ঝাড়খণ্ডে ইন্ডিয়া ব্লকের এক নম্বর দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম), আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এমন একটা কৌশল অবলম্বন করেছে যা সাধারণত বিজেপি করে থাকে। অন্তত দুদিক থেকে এই কৌশল একেবারে বিজেপির প্রতিরূপ। প্রথমত, জেএমএম বিজেপি ছেড়ে আসা নেতাদের গ্রহণ করেছে। দ্বিতীয়ত, এই নির্বাচনকে হেমন্ত সোরেন বনাম আর সবাই করে ফেলেছে। ঠিক যেমন বিজেপি ২০২৪ লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত সব নির্বাচনকেই নরেন্দ্র মোদী বনাম আর সবাই করে ফেলত।

সাম্প্রতিককালে দুর্নীতি বা গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকা নেতাদেরও দলে স্বাগত জানানোর জন্য বিজেপি প্রসিদ্ধ হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেই সেইসব নেতাদের বিরুদ্ধে চালু মামলাগুলো তদন্তকারী সংস্থা খারিজ করে দিয়েছে। এবারের ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচনে কিন্তু এক ডজনের বেশি বর্তমান ও প্রাক্তন বিজেপি আইনপ্রণেতা জেএমএমে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের অনেকে নির্বাচনে লড়ার টিকিটও পেয়েছেন।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

লোকসভা নির্বাচনের সময়ে যেমন বিজেপি প্রচার করছিল যে মোদী একা গোটা বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে লড়ছেন, জেএমএম তেমন বলছে হেমন্তই একা কুম্ভ হয়ে বিজেপির বিভিন্ন রাজ্যের বর্তমান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে লড়ছেন। এই মুখ্যমন্ত্রীদের বাহিনী বলতে বোঝানো হচ্ছে ঝাড়খণ্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী এবং মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি, চম্পাই সোরেন, অর্জুন মুন্ডা ও মধু কোড়া। এছাড়া ঝাড়খণ্ডের আরেক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং এখন ওড়িশার রাজ্যপাল রঘুবর দাসকেও এই তালিকায় যোগ করা যেতে পারে, কারণ তাঁর পুত্রবধূ বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। উপরন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঝাড়খণ্ডে হেমন্তের বিরুদ্ধে বিজেপির প্রচারে নেতৃত্ব দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন কোডারমায় বিজেপির শক্ত প্রতিপক্ষ লিবারেশনের বিনোদ সিং

তবে বিজেপির মত জেএমএম কিন্তু ছোট ছোট পার্টিগুলোকে একজোট করার উপরে জোর দিচ্ছে না। বরং সম্প্রতি হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস যে ভুল করেছেন সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে বলে মনে হচ্ছে। জেএমএম এমন একটা আসনেও প্রার্থী দিয়েছে যেখানে লিবারেশন যথেষ্ট শক্তিশালী এবং তাদের প্রার্থীর রাজ্য বিজেপি সভাপতি বাবুলালকে হারিয়ে দেওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল।

রাঁচির সাংবাদিক আনন্দ দত্ত অবশ্য জেএমএমের এই কৌশলকে সময়োচিত বলে মনে করছেন। তাঁর মতে ‘জেএমএম প্রতিপক্ষের কৌশলের প্রতিক্রিয়ায় এই রাস্তা বেছে নিয়েছে। এই মুহূর্তে এটা জরুরি। কেবল হেমন্ত নয়, কল্পনা সোরেনও দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’

আনন্দ বললেন ‘তবে আমার কাছে মূল বিষয় হল জেএমএম আর কংগ্রেস কিন্তু হরিয়ানার ফল থেকে কিছু শেখেনি। লিবারেশনকে জোটে নেওয়া অবশ্যই উচিত ছিল। বিজেপিকে দেখুন। তারা কেবল অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আজসু)-কে বেশ কয়েকটা আসনই ছাড়েনি, লোক জনশক্তি পার্টি (এলজেপি)-কেও জায়গা দিয়েছে। অথচ বিনোদ সিংয়ের মত নেতা বিপদের সময়ে (বিশেষত হেমন্তের গ্রেফতারির সময়ে) ইন্ডিয়া ব্লকের নেতাদের পাশে দাঁড়ানো সত্ত্বেও তাঁর দল লিবারেশনকে অগ্রাহ্য করা হল।’

এই কৌশল ফলপ্রসূ হল কিনা তা জানতে এখন তাকিয়ে থাকতে হবে ২৩ নভেম্বরের দিকে।

মূল প্রতিবেদন: ইনিউজরুম

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.