সৌরভ গুহ
নীরবে চলে গেলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রথম পিএইচডি গবেষক ডঃ নন্দদুলাল মোহন্ত। দলিত জাগরণ ও হরিচাঁদ, গুরুচাঁদের অবদানকে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সারাজীবন ব্যাখ্যা করে গেছেন তিনি। বিজ্ঞানচেতনায় উদ্বুদ্ধ নন্দদুলালবাবু সমাজবিজ্ঞানের আলোকেই মতুয়া ধর্ম আন্দোলনকে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের ঘনিষ্ঠ নন্দদুলাল সারাজীবন শিক্ষাব্রতী হিসাবে কাজ করেছেন। পেশায় স্কুলশিক্ষক নন্দদুলাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি আইটিআই কলেজ, যাতে যুব সম্প্রদায় হাতে কলমে কারিগরি শিক্ষার সুযোগ পায়।
তিনি অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সভাপতি হয়েছিলেন। কিন্তু কোনোদিন সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্র দৃষ্টিকোণ থেকে মতুয়া আন্দোলনকে ব্যাখ্যা করেননি। দলাদলি বা গুরুগিরিতে তাঁর আগ্রহ ছিল না। বর্তমানে তাঁদের ধর্মমত অনেকের কাছেই রাজনীতির পুঁজি, আবার অনেকে ব্রাহ্মণ্যবাদবিরোধী এই ধর্মমতে সংযোজন করেছেন নিজস্ব পুরোহিত। ব্রাহ্মণ পুরোহিত না ডেকে মতুয়া পুরোহিতরা বিবাহ, শ্রাদ্ধ ইত্যাদি অনুষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
দুয়েরই ঘোরতর বিরোধী ছিলেন নন্দদুলাল। তিনি বলতেন ‘ব্রাহ্মণ্যবাদের হাত থেকে বেরিয়ে আবার নতুন ব্রাহ্মণ্যতন্ত্র কেন হবে?’ রাজনৈতিক দলাদলিতে কখনো জড়াননি। বড়মার ১০০ বছরের জন্মদিন পালনে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে ঠাকুরবাড়ির রাজনৈতিক আবহাওয়া দেখে নিজেকে সরিয়ে নেন।
আরো পড়ুন হিন্দুত্ববাদের পালটা কল্পনা নির্মাণ করছেন দীনকৃষ্ণ ঠাকুর
বাগুইআটি অঞ্চলে ছেলের কাছে কেটেছে তাঁর শেষ জীবন। স্বাধীনতা সংগ্রামী পরিবারের সন্তান নন্দদুলাল শিক্ষা আন্দোলন, উদ্বাস্তু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মৃত্যুর সময়ে পুত্র নীলাদ্রি দেব মোহন্ত এবং কন্যা সুনন্দা মোহন্তকে জানিয়ে গিয়েছেন, ব্রাহ্মণ্য মত কিংবা নবোদিত মতুয়া পৌরোহিত্যে যেন কোনোমতেই তাঁর শেষকৃত্য না করা হয়। তাঁর শরীর শনিবার কলকাতা থেকে কর্মভূমি বনগাঁয় নিয়ে যাওয়া হয়ে এবং সেখানেই দাহ করা হয়। তাঁর শেষ ইচ্ছানুযায়ী দেহাবশেষ গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়া হয়।
নন্দদুলাল রাজ্য সরকারের দলিত সাহিত্য অ্যাকাডেমির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
প্রতিবেদক সাংবাদিক। বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে কর্মরত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।









এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ।
মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।।