চ্যাটজিপিটির ন্যায্য ব্যবহার (‘fair use’) নিয়ে অক্টোবরের শেষের দিকে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করা ছেলেটি আর নেই। নভেম্বর মাসেই নিজের ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান এই তরুণের মৃত্যুতে ইলন মাস্ক তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন ‘হুম’। আপনি বলবেন, ‘এইটুকু?’ বলা ভাল, ওটুকুও লিখতে তিনি বাধ্য হন। আসলে টেসলা কর্তা মাস্ক এবং স্যাম অল্টম্যানের তৈরি করা সংস্থা ওপেন এআই-তে কাজ করতেন এই তরুণ।

এতক্ষণে ঠিক ধরেছেন, সুচির বালাজির কথাই বলছি। না, তাঁর মৃত্যু কী করে হল – সেই তদন্তমূলক বিশ্লেষণে যাচ্ছি না। বরং আমার ভোঁতা মস্তিষ্ককে নাড়া দিচ্ছে তাঁর চিন্তা ও আশঙ্কার কথা। যে চ্যাটজিপিটি নিয়ে তোলপাড় অধুনা বিশ্ব, তার কোন কোন অসাধু দিক তুলে ধরতে চেয়েছিলেন সুচির, যার জন্য তাঁকে অকালে চলে যেতে হল?

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নীতি ও কপিরাইট বিতর্কে ২০২৪ সালের জুন থেকেই সুচিরের নাম ক্রমশ উঠে আসছিল। এমনকি নিজের প্রাক্তন কর্মস্থল ওপেন এআই-এর বিরুদ্ধে কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও আনেন এই তরুণ। তাঁর দাবি ছিল, সংস্থার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন বিভিন্ন মডেলকে ভুল পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। অবৈধভাবে কপিরাইট থাকা উপাদান ব্যবহার করে এআই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ওপেনএআই। নৈতিকতাহীন এই কাজ মানতে পারেননি সুচির। তিনি একাই যে আপত্তি করেছিলেন তা নয়। নিউইয়র্ক টাইমস সহ বেশ কয়েকটা মার্কিন ও কানাডিয়ান সংবাদমাধ্যম ওপেন এআই ও তার প্রাথমিক অংশীদার মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তাদের দাবি, অনুমতি না নিয়েই তাদের অজস্র নিবন্ধ চ্যাটবট তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে অল্টম্যানের সংস্থা।

এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে বালাজি আরও বলেছিলেন যে প্রথমদিকে তিনি কপিরাইট ও তার ন্যায্য ব্যবহার সম্পর্কে অনেককিছুই জানতেন না। কিন্তু কোম্পানির বিরুদ্ধে যখন একাধিক কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠতে থাকল, তখন তিনি ব্যাপারটা নিয়ে কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করে বালাজি উপলব্ধি করেন যে কপিরাইট থাকা তথ্যের ন্যায্য ব্যবহার করলে অনেক জেনারেটিভ এআই পণ্য, অর্থাৎ চ‍্যাটবট, তৈরি করা কার্যত অসম্ভব। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে কয়েকমাস আগে নিউইয়র্ক টাইমসকে এক সাক্ষাৎকারে বালাজি বলেছিলেন ‘আপনি যা বিশ্বাস করেন, তা যদি আমিও বিশ্বাস করি, তাহলে আমাকে এই সংস্থা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে।’

আরো পড়ুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: আশা, আকাঙ্ক্ষা ও আশঙ্কা

শেষপর্যন্ত সেটাই ঘটে। ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসের পর ওপেন এআই-এর সঙ্গে সবরকম সম্পর্ক ছিন্ন করেন তিনি।

কেবল কপিরাইট সমস্যা নয়, ওপেন এআই প্ল্যাটফর্মের তৈরি চ‍্যাটজিপিটির, বিশেষ করে চ‍্যাটজিপিটি-৪ এর আরেকটা বড় সমস্যা হল, তা প্রকৃত তথ্য ব্যবহার না করে কখনো কখনো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য ছড়াতে থাকে। যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘data hallucination’। এর ফল মারাত্মক। কারণ এই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি চ‍্যাটবট মানুষকে আলোর পরিবর্তে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর ভিত্তি করে তৈরি চ‍্যাটজিপিটির ব্যাপারে বালাজির সতর্কবাণী আসলে বহু মানুষের উদ্বেগের বিষয়। প্রবল সম্ভাবনাময় ও প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই জগৎ অদূর ভবিষ্যতেও মানবকল্যাণে কাজে আসবে, কিন্তু তার জন্যে দরকার স্বচ্ছ বিকাশ এবং এর কার্যক্রমের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি। নইলে মানুষের সমূহ বিপদ।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.