আজকাল বড় গোল শোনা যায়, বাঙালি নাকি আক্রান্ত। পাড়ার কাঁচা নর্দমা পাকা হওয়া উচিত কিনা, সে বিষয়েও পাঁচজন বাঙালিকে একমত করা শক্ত। অথচ এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি বাঙালি একমত। ভিন্নমত শুধু আক্রমণকারী কে— তা নিয়ে। এক দল বাঙালির মতে, আক্রমণকারী হল অবাঙালিরা। তারা বাংলাকে উত্তরপ্রদেশ বা বিহার বানাতে উদ্যত। আরেক দল বাঙালি একথা শুনলেই স্বামী বিবেকানন্দের মত হাত দুটো বুকের কাছে গুটিয়ে নিয়ে, ঘাড় উঁচু করে দৃষ্টি দেয়াল আর সিলিংয়ের মিলনস্থলে স্থির করে বলে— হে বাঙালি, ভুলিও না, হিন্দিভাষী আমার ভাই। আমরা মুসলমানদের দ্বারা আক্রান্ত। এখনই রুখে না দাঁড়ালে তারা কালকেই পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানিয়ে ফেলবে। স্বস্তির কথা হল, দুই পক্ষই ভদ্দরলোক এবং ফেসবুকেন মারিতং জগত। নইলে এই দুই দলের মারামারিতেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাঙালি জাতি বিলুপ্ত হত, অনলাইনে স্মরণসভা করত অনাবাসী বাঙালিরা। যে বাঙালি আসলে রোজ আক্রান্ত হচ্ছে, মার খাচ্ছে, গলাধাক্কা খাচ্ছে, মারা যাচ্ছে – সেই বাঙালির চিৎকারে এই দুদলের কেউই বিশেষ কান দিচ্ছে না। তারা কারা? গরিব বললে অর্ধেক বলা হয়। গরিব এবং মুসলমান। এরাই গত কয়েক বছর ধরে ভিনরাজ্যে গতর খাটাতে গিয়ে মারধোর খাচ্ছিল, বিনা দোষে হাজতবাস করছিল, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গলাধাক্কা খেয়ে জম্মে যে দেশে পা দেয়নি সেই বাংলাদেশে গিয়ে পড়ছিল। ইদানীং খোদ পশ্চিমবঙ্গেই মার খাচ্ছে, রোজগার হারাচ্ছে, বিনা দোষে হাজতবাস করছে। এখনো এখান থেকে বাংলাদেশে বিতাড়িত হচ্ছে না বটে, তবে সে কম্মটিও কি বেশিদিন বাকি রাখা হবে? ভোট মিটলে এবং রাজ্যে বিজেপি সরকার হলে তো কথাই নেই, ভোটের আগেও, জগন্নাথ মন্দির আর মহাকাল মন্দির বানিয়ে যথেষ্ট হিন্দু ভোট টানা যাচ্ছে না মনে করলে তৃণমূল সরকারই তেমন উদ্যোগ নিয়ে ফেলতে পারে। গতকাল তৃণমূল সাংসদ সোনালী বিবিকে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলেই যে আগামী পরশু তাঁর দল কোনো রুপালি খাতুনকে উলটো দিকে ঠেলবে না – একথা জোর দিয়ে বলা যায় না। অবিশ্বাস্য লাগছে? অকারণ কুৎসা বলে মনে হচ্ছে? তাহলে বলুন অলিপাবের পরিবেশন কর্মী শেখ নাসিম উদ্দিনকে কোন অপরাধে চারদিন গারদে কাটাতে হল? কেনই বা নিজের রাজ্যের রাজধানী থেকে পাততাড়ি গোটাতে হল প্যাটিস বিক্রেতা শেখ রিয়াজুলকে?
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় যে নাসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, সেকথা আমিও জানি, আপনিও জানেন। প্রশ্নটা আইনের ধারা নিয়ে নয়। যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া যায় যে বামুনবাড়ির সুবোধ বালক ফুড ব্লগারটি সত্যিই পাঁঠার মাংসের অর্ডার দিয়েছিলেন, কিন্তু নাসিম তাঁকে গরুর মাংস দিয়ে দিয়েছেন, তাতেই বা কোন আইন ভঙ্গ হয়, কোন মহাভারত অশুদ্ধ হয় যে একজন মানুষকে এতগুলো দিন কারান্তরালে কাটাতে হবে? চক্কোত্তি বামুন সায়ক যে উদ্দেশ্য নিয়েই থানায় অভিযোগ জানিয়ে থাকুক, পুলিস তার ভিত্তিতে গ্রেফতার করবে কেন? কারও বিরুদ্ধে কেউ এফআইআর করলেই তাকে গ্রেফতার করা আইন নাকি? তাহলে চক্কোত্তি বামুনের বিরুদ্ধে যে এফআইআর হয়েছে তার জন্যে তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন? রিয়াজুল আর সালাউদ্দিনকে ব্রিগেড ময়দানে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করার বিরাট অপরাধে যারা মারধোর করেছিল, তাদেরই বা গ্রেফতার করার পরদিনই ছেড়ে দেওয়া হল কেন? রীতিমত শারীরিক হিংসা চালিয়ে চব্বিশ ঘন্টার বেশি শাস্তি পেতে হল না, স্রেফ ভুল খাবার দেওয়ার জন্যে চারদিন কেটে গেল কারান্তরালে। এ কেমন বিচার? পুলিস প্রথম ক্ষেত্রে গ্রেফতার করে মামুলি অভিযোগ দায়ের করল আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে এমন কেস দিল যে তিনদিনের হেফাজত হয়ে গেল! তাহলে কি বুঝব বিজেপিশাসিত রাজ্যের পুলিসের মত এ রাজ্যের পুলিসও হিন্দু অভিযুক্তের প্রতি নরম আর মুসলমান অভিযুক্তের প্রতি অকারণে কঠোর?
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
এমন তো হওয়ার কথা নয়! পশ্চিমবঙ্গের পুলিস মন্ত্রী তো মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই। তিনি তো এখন জাতীয় রাজনীতির আলোকবর্তিকা বলে শুনছি। ইতিহাস সৃষ্টি করে ভারতের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে ভোটহারা মানুষের হয়ে সওয়াল করছেন। নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহের সরকারি যন্ত্রগুলোকে ব্যবহার করে বিরোধীদের বুলডোজ করে দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে সত্যিই দারুণভাবে রুখে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর জঙ্গি মেজাজের চোটে প্রবল প্রতাপান্বিত দিল্লি পুলিসকে পর্যন্ত ঢোঁক গিলতে হয়েছে, তাদের অধীন এলাকায় পশ্চিমবঙ্গ পুলিসের আধিকারিকরা গিয়ে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন – এ দৃশ্যও হজম করতে হয়েছে। সবই ভালো। কিন্তু এই আগুন তাদের পোড়াল না কেন, যারা রিয়াজুল আর সালাউদ্দিনকে ব্রিগেডে মারধোর করেছিল? কেনই বা সায়কবাবু সোশাল মিডিয়ায় ‘অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলাম’ বলে পোস্ট দিয়ে সুখে নিদ্রা যেতে পারছেন? আগুন বলতে মনে পড়ল, খোদ কলকাতার বুকে কদিন আগেই বাইরে থেকে তালা দেওয়া ঘরে বেঘোরে পুড়ে মারা গেছেন জনা তিরিশেক গরিব বাঙালি। তার জন্যে যারা দায়ী, তাদের দিকেও অগ্নিকন্যার আগুনের লকলকে শিখাকে ধেয়ে যেতে দেখলাম না এখন অবধি। ফলে ভাবতে খারাপ লাগলেও, না ভেবে উপায় থাকে না যে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দল তথা সরকারের বিশেষ নিবিড় সংশোধনী নিয়ে দুর্দম তৎপরতা আক্রান্ত বাঙালির স্বার্থে নয়। বরং ওটার আসল কারণ নিজেদের গদি হাতছাড়া হওয়ার ভয়।
সেটা অবশ্য আক্রান্ত বাঙালিদের পক্ষে ভালোই। ভাগ্যিস মমতার গদি বাঁচানোর দরকার আছে! নইলে তো চুপচাপ নিজেদের ধ্বংস দেখে যাওয়া ছাড়া কিছু করার থাকত না গরিব বাঙালির, মুসলমান বাঙালির। গদি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থীরা তো তাঁদের নিয়ে উচ্চবাচ্যই করলেন না। পুড়ে মরলেন শ্রমিকরা, অথচ গোটা কতক সাংবাদিক সম্মেলন ছাড়া কী করলেন শ্রমিক, কৃষকের পার্টির লোকেরা? কলকাতা একদিনের জন্যও অবরুদ্ধ হল? কোনো ধর্মঘট ডাকা হল? নবান্ন বা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও হল? গত কয়েকদিনে পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থীদের ব্যাপারে খবর একটাই। হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে জোট হচ্ছে কি হচ্ছে না। বিভিন্ন নেতা এই একটা বিষয়েই বিবৃতি দিয়ে চলেছেন, আর সন্ধ্যায় যে চ্যানেল যা নিয়ে গজল্লা হবে ঠিক করে তা নিয়ে চেঁচামেচি করতে বসে যাচ্ছেন। বিভিন্ন রাজ্যে প্রবাসী শ্রমিকদের উপর অত্যাচারের ব্যাপারেও তাঁরা বিবৃতি দেওয়া ছাড়া কী করেছেন খোদায় মালুম। মুখ্যমন্ত্রী শ্রমশ্রী বলে একখানা গালভরা প্রকল্প ঘোষণা করে অত্যাচারিত শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরে আসতে বলেছিলেন। সেই শ্রমশ্রীর টাকা কেউ পাচ্ছে না বলে বামেরা অভিযোগ করেছেন বটে, কিন্তু সেটা আদায় করতে কোনো আন্দোলন গড়ে তুলেছেন কি? আর এই মুহূর্তে বাঙালির উপরে সবচেয়ে বড় যে আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে, যার ঠ্যালা আর হপ্তাদুয়েক পরে এখনো কলার তুলে চলা অবোধ ভদ্দরলোকেরাও টের পাবেন, সেই এসআইআর নিয়ে বামপন্থীদের ভূমিকা তো কহতব্য নয়।
বাংলার কমিউনিস্ট পার্টিগুলো যে আজ সম্পূর্ণ ভদ্দরলোকেদের পার্টি হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেকথা প্রমাণ করে প্রথমেই সিপিএম এসআইআর-কে দুহাত তুলে সমর্থন করে বসল। নিজেদেরই পলিট ব্যুরো সারা দেশে এসআইআরের বিরোধিতা করা সত্ত্বেও। পাশেই বিহারে যা ঘটেছে, যার উল্লেখ পলিট ব্যুরোর বিবৃতিতেও ছিল, তা জানা সত্ত্বেও কোন আত্মবিশ্বাসে যে সিপিএম নেতারা মানুষকে অভয় দিলেন ‘একজন বৈধ ভোটারের নামও বাদ যেতে দেব না’, তা মার্কস-এঙ্গেলস ন জানন্তি। আসলে ওই— যতই রাজ্য সম্পাদক হোন একজন মুসলমান পরিচয়ের মানুষ, এরিয়া কমিটি থেকে শুরু করে রাজ্য কমিটি পর্যন্ত তো ভদ্দরলোকেদেরই আধিপত্য। তাঁদের স্থায়ী বাড়িঘর আছে, বার্থ সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে গ্র্যাজুয়েশন সার্টিফিকেট পর্যন্ত সবই আছে, অনেকের পাসপোর্টও আছে। ওঁরা ভাবেন সকলেরই এসব আছে, অন্তত থাকা উচিত। না থাকলে সে নির্ঘাত ‘ঘুসপেটিয়া’। উদ্বাস্তু আন্দোলন ইতিহাস হয়ে গেছে, সেদিনকার নেতাদের ছেলেমেয়েদের কাছে এবং আজকের তরুণ তুর্কিদের কাছে ওসব এখন ঋত্বিক ঘটকের ছবি দেখে আহা উহু করার জিনিস। ভিটেমাটি চাটি হয়ে বাংলাদেশ থেকে এপারে যদি কেউ চলে এসেও থাকেন, তাঁকেও অবৈধ বলে দেগে দেওয়ার, ‘দেশ থেকে বার করে দেব’ বলার অধিকার রাষ্ট্রের নেই – একথা একজনও বুক ঠুকে বললেন না। ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করার সময়ে মানুষকে সাহায্য করার সময়ে যদি বা বাম কর্মীদের দেখা গিয়েছিল, শুনানি পর্ব শুরু হতেই তাঁরা ভোঁ ভাঁ। এখানে ওখানে দু-একটা শুনানি কেন্দ্রে লাল ঝান্ডা নিয়ে প্রবল প্রতিবাদ দেখে সন্দেহ হয়, স্থানীয় কর্মীরা বিপদটা দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছেন বলে তৎপর হয়েছেন। নেতৃত্ব কেবল এতে কোন দলের ক্ষতি, কোন দলের লাভ – সে হিসাব কষতেই ব্যস্ত। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ হচ্ছে, সেটা আটকানো একটা রাজনৈতিক দলের কর্তব্য – এমনটা তাঁরা ভাবছেন না।
ফলে আক্রান্ত বাঙালির মোজেস হয়ে উঠলেন সেই মমতা, যিনি আজ থেকে প্রায় তিন দশক আগে প্রথমবার সংসদে চেঁচামেচি করেছিলেন বাংলাদেশ থেকে লোক ঢুকিয়ে সিপিএম ভোটে জিতছে অভিযোগ করে। আক্রান্ত বাঙালি এখন তাঁরই উপর ভরসা করে আছে, তিনি যদি লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির সাগর দুভাগ করে তাঁদের নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিতে পারেন। ওঁরা জানেন, কারা বাঙালি সেটা যাঁরা ঠিক করেন পশ্চিমবঙ্গে, তাঁদের চোখে ওঁরা বাঙালিই নন। অন্তত মমতার চোখে বাঙালি, তার পিছনে মমতার যে স্বার্থই থাক। ওঁরা কেউ যদি ভাবেন ‘পরজন্ম থাকলে আর যেন বাঙালি হয়ে না জন্মাই’, তাহলে দোষ দেওয়া যাবে না। কারণ ফ্যাসিবাদী ভারতেও পশ্চিমবঙ্গের মত রাজ্য আর দুটো পাওয়া যাবে না। গরিব ও প্রান্তিক মানুষ, তিনি সংখ্যালঘুই হোন আর মতুয়াদের মত হিন্দুই হোন, তাঁদের দুপাশেই খাদ। বিজেপির কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, অন্যদিকে আছেন সেই মমতা যিনি একদিন অনুপ্রবেশের ধুয়ো তুলে ভোটে জিততে চেয়েছিলেন। তিনি আজ সঠিকভাবেই গাদা গাদা অনুপ্রবেশের ফালতু অভিযোগের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু কাল যদি ক্ষমতাচ্যুত হন, তখন যে তিনি আবার ওকথা বলবেন না – তার নিশ্চয়তা নেই। একথা খুবই পরিষ্কার, মমতা নিজেও একাধিকবার বলেছেন, যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের তিনি আদর্শগত বিরোধী নন। সুতরাং বিজেপি ক্ষমতায় না এলেই যে গরিব বাঙালি, মুসলমান বাঙালি নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবেন তা মোটেই নয়। তথ্যের খাতিরে বলা যাক, নাসিম উদ্দিন জাতি পরিচয়ে বাঙালি নন, ওড়িয়া। কিন্তু কলকাতায় থেকেই তাঁর রুজি রোজগার। তাছাড়া বামুন ব্লগার যে কৌশল নিয়েছেন, তাতে নাসিম শতকরা একশো ভাগ বাঙালি হলেও তাঁকে এভাবেই ভুগতে হত।
আরো পড়ুন ফয়জান হত্যা মামলা: ৩ বছর পরে ফের ময়না তদন্ত চায় রাজ্য
ইমাম ভাতায় রুষ্ট হিন্দুদের সন্তুষ্ট করতে পুরোহিত ভাতা, দুর্গাপুজো করতে ক্লাবগুলোকে টাকা দেওয়া, ভাসানকে কার্নিভালে পরিণত করা, মোদীরা বারাণসীর পালটা কলকাতার গঙ্গার ঘাটে সন্ধ্যারতি চালু করা, রামনবমীর পালটা বজরংবলীর পুজো, অযোধ্যার রামমন্দিরের পালটা গাদা গাদা মন্দির তৈরি— এসব করে পশ্চিমবঙ্গের সমাজকে যেভাবে বিজেপির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিষিয়ে তুলেছে শাসক দল, তাতে মুসলমান হলেই বাংলাদেশি বলে সন্দেহ করা হিন্দু বাঙালির অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ভোটে যে-ই জিতুক, এই অভ্যাস তো সহজে কাটার নয়। বিশেষত ভদ্দরলোকেরা যখন বরাবরই সরল বিশ্বাসে বলে এসেছেন ‘ও মা, তুমি মুসলমান! আমি ভেবেছিলাম বাঙালি।’ ফলে বাঙালির দ্বারাই বাঙালি আজ আক্রান্ত। যদি চূড়ান্ত এসআইআরের পর দেখা যায় মুখার্জি আর মুখোপাধ্যায়, বোস আর বসুরাও লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির ঢেউয়ে ভেসে গেছেন, তখন অপমানে তাহাদের সবার সমান হয়ে যদি বাঙালি এক হয় তো অন্য কথা। নইলে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাখণ্ড হতে বেশি বাকি নেই। এখন তফাত বলতে এটুকুই যে নাসিম উদ্দিনের জামিনের চেষ্টা করায় জয়রাজ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধেও এফআইআর হয়নি, উত্তরাখণ্ডে যেমন মুসলমান দোকানদারের হয়ে বজরং দলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোয় দীপক কুমার আর বিজয় রাওয়াতের বিরুদ্ধে হয়েছে।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








