বাজেট অধিবেশনের শেষ লগ্নে লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাশ হল ওয়াকফ বিল। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর যা ইতিমধ্যেই আইনে পরিণত হয়েছে। নাম, ইউনিফায়েড ওয়াকফ ম্যানেজমেন্ট এমপাওয়ারমেন্ট এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (UMEED) অ্যাক্ট। কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করছে যে গরিব, মহিলা, অনাথ মুসলমানদের কল্যাণের জন্যই এই আইন করা হয়েছে। অপরদিকে বিরোধীদের আশঙ্কা – এর মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তি সরকার কুক্ষিগত করবে।
ইসলাম ধর্ম অনুসারে কোনো ব্যক্তি তাঁর সম্পত্তি সেবা বা ধর্মীয় কাজের জন্য ওয়াকফ হিসাবে দান করতে পারেন। একবার ওয়াকফ সম্পত্তি হিসাবে গণ্য হলে সেটি দাতা বা তাঁর উত্তরাধিকারীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকে না। সেটি ঈশ্বরের সম্পত্তি হিসাবে গণ্য হয়। বিশ্বের বহু দেশেই হাজার হাজার বছর ধরে এই ইসলামি রীতি প্রচলিত আছে। বিত্তবানের সম্পত্তি সামাজিক বা ধর্মীয় কাজে দানের মাধ্যমে সমতা আনাই এর প্রেরণা। সব ধর্মেই দানধ্যানের রীতি রয়েছে। ১৯১৩ সালে ব্রিটিশ আমলে ওয়াকফ সম্পত্তি যথাযথভাবে ব্যবহারের জন্য আইন করা হয়। পরে নতুন আইনও প্রণয়ন হয়। স্বাধীন ভারতে ১৯৫৪ সালে চালু হয় সেন্ট্রাল ওয়াকফ অ্যাক্ট । ১৯৯৫ সালে তার বদলে চালু হয় ওয়াকফ অ্যাক্ট। ২০১৩ সালে ইউপিএ সরকারের আমলে সেটি সংশোধিত হয়।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
এবারের ওয়াকফ আইন সংশোধনী বিলটি ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে সংসদে পেশ করেই আলোচনার জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়। মূল বিলের কিছু সংশোধন করে অতি দ্রুত এটি আইনে পরিণত করা হল। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের দাবি – ওয়াকফ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি চলছে, বহু মানুষের জমি জবরদখল করা হয়েছে। গরিব মুসলমানরা উপকৃত হচ্ছিলেন না। এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার নয়। সারা দেশে প্রায় ৯.৪ লক্ষ একর ওয়াকফ জমি রয়েছে। রেল ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পরে ওয়াকফ জমির পরিমাণ সর্বাধিক। এই জমি মসজিদ, কবরস্থান, মাদ্রাসা, চাষবাস সহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। ২০০৬ সালে সাচার কমিটির রিপোর্টে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে দুর্নীতি, পরিচালনার ত্রুটির কথা উঠে এসেছিল। সাচার কমিটির হিসাব অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ওয়াকফ সম্পত্তি থেকে ১২,০০০ কোটি টাকা আয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আয় হত মাত্র ১৬৩ কোটি টাকা। কমিটির অভিমত ছিল, সম্পত্তি দেখভালের ক্ষেত্রে অদক্ষতা এবং দুর্নীতির জন্যই এত কম আয় হয়। বহু ওয়াকফ জমি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, এমনকি সরকারও জবরদখল করে রেখেছে। এবারে সংসদে বিল পেশ করার সময়ে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সাচার কমিটির পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু কমিটির সুপারিশগুলি প্রয়োগ করার বদলে তার বিপরীত পথেই যাওয়া হয়েছে।
ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে সরকার ও বিজেপির বক্তব্যের অনেকাংশই মিথ্যা। কেবল রিজিজু নন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংসদে রাখা বক্তব্য থেকেও এমন ধারণা হতে পারে যে, ওয়াকফ বোর্ড ইচ্ছা মত জমি জবরদখল করছে, আগের আইনের সুযোগ নিয়ে সম্পত্তির পরিমাণ বাড়াচ্ছে। মুসলিমদের কল্যাণের জন্যই সংশোধনী আনা হয়েছে বললেও, মুসলমানবিদ্বেষী সুড়সুড়ি স্পষ্ট। জনমানসে এমন এক ধারণা সৃষ্টি করা হচ্ছে, যেন ওয়াকফ বোর্ড দেশের আইন, বিচারব্যবস্থার ঊর্ধ্বে বসে থেকেছে এতকাল। যেন ইচ্ছা হলেই তারা কারোর সম্পত্তি কেড়ে নিতে পারে। আসলে মুসলমান জনসংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির আষাঢ়ে গপ্পো শোনানোর পর এবার ইসলামি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বৃদ্ধির মিথ্যা প্রচার শুরু করলে ‘হিন্দুরা বিপন্ন’ এই তত্ত্ব প্রমাণ করতে সুবিধা হয়।
ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবহারের ব্যবস্থাপক বা ম্যানেজার হিসাবে থাকেন মুতাবলীরা। তাঁদের কাজ তত্ত্বাবধানের জন্য রাজ্যগুলিতে রয়েছে ওয়াকফ বোর্ড। সরকার এর সদস্যদের মনোনীত করে। মুতাবলীদের আর্থিক হিসাব দিতে হয়। একজন ব্যক্তি যে উদ্দেশ্যে সম্পত্তি দান করেন, মুতাবলীরা সেই সম্পত্তি কেবল সেই উদ্দেশ্যেই কাজে লাগাতে পারেন। অন্য কোনো কাজে তা ব্যবহার করা যায় না। আর্থিক হিসাব পরীক্ষা করেন কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল। কেন্দ্রীয় স্তরে রয়েছে ওয়াকফ কাউন্সিল। এর সদস্যরাও সরকার মনোনীত। অর্থাৎ সরকার বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার ঊর্ধ্বে কোনো ক্ষমতা মুতাবলী বা ওয়াকফ বোর্ডের সদস্যদের থাকে না। তার মানে এই নয় যে, মুতাবলী বা বোর্ড সদস্যরা কেউ অনিয়ম বা দুর্নীতিতে যুক্ত নন।
বোর্ড চাইলেই কোনো সম্পত্তিকে ওয়াকফের বলে চিহ্নিত করে দখল করতে পারে না। বর্তমানে তার জন্য সরকার মনোনীত সার্ভে কমিশনার রয়েছেন। তিনি তাঁর নিরীক্ষণ ওয়াকফ বোর্ডকে জানান। ওয়াকফ বোর্ড রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ করে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কোনো সম্পত্তি ওয়াকফ হিসাবে গণ্য হতে পারে না। সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনাল আছে। এই ধরনের ট্রাইব্যুনাল এদেশের বিচারব্যবস্থায় বহু ক্ষেত্রেই রয়েছে। আদালত মনে করলে ট্রাইব্যুনালের রায় পুনর্বিবেচনা করতে পারে, এমনকি তার রায় খারিজও করে দিতে পারে। অর্থাৎ ওয়াকফের জন্য আলাদা করে কোনো ধর্মভিত্তিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা বা বিচারব্যবস্থা নেই। ওয়াকফ বোর্ড ইচ্ছা মত সম্পত্তি দখল করতে পারে বা দেশের আইন তার কিছুই করতে পারে না – এই প্রচার ডাহা মিথ্যা।
কেন্দ্রীয় সরকার সংশোধিত আইনে ট্রাইব্যুনালের রায় বিবেচনা, এমনকি খারিজ করার ক্ষমতাও, হাইকোর্টকে দিয়েছে। যা আগেই ছিল, নতুন করে তা নিয়ে ঢাকঢোল পেটানোর দরকার ছিল না। মহিলা, মুসলমানদের মধ্যে অনগ্রসর গোষ্ঠী ও অমুসলমান ব্যক্তিদের বোর্ড ও কাউন্সিলের সদস্য করা আবশ্যিক করা হয়েছে। আইনে আবশ্যিক না থাকলেও অনেক রাজ্যের ওয়াকফ বোর্ডে আগে থেকেই মহিলা সদস্য ছিলেন এবং রয়েছেন। যে বিজেপি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে মুসলমানদের মধ্যে অনগ্রসর গোষ্ঠীগুলিকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে, তারা এক্ষেত্রে স্বীকৃতি দিতে উদগ্রীব কেন? অমুসলমান সদস্য রাখার কথাই বা বলা হল কেন? ইতিমধ্যেই আদালতে অভিযোগ জানানো হয়েছে যে এটি সংবিধান প্রদত্ত স্বাধীনভাবে ধর্মাচরণের অধিকারের পরিপন্থী। ধর্মীয় ক্ষেত্রে সরকারের খবরদারি বাড়ানোর এই আইনকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করে একাধিক দল ও সংস্থা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
সরকারের যুক্তি – ওয়াকফ বোর্ড ও কাউন্সিল আসলে অছি পরিষদ, কোনো ধর্মীয় সংগঠন নয়। শাহ লোকসভায় বলেছেন, ওয়াকফ বোর্ড ও কাউন্সিলের অমুসলমান সদস্যরা তার প্রশাসনিক দিকটি দেখবেন। ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন না। স্বাভাবিকভাবেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ওয়াকফ সম্পত্তির মালিক যেখানে ঈশ্বর, সেখানে একে ধর্মীয় সংগঠন হিসাবে গণ্য করা হবে না কেন? কেবল বিরোধী সাংসদরা নন, অনেক ব্যক্তি ও সংস্থাই প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে হিন্দু বা অন্য কোনো ধর্ম প্রতিষ্ঠানের অছি পরিষদে অন্য ধর্মাবলম্বীরা সদস্য হতে পারবেন না কেন? যে সরকার এক দেশ এক আইনের কথা বলছে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আনছে, সেই সরকার ওয়াকফ সম্পত্তির ক্ষেত্রে আলাদা আইনি ব্যবস্থা করছে কেন? কেন অন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তির জন্যেও কেন্দ্রীয় আইন থাকবে না?
ওয়াকফ বোর্ড ও কাউন্সিল সংসদে গৃহীত আইন অনুসারে বিধিবদ্ধ সংস্থা। নয়া আইনে আসলে তার ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। বিভিন্ন বিধিবদ্ধ ও স্বশাসিত সংস্থার মত এখানেও সরকারি ক্ষমতা বৃদ্ধিই এই আইনের আসল লক্ষ্য। কেবল তাই নয়, ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতাও কমানো হচ্ছে। নয়া আইনে বলা হয়েছে, ওয়াকফ হিসাবে কোনো সম্পত্তি নথিভুক্ত করতে হলে জমির প্রামাণ্য নথি দরকার। সরকারের সঙ্গে মালিকানা নিয়ে বিবাদ হলে তা বিচারাধীন হয়ে যাবে। নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আগের মত স্বাধীন সার্ভে কমিশনার নন, জেলা শাসক বা তাঁর ঊর্ধ্বতন কোনো আধিকারিক তার নিষ্পত্তি করবেন। সাচার কমিটির রিপোর্টই দেখিয়ে দিয়েছিল, ওয়াকফ সম্পত্তির বড় অংশ বিভিন্ন রাজ্যের সরকার দখল করে রেখেছে। নয়া আইন অনুসারে সেই জমি সরকারের না ওয়াকফের – তা নির্ধারণ করবেন সরকারি আধিকারিক। সিদ্ধান্ত কাদের অনুকূল হবে তা বলাই বাহুল্য।
জমির প্রামাণ্য নথি নিয়েও সমস্যা হবে। অনেক ওয়াকফ সম্পত্তি কয়েকশো বা কয়েক হাজার বছরের পুরনো। বহুকাল ধরে সেইসব জমিতে মসজিদ, কবরস্থান ইত্যাদি রয়েছে। এসবের কোনো প্রামাণ্য নথি দেখানো সম্ভব নয়। অনেক জমি মুখের কথায় সঠিকভাবে সই সাবুদ না করেই দান করা হয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ ওয়াকফ সম্পত্তি অনথিভুক্ত। এছাড়া বোর্ডের ব্যবস্থাপনার ভুলেও অনেক সম্পত্তি নথিভুক্ত করা হয়নি। নতুন আইন বলে সরকারি আধিকারিকদের দিয়ে নিষ্পত্তির নামে তা সরকার হস্তগত করতে পারে। ফলে এই আইন অনুযায়ী ওয়াকফ সম্পত্তি দক্ষভাবে ব্যবহৃত হওয়ার বদলে ওয়াকফ সম্পত্তি মুসলমানদের হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এর ফলে বহুকাল ধরে ধর্মীয় বা সামাজিক কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিতে ব্যবহারকারীর কোনো অধিকার থাকবে না।
যে দলে একজনও মুসলমান সাংসদ নেই, যাদের রাজত্বকালে মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে, তারা মুসলমান সমাজের স্বার্থরক্ষার জন্য এমন আইন এনেছেন – একথা অন্ধ ভক্তরাও বিশ্বাস করবে না। সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করে দিয়ে প্রচার করা হয়েছিল, ভারতের অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা এবার কাশ্মীরে জমি কিনতে পারবেন। প্রচারে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, ভারতের বহু রাজ্যকেই সংবিধানের নানা অনুচ্ছেদে বিশেষ বিশেষ অধিকার দেওয়া রয়েছে। কাশ্মীর কোনো একমেবাদ্বিতীয়ম ব্যতিক্রম নয়। সিএএ-র মাধ্যমে ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানের মূল নীতি বদলে ফেলার চেষ্টাও চলছে। নতুন আইন বলে ওয়াকফ সম্পত্তিকে কেন্দ্র করেও বিদ্বেষের রাজনীতিকেই পুষ্ট করা হবে।
সংসদে বিল পাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ সরকার আসরে নেমে গেছে। জেলাশাসকদের সরকারিভাবে নথিভুক্ত নয়, এমন ওয়াকফ সম্পত্তির তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মতলব পরিষ্কার। এবার জেলাশাসকদের দিয়ে ওইসব সম্পত্তি ওয়াকফের নয় বলিয়ে দখল করতে নামবে উত্তরপ্রদেশ সরকার। বুলডোজাররাজ, পুরনো মসজিদগুল মন্দির ধ্বংস করে তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ এনে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু করার পর হিন্দুত্ববাদীদের নতুন অস্ত্র এই নতুন আইন।
আরো পড়ুন অপারেশন জাহাঙ্গিরপুরী: রাষ্ট্রীয় মদতে মুসলিম উচ্ছেদের চেষ্টা
অযোধ্যায় রামমন্দির স্থাপনের পর দাঙ্গা বাধাতে নতুন করে বিভিন্ন মসজিদ, ঈদগাহকে চাঁদমারি করেছে হিন্দুত্ববাদীরা। এগুলি মন্দির ধ্বংস করে তৈরি হয়েছে অভিযোগ তোলা হচ্ছিল, নিম্ন আদালতগুলিও চটজলদি খোঁড়াখুঁড়ির নির্দেশ দিয়ে দিচ্ছিল। আর্কিওলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকে সেই কাজে লাগানো হচ্ছিল। ইতিমধ্যে দেশের নানা স্থানে তা নিয়ে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষও হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের সম্ভলে গত বছরের নভেম্বর মাসে এমন ঘটনায় পাঁচজন প্রাণও হারিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ফলে অবশ্য বিভিন্ন মসজিদ খোঁড়াখুড়ি এবং নিম্ন আদালতে ওসব মামলার শুনানি আপাতত বন্ধ হয়েছে। বলিউডি ছবিকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা যায় তাও আমরা সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে দেখেছি।
এবার ওয়াকফ আইনের সাহায্যে বহু বছরের পুরনো মসজিদ, কবরস্থান ওয়াকফ সম্পত্তি নয় বলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানো হবে। বিদ্বেষের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষকে মাতিয়ে রেখে জমি তুলে দেওয়া হবে কর্পোরেটের হাতে। যেমন দেশের নিরাপত্তার নামে আদিবাসীদের হত্যা করে লুঠ করা হচ্ছে ছত্তিসগড়ের প্রাকৃতিক সম্ভার। যেমনভাবে দীর্ঘদিন জাতিদাঙ্গা জিইয়ে রেখে প্রস্তুত হচ্ছে মণিপুরের জমি, জঙ্গল, খনি দখলের নকশা। নয়া ওয়াকফ আইন আসলে কর্পোরেটতন্ত্র ও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মেলবন্ধনে রচিত কৌশল। আগামীদিনে যাকে হাতিয়ার করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি আরও শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করছে।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







