রামনবমী পেরিয়ে গেছে দশ দিনের বেশি হয়ে গেল, অথচ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের লাগানো বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতার আগুন এখনো নিভছে না। বিশেষত ঝাড়খণ্ডে এখনো অশান্তি অব্যাহত।
ব্যাপারটা অদ্ভুত নয়? গতবছর যখন খারৌলি, খারগোনে রামনবমীর দিন সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটল বা এ বছর যখন শিবরাত্রিতে মহারাষ্ট্রের কোলাপুরে দরগাতে রকেট বাজি ছোড়া হল জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে, প্রায় তখন থেকেই জানা ছিল যে এবার রামনবমীতেও বিজেপি-আরএসএস সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করবে। অথচ সব জেনেও আমরা তা আটকাতে অপারগ। এ এক অদ্ভুত অসহায়তা, আশ্চর্য পরাজয়। আমরা আজ হন্যে হয়ে এই সাম্প্রদায়িক বিষের ওষুধ খুঁজছি। তবে সমাধান খোঁজার আগে সমস্যার গভীরতা বোঝা দরকার, সমস্যার প্রত্যেকটা সূক্ষ্ম তারকে জুড়ে সমস্যার প্রত্যেকটা দিককে পর্যালোচনা করা দরকার।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
গত পরশু (১০ এপ্রিল) হরিয়ানার সোনিপতে গ্রামবাসীরা নিজেদের মসজিদে রমজানের নামাজ পড়ছিলেন, হঠাৎ তাঁদের উপর লাঠি নিয়ে নিজেদের গ্রামেরই অমুসলমান যুবকরা চড়াও হয়। মসজিদের ইমামকে আক্রমণ করে। কী কারণে এত বিদ্বেষ তা হয়ত অনেকেই বুঝতে পারছেন না। হাজার হাজার বছর ধরে সোনিপতে হিন্দু, মুসলমান প্রতিবেশী হিসাবে বাস করে আসছে। আজ হঠাৎ মুসলমানদের মসজিদের ভিতরে নামাজ পড়তে দেখে হিন্দু যুবকদের রক্ত বিদ্বেষে কেন গরম হয়ে উঠছে তা বুঝতে হলে এইসব যুবকদের হোয়াটস্যাপ গ্রুপগুলোর গল্প আপনাকে জানতে হবে। হোয়াটস্যাপে “হিন্দুরাষ্ট্র চাই”, “বজরঙ্গি সেনা” বা “হিন্দু যোদ্ধা” ইত্যাদি নামের গ্রুপ থেকে আসা মেসেজগুলো আপনাকে দেখতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের শাস্ত্রীনগরে, গত ৮ এপ্রিল কিছু দাঙ্গাবাজ হঠাৎ অভিযোগ করে, ওখানে মুসলমান ব্যবসায়ীরা গোমাংস বিক্রি করছে। জেলার এসডিএম ওই মাংসের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠালে জানা যায় সেটা মুরগির মাংস। তাতেও রাগ মেটেনি দাঙ্গাবাজদের। তাই রাত্রিবেলা নামাজের ঠিক পরে পরেই জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিতে দিতে মুসলমান ব্যবসায়ীদের দোকানে আগুন দেওয়া হয়।
On April 8, in Shastri Nagar, Jamshedpur, Jharkhand, local hindus expressed apprehension about getting beef. SDM sent the meat to the lab for testing, and the report said that the meat is chicken. After which the army was deployed in large numbers, and in the presence of the… pic.twitter.com/ty8gK5dHBV
— Meer Faisal (@meerfaisal01) April 9, 2023
দাউদাউ করে জ্বলছে গরীব মুসলমান ব্যবসায়ীদের দোকান। দোকান তো নয়, যেন আস্ত ভারতবর্ষ।
এবার কি পাঠক পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের রামনবমীর হিংসার ঘটনাগুলোর সঙ্গে সোনিপত বা জামশেদপুরের ঘটনার মিল পাচ্ছেন? যদি না পান, তাহলে আরও খোলাখুলি বলা যাক। যাঁরা রামনবমীর ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভাবছেন, তাঁরা মুখে “আরএসএস, আরএসএস” করে চিৎকার করলেও আদতে সংঘ পরিবারকে এবং তাদের কার্যপদ্ধতিকে চিনতে এবং জানতে অপারগ।
এগুলো আদতে কোনো দাঙ্গা নয়, বরং সংঘ ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিভিন্ন শাখা গোষ্ঠীকে দিয়ে করানো পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক হিংসা। এই পরিকল্পনাগুলো শুরু হয় হোয়াটস্যাপ গ্রুপ তৈরির মাধ্যমে। এর প্রমাণ পাবেন নালন্দার বিহার শরীফে হওয়া হিংসার তদন্তকারী আ্যডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ জিতেন্দ্র সিং গাংওয়ারের বয়ানে।
বিহার শরীফ এবং আজিজিয়া মাদ্রাসায় যে আগুন এই জঙ্গিরা লাগিয়েছিল তার হোতা হিসাবে নালন্দা জেলার বজরং দলের নেতা কুন্দন কুমার সমেত আরও বহু লোককে বিহার পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। এদের নাম মনীশ কুমার, তুষার তাঁতি, ধর্মেন্দ্র মেহতা, ভূপেন্দ্র সিং রানা ওরফে চন্দন পাণ্ডে এবং নিরঞ্জন পাণ্ডে। কুন্দন রামনবমীর কিছুদিন আগে ৪৫৬ জনের একটি হোয়াটস্যাপ গ্রুপ তৈরি করে। সেখানে কীভাবে বিহার শরীফ এবং সাসারামে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চালানো হবে এবং মুসলমানদের আক্রমণ করা হবে তার বিস্তারিত পরিকল্পনা হয়।
এবার আসা যাক দ্বিতীয় ধাপে। সংঘ পরিবার মূলত দাঙ্গার জন্য কিছু মুসলমান প্রধান এলাকাকে (অনেক ক্ষেত্রে বস্তি) বেছে নেয়। দাঙ্গা লাগানোর ঠিক কয়েকদিন আগে যে এলাকায় দাঙ্গা ছড়ানো হবে, সেখানকার স্থানীয় বজরং দল বা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যদের দিয়ে এলাকার অমুসলমান বাসিন্দাদের বাড়ি এবং দোকান চিহ্নিত করিয়ে নেওয়া হয়, যাতে আগুন লাগানোর সময়ে কোনো হিন্দুর বাড়ি বা দোকান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
এই ব্যাপারটা বিচ্ছিন্ন মনে হলেও দাঙ্গা লাগানোর এটাই দ্বিতীয় ধাপ এবং কাজে নেমে পড়ার প্রথম ধাপ। অনেকে জানেন যে এই একই পদ্ধতিতে ২০০২ সালে গুজরাট গণহত্যার সময়েও অমুসলমান বাসিন্দাদের বাড়িগুলোকে আগে থেকে এইভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাই পরেরবার থেকে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আগে কোথাও গেরুয়া পতাকা দিয়ে অমুসলমানদের বাসস্থান চিহ্নিত করা হচ্ছে চোখে পড়লে সতর্ক হোন এবং চারপাশের মানুষকে সতর্ক করুন।
এর পরের ধাপে মূলত গরীব দলিত ও আদিবাসী পরিবারের ছেলেদের টাকার লোভ দেখিয়ে দলে ভেড়ানো হয় এবং বিনামূল্যে তাদের মধ্যে অস্ত্র বিতরণ করা হয়। তাদের দাঙ্গা লাগানোর জন্য টাকা দেওয়া হয় এবং যেখানে দাঙ্গা করা হবে সেখান থেকে কিছুটা দূরে অপেক্ষা করতে বলা হয়।
তারপর আরএসএস, বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, রাম সেনার মত সংগঠনের অভিজ্ঞ ক্যাডাররা ডিজে বক্সে চরম মুসলমানবিদ্বেষী গান বাজাতে বাজাতে মুসলমান পাড়ার দিকে এগিয়ে যায়। মসজিদ, মাদ্রাসা বা মাজারের সামনে গিয়ে আওয়াজ আরও বেড়ে যায়। সাউন্ড বক্স থেকে ভেসে আসে, “যব মুল্লে কাটে জায়েঙ্গে, রাম রাম চিল্লায়েঙ্গে”, “ হর ঘর ভাগওয়া লহরায়েগা/হিন্দুরাষ্ট্র তব আয়েগা” প্রভৃতি উত্তেজক, গণহত্যায় প্ররোচনা দানকারী গান। এই ধরনের গানের ভিডিওর এখন ইউটিউবে প্রবল জনপ্রিয়তা, যার বিপদ সম্পর্কে ইউটিউব উদাসীন। কিন্তু সারা পৃথিবীর সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
ডিজে বক্সের তাণ্ডবের সঙ্গেই চলে মসজিদের মাথায় উঠে গেরুয়া পতাকা লাগানো। এসবের উদ্দেশ্য যে কোনো উপায়ে মুসলমানদের উত্তপ্ত করা। যেখানে যেখানে ভয়ে হোক বা আত্মরক্ষার্থে হোক, মুসলমানরা এর প্রতিক্রিয়ায় সক্রিয় হন, সেখানে শুরু হয় পরের ধাপ। প্রতিরোধ হওয়ামাত্র এই বাহিনী পিছু হটে যায় এবং আগে তৈরি রাখা বাহিনীকে পাঠানো হয় মসজিদ, মাদ্রাসা, মুসলমানদের দোকান ও বাড়িঘরে আগুন দিতে। এই আগুন দেওয়ার কাজে সংঘ পরিবার বা তার শাখা গোষ্ঠীর কেউ সাধারণত থাকে না। কারণ পুলিশ যখন দাঙ্গার তদন্ত করে, তখন অশান্তির সময়ে এলাকায় কোন কোন মোবাইল সক্রিয় ছিল তা পরীক্ষা করে। তাই বজরঙ দল, রাম সেনার সুদক্ষ কর্মীদের কাজ পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা অবধি। তারপর তারা তাদের ফোন নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যায়।
এরপর বিজেপি যে যে রাজ্যে ক্ষমতায় আছে, বা যে যে পুলিশ স্টেশন এবং জেলার দায়িত্বে কোনো না কোনোভাবে ছেলেবেলায় সংঘ পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা লোকেরা সরকারি পদে রয়েছে তাদের ব্যবহার করে শুরু হয় পরবর্তী ধাপ।
এবারের আক্রমণ মূলত সেইসব এলাকায় হয়, যেখানে মুসলমানরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সেখানে রাতের অন্ধকারে চলে চরম ধরপাকড়। পরদিন সকালে যে যে বাড়ির লোক দাঙ্গা আটকাতে নেমেছিল তাদের ঘরগুলো বেছে বেছে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর নমুনা আমরা গত বছর দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরীতে দেখেছি, মধ্যপ্রদেশের খারগোনে দেখেছি। উত্তরপ্রদেশে আফরীন ফতিমার বাবা জাভেদ সাহেব, যিনি দাঙ্গা আটকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন বারবার, তাঁর পরিণতিও দেখেছি।
মোটামুটি এইভাবে দাঙ্গা সংগঠিত করে হিন্দুত্ব বাহিনী। এই একই নকশা সেই ২০০২ সাল থেকে প্রায় সব দাঙ্গায় দেখা গেছে।
লক্ষ করলেই দেখা যায়, বিপুল পরিমাণ হিংসা সংগঠিত হয় সেইসব রাজ্যে, যেখানে বিজেপি ভোটবাক্সে স্বস্তিতে নেই। মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের ১৩০-এর বেশি লোকসভা আসনে বিজেপি রীতিমত ব্যাকফুটে। তাই বেছে বেছে সবচেয়ে বেশি হিংসা এখানেই ছড়ানো হয়েছে। ইতিহাস আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় দাঙ্গা থেকে যে রাজনৈতিক দল সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে তার নাম বিজেপি। দাঙ্গার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করে, সংবাদমাধ্যম এবং আইটি সেলের মাধ্যমে আক্রান্ত ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষকে খলনায়ক সাজিয়ে, “হিন্দু খতরে মে হ্যায়” – এই আতঙ্ক ছড়িয়ে হিন্দু ভোটকে খুব সহজেই একজোট করা যায়।
পাঠকদের অনেকে, বিশেষত বামপন্থী মনোভাবের অনেকে, ভাবেন এই দাঙ্গাগুলোর মূল উদ্দেশ্য শুধুই নির্বাচনকে প্রভাবিত করা। অথচ এটা খুবই অপরিণত চিন্তা। আজও যদি আমরা ভারত সম্পর্কে জেনোসাইড ওয়াচের পূর্বানুমানের সঙ্গে এই দাঙ্গাগুলোর তারকে জুড়তে না পারি, তাহলে হয়ত যে গণহত্যার বীজ এদেশে সংঘ পরিবার হিন্দুরাষ্ট্র ঘোষণা করার আগে থেকেই পুঁতে চলেছে তাকে অগ্রাহ্য করা হবে।
যাঁরা ফ্যাসিবাদ নিয়ে সামান্য পড়াশোনা করেন তাঁরা জানেন, ফ্যাসিস্টদের প্রধান খাদ্য হল জনগণের হৃদয়ে তৈরি হওয়া ভয়। কুড়ি কোটির বেশি ইসলাম ধর্মাবলম্বী নাগরিকের দেশে মুসলমান গণহত্যা চালাতে হলে আগে তাদের প্রচণ্ড ভয় দেখানো দরকার। এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলোর আসল কাজ সেটাই। ঠিক সেই কারণেই যারা এই দাঙ্গাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাদের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়। কারণ দাঙ্গা আটকে দেওয়ার ইতিবাচক খবর বাকি দেশে ছড়িয়ে পড়লে মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করতে পারে, আরএসএসকেও আটকে দেওয়া সম্ভব। জাহাঙ্গীরপুরী বা খারগোনের মত অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়, যাতে পরেরবার কোনো মুসলমান প্রতিবেশীর বাড়িতে গেরুয়াধারী জঙ্গিরা আগুন দিতে এলে কেউ তাদের বাঁচাতে না আসে। সকলের মনে যেন এই ভয়টুকু থাকে, যে আমি দাঙ্গা আটকালে আগামীকাল আমার বাড়িতে বুলডোজার চলবে। আমি অন্য কাউকে বাঁচালে আমার পরিবারকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হবে। শুভবুদ্ধিসম্পন্ন, গণতন্ত্রপ্রিয় এবং সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী মানুষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
পশ্চিমবঙ্গের ঘটনাগুলোকে অবশ্য আরেকটা দিক নিয়েও ভাবতে হবে। সেটা হল শাসক দল তৃণমূলের ভূমিকা। রামনবমীর আগেই খোদ মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্য সভা থেকে রামনবমীতে দাঙ্গা হতে পারে বলে সাবধান করেছেন। অর্থাৎ প্রশাসন জানত পরিস্থিতি কেমন। তাহলে তারা দাঙ্গা আটকাতে ব্যর্থ হল কেন? কেন শিবপুরের সাম্প্রদায়িক আগুন রিষড়ায় ছড়িয়ে পড়তে পারল? তাহলে কি পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গা হলে এ রাজ্যের শাসক দলের কোনো লাভ হবে? লালুপ্রসাদ যাদব, জ্যোতি বসুর মত নেতারা বহুকাল আগেই বলেছেন, সরকার না চাইলে দাঙ্গা হয় না। সাম্প্রতিককালে ২০০২ গুজরাট গণহত্যার সাক্ষী হর্ষ মান্দারের মত সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী নিরলস কর্মীও বলেছেন, সরকার চাইলে যে কোনো দাঙ্গা কয়েক ঘন্টার মধ্যে থামিয়ে দিতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িকতার ঘটনাগুলোয় কি তাহলে পরোক্ষভাবে শাসক দলের হাত ছিল?
আরো পড়ুন সাগরদীঘিতে তৃণমূলের ভরাডুবি যেসব প্রশ্ন তুলে দিল
ভোটের হিসাবনিকাশ এর উত্তর সহজেই দিয়ে দেবে। প্রথমে বালিগঞ্জ উপনির্বাচন, পরে সাগরদীঘি উপনির্বাচন, সঙ্গে নওশাদ সিদ্দিকির উত্থান তৃণমূলের মুসলমান ভোটব্যাঙ্কে বিপুল ফাটল দেখিয়ে দিয়েছে। তাই আবার মুসলমানদের দাঙ্গার ভয় দেখিয়ে এবং বিজেপির জুজু দেখিয়ে তৃণমূলের দিকে ফিরতে বাধ্য করার চেষ্টা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা অমূলক নয়। তিরিশ শতাংশ মুসলিম ভোটে যেনতেনপ্রকারেণ কবজা করতে পারলে মসনদে টিকে থাকা খুব সহজ। তখন যে শুধু অমুসলমান মহিলাদের থেকে আর ১০-১২% ভোট এবং শহরাঞ্চলের ভোট পেলেই ক্ষমতা ধরে রাখা যায় – সেকথা অনস্বীকার্য।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।









[…] আরো পড়ুন পরিকল্পিত দাঙ্গা: কীভাবে এবং কেন? […]