পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল বনাম বিজেপির দ্বিদলীয় বৃত্তকে আচমকাই যেন কিছুটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পেরেছে বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলির নবান্ন অভিযান। দলবদল আর ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ির  আবহে হঠাৎ করেই সামনে এসেছে প্রতিদিনের বাঁচামরার বেশ কিছু জ্বলন্ত সমস্যা। নবান্ন অভিযান আদৌ নির্বাচনী পাটিগণিতে কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে কিনা তার উত্তর দেবে সময়। কিন্তু *নাগরিক ডট নেট * মনে করে, অনেকদিন পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কিছুটা হলেও তুলে আনতে পেরেছেন বামপন্থী ছাত্র-যুবরা। তাই নবান্ন অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।

অর্কপ্রভ সেনগুপ্ত – ছাত্র ও গবেষক। বর্তমানে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে গবেষণারত।

তখন পুলিশি জলকামানের আর লাঠিচার্জের তোড়ে আমরা পেছনে হটছি। স্ট্যাম্পিড চলছে। গলিগুলো সব আটকা। সেখান থেকেও জলকামান টিয়ার গ্যাস আর লাঠি চার্জ হচ্ছে। পিছিয়ে যেতে যেতে, যে দু-একটা গলি ব্যারিকেড করা ছিল না, আমরা ঢুকে পড়লাম সবাই সেখানে। পুলিশ তাও ছাড়ল না। গলিতে ঢুকে তারা লাঠি চার্জ করছে। আমরা বেশ কয়েকজন যে গলিতে ঢুকেছিলাম, সেখানে সৃজন দাকে দেখতে পেলাম। জলে ভেজা, টিয়ার গ্যাস খাওয়া অবস্থাতেই গলির মুখে পুলিশ দেখে বলছে – ‘তোরা সব বেরিয়ে যা পেছন দিয়ে, আমি দেখছি।’ কিন্তু বেরবো বললেই তো বেরোনো যায় না। অনেকে অসুস্থ, কেউ টিয়ার গ্যাসের চোটে শ্বাস নিতে পারছে না, কেউ চোখ খুলে দেখতে পারছে না (আমারও কিছুক্ষণ তাই হয়েছিল, চোখ বুজে কোথায় যাচ্ছি না বুঝেই হেঁটেছি), কেউ লাঠির ঘায়ে কমরেডদের ভর করে যাচ্ছেন, দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই। এগিয়ে এলেন একজন বৃদ্ধ মুসলমান ভদ্রলোক। একটা কম্পাউন্ড মত ছিল, সেটা খুলে বললেন ‘আ যাও ইধার’। ওঁর পাশে আরেকজন ছিল, আত্মীয় হবেন, তিনি বললেন ‘আরে চাচা ইয়ে ক্যা কর রহে হো ?’ ভদ্রলোক আমাদের ভেতরে ঢোকার জায়গা করে দিতে দিতে বললেন ‘বাচ্চালোগ কিধার জায়গা ? দরওয়াজা পুরা বনধ মত করো। জো ভি আয়ে, ইধার লেকে আও, ঔর পুলিশ আয়ে তো বনধ কর দেনা।’ সেখানেই আমরা আশ্রয় পেলাম। পরে অনেক অসুস্থ কমরেডকে আনা হল। জল উনিই দিলেন, সম্ভবতঃ ওষুধও দিয়েছিলেন। এইরকম অভিজ্ঞতা আমার একার না। কাল সর্বত্র সবাই এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে। কোথায় চায়ের দোকানদার, কোথাও বা অফিস যাত্রী – সাহায্য এসেছে অপ্রত্যাশিত ভাবে। আজ  প্রায় ৪০০ কমরেড কলকাতার নানা হাসপাতালে ভর্তি, মাইনর ইনজুরির সংখ্যা আরও বেশি। তাও কিছু মেরুদন্ড বিক্রি করা মানুষ এই নৃশংস বর্বরতাকেও হোয়াইটওয়াশ করতে ভীষণ আগ্রহী। কিন্তু কালকের অভিজ্ঞতা সাক্ষী দেয়, তাঁদের কথাকে গুরুত্ব দেওয়ার কোন দরকার নেই। কারণ ইতিহাস তাঁরা লিখবেন না, দিনের শেষে ইতিহাস লিখবেন যে মানুষ কাল আমাদের পাশে, আমাদের ন্যায্য সংগ্রামের পাশে দাঁড়ালেন – তাঁরাই।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

আরো পড়ুন :

Leave a Reply