গত লোকসভা নির্বাচনের সময়ে নরেন্দ্র মোদী নিজেকে ঈশ্বরপ্রেরিত অবতার বলে ঘোষণা করেছিলেন। নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন যে তাঁর জৈবিক পদ্ধতিতে জন্ম হয়নি। নতুন সংসদ ভবন ও রামমন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁকে ধর্মগুরু হিসাবে জাহির করার চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। ধর্ম, রাজনীতি, সরকার ভারতের মত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশে এখন মিলেমিশে গেছে। এবার এই ব্যবস্থাকেই স্বীকৃতি দিতে আসরে নামল আন্তর্জাতিক মহল। মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা লেক্স ফ্রিডম্যানের নেওয়া সাক্ষাৎকারে মোদীকে আধ্যাত্মিক চেতনায় ঋদ্ধ আন্তর্জাতিক নেতা হিসাবে উপস্থাপন করা হল।

সম্প্রতি সেই পডকাস্ট সাক্ষাৎকার প্রত্যাশিতভাবেই ভাইরাল করার দায়িত্ব নিয়েছেন ভক্তের দল। প্রশ্নকর্তা ফ্রিডম্যান সাক্ষাৎকারটি নেওয়ার আগে নাকি ৪৫ ঘন্টা উপবাস করেছেন। কোনো রাষ্ট্রনেতা তো দূরের কথা, ধর্মগুরুর সাক্ষাৎকার নিতেও প্রশ্নকর্তাকে উপবাসে থাকতে হয় বলে জানা নেই। সাক্ষাৎকারের শুরুতে প্রশ্নকর্তা উপবাস করার কথা ঘোষণা করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই সাক্ষাৎকারে উপবাসের ধর্মীয় অনুষঙ্গ, তার মহত্ত্ব নিয়ে জ্ঞান বিতরণ করেছেন মোদী। সেই সুযোগে নিজের ঢাক পেটাতেও কসুর করেননি। প্রশ্নকর্তা ভুলেও প্রশ্ন করেননি, মোদীর দেশে কেন কোটি কোটি মানুষ অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হন? তাঁর প্রশ্নের ধরন দেখলেই বোঝা যাবে, নিরপেক্ষতাকে বিন্দুমাত্র মর্যাদা না দিয়ে মোদীকে আধ্যাত্মিক পুরুষ হিসাবে তুলে ধরাই ছিল অন্যতম লক্ষ্য।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

অপরদিকে মোদী উবাচে গত ১১ বছরের প্রধানমন্ত্রীর কাজের বিপরীত ভাষ্য উঠে এসেছে। ফ্রিডম্যান বলেছেন, মোদী সারা বিশ্বে শান্তির দূত। আমেরিকা থেকে চীন, ইউক্রেন থেকে রাশিয়া, ইজরায়েল থেকে প্যালেস্তাইন – সবার কাছেই নাকি মোদী বরেণ্য। এরপরেও মোদীকে বিশ্বগুরু বলে না মেনে উপায় আছে? অথচ বাস্তব হল, মোদী সরকারের বিদেশনীতি নিয়ে দেশেই প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার বদলে এই সরকারের আমলে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। মোদীভক্তরাই চীনের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ তুলেছে। অথচ তিনি নাকি সর্বজনগ্রাহ্য বিশ্ববরেণ্য নেতা।

উগ্র হিন্দুত্ববাদ, ধর্মীয় হিংসাকে যে সরকার রাষ্ট্রীয় মদত দিচ্ছে, সেই সরকারের প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার এই সাক্ষাৎকারে গৌতম বুদ্ধের স্তুতি করেছেন। কিন্তু ধর্মীয় তাণ্ডবে প্রাচীন ভারতে একের পর এক বৌদ্ধ মঠ, শিক্ষাকেন্দ্র ধ্বংসের কথা ভুলেও তোলেননি। সেদিন যারা এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদেরই উত্তরাধিকার বহন করছে মোদীর পালক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ।

সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে মোদীর আরএসএস যোগ, যার জন্য তিনি গর্বিত। তিনি বলেছেন, বাল্যকাল থেকেই আরএসএসের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ঘটেছিল। তাঁর গ্রামে আরএসএস শাখা ছিল, সেখানে নাকি দেশাত্মবোধক সঙ্গীত হত। আরএসএসের মাহাত্ম্য প্রচারে অনেক সময় ব্যয় করলেও তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে তাদের ভূমিকার প্রসঙ্গ তোলেননি।

সাক্ষাৎকারটিতে মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কে বলতে গিয়েও মোদী দ্বিচারিতা করেছেন। এ প্রসঙ্গে অবশ্য প্রশ্নকর্তা ফ্রিডম্যানের মন্তব্যের কথাও বলতে হয়। ফ্রিডম্যান গান্ধীর সঙ্গে মোদীকে একাসনে বসিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, গান্ধী বিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় নেতা আর মোদী একবিংশ শতাব্দীর। মোদী গান্ধীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আরএসএস আর গান্ধীর একইসঙ্গে প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি গান্ধীর হত্যাকারীর রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নীরব থেকেছেন। প্রশ্নকর্তাও প্রশ্ন করেননি যে, মোদীর রাজত্বকালে কারা নাথুরাম গডসের মূর্তি বানিয়ে পুজো করে?

মোদী পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব উল্লেখ করে জাতীয় সংহতি রক্ষায় নদীর অবদানের কথা বলেছেন। অথচ তাঁর সরকারের আমলে বিকশিত ভারতের স্বপ্নপূরণে পরিবেশকেই বলি দেওয়া হচ্ছে। কর্পোরেটের হাতে প্রাকৃতিক সম্ভার তুলে দেওয়া হচ্ছে। তার জন্য দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ চালানো হচ্ছে। ছত্তিসগড় থেকে মণিপুর – সাধারণ মানুষ তার ফল ভোগ করছেন। বিকাশের নামে নদীর গতিপথ রুদ্ধ করে, নদী সংযোগের নামে সেগুলির সর্বনাশ করার নীল নকশা প্রস্তুত করে মোদী পরিবেশ রক্ষার বুলি আউড়েছেন। বলেছেন, মানুষ ও পরিবেশ মিলেমিশে থাকবে। অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহারকে, বিশেষত সৌর বিদ্যুৎকে, তাঁর সরকার কতখানি গুরুত্ব দিচ্ছে তা প্রচার করেছেন। কিন্তু ভুলেও বলেননি, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর বদলে কেন কয়লাখনিগুলিকে কর্পোরেটের হাতে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতি নিয়ে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে সাক্ষাৎকারে একটি শব্দও উচ্চারণ করা হয়নি।

ফ্রিডম্যান বলেছেন, মোদী নাকি ১৪০ কোটি ভারতবাসীকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ভাবনা নিয়ে লড়ছেন। প্রশ্নকর্তাই যদি একথা বলে দেন, তাহলে সাক্ষাৎকারটির মতলব বুঝতে অসুবিধা হয় না। যাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বে দ্বেষের রাজনীতিকে দেশপ্রেম বলে প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে বিপন্ন করে দেশবাসীর মধ্যে অনৈক্য বাড়ানো হচ্ছে, তাঁকে এই শংসাপত্র দেওয়া কেবল পক্ষপাতিত্ব নয়, চরম মিথ্যাচার। যাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানের লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করতে সরকার ভারতের বহুত্ববাদকে বিপন্ন করছে, তিনিই সাক্ষাৎকারে দেশের ভাষা, সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের কথা বলেছেন।

২০০২ সালের গুজরাট গণহত্যার প্রসঙ্গ অবশ্য আলোচনায় উঠে এসেছে। মোদী গোটা ঘটনায় নিজের দায়িত্ব অস্বীকার করে গোধরা কাণ্ডকেই দায়ী করেছেন। অর্থাৎ গণহত্যাকারীদের ভাষ্যকেই মোদী স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাঁর মতে এর প্রেক্ষাপট আগে থেকেই তৈরি ছিল। ১৯৯৯ সালে ইসলামিয় সন্ত্রাসবাদীদের ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান ছিনতাই, ২০০০ সালে লালকেল্লায় জঙ্গি হামলা, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলা প্রভৃতি ঘটনা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল। তার উপর গোধরায় ট্রেনযাত্রীদের জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারার ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই গুজরাটে গণহত্যা হয়। অর্থাৎ মোদীর ভাষ্যে গণহত্যাকারীদের অপকর্ম বৈধতা পেল। গোটা ব্যাপারটার দায় তিনি ইসলামিয় সন্ত্রাসবাদীদের উপর চাপিয়ে দিলেন। ‘বিশ্বশান্তির দূত’ তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী মোদী কেন ওই অশান্তি আটকাতে পারলেন না? তার উত্তরে বলেছেন, তিনি মাত্র তিনদিন আগে বিধায়ক হয়েছিলেন, অর্থাৎ নিতান্ত অনভিজ্ঞ ছিলেন। তাই কিছু করে উঠতে পারেননি।

গুজরাট গণহত্যার সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী মুখ্যমন্ত্রী মোদীকে রাজধর্মের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। সেটা বাজপেয়ীর অন্তরের কথা ছিল, নাকি সাজানো ছিল, তা বলা শক্ত। তবে ওই মন্তব্য নিয়ে যে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল তা সত্যি। বাজপেয়ীর সঙ্গে লালকৃষ্ণ আদবানির দ্বন্দ্বের খবরও প্রকাশ্যে এসেছিল। মোদী নাকি আদবানির প্রিয়পাত্র ছিলেন। বিজেপির মধ্যে বিরোধ থাকুক বা না থাকুক, গুজরাট গণহত্যা যে পরিকল্পনামাফিক করা হয়েছিল তা একাধিক ভাষ্য থেকে মনে হয়। ওই গণহত্যায় বিশ্বে ভারতের মুখ পুড়েছিল। তাই রাজধর্মের কথা বলে বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিজের দায় ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছিলেন। তারপর প্রায় এক দশক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোদীর প্রবেশাধিকার ছিল না। সেই নেতিবাচক ভাবমূর্তিকে মূলধন করেই জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর দ্রুত উত্থান।

অসহিষ্ণুতা, বিদ্বেষ, গণহত্যা – যেগুলিকে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়, সেগুলিকে মূলধন করেই স্বৈরাচারীরা ক্ষমতায় আসে। আর্থিক সংকট প্রবল হলে এইসব নেতাদের সামনে রেখেই উগ্র দক্ষিণপন্থার উত্থান ঘটে। অ্যাডলফ হিটলার, বেনিতো মুসোলিনি থেকে শুরু করে আজকের ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভ্লাদিমির পুতিন, রচপ তাইয়িপ এরদোগান, নরেন্দ্র মোদীরা সেই পথেই দেশনেতা থেকে বিশ্বগুরু হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।

২০০২-২০১৪ – এই সময়কালে ভারতের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বাজপেয়ী সরকারের পতন ঘটে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার হয়েছে। সেই সরকারের দশ বছরের রাজত্বের পর মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রে এনডিএ সরকার গঠিত হয়। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কিছুদিন পরেই যাঁর সরকারের মদতে গণহত্যার অভিযোগ উঠেছিল, তিনিই মাত্র ১২ বছরের মধ্যে হয়ে যান দেশের প্রধানমন্ত্রী। ট্রাম্পের প্রথমবার মার্কিন রাষ্ট্রপতি হওয়া, পরেরবার হেরে গিয়েও ২০২৪ সালে ফিরে আসা অনেকের কাছে অভাবনীয় মনে হলেও বাস্তব। মোদী ও ট্রাম্পের সাদৃশ্য, বন্ধুত্বও সর্বজনবিদিত।

ফ্রিডম্যানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোদী সেই বন্ধুত্বের কথা বলে ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে আমেরিকার হিউস্টনে ‘হাউডি মোদী’ সভার স্মৃতিচারণ করে তিনি ট্রাম্পকে সাহসী, দেশপ্রেমিক বলেছেন। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকেও সমর্থন করেছেন। হাউডি মোদী অনুষ্ঠানেই মোদী ‘অব কি বার ট্রাম্প সরকার’ স্লোগান তুলেছিলেন। অন্য দেশের নির্বাচন সম্পর্কে এভাবে একজন রাষ্ট্রপ্রধানের কথা বলা নিয়ে তখন অনেক জলঘোলা হয়েছিল। তবে চরম দক্ষিণপন্থীরা কবেই বা এসবের ধার ধারে?

যে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মোদী প্রশংসা করেছেন, সেই নীতিই ভারতের ক্ষতি করবে বলে আশঙ্কা। ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে চরম লাঞ্ছিত হয়েছেন ভারতীয়রা। আমেরিকায় কাজ করতে যাওয়া ভারতীয় শ্রমিকদের একাংশকে অবৈধ অভিবাসী বলে হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আসার পথে তাঁদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। সম্প্রতি আমেরিকা সফরে গিয়ে মোদী কিন্তু এর বিরুদ্ধে একটি কথাও বলেননি। দেশপ্রেমের ঠিকাদার অন্ধ ভক্তদের কাছে এসব ভারতের অপমান নয়। ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ভারতের ক্ষতি করলেও তা নিয়ে মোদী নীরব। উল্টে তিনি ট্রাম্পের উগ্র জাতীয়তাবাদকে সমর্থন করেছেন। ফ্রিডম্যানও এসব নিয়ে কোনো প্রশ্ন করেননি।

ইলন মাস্কের পরামর্শে ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি (ডিওজিই) –র নামে আমেরিকায় ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে দেশের আদালত একে অসাংবিধানিক বলেছে। মোদী ট্রাম্প সরকারের সেই নীতিরও প্রশংসা করেছেন। ট্রাম্পের সুরে সুর মিলিয়ে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ট্রাম্পের শাসনে মাস্কের ভূমিকা নিয়ে তাঁর দেশেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, মাস্কের পরামর্শেই ট্রাম্প সরকার চলছে। যেমন ভারতে আদানি, মুকেশ আম্বানির সঙ্গে মোদী সরকারের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক ওঠে, একই বিতর্ক উঠছে আমেরিকার ট্রাম্প সরকারের বিরুদ্ধে। মোদীর আমেরিকা সফরের পরেই মাস্ক টেলিকম পরিষেবায় রিলায়েন্স ও এয়ারটেলের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ভারতে প্রবেশ করছেন।

যে মোদী সাংবাদিক সম্মেলন করতে রাজি হন না, তিনি তিন ঘন্টারও বেশি সময়ের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিলেন কেন? তা প্রশ্নোত্তর পর্ব থেকেই পরিষ্কার। এটা আসলে তাঁকে বিশ্বগুরু হিসাবে তুলে ধরার কর্পোরেট প্রকল্প মাত্র।

আরো পড়ুন মোদীর অন্দর কেন গোদি মিডিয়ারও নাগালের বাইরে?

ট্রাম্প বলবেন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’, মোদী বলবেন ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’। কেউ গায়ের রংয়ের ভিত্তিতে, কেউ ধর্মের ভিত্তিতে বিদ্বেষের রাজনীতি ছড়াবেন। আর শিল্পপতিরা ভোট থেকে শুরু করে সরকারের যাবতীয় নীতির নিয়ন্তা হবে। ট্রাম্প বা মোদী নিজেদের বলবেন বিশ্বগুরু। সেই ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে আসরে নেমেছে কর্পোরেট অর্থে পুষ্ট মিডিয়া। সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররাও যে পিছিয়ে থাকবে না ফ্রিডম্যানের সাক্ষাৎকারটি আসলে তারই প্রমাণ। উত্তরসত্যের যুগে কর্পোরেট দুনিয়া এভাবেই সব পাপ ধুয়ে দিয়ে স্বৈরাচারীদের মহামানব বানাচ্ছে। এই মহামানবরা সমাজ, দেশ, বিশ্বসেবী নন; কর্পোরেটের আজ্ঞাবহ মাত্র।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

1 মন্তব্য

  1. এভাবেই স্বৈরাচারী একনায়করা সব মহামানব অতিমানব হয়ে ওঠে আর দুনিয়ায় বৈরী বেড়ে ওঠে। যুদ্ধের উপযুক্ত পরিমন্ডল তৈরি হয়, অস্ত্রের কারবারিরা ফুলে ফেঁপে ওঠে। ছকটা ভীষণ চেনা তবুও কারও টনক নড়ে না। বারবারই এমন হতে দেখা যায়। সঙ্ঘবদ্ধ প্রতিবাদ ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.