কয়েক বছর আগের কথা। দিল্লির কাছাকাছি অঞ্চলের অধ্যাপক ও গবেষকদের একটা দল একবার কাশ্মীরের এক গ্রামে যাচ্ছিলেন গবেষণার কাজে। কাশ্মীরের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে যাওয়া একরকম ব্যাপার। সেখানে সবকিছুই চিত্রনাট্যমাফিক মধুর, নয়নাভিরাম এবং বাধাবিঘ্নহীন। কিন্তু যেই আপনি সরকার নির্ধারিত রাস্তা থেকে সরে গিয়ে যাবেন কাশ্মীরের অখ্যাত এবং পর্যটকদের পথের বাইরের কোনো গ্রামের অভিমুখে, তখনই টের পাবেন জীবন ঠিক চিত্রনাট্য মেনে চলা কোনো প্রবাহ নয়। তখনই আপনার উপলব্ধিতে আসবে আসল কাশ্মীর, রক্তমাংসের কাশ্মীর। তো সেই অধ্যাপকদের গাড়িও একের পর এক চেকপোস্টে দাঁড়াতে বাধ্য হল। একেকটা চেকপোস্টে ঘন্টার পর ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ চলল। কেন এসেছ? কোথায় যাবে? কী দরকার এসব করার? কাশ্মীরের দেখার জিনিসগুলো ঘুরে ফিরে দেখো, তারপর বাড়ি চলে যাও ইত্যাদি। সেই অধ্যাপক দলে থাকা এক কাশ্মীরি তরুণ, যিনি নিজে একজন অধ্যাপক, তাঁকে দু-একটা চেকপোস্টে অভ্যাসবশত দু-একটা চড় থাপ্পড়ও মারা হল। তাঁর উপরই মিলিটারির সন্দেহ, আক্রোশ এসব বেশি। তবে অন্য অধ্যাপকরাও ছাড় পেলেন না কটূক্তি থেকে। তার মধ্যে একটা কথা প্রণিধানযোগ্য ছিল। একজন অফিসার বললেন, ‘ইয়ে জো আপলোগ চশমা পহন্নেওয়ালে দিল্লি সে আতে হো না হিউম্যান রাইটসওয়ালে, তুমলোগোঁ কো হম আচ্ছেসে জানতে হ্যাঁয়। কাশ্মীর মে আগ লাগাতে হো তুমলোগ!” কাশ্মীরে চশমা পরা দিল্লির লোক? সর্বনাশ! এরা তো ‘আগ লাগানেওয়ালে’ হতেই হবে।

অল্প কিছুদিন আগের কথা। কয়েকজন বন্ধু মিলে একবার যাচ্ছিলাম উত্তর ২৪ পরগণার এক গ্রামে। পথে গাড়ি সংখ্যালঘু অঞ্চলে ঢোকামাত্র সঙ্গের এক বন্ধু, বিজেপির অক্লান্ত সমর্থক, বলে উঠল ‘এরা সব বিদেশী, সব একেকজন সন্ত্রাসবাদী। মুসলমান মানেই হল সন্ত্রাসবাদী, তদুপরি বিদেশী সন্ত্রাসবাদী’ ইত্যাদি।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

সুতরাং এই যে অভিযোগ উঠেছে পশ্চিমবঙ্গীয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সন্দেশখালিতে কর্তব্যরত আইপিএস অফিসার জসপ্রীত সিংকে খলিস্তানি বলে দেগে দিয়েছেন এবং ভেবেছেন জমিয়ে একটা গালাগাল দেওয়া গেল, তাতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। খলিস্তানি শব্দটা আদৌ কোনো গালাগালি কিনা তা স্বতন্ত্র আলোচনার বিষয় এবং বলা বাহুল্য জটিল আলোচনা। এমন হতেই পারে, পাঞ্জাবের শিখ সম্প্রদায়ের মানুষদের কেউ কেউ আজও খলিস্তান আন্দোলনের সমর্থক। ঠিক যেমন তামিলদের মধ্যে কেউ কেউ আজও স্বাধীন ইলমের স্বপ্ন দেখেন, বাঙালিদের কেউ কেউ আজও স্বাধীন, স্বতন্ত্র, ঐক্যবদ্ধ বাংলার স্বপ্ন দেখেন। কেউ বলতেই পারেন, খলিস্তান আন্দোলন, যা এক ধর্মীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে, তা ভুল আন্দোলন। নিশ্চয়ই তাই। কিন্তু যারা একটা সন্ত্রাসবাদী, ফ্যাসিবাদী হিন্দুরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলছে, তাদের খলিস্তান নিয়ে কথা বলার কী অধিকার আছে? এসবই অন্য জটিল আলোচনার বিষয়। আমাদের বর্তমান প্রবন্ধের বিষয়বস্তু আলাদা। একজন শিখ মানুষকে দেখেই, মানে তাঁর পাগড়ি দেখেই, খলিস্তানি বলে চিহ্নিত করে দেওয়ার এই যে বিপজ্জনক প্রবণতা, সেটাই আমাদের আলোচ্য বিষয়।

আমরা এও বলতে চাইছি, যে এই মানসিকতা নতুন কিছু নয়। সমাজে থাকা হাজারো প্রতিক্রিয়াশীল ধ্যানধারণা, মতাদর্শের মত এরও অবস্থান সামাজিক মননের গভীরে প্রোথিত রয়েছে। কিন্তু সর্বাপেক্ষা প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক আন্দোলন এবং রাজনৈতিক এজেন্ট হিসাবে ফ্যাসিবাদ সর্বদাই এই ধরণের প্রতিক্রিয়াশীল মানসিকতাকে বাড়িয়ে তোলে, উস্কে দেয় এবং তাকে রাষ্ট্রীয় দর্শনে পরিণত করে। ভারতের ফ্যাসিবাদী দল হিসাবে বিজেপি সর্বত্রই এই ধরনের মানসিকতাকে চাগিয়ে তুলছে। যদিও চাপে পড়ে শুভেন্দু ওই মন্তব্য করার কথা অস্বীকার করেছেন। বলেছেন, ‘এমন কথা বলি না, সমর্থন করি না’। কিন্তু ইতিমধ্যেই তাঁর ওই উক্তির ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে অস্বীকার করে লাভ নেই।

শিখ সংগঠনগুলো বিক্ষোভ দেখিয়েছে। ভবানীপুর থানায় ‘অজ্ঞাতপরিচয় বিজেপি নেতাদের’ নামে মামলাও হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল সরকার সরাসরি শুভেন্দুর নামে মামলা করার সাহস দেখায়নি। এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যতটা কঠোর অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল তা কিন্তু দেখা যাচ্ছে না। সন্দেশখালির বানানো মামলায় রাজ্য সরকার যেভাবে আম্মা সংগঠনের নেতাদের মত গণআন্দোলনের কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছিল, সারারাত আবাসন ঘিরে রেখে সকালবেলা গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছিল, সেই অতিসক্রিয়তার পাশে বিজেপি নেতাদের নামে মিনমিন করা এফআইআর অবশ্যই সমাজে কিছু বার্তা দেয়।

আমাদের মনে থাকতে পারে, মমতা ব্যানার্জি চোখে দেখেই মাওবাদী চিনতে পারার ক্ষমতা অতীতে একাধিকবার প্রদর্শন করেছেন। ফলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর এই একই মানসিকতা পোষণ তাদের ফ্যাসিবাদী বিজেপির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে দিচ্ছে না। এর ফলে সমাজে বিজেপির রাজনীতি প্রতিরোধহীন হয়ে পড়ছে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তা একপ্রকার স্বীকৃতিও পেয়ে যাচ্ছে। এর ফলাফল যে কতটা বিষময় হতে পারে তার সবথেকে দগদগে প্রতিফলন বোধহয় দেখা যাচ্ছে প্যালেস্তাইনে।

ইজরায়েল যুদ্ধ ঘোষণা করেছে হামাসের বিরুদ্ধে। কিন্তু নির্বিচারে হত্যা করছে প্যালেস্তাইনের জনগণকে। মহিলা এবং শিশুদের সংখ্যাই সবথেকে বেশি। এখন হামাসের নাম করে প্যালেস্তাইনের অসামরিক জনগণের উপর আক্রমণ নামিয়ে এনে, ঘরবাড়ি ধ্বংস করে, স্কুল কলেজ এমনকি হাসপাতাল ধ্বংস করার কী যুক্তি ইজরায়েল দিচ্ছে? তাদের মতে, প্যালেস্তাইনের সব মানুষই হল হামাস। শিশুরা সব ভবিষ্যতের সন্ত্রাসবাদী। এইভাবে একটা জনগোষ্ঠীকে কোনো বিশেষ রাজনীতির সঙ্গে সমার্থক করে তোলাই হল ফ্যাসিবাদের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নির্মাণ। এই নির্মাণের কারণেই ফ্যাসিবাদ হাতের কাছে পেয়ে যায় তার উপাদান, যা যুগ যুগ ধরে প্রতিক্রয়াশীল মতাদর্শ হিসাবে সমাজে প্রচলিত থাকে। কিন্তু ফ্যাসিবাদের কাছে এর তাৎপর্য অনেক গভীর। এই দাগিয়ে দেওয়ার রাজনীতি ফ্যাসিবাদীদের হাতে পড়ে হয়ে দাঁড়ায় গণহত্যার যুক্তি। ফ্যাসিবাদের কাছে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তার চাই এমন এক শত্রু যার বিরুদ্ধে সে জনগণের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিক্রিয়াশীল মানসিকতাকে খুঁচিয়ে তুলতে পারে। তার উপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে পারে এক প্রতিক্রিয়াশীল গণআন্দোলন। ইজরায়েলের কাছে এই শত্রু হল আরবী প্যালেস্তিনীয়রা। আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ ফ্যাসিবাদীদের কাছে এই শত্রু হল আফ্রিকান-আমেরিকানরা। ভারতের ফ্যাসিবাদের কাছে এই শত্রু হল মুসলমানরা। অধুনা প্রাণপণ প্রচেষ্টা চলছে তাতে শিখ সম্প্রদায়কে যুক্ত করার। কারণ ভারতের চলমান কৃষক আন্দোলন অনেকাংশেই শিখ জাতীয়তাবাদের লড়াই হিসাবে দেখা দিয়েছে। উত্তর ভারতে এই লড়াই বিজেপিকে একদম নাস্তানাবুদ করে ছাড়ছে।

ফলত, ইংরিজি ভাষায় সমাজবিজ্ঞানের এক গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা হিসাবে আজকাল উঠে এসেছে ‘স্টিরিওটাইপ’ শব্দটা। গত কয়েক বছরে আমেরিকান বিদগ্ধজন ‘ব্ল্যাক ক্রিমিনাল স্টিরিওটাইপ’ নিয়ে প্রচুর লেখালিখি করেছেন। কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান মানেই হল অপরাধী – এই ভাবনা আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ জনজীবনে চিরকালই ছিল। কিন্তু আমেরিকায় ফ্যাসিবাদী অতি দক্ষিণপন্থা যেভাবে একে গত কয়েক দশক ধরে ব্যবহার করে চলেছে নিজেদের রাজনৈতিক সামাজিক ধারণার পুনর্গঠনে, তা এককথায় অভূতপূর্ব। ভারতেও বিজেপি যেভাবে এই মুসলমান মানেই সন্ত্রাসবাদী আর শিখ মানেই খলিস্তানি প্রচারটার উপর জোর দিচ্ছে, তা প্রণিধানযোগ্য।

আরো পড়ুন ট্রেন থেকে হরিয়ানা: জান হাতে নিয়ে ঘুরতে হবে নাকি?

ফ্যাসিবাদ এই যে শত্রু করে তোলে কোনো এক বা একাধিক জনগোষ্ঠীকে, খেয়াল করলে দেখা যাবে সেই জনগোষ্ঠী আগে থেকেই সমাজে একপ্রকার অপর বলে চিহ্নিত হয়ে আছে। কোনো সংখ্যালঘু, প্রান্তিক গোষ্ঠী, যা সমাজের সংখ্যাগুরু অংশের কাছে আগে থেকেই ঘৃণিত, নিদেনপক্ষে অচ্ছুত, অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। ফ্যাসিবাদ যেহেতু মর্মবস্তুতে প্রতিক্রিয়াশীল, তাই নির্দ্বিধায় এই প্রান্তিক, অবহেলিত অপর বা ক্ষেত্রবিশেষে ঘৃণিত জনগোষ্ঠীকে চাঁদমারি করে তোলে এবং শত্রু হিসাবে দাঁড় করিয়ে তাকে সম্পূর্ণ নিকেশ করার পক্ষে ওকালতি করে সংখ্যাগুরুর রাজনৈতিক এজেন্টে পরিণত হয়। এই ঘটনা সমস্ত রকমের ফ্যাসিবাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। জার্মানিতে নাজিবাদ যে খুব সহজেই ইহুদিদের লক্ষ্যবস্তু করে তুলতে পারল, তার সাংস্কৃতিক কারণ জার্মান জাতির মনস্তত্ত্বে দীর্ঘদিনের ইহুদিবিদ্বেষের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যাবে। জার্মান ইহুদি মোজেস হেসের বিখ্যাত রচনা রোম অ্যান্ড জেরুজালেম থেকে একটি ছোট অংশ অনুবাদ করে দিলাম, যাতে পাঠক বুঝতে পারেন, জার্মান ফ্যাসিবাদের উত্থানের বহু আগে থেকেই কীভাবে ইহুদিবিদ্বেষ জার্মান সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছিল।

হেস ছিলেন সমাজতান্ত্রিক জায়নবাদের প্রথম প্রবক্তা এবং মার্কস-এঙ্গেলস প্রতিষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিকের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। যদিও মার্কসের সাথে বহু বিষয়েই তাঁর গভীর মতপার্থক্য ছিল। অবশ্য হেসের জায়নবাদের ধারণা আর পরবর্তীকালের থিওডর হার্জেলদের বুর্জোয়া জায়নবাদের ধারণার মধ্যে গভীর পার্থক্য বিদ্যমান। কিন্তু সে অন্য আলোচনা। যা-ই হোক, আমরা হেসের কথাগুলো একবার শুনে নিই।

জার্মানরা ইহুদি ধর্মকে যত না ঘৃণা করে তার থেকে অনেক বেশি ঘৃণা করে ইহুদি জাতিকে। ইহুদিদের নিজস্ব বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের প্রতি সে যত না বিরক্ত তার থেকে অনেক বেশি বিরক্ত ইহুদির নাকের বিশেষ গঠন নিয়ে। কোনো ধর্মীয় সংস্কার, ধর্ম পরিবর্তন, অথবা মুক্তি ইহুদির কাছে সমাজজীবনের মুক্ত দরজা হাজির করতে পারে না। ফলে, তাদের কাছে সব সময় কীভাবে তার জাতিগত বৈশিষ্ট্যগুলিকে খারিজ করা যাবে তা নিয়ে উদ্বেগের অন্ত থাকে না। মোলাস্কট তাঁর সাইকোলজিক্যাল স্কেচেস-এ বলেছেন সেই ধর্মপরিবর্তনকারী ইহুদির ছেলের কথা যে কিনা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা চুলে চিরুনি চালিয়ে তার কোঁকড়া চুল সোজা করার চেষ্টায় থাকে যাতে করে একটা ঠিকঠাক টিউটনিক চেহারা তৈরি করা যায়।….. কিন্তু ইহুদি নাকের কোনো সংস্কার সম্ভব নয়, ঢেউ খেলানো কালো চুলকে চিরুনি চালিয়ে সোজা সোনালি করাও সম্ভব হয় না।

মনে রাখতে হবে হেস রোম এন্ড জেরুজালেম লিখছেন ১৮৬২ সালে, জার্মান ফ্যাসিবাদের উত্থানের প্রায় ৬০-৬৫ বছর আগে। একইরকমভাবে আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের প্রতি শ্বেতাঙ্গ সমাজের অপর বোধ, ঘৃণা, অসূয়া সব কিছুই আজকের মার্কিন ফ্যাসিবাদের উত্থানের বহু আগে থেকেই তার দাসপ্রথার অতীতের মধ্যে, দাসদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ প্রভুবাদের মনস্তত্ত্বের গভীরে প্রোথিত। আজকের ভারতেও সংখ্যাগুরু হিন্দু মনস্তত্ত্বে মুসলমান বা শিখ সম্প্রদায়ের প্রতি অপর বোধ, অসূয়া, ক্ষেত্রবিশেষে (মুসলমানদের ক্ষেত্রে) ঘৃণা সমাজে ইতিমধ্যেই প্রোথিত, যাকে উস্কে দিচ্ছে ফ্যাসিবাদী বিজেপি এবং আরএসএস।

ফলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এখানে সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠিত কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষেই এই কাজ করা সম্ভব নয়। একে হতেই হবে গোটা সমাজের এক সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ, উথালপাথাল করা সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, অথবা সাংস্কৃতিক বিপ্লব। কোনো রাজনৈতিক দল যদি সত্যিকারের ফ্যাসিবাদবিরোধী হতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই এই সাংস্কৃতিক উপপ্লবের রাজনৈতিক প্রতিনিধি হতে হবে। নচেৎ তাকে ফ্যাসিবাদবিরোধী বলা যাবে না।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.