শারদোৎসবের পক্ষকাল আগে বন্যা আর তা নিয়ে নোংরা, নির্লজ্জ রাজনীতির তরজা – এ কি বঙ্গ জীবনের অঙ্গ? বিভিন্ন বাঁধ থেকে জল ছাড়ার জেরে একের পর এক এলাকা প্লাবিত। বন্যা শেষে জমিতে যত না কাদা জমে, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি হয় রাজনৈতিক তরজায়। নিজেদের দায়িত্ব পালন না করে, অপরকে দোষ দেওয়ার এই নির্লজ্জতা কবে শেষ হবে?

কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই ভেসে যাচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের একটা বড় অংশ। পাশকুঁড়া, ঘাটাল, খানাকুল, আরামবাগ, উদয়নারায়ণপুর, আমতা। নামগুলো যেন ফি বছর ফিরে আসে। বিকাশ আর উন্নয়নের তরজায় এতটুকুও অবস্থা বদলায়নি। এত মাস্টার প্ল্যান, নদীর পাড় বাঁধানো, আবহাওয়ার পূর্বাভাসের উন্নত ব্যবস্থা – এসব যে ফাঁকা আওয়াজ তা বন্যা এলেই টের পাওয়া যায়। বন্যা রোধ করার জন্য যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাতে বন্যা বাড়ে না কমে সেটাই বড় প্রশ্ন। বিপর্যয়ের সময়ে প্রশ্নগুলো ওঠে, আবার তলিয়ে যায় বিস্মৃতির অতলে। উন্নয়নের ধ্বংসযজ্ঞ চলে আপন বেগে।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

সরকার, সংবাদমাধ্যম এমনভাবে কোনো জলাধার থেকে কয়েক লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ার কথা বলে, যেন মনে হয় জল না ছাড়লে বন্যা হত না। এই ধারণার গোড়াতেই থেকে গেছে বড় গলদ। বেঁধে বা ধরে রাখলে তবেই তো ছাড়ার প্রশ্ন আসে। কেন নদীর প্রবাহকে বেঁধে রাখা হবে? নদী শুকিয়ে গেলে, গতিপথ বদলালে, বন্যা-খরা কি বন্ধ করা যায়? জল ছাড়া নিয়ে রাজনীতির তরজায় সেই প্রশ্ন আড়ালে চলে যায়। বড় বড় নদীবাঁধ, নদীর গতিপথ বদলে দেওয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিবাদ ভীষণ জরুরি।

নদীপথে এই যে বড় বড় বাঁধ, দামোদর উপত্যকা নিয়ে পরিকল্পনা, ফরাক্কা ব্যারেজ – এসবে উপকারের থেকে অপকারই হয়েছে বেশি। নদীর গতিপথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। নদী তো সুযোগ পেলে প্রতিশোধ নেবেই। প্রতিশোধ শব্দটা শুনতে ভাল লাগার কথা নয়। বন্যায় যাঁদের সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়, তাঁরা তো এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করেন না, বাঁধও দেন না। এসব পরিকল্পনা করার ক্ষমতাই বা তাঁদের কোথায়? অভিজ্ঞতা বলে, এসব পরিকল্পনায় বন্যা বেড়েছে, সঙ্গে বেড়েছে রাজনৈতিক তরজা। রাজ্য-রাজ্য, কেন্দ্র-রাজ্য – তরজার আর শেষ নেই। ক্ষমতার শাসন জেলা, রাজ্য, দেশ – কত না ভাগাভাগি করেছে। সেসবও তো স্থায়ী নয়, পরিবর্তনশীল। দেশভাগ, রাজ্য ভাগ, সীমানা বদল তো লেগেই আছে। প্রকৃতিকে সেই অনুযায়ী বাঁধতে চাইলে ভাঙন অবধারিত।

গত বছর অক্টোবর মাসে সিকিমে বন্যায় বাঁধ ভেঙে বহু মানুষ মারা গিয়েছিলেন। উত্তরবঙ্গের একাংশেও তার প্রভাব পড়েছিল। তার আগেই উত্তরবঙ্গে বন্যা হয়েছিল। সিকিম, দার্জিলিংয়ে একের পর এক বাঁধ, রেলপথসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ পরিবেশ কর্মীদের আপত্তিকে তোয়াক্কা না করেই হয়ে চলেছে। তিস্তা ব্যারেজ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য, দুই প্রতিবেশী দেশের তর্কাতর্কির শেষ নেই। গত অক্টোবরেই দক্ষিণবঙ্গে নিম্ন দামোদর অববাহিকার বহু জায়গায় বন্যা হয়েছিল।

এবছর সেপ্টেম্বরেই বন্যার ভয়াবহতা গতবারের থেকেও বেশি। উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশে একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় হচ্ছে। কিছুদিন আগেই ভয়াবহ বন্যা হয়ে গেল ত্রিপুরায়। সেই জল ভাসাল প্রতিবেশী বাংলাদেশকেও। বিতর্কের কেন্দ্রে সেই জল ছাড়া। দুই দেশের পারস্পরিক দোষারোপের কূটনীতিতে আড়ালে চলে গেল উন্নয়নের ধ্বংসযজ্ঞ।

দক্ষিণবঙ্গের একাংশের বন্যা নিয়েও একই ধারা চলছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি আর জি কর কাণ্ডকে কেন্দ্র করে গণআন্দোলন নিয়ে খুবই অস্বস্তিতে রয়েছেন। তাঁর হাবভাবে মনে হচ্ছে বন্যা দেখিয়ে তিনি লোকের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে মরিয়া। বন্যা কবলিত বেশকিছু অঞ্চলে গিয়ে তরজার রাজনীতিতেই মেতেছেন। অথচ মুখে বলছেন বন্যা নিয়ে নাকি রাজনীতি করা উচিত নয়।

মুখ্যমন্ত্রী দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি) এবং ঝাড়খণ্ড সরকারকে দোষারোপ করছেন। ডিভিসির রিজার্ভয়ার রেগুলেশন কমিটিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি কী ভূমিকা পালন করেন তা আমরা জানি না। রাজ্য বলবে জল ছাড়ার কথা আগে জানানো হয়নি, ডিভিসি বলবে জানানো হয়েছে – এই তরজা আর কতদিন? মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডিভিসির সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করবেন। তাতে কী হবে, সেটা কীভাবে সম্ভব – তাও জানা নেই। ঝাড়খণ্ড সরকার তেনুঘাট থেকে জল ছাড়ায় সেই রাজ্যের সীমান্ত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কথাও মমতা জানিয়েছেন। এতে ক্ষতি দুই রাজ্যের সাধারণ মানুষের। বিভিন্ন নদীবাঁধ নির্মাণে ঝাড়খণ্ডেরও কম ক্ষতি হয়নি। এখন রাজ্য সরকারগুলো এসব নিয়ে একে অপরকে দোষারোপ করে দায় এড়াতে পারবে? এইসব নাটুকেপনা না করলেই চলছিল না? ঝাড়খণ্ডের বর্তমান সরকারও ইন্ডিয়া জোটের শরিক। দুই রাজ্যের দুই শাসকের দ্বন্দ্বে কোথাকার জল কোথায় গড়ায় বলা যায় না। কিন্তু বন্যার জল থেকে যে মানুষ রেহাই পাবেন না, সে ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই।

নদীর দুধারে বাঁধ দেওয়া নিয়ে সরকারের গড়িমসি, অনিয়মের কথা কারোর অজানা নয়। ভোট এলেই মাস্টার প্ল্যানের কথা ওঠে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান, আরামবাগ মাস্টার প্ল্যান – আরও কত কিছু। কাজও যে হয় না তা নয়। কিন্তু নদীর জল বাড়লে সেসব কাজেই লাগে না। নিম্ন দামোদর উপত্যকায় এবার মুণ্ডেশ্বরী নদীর এমন ভয়াল রূপ হল কী করে? দ্বারকেশ্বরেরই বা এই অবস্থা কেন? নদী খাতে অবাধে বালি, পাথর তোলার চিত্র তো গোটা রাজ্যজুড়ে। অবাধে হচ্ছে ইটভাটা।

পরিবেশের তোয়াক্কা না করে নদীতীরে চলছে একের পর এক নির্মাণ। ভাগীরথীর ধারে শহরাঞ্চলে গড়ে উঠছে বহুতল। গঙ্গার হাওয়া, দৃশ্য আজ পণ্য। তা দেখিয়ে ভাল ব্যবসা হয়। নদীতীরে শুধু নয়, এমনকি নদীর উপরেও চলছে নির্মাণ কাজ। নদী বুজে যাচ্ছে। কোচবিহার শহরেই তোর্সা নদীর এই দশা। নিম্ন দামোদর উপত্যকায় এমন অজস্র নজির ছড়িয়ে আছে। তার সঙ্গে আছে উন্নয়নের নামে একের পর এক জলাভূমি ধ্বংস। সবই চলে রাজ্য প্রশাসন, শাসক দলের মেলবন্ধনে। পরিবেশ রাজনীতি এখনো ভোটের রাজনীতি হয়ে ওঠেনি। তাই সরকারও বেপরোয়া।

কেন্দ্রে বা রাজ্যে যে সরকারই থাকুক না কেন, যত ঝগড়াই তাদের মধ্যে হোক না কেন, উন্নয়নের দিশা নিয়ে তাদের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য থাকে না। বিজেপি সরকার বড় নদীবাঁধের পক্ষেই শুধু নয়, এসবের বিরুদ্ধে আন্দোলন হলেই তা দমন করতে সিদ্ধহস্ত। অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রধানমন্ত্রিত্বে চলা এনডিএ সরকার দেশের নদীগুলোকে যুক্ত করার নামে সর্বনাশের আয়োজন করেছিল। এখন আবার তার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। কেরালা বা গুজরাটের সাম্প্রতিককালের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে তথাকথিত সরকারি উন্নয়ন নীতির যোগ স্পষ্ট। সরকার যে দলেরই হোক, কর্পোরেটগুলোর নির্দেশে চলা উন্নয়নের পথ গ্রহণে কোনো পার্থক্য নেই। একের পর এক নদীবাঁধ, নানা নির্মাণ প্রকল্পের সৌজন্যে গোমুখ থেকে সৃষ্টি হওয়া গঙ্গার জলের পাঁচ শতাংশও সাগরে পৌঁছয় না। জল বাড়লেই বন্যা, ভাঙন, চড়া পড়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে বয়ে চলেছে ভারতের দীর্ঘতম নদী।

বন্যা হলে শাসকের দাপট বাড়ে। ত্রাণ, ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা – আরও কত কিছু। গরিব, বন্যার্ত মানুষকে শাসকের উপর নির্ভর করে থাকতে বাধ্য করা হয়। মন্ত্রী, সান্ত্রীর দল নিজেদের জনদরদি প্রমাণ করার সুযোগ পান। আবার ত্রাণ নিয়ে দলবাজি, বিরোধী দল পরিচালিত এলাকার সঙ্গে বৈষম্য – এসব ক্ষমতার আস্ফালনের শেষ নেই।

চাষের ক্ষতিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়েও অদ্ভূতুড়ে নিয়ম করা আছে। জমির নথি চাই, না থাকলে চাষ করেও সুবিধা মেলে না। ক্ষতিপূরণের মাত্রা ঠিক করতেও শাসকের মাতব্বরি সহ্য করতে হয়। মানুষের অসহায়তা থাকলে শাসক দাপট দেখানোর সুযোগ পায়। ত্রাণ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও, দিনের শেষে গরিব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে মোড়লের উপরেই ভরসা করতে হয়।

যেমন করতে হয় চিকিৎসা পরিষেবায়। জনস্বাস্থ্যের আসল চেহারাটা তখন বেরিয়ে পড়ে। মুখ্যমন্ত্রী এবারে বন্যার সুযোগ নিয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে লোক খেপাতে চেয়েছিলেন। বন্যার সময়ে পরিষেবা দিতে জুনিয়র ডাক্তার বা মেডিকাল কলেজগুলোকে দরকার হবে কেন? তাহলে এত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কী উন্নতি হল? কেন গ্রামীণ হাসপাতালে সাপের প্রতিষেধক, বন্যা পরবর্তী রোগভোগ সারানোর ওষুধ থাকবে না? আশা কর্মীদের মত স্বাস্থ্য প্রকল্পের যেসব কর্মীকে আক্ষরিক অর্থেই এই দুঃসময়ে মাঠে নেমে কাজ করতে হয়, তাঁদের জন্যই বা সরকারের কী পরিকল্পনা? ফি বছর বন্যা আর রাজনীতির কচকচানি চলবে। বন্যা প্রতিরোধ এবং বিপর্যয়ের সময়ে তা মোকাবিলার ব্যবস্থা হবে না।

এবারে এমন অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে যেখানে সচরাচর বন্যা হয় না। কেন হল? নদীর অবস্থা কীরকম? আগে যেসব খালবিল, অজস্র জলাশয় ছিল। সেগুলোর এখনকার অবস্থা কেমন – এ নিয়ে সরকারের মাথাব্যথা নেই। উন্নয়ন যজ্ঞে এসব ভাবতে মানা। আর নদীর ধারের মানুষের কাছে সেই লাইনটাই বাস্তব – ‘নদীর ধারে বাস/ ভাবনা বারোমাস’।

কেন ভাবনা হবে? নদী, জলাভূমি তো দিয়েছে বাঁচার রসদ। তাকে কেন্দ্র করেই চাষবাস, মাছ ধরা – আরও কতরকমের জীবিকার ব্যবস্থা। এখন তো বাঁধ, অবাধ নির্মাণকাজ, জলাভূমি বোজানোর দৌলতে নদীর ধারে বাস না হলেও ভাবনা থেকে যায়। নদী ভাঙছে, বন্ধনমুক্ত হওয়ার আকুতিতে গতিপথ পাল্টাচ্ছে, তাকে প্রযুক্তির জোরে মেরে ফেলার চেষ্টা আর যা-ই হোক প্রগতি হতে পারে না।

আরো পড়ুন প্রশাসনের দীর্ঘ ঘুমের ফলে ডুবল আমাদের পূর্ব বেঙ্গালুরু

আর জি কর কাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদী আন্দোলন আমাদের নাগরিকদের মধ্যে এক ধরনের সংহতিবোধ জাগিয়ে তুলেছে। আমরা আক্রান্ত হতে হতে, নিজেদের গুটিয়ে নিতে নিতে এমন অবস্থায় এসে পৌঁছেছি যে এক না হলে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে কিনা সন্দেহ। তাই সমাজের নানা স্তরের মানুষ বুঝতে পারছে – এক হওয়া ভীষণ প্রয়োজন। বন্যার সুযোগে ভাবমূর্তি মেরামতিতে নেমেছে শাসকরা। আমাদেরও তো দায় প্রতিবাদের মানববন্ধনের পাশাপাশি দুর্যোগে পড়া মানুষগুলোর সঙ্গেও সেতুবন্ধন করা।

ত্রাণ দেওয়া জরুরি, কিন্তু তার সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির দাবি তোলাও দরকার। দরকার কৃষিজীবী, মৎস্যজীবীদের মধ্যে যাঁরা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের ক্ষতিপূরণের দাবি তোলা। জমি, জলাশয়ের মালিকানার জোরে কেউ চাষবাস, মাছ ধরার কাজ না করেও ক্ষতিপূরণ পাবেন আর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা পাবেন না – এই ধারা বন্ধ করতে সরকারি নিয়ম বদলানোর আওয়াজ তুলতে হবে। পঞ্চায়েতে গ্রাম সংসদ ডেকে যাতে গ্রামবাসীরাই সাহায্যের কাজে হাত লাগাতে পারেন, কার কী ত্রাণ দরকার তার পরিকল্পনা করতে পারেন, ত্রাণ, ক্ষতিপূরণের আর্থিক হিসেব নিকেশ বুঝতে পারেন তার জন্য আওয়াজ তোলার এই তো সময়। ত্রাণের বিনিময়ে আনুগত্য কেন? মানুষ নিজেই সরকারি অর্থ, দ্রব্যের হিসাব বুঝে নেবেন – পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় তো এমনই কথা ছিল। বন্যার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এইসব অধিকারের কথাও তুলতে হবে। যেমন চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে লড়াইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছি আমরা নাগরিকরা।

কিন্তু বন্যার স্থায়ী সমাধানে পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র রক্ষা, উন্নয়নের এই দিশার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়া – সেই কাজেও তো গতি আনা দরকার। এই লড়াইকে রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত করা খুব জরুরি। অরাজনীতির মুখোশ পরে তা হয় না। পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র রক্ষার লড়াই কর্পোরেট ও তার ধামাধরা শাসকবিরোধী লড়াই। শাসক মানে ভোটে জিতে কারা শাসন ক্ষমতায় আছে, কারা হেরে বিরোধী আসনে – এই অতি সরল সমীকরণ নয়। বিরোধী দল যদি এই ব্যবস্থার পক্ষে, কর্পোরেট স্বার্থে চলা উন্নয়নের পক্ষে থাকে, তবে সেই দল বা জোটও আসলে শাসকপক্ষেই অবস্থান করে। পরিবেশ আন্দোলন এই তথাকথিত উন্নয়নের বিরোধী রাজনীতির অঙ্গ। সেই রাজনীতি গতি না পেলে বন্যা আর তাকে নিয়ে শাসকের রাজনৈতিক তরজার নাটক বন্ধ করা যাবে না।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.