিজেপি নেতার বাড়ির ঠিকানায় রয়েছে ৬৬ জনের নাম। রাহুল মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এক বাড়িতে দশজনের বেশি ভোটারের নাম থাকলে সেখানে গিয়ে যাচাই করার কথা। নির্বাচন কমিশন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেই কাজ করেনি।
আরো পড়ুন দিনদুপুরে ভোট ডাকাতি?
পঁচিশ লক্ষের বেশি ভুয়ো ভোটারের অর্থ হল, হরিয়ানার ১২.৫% ভোটারই ভুয়ো। যেখানে একটি সফটওয়্যারের সাহায্যে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ডুপ্লিকেট ভোটার ধরতে পারে নির্বাচন কমিশন, সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে কমিশন জুয়াচুরি করেছে বলে অভিযোগ।
সব সংস্থার সমীক্ষায় ২০২৪ সালের অক্টোবরে হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বিপুল ভোটে জিতবে বলা হয়েছিল। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ৯০ আসনের বিধানসভায় বিজেপি জিতেছে ৪৮ আসনে, কংগ্রেস ৩৭। বিজেপি পেয়েছিল মোট ৫৫,৪৮,৮০০ ভোট। কংগ্রেস, ইন্ডিয়া জোটের শরিক হিসাবে একটি আসন সিপিএমকে ছেড়ে দিয়ে লড়েছিল ৮৯ আসনে। কংগ্রেস পেয়েছিল ৫৪,৩০,৬০২ ভোট। অর্থাৎ বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে মোট প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান মাত্র ১,১৮,১৯৮। প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হারের মধ্যে পার্থক্য ছিল এক শতাংশেরও কম, মাত্র ০.৮৫%। জোট সঙ্গী সিপিএমের প্রাপ্ত ভোট হিসাব করলে দুই পক্ষের প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান মাত্র ৮৩,৮২৫। রাহুলের অভিযোগ অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় ২৫ লক্ষের বেশি কারচুপি হয়ে থাকলে, এটা স্পষ্ট যে হরিয়ানার ভোটে জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি। অর্থাৎ সরকার চুরি করার অভিযোগ সত্য।
বুধবারের সাংবাদিক সম্মেলনে বিহারের এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া কয়েকজন ভোটারকেও হাজির করা হয়। তাঁরা নিজেদের প্রকৃত ভোটার বলে দাবি করেন। অনেকেই তাঁদের নাম বাদ যাওয়ার কথা ভোট দিতে বুথে যাওয়ার আগে জানতে পারেননি। রাহুলের অভিযোগ, ভোট চুরির শেষতম হাতিয়ার এসআইআর।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব, কারচুপি নিয়ে বারবার নানা মহল থেকে অভিযোগ উঠছে। রাহুলও আগে অনেকবার এই অভিযোগ করেছেন। গত ৭ জুন দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস কাগজে প্রকাশিত এক নিবন্ধে রাহুল মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনে পাঁচরকমভাবে ভোট চুরির অভিযোগ এনেছিলেন। গতবছর লোকসভা নির্বাচনের কয়েক মাস পরে অনুষ্ঠিত সে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অস্বাভাবিক হারে নতুন ভোটারের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছিল। গত ৭ অগাস্টের সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু সেন্ট্রাল লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মহাদেবপুরা বিধানসভা এলাকার ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ করেন। অভিযোগ, সেখানেও পাঁচটি পদ্ধতিতে মোট ১,০০,২৫০ ভুয়ো ভোটারের নাম ঢুকিয়ে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছিল। রাহুলের পেশ করা তথ্য থেকে জানা যায়, সেখানকার ভোটার তালিকায় যেমন প্রচুর ভুয়ো ঠিকানা আছে, তেমন অনেকের বাবার নামের জায়গায় ইংরিজি বর্ণমালা এলোমেলো করে দেওয়া রয়েছে।
১৮ সেপ্টেম্বর আরেকটা সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন যে বিরোধী সমর্থকদের বেছে বেছে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। দলিত, আদিবাসী, ওবিসি, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিশানা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের আগে আলন্দ বিধানসভা কেন্দ্রে কারচুপি করে ৬,০১৮ জন প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। সফটওয়্যারের সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনকে অভিযুক্ত করেছিলেন। সেদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি মহারাষ্ট্রের রাজুরা বিধানসভা কেন্দ্রে ৬,৮৫০ জন ভুয়ো ভোটারের নাম তোলা নিয়েও অভিযোগ করেন। অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বেশ কয়েকটি কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি করে ভোট চুরির সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পেশ করেন। এবার সামগ্রিকভাবে হরিয়ানা রাজ্যের কারচুপি নিয়ে তথ্যপ্রমাণ পেশ করলেন। দেখা যাচ্ছে, এতগুলোর রাজ্যের কারচুপির কায়দায় তাৎপর্যপূর্ণ মিল রয়েছে।
বিহারে এসআইআর করার যুক্তি হিসাবে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আছে বলে প্রচার চালানো হয়েছিল। সেরাজ্যে এসআইআর করার পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আগের তালিকা থেকে প্রায় ৬৮,৬৬,০০০ জনের নাম বাদ গেছে। অথচ তার মধ্যে বিদেশি বলে চিহ্নিত হয়েছেন মাত্র ৯,৫০০ জন, অর্থাৎ মোট ভোটারের মাত্র ০.০১২%। তাঁদের মধ্যে অনেক মহিলা আবার নেপালের নাগরিক, বিয়ের পর ভারতে এসেছেন। নিয়ম ঠিকমত জানা না থাকায় নাগরিকত্ব বদলাননি বলে নাম বাদ গেছে। যোগেন্দ্র যাদব তথ্য দিয়ে অভিযোগ করেছেন, বিহারে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সংখ্যার বিচারে প্রায় ৮১,০০,০০০ মানুষের নাম তালিকায় নেই। তাঁর আরও অভিযোগ, অনেকের নাম, পদবি, আত্মীয়ের নাম ঠিকমত নেই। ফাঁকা অথবা এলোমেলোভাবে ইংরেজি বর্ণমালার কিছু অক্ষর দেওয়া রয়েছে। অনেকের বাড়ির নম্বর, সিরিয়াল বা ভোটার আই ডি নম্বর হয় ফাঁকা বা ০। অনেকের বয়স ১৮ বছরের নিচে বা ১০০ বছরের ওপরে। এরকম ৫,২৫,৩০২ জনের এমন নানা অসঙ্গতি রয়েছে। ডুপ্লিকেট ভোটার রয়েছেন ৬৮,০০,০০০-এর বেশি। নতুন ভোটারদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বয়স ২৬ বছর বা তার বেশি। তার মধ্যে আবার ৭২,৭৩২ জনের বয়স ৬১-৮০ বছরের মধ্যে। এমনকি নতুন নাম তোলা ১৯ জনের বয়স ১১৮ বছরের বেশি! মানে এসআইআর ভুয়ো ভোটার পুরোপুরি বাদ দেয়নি। অথচ অনেক বেঁচে থাকা ব্যক্তিকে মৃত বলে বাদ দিয়েছে। আবার বাল্ক ভোটারের সংখ্যা ৪,৫৬,৭৮৮ জন। যোগেন্দ্রের পেশ করা তথ্য সত্য হলে প্রমাণিত হচ্ছে, বিহারের এসআইআরেও একই কায়দায় কারচুপি করা হয়েছে।
বারবার পালটা প্রশ্ন উঠছে, যথা সময়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হচ্ছে না কেন? যাঁরা ভোট চুরির অভিযোগ মেনে নিচ্ছেন, তাঁদেরও অনেকে মনে করছেন অভিযোগ আনলেই হবে না। সুরাহার জন্য চাই বিরোধীদের বুথ স্তরের কর্মী বাহিনি। কিন্তু অভিযোগ আগে করা হোক বা পরে, তাতে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয় না। নির্বাচন কমিশন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে, কিন্তু অভিযোগগুলি মিথ্যে বলতে পারেনি। কেন্দ্রীয়ভাবে এমন কারচুপি হলে বুথ স্তরে ধরা পড়া কঠিন। আবার এটাও ঠিক যে, আরএসএস তার নানা শাখা সংগঠনের মাধ্যমে তৃণমূল স্তরে যে কাজ করে তা কংগ্রেস বা বিরোধী কোনো দল করে না। আরএসএসের তৃণমূল স্তরের নিবিড় যোগাযোগ আর নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর জোড়া ফলায় যদি গণতন্ত্র ও সংবিধান আক্রান্ত হয়, তাহলে তার মোকাবিলা করা খুব কঠিন। ধারাবাহিকভাবে কাজ করার মত প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনি না থাকায় কংগ্রেসের পক্ষে এই কাজ সম্ভবপর নয়। তাই রাহুল গত ১৮ সেপ্টেম্বরের মতই ৫ নভেম্বরের সাংবাদিক সম্মেলনেও যুবসমাজকে এগিয়ে আসতে বলেছেন।
বিরোধী দল সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় হলেই ভোট চুরির অপরাধ মাপ হয়ে যায় না। ভোটাধিকার কেড়ে নিলে বা ভোটার তালিকার কারচুপিতে জনমত বদলে দিলে দেশের নাগরিকদেরই বিপদ। ২০১৪ সালের পর একের পর এক রাজ্যে ভোটে হেরেও নানা কায়দায় বিজেপি বা তার জোট সরকার ক্ষমতায় এসেছে। পদ, অর্থের প্রলোভন বা ইডি, সিবিআই সহ বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে তারা বিরোধী পক্ষে ভাঙন ধরিয়ে এই কাজ করে চলেছে। জনমত যা-ই হোক, ছল চাতুরির মাধ্যমে সরকার গড়াই আসল কৃতিত্ব – এমন ভাষ্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও এমনভাবে ব্যবহার করে ভোটে ব্যাপক কারচুপি করলে গোটা সংসদীয় গণতান্ত্রিক কাঠামোই বিপন্ন হয়। যে নির্বাচন কমিশন বারবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরেও ব্যবস্থা নেয় না, শাসক বিজেপির সুরে কথা বলে, তাদের এসআইআর করার অধিকার কতখানি – সেটাই আজ বড় প্রশ্ন। তারা ত্রুটিপূর্ণ, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করবে – একথা বিশ্বাস করাই শক্ত। শাসক ভোটার তালিকায় কারচুপি করে বা বিরোধী পক্ষের দল ভাঙিয়ে ক্ষমতা লাভে নিশ্চিত হলে আরও স্বৈরাচারী, বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ভোটাধিকার, নাগরিকত্ব দেওয়া বা কেড়ে নেওয়া – সবেতেই আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। আইন, সংবিধান – কোনোকিছুই মানার প্রয়োজন বোধ করে না। বিজেপির কাজে ও কথাবার্তায় সেই আশঙ্কা ক্রমে বাড়ছে। তাই নাগরিকদের পথে নামা ছাড়া আর কোনো উপায় আজ অবশিষ্ট নেই। আন্দোলনই স্বৈরাচারকে প্রতিহিত করেছে, করে চলেছে। সারা বিশ্বের মত ভারতের ইতিহাসও তাই বলে।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







