তথ্যসূত্র:
- Supreme Court Diary Number 15883 / 2023 ROP / Case Number SLP(C) No.-008933-008933 / 2023 28-04-2023 / Petitioner Name ABHISHEK BANERJEE/ Respondent Name SOUMEN NANDY Petitioner’s Advocate UDAYADITYA BANERJEE / SPECIAL LEAVE PETITION (CIVIL) Diary No(s). 15883/2023 / (Arising out of impugned final judgment and order dated 13-04-2023 in CAN No. 1/2023 passed by the High Court at Calcutta)
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
- Diary Number 18159 / 2023 ROP/ Case Number / 0 28-04-2023
Petitioner Name IN RE: SUO MOTU PROCEEDINGS IN WPA NO. 10634 OF 2023 BY THE SINGLE JUDGE OF THE CALCUTTA HIGH COURT
Petitioner’s Advocate BY COURTS MOTION
- Diary Number 18159 / 2023 ROP/ Case Number / 0 28-04-2023
Petitioner Name IN RE: SUO MOTU PROCEEDINGS IN WPA NO. 10634 OF 2023 BY THE SINGLE JUDGE OF THE CALCUTTA HIGH COURT / Petitioner’s Advocate BY COURTS MOTION
তথ্যসূত্র সংক্রান্ত
- প্রথম দুটো সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার। প্রথমটায় একটা মামলায় বিচারপতি বদলের নির্দেশ দিচ্ছেন ভারতের প্রধান বিচারপতিসহ দুজন বিচারপতির এক কোরাম।
- দ্বিতীয়টাও সুপ্রিম কোর্টের অর্ডার, দিচ্ছেন বিচারপতি হিমা কোহলি এবং এ এস বোপান্না।
- তৃতীয়টা কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের অর্ডার, প্রথম তথ্যসূত্রের প্রেক্ষিতে দেওয়া নির্দেশ, যাতে সুপ্রিম কোর্টে যে সাক্ষ্যপ্রমাণ দাখিল করা হয়েছিল প্রথম অর্ডারের আগে শুনানির সময়ে, সেই সাক্ষ্যপ্রমাণ দেখতে চেয়ে। এই নির্দেশকে আপাতত স্থগিত রাখছে দ্বিতীয় তথ্যসূত্রে উল্লিখিত দুই বিচারপতির অর্ডার।
তথ্যসূত্রের সীমাবদ্ধতা অথবা আনাড়ি নাগরিক
সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্টের রায় আদালতের নিজস্ব ওয়েবসাইটে সহজলভ্য। তবে আমার একটা প্রশ্ন রয়েছে, যার সদুত্তর পাইনি। সাধারণভাবে অন্যান্য মামলার রায়ের বাইরে জমা পড়া সমস্ত কাগজপত্র ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় না। এটা কি প্রযুক্তির গাফিলতি, নাকি কোনো আইনি সিদ্ধান্ত? যেমন ধরুন, এই মামলার বিভিন্ন কাগজপত্র পেলাম না, তথ্যসূত্রে উল্লিখিত রায়গুলো ছাড়া। আইন বিশেষজ্ঞদের বুঝতে হবে, এই সীমাবদ্ধতা, জনগণের আইনি পদ্ধতি সম্পর্কে স্বশিক্ষার অবকাশকে সঙ্কুচিত করতে পারে। অবশ্য এটা আইনের জগতে বহিরাগত হওয়ার সমস্যা কিনা জানি না। তথ্য যদি রেকর্ড অফিসে পাওয়া যায়, তাহলে ওয়েবসাইটেও থাকা উচিত।
বিচার প্রক্রিয়ায় জনগণের আস্থা
দুটো রায়ে (সূত্র ১ ও ২) বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা হারালে চলে না। এটুকু নানা গোত্রের কর্মপ্রার্থী, রাজ্য সরকারের নিয়োগ দুর্নীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত বা অসন্তুষ্ট মানুষকে বুঝতে হবে। কারণ অপর দিকে রয়েছে ষড়যন্ত্রের তত্ত্বের গভীর খাদ, যা বিজ্ঞানমনস্কতার কথা বলা সংবিধানের প্রধান শত্রু।
প্রথম রায়টা পড়লে অত খারাপ লাগবে না। দ্বিতীয়টায় জনগণের ক্ষোভের অবকাশ অবশ্যই রয়েছে। ট্রান্সক্রিপ্ট কোথা থেকে পাওয়া গেল, কে অনুবাদ করল, শব্দচয়ন ঠিক হল কিনা, যে বিচারপতিকে সরানো হল তাঁর তা জানার অধিকার আছে এবং সেই তথ্য জনসমক্ষে আসাও প্রয়োজন। এ বিষয়ে আইনি সমস্যা থাকলে তার দ্রুত সমাধান চাই, কারণ আইনি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা এর সঙ্গে জড়িত।
সাক্ষাৎকার: একটি ভুল পদক্ষেপ
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সাক্ষাৎকারটা না দিলেই পারতেন। এমন সুযোগ পেলে কোনো রাজনৈতিক দল ছাড়ে না। সরাসরি মামলার উল্লেখ ছিল কিনা সে বিতর্কে না গিয়েও বলা যায়, সাক্ষাৎকার দেওয়া আদালতের কাজ নয়।
ভদ্রলোক সৎ, যথেষ্ট আবেগসম্পন্ন মানুষ বলেই যেমন বেকারের চোখের জল দেখতে পেয়েছেন, তেমন আবেগের কারণেই ওঁর আদালতের শুনানির বাইরে কথা বলার অভ্যাসটা ওঁর বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হচ্ছে। তাতে যে আরও অনেক সৎ মানুষের ক্ষতি হচ্ছে, তা ওঁকেই বুঝতে হবে। কারণ ওঁর মত বিচারপতিদের চাপে তদন্তকারী সংস্থাগুলো যেসব সাক্ষ্যপ্রমাণ খুঁজে বের করতে বাধ্য হয়েছে বা কর্মপ্রার্থীরা যা প্রমাণ দিয়েছেন, যতটুকু একত্রিত হয়েছে, তা দুর্নীতিতে নিমজ্জিত সরকারগুলো বা তদন্তকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সহজে পাওয়া সম্ভব ছিল না। প্রাথমিকভাবে সৎ, নিয়ম মানা কর্মপ্রার্থীদের তিতিক্ষার ফল এই তদন্ত। তাই তাঁদের বিচারে বিলম্ব ঘটাতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে হাজারবার ভাবা দরকার। কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, বিচারাধীন মামলা নিয়ে উকিল, বিবদমান পক্ষ, সরকার, সরকারের মন্ত্রী, সরকারি দলের লোকজন, রাজনৈতিক বিরোধী, মিডিয়া – সকলে কথা বলতে পারে (যদিও সরকারের মন্ত্রীদের বলা উচিত কিনা তা নিয়ে বিতর্ক আছে), তাহলে বিচারপতি বলতে পারেন না কেন? এর খুব সোজা উত্তরটা হল, বিচার তাঁর এজলাসেই ঘটেছে এবং চলছে। তাতে তিনি নানা সাক্ষ্য দেখছেন। যতক্ষণ না রায় দিচ্ছেন এবং উচ্চতর কোর্টে সেই রায় বলবৎ থাকছে, ততক্ষণ বাইরে পর্যবেক্ষণ না জানানোই ভালো, কারণ অভিযুক্তের বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিসহ আরেক বিচারপতির রায়: সম্ভাব্য ট্র্যাজেডি
প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের ট্র্যাজেডি হল, ভারতবর্ষে বিচারপতি কৃষ্ণ আয়ারের পর স্কলার জজসাহেব যাঁরা এসেছেন তাঁদের মধ্যে ইনি প্রায় কনিষ্ঠতম হলেও অন্যতম। অথচ এমন একটা রায়ের জন্য আমাদের রাজ্যের লোকের চোখে, চাকুরিজীবী বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে খলনায়ক হয়ে দাঁড়াবেন। কারণ বিচারে আস্থা ফেরানোর কাজে বাধা দান করে ফেললেন এবং সারাজীবন মিডিয়া ট্রায়ালের সমালোচনা করে, নিজে অধস্তন আদালতের বিচারপতিকে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের জন্য (যে বক্তব্য অভিযুক্ত রাজনৈতিক দল ও সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে) এমন এক মামলা থেকে সরতে বললেন, যে মামলায় শাসক দলের উচ্চতম নেতৃত্বের সঙ্গে তোলাবাজির যোগাযোগের প্রমাণ সহজে হতে পারত। আরও মুশকিল হল, প্রচুর ষড়যন্ত্রের তত্ত্বকে উস্কে দিলেন চাকরিপ্রার্থীরা কীভাবে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন তা অনুধাবন না করে, তাদের দীর্ঘ দুরবস্থার কথা না ভেবে। বিচারপতিরা কীভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন সেকথাও পুরোপুরি না ভেবে। অথচ এই রায়ের উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচার পদ্ধতিকে সব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখা। উপরন্তু, নির্দেশটা কিন্তু সীমিত। সব দুর্নীতির মামলা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাস থেকে সরাতে বলা হয়নি, তাঁর দেওয়া নির্দেশগুলো সম্পর্কে কোনো বাড়তি মন্তব্যও এই রায়ে নেই।
এই রায় ওঁর কেরিয়ারের ট্র্যাজেডি হবে, যদি এই রায়কে ব্যবহার করে তদন্তকারী সংস্থাগুলো নিজেদের তদন্তের গতি শ্লথ করে ফেলে অথবা এই রায়কে ব্যবহার করে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসের অন্য দুর্নীতির মামলাও সরানো হয়। কিন্তু সেসব বলার সময় এখনো আসেনি। যদি তেমন কিছু ঘটে, সেক্ষেত্রে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী লেখা ছাড়া বিশেষ কোনো সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খোলা থাকবে বলে মনে হয় না। তবে তদন্তকারীদের পক্ষেও সাক্ষ্যপ্রমাণ চাপা দেওয়া ছাড়া মামলার গতিরোধ করা এখন মুশকিল। এর কৃতিত্ব বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এবং অন্য কয়েকজন বিচারপতির।
ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব
বিচারপতি চন্দ্রচূড় মতাদর্শগতভাবে অসৎ শাসকের পক্ষে, অতীতে অসৎ শাসকের সঙ্গে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়েছেন – এরকম কোনো বহু আলোচিত খবর আমার অন্তত চোখে পড়েনি। তাঁর রায়ে ক্ষুব্ধ নাগরিকরা প্রশ্ন করতে পারেন, মিডিয়ার কাছে জজসাহেবরা যখন স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এগিয়ে আসেন, তখন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অনুভূতি ব্যক্ত করার অভিজ্ঞতা তাঁর নিজের থাকা সত্ত্বেও এ রায় দিলেন কেন? বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে এই নিয়োগ দুর্নীতির যোগসূত্র ঘনিষ্ঠ হবার কথা জেনেও?
সাক্ষ্যপ্রমাণ
এরপর বিচারাধীন মামলার বিষয়ে বিচারপতি মন্তব্য করেছেন বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা ট্রান্সক্রিপ্টের কারসাজি কিনা সেটাও দেখতে হবে। ওই ট্রান্সক্রিপ্ট যে কোনোদিন সর্বসমক্ষে চলে আসবে। তখন বিতর্ক হলেও বলতেই হবে, সাক্ষাৎকারটা বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় না দিলেই পারতেন।
আইনি পদ্ধতি সম্পর্কিত সচেতনতা
কোনো তদন্তকারী সংস্থাকে যত সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে রাজনৈতিক দল, একজন বিচারপতিকে, বিশেষ করে উচ্চতর আদালতের বিচারপতি হলে তাঁকে অত সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এমন অনেক মামলা আছে যেখানে রক্ষণশীলতা, সামাজিক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে উৎপাদিত ঘৃণাকে প্রশ্রয় দিয়েছে, অগণতান্ত্রিক শাসকের সুবিধা করে দিয়েছে। কিন্তু ভেবে দেখলেই দেখা যাবে তা ঘটেছে মূলত শাসক ও বিচারকের মতাদর্শগত নৈকট্যের জন্য। নিয়োগ দুর্নীতির ক্ষেত্রে তেমন কিছু বলার সময় আসেনি। অন্য বিচারপতিরা একই প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তের অভিমুখ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি একদম ঘুরিয়ে দেবেন – এটা ভাবার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। যদি করেন, তাকেও আইনি পদ্ধতিতে চ্যালেঞ্জ করা যায়।
বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের দ্বারা সাংবিধানিক কোর্টে শুধু নয়, অনেক নিম্ন আদালতেও বিচারক নিয়োগ হয় এবং ডেমোক্র্যাট আর রিপাবলিকান – দুই দলই এর সুযোগ নিয়ে থাকে। তবু সেখানে রক্ষণশীল মতাদর্শ প্রায়শই জয়ী হলেও চুরি করে পার পাওয়া মুশকিল। এটা সম্ভব হয়েছে তথ্যভিত্তিক রিপোর্টিং আর বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যম – দুয়ের মধ্যেই তদন্তের সংস্কৃতি রয়েছে বলে। মনে রাখবেন, রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমের বিরাট নিদর্শন ফক্স নিউজই কিন্তু প্রথম নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়ে ট্রাম্পের ষড়যন্ত্রের তত্ত্বকে নস্যাৎ করেছিল।
আমাদের দেশে বিচারক নির্বাচনে আইনসভার ভূমিকা থাকলে, কলেজিয়ামের বদলে সেভাবে বিচারপতি নিয়োগ হলে, দলীয় রাজনীতির করাল ছায়া দীর্ঘতর হত। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমাদের এখানকার বিচারপতিরা পার্টিজান – একথা কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে লক্ষ করলে সবসময় বলা যায় না। অযথা ষড়যন্ত্রের তত্ত্বকে উৎসাহ দিয়ে লাভ নেই। অবশ্য এটুকু মেনে নেওয়া যায়, যে বিচারব্যবস্থাকে প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার কাজ এখনো অনেকখানি বাকি। এখনো কর্মক্ষেত্র হিসাবে আইনের জগৎ আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্কিংয়ের মতই রীতিমত ওল্ড বয়েজ ক্লাব।
মূল সমস্যা
সরকার ও তদন্তকারী সংস্থার শ্লথতা, নির্বুদ্ধিতা, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর উপায় হল সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব ফ্যাক্ট চেকিং ও তদন্তমূলক সাংবাদিকতা বাড়ানো। সেটা শুধুই প্রতিক্রিয়া দেওয়া-নেওয়া। অথচ মিডিয়া কেবলই নব নব প্রজন্মের চরমপন্থী তৈরি করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। সন্ধের দিকে মিনিট দশেক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব কপচাতে না পারলে যদি মন উচাটন হয়, সে আলোচনা মিডিয়া এবং সরকার প্রসঙ্গেই সীমাবদ্ধ রাখা ভাল।
আজ বাংলার যে সংবাদমাধ্যমে এত চেঁচামেচি করছে, তারা আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু হওয়ার আগে কী করছিল? এখনই বা তদন্ত সংস্থার কাজের বাইরে নিজেদের তদন্তে কী প্রকাশ করেছে, আদৌ নিজেদের তদন্ত করেছে কি? বন্ধ হয়ে যাওয়া তদন্তগুলোর পুনরুজ্জীবনে কী ভূমিকা নিয়েছে? একটা বিতর্কের মূল তথ্যগুলো সংক্ষিপ্তভাবে পেশ করে জনগণের সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছে কখনো? সংবাদমাধ্যমগুলোর মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি এজেন্সির ভিতরে যোগাযোগ তৈরি করে তাদের কাজের এম্বেডেড রিপোর্টিং করে উত্তেজক চেহারায় মানুষের কাছে পেশ করা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম চরমপন্থী তার্কিক তৈরি করা আর প্রতিক্রিয়ার (পরিভাষায় যাকে বাইট বলে) ব্যবসা করা। একেই নিরপেক্ষতা বলে চালানো হচ্ছে। সত্য উদ্ঘাটনে এই পদ্ধতির ভূমিকা সীমিত।
আরো পড়ুন যে দুর্নীতি নিয়মমাফিক
তাছাড়া মানুষের কাছে তথ্য পরিবেশনেও মিডিয়া ব্যর্থ। কজন আন্দোলন করছেন, কটা আন্দোলন কী কী দাবিতে চলছে, যাঁরা আন্দোলন করছেন তাঁদের সমর্থনের ভিত্তি কী, তাঁদের নিজেদের কাছে পরীক্ষা ও নিয়োগ সংক্রান্ত কী ধরনের তথ্য রয়েছে – এসবের কোন সার্ভে বা তথ্যের একত্রিত সার কোথাও চোখে পড়েছে? এমনকি শূন্য পদ সংক্রান্ত নোটিসগুলোর উপর ভিত্তি করে কোনো বিশ্লেষণাত্মক নিবন্ধ বা টেলিভিশন রিপোর্টিং কারোর চোখে পড়েছে?
শ্লথতা ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব: মানুষের ধৈর্যচ্যুতির মূল কারণ সরকারের দুর্নীতির প্রশ্নে আত্মপক্ষ সমর্থন
অতএব বিচারব্যবস্থার শ্লথতাকেই চক্রান্তের একমাত্র প্রমাণ হিসেবে ধরে না নিলেই দেশের মঙ্গল। আর রাস্তার আন্দোলন, ন্যায়বিচারের আন্দোলনকে শ্রদ্ধা করার শিক্ষাও জরুরি। শিক্ষা শেষে কর্পোরেটে চাকরি এবং ইএমআইয়ের নিশ্চিন্ত সুখী গৃহকোণে প্রবেশ – সামাজিক আদর্শ হিসেবে এর নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তা বিচারক তথা বিচারব্যবস্থাই দেখিয়ে দিচ্ছে। এও বোঝা যাচ্ছে, একমাত্র সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ারই তদন্ত সম্ভব, সাধের প্রাইভেট আর আধা সরকারি সামাজিক কর্মক্ষেত্রে সেসবের বালাই নেই। ফলে প্রগতিশীল সামাজিক অন্তর্ভুক্তির এবং তাৎপর্যপূর্ণভাবে, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের মেধাভিত্তিক নিয়োগের মূল আশা এখনো সেই সরকারি চাকরিতেই। বিশ্বায়নের জয়জয়কারের ৪০ বছর পরেও, সরকারি কর্মসংস্থান সঙ্কুচিত হবার পরেও। এই রূঢ় সত্যের থেকে মুক্তি কোথায়?
সেকথা কি মুক্তচিন্তার মিডিয়া ব্যবসায়ীরা বলছে? বামপন্থী আইনজীবী, যাঁরা প্রত্যক্ষভাবে কর্মপ্রার্থীদের সাহায্য করার চেষ্টা করছেন, তাঁরা কি গণআন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন? বরঞ্চ একদল তথাকথিত নিরপেক্ষ আইনজীবী বলে চলেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত যে নিয়োগ পদ্ধতিটাই প্রকৃতপক্ষে বাতিল। তাই পুরনো নোটিসগুলোর ভিত্তিতে চাকরি হওয়া আর সম্ভব নয়। অতএব আন্দোলন করে লাভ নেই।
এদিকে সুকৌশলে এবং প্রকাশ্যে সরকার দুর্নীতির দায় চাপাচ্ছে বঞ্চিতদের ঘাড়ে বা যে সমস্ত কর্মপ্রার্থী মামলা করে সুবিচার চেয়েছেন তাঁদের উপরে বা তাঁদের আইনজীবীদের উপরে। এখনো থেকে যাওয়া শূন্যপদগুলো সম্পর্কে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিচ্ছে না। নিয়োগ বন্ধ থাকছে, যেন প্রায় এক দশক জুড়ে একাধিক পরীক্ষার ভুল নির্বাচিতের তালিকা বানানো, অযোগ্যদের নাম ঢুকিয়ে তালিকা প্রকাশ, আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতি সম্পর্কে নানা ঘোষণায় ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার দায় আন্দোলনরত যোগ্য কর্মপ্রার্থীদের। ফলে সঙ্গত কারণেই বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








