স্মৃতিপর্ণা সেনগুপ্ত

‘কিসের এত তাড়া?’

এক পরিচিত গানের এই অংশটা ঘুরে ফিরে মনে পড়ে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিসের ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার ঘটনার তদন্তের তদারকি ও তাড়াহুড়ো দেখে। এই লেখাটা যখন লিখছি তখনই মোবাইলের পর্দায় দেখলাম, আর জি করের ঘটনার মতই পানাগড়ে তরুণীর মৃত্যুতেও পুলিস নাকি খুব চটজলদি সমাধান করে ফেলেছে। কালানুক্রম অনুসরণ করে দেখলে বোঝা যাবে, সুনিপুণভাবে একটা নির্দিষ্ট ছক তৈরি হচ্ছে। মহিলা ও প্রান্তিক লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষের ওপর ঘটা যৌন হেনস্থা, ধর্ষণের মত ঘটনা হাওয়ায় উড়ে যাচ্ছে ‘ছোট্ট ঘটনা’ তকমা নিয়ে। ধেয়ে আসছে নানা টিটকিরি। অনেকে অনেক ঘটনায় বলে দিচ্ছেন ‘যাঃ! জেন্ডার কার্ড খেলা গেল না তো!’

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

চিন্তার কথা হল, পানাগড় হোক বা আর জি কর, প্রশাসনের তরফে চটজলদি একটা বয়ান তৈরি করে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ঘোষণা করে দেওয়া হচ্ছে কেসের সমাধান তাঁরা করে ফেলেছেন অর্থাৎ আইনের ভাষায় যাকে বলে ‘কেস ক্লোজড’। পানাগড়ের ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পুলিস দুটো কয়েক সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে বলে দিল – মৃতার গাড়িকে অন্য গাড়িটা তাড়া করেনি, বরং তাঁর গাড়িই নাকি তাড়া করছিল অন্য গাড়িটাকে। এদিকে ঘটনার পরই মৃতার গাড়ির ড্রাইভার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, অন্য গাড়িটা থেকে অশালীন ইঙ্গিত করা হচ্ছিল সুতন্দ্রা চট্টোপাধ্যায়ের দিকে। তাঁদের গাড়িকে ওভারটেক করে এগিয়ে গিয়ে গতি কমিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু পুলিস সেই বয়ানকে পাত্তা দিতে নারাজ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, ক্রেটা গাড়ি থেকে নাকি মদের বোতল, গ্লাস ইত্যাদিও পাওয়া গেছে। তবে আসল কথা হল, পুলিস জানিয়েছে যৌন হয়রানি করতে চাওয়া বা সেই উদ্দেশ্যে ধাওয়া করার মত কিছু নাকি ঘটেনি। পুলিসের কাছে যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তাতে তেমন কিছু নেই, অতএব তেমন কিছু ঘটেনি। তাহলে ঘটনার পর অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিলেন কেন? ঘটনার চারদিন পরে পুলিস বাবলু যাদব নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেফতারই বা করল কেন?

মনে করে দেখুন, অভয়ার ঘটনাতেও আর জি কর কর্তৃপক্ষ ঘটনার পরদিন সকাল ১০:৫৩ মিনিটে তাঁর বাবাকে ফোন করে জানান, মৃতা অসুস্থ। ১০:৫৮ মিনিটে অভয়ার বাবা সেই নম্বরে ফিরে ফোন করতেই বলে দেওয়া হয়, তাঁর মেয়ের অবস্থা এতই সংকটজনক যে তাঁকে এমারজেন্সিতে ভর্তি করা হয়েছে। সকাল ১১:০১ মিনিটে আবার ফোন আসে এবং অভয়ার বাবাকে জানানো হয় যে তাঁর মেয়ে আত্মহত্যার করেছে। এটুকু সময়ে এতকিছু নির্ধারণ করা সম্ভব? এর একদিনের মাথায় পুলিস সঞ্জয় রায়কে পাকড়াও করে ফেলল। কেসের সমাধান ওখানেই হয়ে গেছে, মানে ওই ‘কেস ক্লোজড’। কিসের এত তাড়া? এর কারণ কী? কিছু প্রভাবশালী মানুষকে আড়াল করা, নাকি ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর খাতায় এ রাজ্যে যৌন হিংসার ঘটনা ঘটে না বলে প্রমাণ করা? নাকি উদ্দেশ্য একথা প্রমাণ করা যে তেমন কিছু ঘটলেও এখানে দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার মত পুলিস বাহিনী রয়েছে?

আরও একটা ছক দেখা যাচ্ছে। এই ধরনের মামলায় অভিযুক্ত মানেই সে বাঙালি নয় – একথার জোরদার প্রচার করা। আর জি করা কাণ্ডে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় নয়, রাই। বাবলুও যাদব, অর্থাৎ বাঙালি নয়। মানে অন্য রাজ্য থেকে এসেছে, এরা না এলে বাংলা খুবই নিরাপদ জায়গা। সত্যিই কি তাই?

আর জি কর কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিভিন্ন জেলায় যৌন হিংসার ঘটনা সামনে আসতে থাকে। বীরভূমের হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্সের যৌন নির্যাতন, হাওড়ার হাসপাতালে একজন কর্মীর দ্বারা নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন, নদিয়ায় নাবালিকা ধর্ষণ, মধ্যমগ্রামে নাবালিকাকে যৌন হেনস্থা, সম্প্রতি নিউটাউনে এক নাবালিকার ধর্ষণ ও খুন। আর জি করের ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই জয়নগরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া মুস্তাকিন সর্দারের ইতিমধ্যেই ফাঁসির আদেশ হয়েছে। আরও যে কত! গুনে শেষ করা সম্ভব নয়।

তা বলে এটা ধরে নেওয়ারও কারণ নেই যে অভয়ার ঘটনার পর যৌন হিংসার ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। আসলে সম্ভবত সংবাদমাধ্যমগুলো এই ধরনের হিংসার ঘটনা নিয়ে খোঁজখবর বেশি করছে। যেমনটা হয়েছিল ২০১২ সালে পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের পরে কিছুদিন। তবে যৌন হিংসার ক্ষেত্রে যেখানে আদৌ শারীরিক আক্রমণ ঘটেনি তেমন ঘটনাও প্রকাশ্যে আনা দরকার – এমন দাবি তুলে দিল পানাগড়ের ঘটনা। এক্ষেত্রে সুতন্দ্রা মৃত। কিন্তু যদি তিনি কোনোক্রমে বেঁচে যেতেন, তাঁর গায়ে কোনো আঁচড় না লাগত, তাহলে এই ঘটনা নিয়ে আদৌ কথা হত কি? হত না। কিন্তু হওয়া তো উচিত। মেয়েটা মারা যাওয়ার পরেও তো ব্যাপারটাকে গাড়ির রেষারেষি বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মারা না গেলে বা আহত না হলে এই ঘটনার কথা কেউ হয়ত আলাদা করে জানতেই পারত না। ঠিক যেভাবে মানসিক নির্যাতন ঠিক নির্যাতনের আওতায় আসে না। ঠিক যেমন বৈবাহিক ধর্ষণকে ধর্ষণ বলতে নারাজ এদেশের আইন, আদালত। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মৃতা মরে যাওয়ার আগে সম্ভবত ভয় পেয়েছিলেন। কেমন ভয়?

২০১৭ সাল। একবার চাকরি সূত্রে আলিপুরদুয়ারে চা বাগানের কিশোরীদের নিয়ে সারাদিন ধরে একটা নাটকের মহলা চলেছে। পরদিন শো। নাটকের মোদ্দাকথা হল মুখ ফুটে অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে হবে, ভয় পেলে চলবে না। সারাদিন একসাথে কাজ করে মেয়েরা আমার থেকে, আর আমি ওই কিশোরীদের থেকে বেশ সাহস সঞ্চয় করেছি। আমাকে একটা গাড়িতে তুলতে গাড়ির স্ট্যান্ডে মেয়েরা ভিড় করে এসেছে। ওদের মুখগুলো জ্বলজ্বল করছে। একটা গাড়িতে উঠলাম। যখন গাড়ি চলতে শুরু করল, চারদিকে ঘন অন্ধকার। দুপাশে ডুয়ার্সের জঙ্গল। গাড়ি মাঝে মাঝে থেমে যাত্রী তুলছে। আমাকে বাদ দিয়ে গাড়িতে আরও আটজন যাত্রী, সকলেই পুরুষ। তাঁরা নিত্যযাত্রী, তাই কেউ কেউ একে অপরকে চেনেন। কিন্তু গাড়ি যত এগোচ্ছে, আমার হাড় হিম হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে, এরা যদি আমাকে জঙ্গলে কোথাও নামিয়ে নিয়ে যায়, তাহলে বাঁচার পথ নেই। রাস্তায় আলো নেই। ফোনে নেটওয়ার্ক নেই, দুদিকে শুধু জঙ্গল। সেদিন কিচ্ছু ঘটেনি। আমার কোনো সহযাত্রী বা গাড়ির চালক কোনো অভব্য আচরণ করেনি। কিন্তু ভয় পেয়েছিলাম। দুঘন্টা শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁতে দাঁত চেপে থাকা ভয়। নারী শরীর থাকার ভয়। বুঝেছিলাম, যা এতক্ষণ শিখিয়ে এলাম, সেসব মুখে বলতেই ভাল লাগে। কিন্তু পরিস্থিতির মোকাবিলা করার মত পরিস্থিতি সবসময় না-ও থাকতে পারে।

আরো পড়ুন যে জন থাকে মাঝখানে: মেয়েদের নাগরিকতার অভিজ্ঞতা

আরেকবার মুর্শিবাদে একটা হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল আমার অফিস। গোটা হোটেলে হোটেলকর্মীদের বাদ দিলে আমি একা। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময়ে টের পেলাম, আমি যে ফ্লোরে আছি সেই ফ্লোরেই কিছু কর্মী আছেন একখানা ঘরে। অনেকগুলো পুরুষকণ্ঠের গল্পগুজব, হাসাহাসি কানে আসছে। খুব জোরে নয়, চারদিক ফাঁকা বলে কানে আসছে। খানিকক্ষণ বুঝে উঠতে পারলাম না, পাশে মানুষজন আছে ভেবে আশ্বস্ত হব, নাকি ভয় পাব? বুঝলাম, ভয়টা অনেকক্ষণ ধরেই পাচ্ছিলাম। নারী শরীর থাকার ভয়। পানাগড় আমার সেই ভয় আবার উস্কে দিল।

আমার এক পরিচিত মহিলাকে প্রতিরাতে তাঁর স্বামী যৌন নির্যাতন করতেন। মহিলা বহুবছর বাদে আমাকে বলেছিলেন, অনেকবার রাতে স্বামী ঘুমিয়ে পড়ার পর পালাবার চেষ্টা করেছেন। পারেননি কেবল ভয়ে। ঘরই যার কাছে নিরাপদ নয়, তার কীসের ভয়? বলেছিলেন ‘রাস্তায় অচেনা পুরুষের হাতে যৌন হেনস্থার ভয়।’ এই ভয় রোজ বুকে করে নারী, প্রান্তিক যৌনতার মানুষ বাঁচেন। এমন ভয় যা কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যেখানে বেঁচে থেকে অত্যাচার সহ্য করার চেয়ে মরে যাওয়া সহজ মনে হয়। কারণ যৌন অত্যাচারে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদত জোগায় গোটা সমাজ। যেখানে অভয়াকে কেন মারা হল সে প্রশ্নের চেয়ে বেশি করে জিজ্ঞেস করা হয় – তিনি ওই সময়ে ওখানে কী করছিলেন? পানাগড় কাণ্ডে মৃতাকে কারা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিল তার চেয়ে বেশি জরুরি হয়ে ওঠে তিনি কোন পেশায় যুক্ত ছিলেন। সুতন্দ্রার মা জানিয়েছেন, মৃতা নাচের অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছিলেন। কত মানুষ সোশাল মিডিয়ায় ফিচেল হাসি হেসে বলছেন – উত্তরপ্রদেশ, বিহারে কেমন নাচ হয় সবাই জানে। আমি যদিও জানি না, সুতন্দ্রা কী ধরনের নাচ করতেন। কারোর যৌন হেনস্থার ঘটনার বিচারে তাঁর পেশা প্রাসঙ্গিক হতে পারে না। ডাক্তারের উপর যৌন হিংসার ঘটনা ঘটলে তা যতটা ন্যক্কারজনক, পরিচারিকা, শিল্পী, সবজি বিক্রেতা, যৌনকর্মী, গৃহবধূ, এমনকি ধর্ষকের পরিবারের কোনো মানুষের উপর হওয়া যৌন হিংসার ঘটনাও ততটাই ঘৃণ্য।

বহু মানুষ আবার বলছেন, যেহেতু পানাগড় কাণ্ডে মৃতার সঙ্গে কয়েকজন পুরুষ ছিলেন সেহেতু সুতন্দ্রাকে অবলা বলা যায় না। অর্থাৎ তাঁরা দাবি করছেন, একজন পুরুষ সঙ্গে থাকলে মহিলাকে রক্ষা করার দায় সেই পুরুষের। ঠিক যেমন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তারদের ডেকে বলে দেন ‘ভাইয়েরা বোনদের রক্ষা করবে।’ যে সমাজে একজন মহিলা কিংবা প্রান্তিক লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষকে ধর্ষণ করে বা ধর্ষণ করার ভয় দেখিয়ে মেরে ফেলা হয়, যেখানে মানুষ মৃতার ত্রুটি খুঁজতে বসে এবং তড়িঘড়ি সরকার তা ধামাচাপা দিয়ে একটা বয়ান খাড়া করতে চায়, সেখানে ২০১২ সালে দিল্লির সেই বীভৎস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে মৃতার মায়ের বলা কথাগুলোই কানে বাজে। তিনি বলেছিলেন – ভাল হয়েছে, মেয়ে চলে গেছে। বেঁচে থাকলে এই অত্যাচারের পরও আরও কতকিছু শুনতে হত ওকে!

এই আর্তনাদের দায় কিন্তু সরকারকে নিতে হবে। মানুষকে মনে রাখতে হবে কেন তাঁরা ১৪ আগস্ট ২০২৪ রাতে রাস্তায় নেমেছিলেন। তা কি শুধুই আর জি করের মেয়েটার জন্য? একজন ডাক্তারের জন্য? নাকি নিজেদের ঘরে, নিজেদের পরিসরে, চলাফেরার পথে, বাসে, ট্রামে, বাজারে, কর্মক্ষেত্রে যে নিয়মমাফিক নির্যাতন চলে তার বিষজ্বালা উগরে দিতে? না, যে যৌন হিংসার শিকার সে কোনো কৈফিয়ত দেবে না। এই ব্যবস্থাগত নির্যাতনের বিরুদ্ধে গলা তুলতে হলে আঙুলগুলো ঘুরিয়ে দিতে হবে –

১) নিজেদের দিকে। ছাঁকনি দিয়ে দেখে নিতে হবে নির্যাতন সইতে সইতে নিজেদের অবচেতনে আমরা নির্যাতনকেই স্বাভাবিকতা বলে ভাবতে শুরু করিনি তো?

২) আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারী দিবসের প্রাক্কালে ৫০% ছাড়ের পুঁজিবাদী ভাঁওতা এড়িয়ে প্রশ্ন করতে হবে প্রশাসনকে। সুরক্ষিত সমাজের দাবি তুলতে হবে। গণপরিসরে সুলভ শৌচাগারের সংখ্যা, রাতের সুরক্ষিত জনপরিবহণ, কর্মক্ষেত্রে সঠিকভাবে নিয়োজিত আভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি এবং আরও অনেককিছুর দাবি তুলতে হবে।

শিল্পী, সাংস্কৃতিক, সামাজিক আন্দোলনের কর্মী। মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.