এই সেদিন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দফতরে গুটিকয়েক ছাত্রছাত্রী তথ্যসন্ধানে গিয়েছিল। হঠাৎ সেখানে হাজির হলেন একজন কর্মী এবং জনে জনে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন সবাই জল পেয়েছে কিনা। তারপর কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছাত্রীদের মাথার উপর জল ছেটাতে লাগলেন। কুম্ভ, থুড়ি মহাকুম্ভ থেকে আনা জল, যা তিনি সঙ্গমে ডুব দিয়ে সংগ্রহ করে এনেছেন পাপী তাপীদের উদ্ধারের জন্য।

আপাতত পশ্চিমবঙ্গের এই অবস্থা। দেড়মাস ধরে চলতে থাকা মহাকুম্ভ নামক মহাযজ্ঞে মানুষ স্নান করতে গিয়ে ভিড়ের চাপে মরুক, রেলস্টেশনে হুড়োহুড়িতে পায়ের তলায় চাপা পড়ুক, তবু কুম্ভে যেতেই হবে। গ্রাম, শহর, সাক্ষর, নিরক্ষর, পিএইচডি – সবাই চলেছে কুম্ভপানে। ইস্কুলে ভাবা হচ্ছে মাধ্যমিক আর উচ্চমাধ্যমিকের মাঝে যদি ঘুরে আসা যায়, এপাড়া ওপাড়া থেকে বাস ছাড়ছে, কুম্ভের ওয়েবসাইট হাত জোড় করে বলছে আর জায়গা নেই, কিন্তু যেতে তো হবেই। বাংলায় ইদানীং এমন ভয়ানক ধর্মীয় উন্মাদনা বিশেষ দেখা যায়নি। তালিকায় কে নেই? ভক্তরা তো আছেনই, আছেন ছোট বড় মাঝারি বিভিন্ন মাপের নেতা, সরকারি, বিরোধী, বিপ্লবী, এমনকি ঘোর নাস্তিক। যার খোঁজ নেওয়া যায় সে-ই বলে কুম্ভে আছি বা কুম্ভে যাচ্ছি। বাংলার হালুম হুলুম নেতারাও প্রায় সবাই কুম্ভ সেরে এসেছেন।‌এরপর কুম্ভে যারা যায়নি তাদের না জল অচল হয়ে যায়।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

এই মহা আকর্ষণের কারণে এঁরাই বলবেন – ১৪৪ বছরের মহাযোগ। ঘটনাচক্রে ২৪ বছর আগে ২০০১ সালে যখন কলকাতায় পোস্টার পড়েছিল ‘ওদের কুম্ভমেলা, আমাদের বইমেলা’, সেবছরেও কুম্ভে একই যোগ ছিল – ১৪৪ বছরের যোগ। যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁরা জানেন। সে সময়কার লেখাপত্র যা ইন্টারনেটে পাওয়া যায়, সেখানেও তাই লেখা আছে। হিসাব মত প্রত্যেক ছয় বছরে অর্ধকুম্ভ, প্রত্যেক ১২ বছরে পূর্ণকুম্ভ – এটাই জানা ছিল। ইদানীং পূর্ণকুম্ভ হয়েছে মহাকুম্ভ, আর পরপর ১২টি পূর্ণকুম্ভ হলে ১৪৪ বছরের যোগ। মহাকুম্ভ শব্দটিই নতুন আমদানি। দাবি করা হয় যে কুম্ভের ইতিহাস অতি প্রাচীন এবং বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত সবখানে তো আছেই, হিউয়েন সাংয়ের বিবরণেও আছে। সবচেয়ে প্রামাণ্য বোধহয় মোগল আমল ও পরে ব্রিটিশ শাসনের সময়টা। সম্প্রতি যে শহর প্রয়াগরাজ হয়েছে – এই সেদিনও ছিল এলাহাবাদ – আকবরের সঙ্গে তার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একশো চুয়াল্লিশ বছর আগে ভারতে ছিল ব্রিটিশ শাসন, ১৮৮১ সালে ওই শহরে কোনো বিশেষ ঘটনা বলেছিল বলে কিন্তু উল্লেখ নেই।‌ বরং ব্রিটিশ গেজেটিয়ার প্রণোদিত এলাহাবাদ গেজেটে আছে ১৯০৬ সালের কুম্ভের কথা। ২০২৩ সালে যোগী সরকারের প্রকাশিত বিপুল জমায়েত সামলানোর নির্দেশিকা সংক্রান্ত পুস্তিকায় ২০১৩ সালের, অর্থাৎ সমাজবাদী পার্টির সরকারের আমলের কুম্ভের অব্যবস্থাকে কটাক্ষ করতে গিয়ে লেখা হয়েছে, ২০১৩ সালের কুম্ভমেলা ছিল ১৪৪ বছরের যোগের মেলা। কিন্তু তদানীন্তন সরকার সেই মেলা সামলাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়।

কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের ২০১৪ সালের ৩ নম্বর রিপোর্টেও ২০১৩ সালের কুম্ভমেলাকে বলা হয়েছিল মহাকুম্ভ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অবশ্য বলছেন, ২০০১ সালের কুম্ভই ছিল ১৪৪ বছরের মেলা। এদিকে বিখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক মার্ক টালি ১৯৮৯ সালের কুম্ভমেলা নিয়ে লিখেছেন, সেবারের সাধুসন্তরা সেটিকে ১৪৪ বছরের যোগ মনে করতেন।

কী এই ১৪৪, যা নিয়ে প্রায় আক্ষরিক অর্থেই এত জল ঘোলা হচ্ছে? শুধু ঘোলা নয়, দুদিন আগে ন্যাশনাল গ্রীন ট্রাইব্যুনাল উত্তরপ্রদেশ দূষণ নিয়ন্ত্রক বোর্ডকে রীতিমত ভর্ৎসনা করে বলেছে, তোমরা কোটি কোটি লোককে দূষিত নর্দমার জলে স্নান করাচ্ছ। যে জল স্নানেরও অনুপযুক্ত, সেই জল তারা পান করছে। অদ্ভুতভাবে সোশাল মিডিয়ায় এত আলোচনা হয় গঙ্গা, যমুনা এবং অজ্ঞাত সরস্বতীর পৌরাণিকত্ব নিয়ে; অথচ তার সিকিভাগও হয় না গঙ্গা বা যমুনার ভয়ঙ্কর দূষিত অবস্থা নিয়ে।

খোদ উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং সেখানকার সাধুসন্তরা ঘোষণা করেছেন, এবারেরটাই ১৪৪ বছরের মহাযোগের মহাকুম্ভ মেলা। তিথি নক্ষত্রের অভূতপূর্ব সংযোগে অমৃতকুম্ভ পাপ ধুয়ে দেবে, মোক্ষ মিলবে। মোক্ষের বিষয়ে কতজন আগ্রহী জানা নেই, কিন্তু বহু বড়সড় ব্যক্তি যে পাপ ধুতে গেছেন তা এক রাত্রির লক্ষাধিক টাকার তাঁবু ভাড়াতেই বোঝা যায়। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, অসুরদের কাছ থেকে দেবরাজ ইন্দ্রের পুত্র জয়ন্ত অমৃতকলস নিয়ে যাওয়ার সময়ে যাঁরা তাকে সাহায্য করেছিলেন সেই সূর্য, চন্দ্র, শনি ও বৃহস্পতি ১৪৪ বছর পরে পরে এই সারিতে আসেন, তখন সবকিছুই সম্ভব। অতএব পুণ্য করার এই অমোঘ সুযোগ কেউ ছাড়তে চাইছেন না। যুক্তিহীন এই জনসমুদ্রের কাছে একমাত্র লক্ষ্য বিশাল হোর্ডিং ‘পুণ্য ফলে, মহাকুম্ভ চলে’।

কুম্ভে বরাবরই জনসমুদ্র হয়। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এই মেলাকে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় জমায়েতের মর্যাদা দিয়ে এটিকে অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু এমন চূড়ান্ত অব্যবস্থা, মোক্ষাতুর মানুষের এমন নির্লজ্জ সম্পদ প্রদর্শন, এমন আগ্রাসী যাত্রীদল কি সত্যিই সেই ঐতিহ্য বহন করে? সবচেয়ে বড় কথা দফায় দফায় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু, এখানে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের পরেও এ কোন বিবেকবর্জিত পুণ্যার্থী দল এই মৃতকুম্ভে দৌড়ে আসছে?

এহেন শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় জমায়েতে এবছর ১৪৪ বছরের যোগ থাকুক বা না থাকুক, এমন বৈশিষ্ট্য আছে যা আগে কখনো কেউ ভাবতেও পারেনি। ভারতীয় সংস্কৃতির যে ঐতিহ্যকে হিন্দুত্ববাদীরা আকাশে তোলে সেটি হল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’। কিন্তু এবারের কুম্ভে ‘গঙ্গা যমুনী তহজীব’-এর মিলিত সভ্যতার দেশে পড়শিদেরই ব্রাত্য করা হয়েছে, যা এককথায় অভাবনীয়। প্রস্তুতি পর্বেই মেলার ১৩টি আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বররা মুসলমানদের মেলা থেকে বাদ দিতে বলেন। জনৈক প্রধান মহন্ত বলেন, মুসলমানদের সঙ্গে তাঁদের শত্রুতা নেই, কিন্তু তারা দোকান দিতে পারবে না। কারণ এতে নাকি হিন্দুধর্ম কলুষিত হবে। ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ ধুয়ো তোলা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ বলেছেন, যারা সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করে না তারা যেন না আসে। আদি শঙ্করাচার্য অষ্টম শতাব্দীতে বর্ণব্যবস্থায় জর্জরিত হিন্দু সমাজের ধর্মান্তরণ ঠেকাতে ১৩টি আখড়া তৈরি করেছিলেন। বর্তমানে সেখানে নবতম সংযোজন কিন্নর আখড়া। রূপান্তরকামী সমাজকর্মী লক্ষ্মীনারায়ণ ত্রিপাঠীর নেতৃত্বে সেখানেও জমায়েত। শুধু মুসলমান, খ্রিস্টানের জায়গা নেই। হিন্দু মালিকের গাড়ির মুসলমান চালক চলবে না।‌ হিন্দু দোকানদারের মুসনমান কর্মচারী চলবে না। তীর্থে এই বিভাজন অবশ্য এর আগেই শুরু হয়েছে যখন শ্রাবণের কাঁওয়ারিয়া যাত্রায় হিন্দু ফল, মুসলমান ফল চিহ্নিত করতে হয়েছিল।

আরো পড়ুন দুঃসময়ের পাঠ: ভারতে হিন্দু-মুসলমানের যুক্ত সাধনা

শেষপর্যন্ত কিন্তু এই বিষকুম্ভে অমৃতের স্বাদ মুসলমানরাই এনে দিয়েছেন। পুণ্যের লোভ দেখিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ, অর্থাৎ ভোটারদের, জমায়েত করার ভয়ানক পরিণতিতে পদপিষ্ট হয়ে মানুষ যখন মরছে আর দৌড়চ্ছে লাখো লাখো বিপন্ন মানুষ, তখন এলাহাবাদ বাঁচাল প্রয়াগরাজকে। তথাকথিত মহাকুম্ভ থেকে যে যেদিকে পারে ছুটেছে। প্রত্যেক মুসলমান মহল্লা মসজিদ, ইমামবাড়া, স্কুল, দরগা – সব খুলে দিয়েছে। নিয়ে এল শীতের কম্বল, পোশাক, খাবার আর দারুণ শীতের রাতে মাথার উপর চাঁদোয়া।

ইউনেস্কোর অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যে মানবতার কথা বলে, এ দেশ আবার তার প্রমাণ দিল। আনোয়ার মার্কেটের মোহাম্মদ আনাস, বড় মসজিদের ইমাম বশিউল্লাহ সাহেব, রোশনবাগের দোকানদার, ওদিকে অ্যাডভোকেট চার্লি প্রকাশের নেতৃত্বে মুইরাবাদ গির্জা – সবাই এই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন। এত ঘৃণা সহ্য করেও তাঁরা ভালবাসাই দিলেন। কুম্ভ থেকে যাঁদের সরিয়ে রাখা হল, সেই কুম্ভ নিজেই যেন তাঁদের কাছে এল।

এই চূড়ান্ত অব্যবস্থা, ভয়াবহ মৃত্যু এবং তারপরেও চলতে থাকা মরণকুম্ভের দায় কার? দেশজুড়ে সংঘ পরিবারের রাজনীতি বহুকাল ধরে চলে আসা লোকায়তজনের কুম্ভমেলাকে নেহাত আস্থার বস্তু নয়, অধিগ্রহণ করেছে হিন্দুত্বের দোহাই দিয়ে। সঙ্গমে ডুব দিয়ে কার মোক্ষ লাভ হল কেউ জানে না, কিন্তু যে হিন্দু ভাবনা নাস্তিককেও ধারণ করে, তাকে করা হল সনাতন। সনাতন ধর্মের স্বঘোষিত ঠিকাদাররা এবারের কুম্ভমেলাকে বৃহৎ রাজনীতি ও বাণিজ্যের কেন্দ্র করে তুলেছে। ভিভিআইপি এবং কোটিপতিদের ডেকে এনে, মধ্যবিত্তের পুঁজি ভেঙে সরকারি কোষাগার থেকে সাহায্য দিয়ে মেলা হল। তাতে কোটি কোটি টাকা লাভও হল ছোট, বড় ব্যবসায়ীদের। ভারতীয় সংবিধানের কোথায় এই ব্যবস্থা লেখা আছে জানা নেই। কুম্ভে ডুব দিয়ে হিন্দু হল সনাতন, যার মূলে আছে অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ। উল্লেখ্য, ১৮৯৫ সালে মার্ক টোয়েন কুম্ভে বিশ্বাসের অমোঘ শক্তি কীভাবে বিপুল জনসমাবেশ ঘটায়, তা দেখেছিলেন আর ভেবেছিলেন – এ ভক্তি ভালোবাসায়, নাকি ভয়ে?

এদেশের আরেকজন ব্যক্তিত্ব, যাঁর আত্মজীবনী দুনিয়ার অন্যতম সর্বাধিক পঠিত বই, সেই আত্মজীবনীতে একটি গোটা অধ্যায় লিখেছেন ১৯১৫ সালের হরিদ্বারের কুম্ভমেলা নিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে শান্তিনিকেতন ঘুরে আসার পর সেই মেলায় গিয়েছিলেন গোপালকৃষ্ণ গোখলের ডাকে সেবার কাজে। কলকাতা থেকে ট্রেনে হরিদ্বার যাওয়ার ভয়ানক অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাঁর, আজও তেমন অভিজ্ঞতাই হচ্ছে মানুষের। আর দেখেছিলেন সাহারানপুর থেকে গরু ছাগলের মত গাদাগাদি হয়ে যেতে যেতে গরমে সিদ্ধ হয়েও হিন্দুরা জল খায় না, পাছে জল মুসলমানের হয়। অর্থাৎ সেদিন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী দেখেছিলেন আজকের সাধুদের আগের প্রজন্মকে। তাঁরাও ভোগবাদী, যদিও আজকের মত এত দামি গাড়ি ছিল না। কিন্তু তাঁরাও ত্যাগের পরাকাষ্ঠা ছিলেন না। তখনো মোহনদাস মহাত্মা হয়ে ওঠেননি, তাই হয়ত জলে ডুব দিয়েছিলেন। কাথিয়াওয়াড়ের বৈশ্যরা উপবীত ধারণ করত। স্নান সেরে ওঠার পর গান্ধীর গলায় পৈতে আর মাথায় টিকি নেই দেখে এক সাধু বড় দুঃখ পেয়েছিলেন, কারণ ওগুলি হিন্দুর চিহ্ন। গান্ধী বলেছিলেন, যে চিহ্ন শূদ্র জন্মসূত্রে ধারণ করতে পারে না, সে চিহ্ন অন্যরা কেন ধারণ করবে? আর বলেছিলেন, সমাজে অস্পৃশ্যতা দূর না হলে হিন্দুর শিখা রাখার কোনো অধিকার থাকতে পারে না। বলা বাহুল্য, সেই অস্পৃশ্যতা রয়েই গেল কুম্ভে। ২০২১ সালে সেই হরিদ্বারের কুম্ভেই বিপুল জমায়েত কোভিডের ‘সুপার স্প্রেডার’ হয়ে নিজের নিজের এলাকায় ফিরে অতিমারী ছড়িয়েছিল।

তবুও হিন্দু হৃদয়সম্রাট ও তাঁর দোসর মুখ্যমন্ত্রী এই কুম্ভে সাধারণ মানুষকে চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিলেন। যাঁরা লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে উড়োজাহাজ ভাড়া করতে পারেন না, কল্পবাস বলতে যাঁরা এতকাল জানতেন নদীর কাছাকাছি শুদ্ধাচারে একমাস ত্যাগী জীবনযাপন, আজকের এক রাতে এক লক্ষের পাঁচতারা তাঁবু নয়, যাঁদের দেখা গেছে ২৪ বছর আগেও একমাস ধরে দল বেঁধে গ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে যেতে মাথায় পোঁটলা নিয়ে, তাঁরা যান লোকায়ত বিশ্বাসে। সেই বিশ্বাস ভাঙিয়ে, তাকে অশুচি করে গত এক দশক ধরে রাজনীতি চলছে। মানুষ কুম্ভে যেতেন স্বতঃস্ফূর্ত আবেগে, নিজস্ব বিশ্বাস থেকে। সেই যাদের দেখেছিলেন কালকূট দেখেছিলেন অমৃতকুম্ভের সন্ধানে গিয়ে। সেই মানুষগুলিকে ১৪৪ বছরের গপ্পো শুনিয়ে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যেতে হত না।

প্রচারসর্বস্ব এই মেলায় ভিড় তৈরির দায়িত্ব কি কেউ নিলেন? মৃত মানুষের সংখ্যা নিয়ে বিপুল বিভ্রান্তি তৈরি করে সামান্য দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েই কাজ শেষ! তারপর অতি দ্রুত রক্ত মুছে, লাশ সরিয়ে আবার স্নান, আবার টিকিট কাউন্টার খোলা। আবার এসো, পুণ্য করো।

জানি না মানুষকে বিভ্রান্ত করে হত্যা করার এই পাপ ক্ষয় হতে কত ১৪৪ বছর লাগবে।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.