যন্ত্রের যন্ত্রণা কথাটা নতুন নয়। কিন্তু যন্ত্র মানুষের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করে — এ অভিযোগ নিঃসন্দেহে নতুন। সাই ফাইয়ের ভক্তরা অবশ্য বলবেন ভবিষ্যতে যন্ত্রেরা মন্ত্রণা করে মানুষের ভিটেমাটি চাটি করবে। আশঙ্কাটা হেসে উড়িয়ে দেওয়ার মত নয়, কিন্তু তখনো মানুষ আর যন্ত্র একে অপরের বিরুদ্ধে লড়বে বলেই তো মনে করা হয়। যন্ত্র আমার সাথে ষড় করে আপনাকে বিপদে ফেলবে — এমনটা এখনো কোনো হলিউডি চিত্রনাট্যকারের মাথায় আসেনি। তবে ভারতীয় ক্রিকেটাররা যে সে লোক নন। তাঁরা আমার আপনার চেয়ে কিঞ্চিৎ উচ্চস্তরের জীব বইকি। তাই গতকাল কেপ টাউনের তৃতীয় টেস্টে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ডীন এলগারকে এল বি ডব্লিউ হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিল দেখে সরোষে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি, তাঁর সহকারী কে এল রাহুল, আর বর্ষীয়ান ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন প্রযুক্তির, সম্প্রচারকারীর এবং দক্ষিণ আফ্রিকা দেশটার শাপ শাপান্ত করেছেন।

সুকুমার রায় লিখেছিলেন “ছায়ার সাথে কুস্তি করে গাত্রে হল ব্যথা।” এ যে “আজগুবি নয়, আজগুবি নয়, সত্যিকারের কথা —” বিরাটদের কাণ্ড না দেখলে বিশ্বাস করা শক্ত হত। উইকেটের সামনে গিয়ে স্টাম্প মাইক্রোফোনের উপর ঝুঁকে পড়ে মাঠে অনুপস্থিত লোকেদের গাল দেওয়া যত না ক্রিকেটারসুলভ তার চেয়ে বেশি জনি লিভারসুলভ। হাস্যকর দিকটা বাদ দিলে, এই আচরণ হল অসভ্যতা। এক দশক আগেও একে অসভ্যতাই বলা হত, ইদানীং সভ্যতার সংজ্ঞা বিস্তর বদলেছে। তাই ভারতের ক্রিকেটার, প্রাক্তন ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, সাংবাদিক প্রমুখ কাল থেকে নানারকম নরম ব্যাখ্যা দিচ্ছেন:

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

ক) “আসলে ওরা প্রাণ দিয়ে খেলে তো, এত বাজে সিদ্ধান্ত হলে কি আর মাথার ঠিক রাখা যায়?”

খ) “ক্রিকেটাররাও তো মানুষ। উত্তেজনার মুহূর্তে আবেগ এসে পড়া স্বাভাবিক।”

গ) “ঝোঁকের মাথায় করে ফেলেছে।”

আরও নানারকম ব্যাখ্যা সোশাল মিডিয়ায় দেখা গেছে, তালিকা দীর্ঘতর করা নিষ্প্রয়োজন। ধারাভাষ্যের জগতে ভারতের প্রবীণতম প্রতিনিধি সুনীল গাভস্কর। তিনি ভাল করেই জানেন, টেস্টে ১০,১২২ রান যতই ক্রিকেটের ইতিহাসে তাঁর আসন পাকা করে থাকুক, সেটা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কমেন্ট্রি চুক্তির গ্যারান্টি নয়। তাই গতকাল খেলার পর মার্ক নিকোলাস আর শন পোলকের সাথে বিতর্কিত মুহূর্তগুলো নিয়ে আলোচনা করার সময়ে তিনি কেবল এলগার আউট ছিলেন কিনা, তা নিয়েই কথা বলে গেলেন। ভারতীয় ক্রিকেটারদের অন্যায় আচরণ সম্বন্ধে ভাল বা মন্দ একটি শব্দও উচ্চারণ করলেন না। হাতে গোনা কয়েকজন সত্যি কথাটা বলার সাহস করেছেন, যেমন বাংলার ক্রিকেটার এবং একদা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলে বিরাটের সতীর্থ শ্রীবৎস গোস্বামী। তাঁকে যে পরিমাণ ট্রোলিংয়ের স্বীকার হতে হয়েছে, তা প্রমাণ করে ‘নতুন’ ভারতে অভদ্রতা পূজনীয়, ভদ্রতা বর্জনীয়।

কোনো সুস্থ দেশে গতকালের ঘটনার আলোচনায় এলগার আউট ছিলেন কি ছিলেন না তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে না। কারণ সে দেশের অধিকাংশ মানুষ মানবেন, ক্রিকেটে আউট থাকা সত্ত্বেও আউট না হওয়া, আর আউট না হওয়া সত্ত্বেও আউট হয়ে যাওয়া চলতেই থাকে। সে জন্যে মন খারাপ হতে পারে, মাথা গরম হতে পারে। কিন্তু গোটা দেশটা আমাদের দলের বিরুদ্ধে লড়ছে, মেজাজ হারিয়ে এরকম মন্তব্য করার অধিকার কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের নেই। কিন্তু আজকের ভারতকে নিঃসংশয়ে সুস্থ দেশ বলা চলে না। দেশপ্রেমিকরাই বলে থাকেন, এখানকার যুবসমাজ নাকি এতটাই অসুস্থ, যে পিতৃমাতৃহীন হওয়ার শোকে তারা মুসলমান মহিলাদের কাল্পনিক নিলাম করার অনলাইন অ্যাপ তৈরি করে। আলোচনা যখন এমন একটা দেশে দাঁড়িয়ে হচ্ছে, তখন বিরাটদের আচরণ যে অন্যায় তা প্রমাণ করার জন্যে এলগার আউট ছিলেন কিনা সে আলোচনায় না গিয়ে উপায় নেই।

ক্রিকেট খেলায় যতরকম আউটের সিদ্ধান্ত হয়, তার মধ্যে চিরকালই সবচেয়ে বিতর্কিত লেগ বিফোর উইকেট বা এল বি ডব্লিউ। কারণ অন্য সব আউটের ক্ষেত্রেই যা ঘটেছে তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এল বি ডব্লিউয়ের ক্ষেত্রে আম্পায়ার সিদ্ধান্ত নেন কী হতে পারত। বল যখন ব্যাটারের পায়ে লাগল তখন যদি পা-টা সেখানে না থাকত, তাহলে কি বলটা উইকেটে গিয়ে লাগতে পারত? যদি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত হ্যাঁ হয়, তাহলে তিনি তর্জনী তুলে ব্যাটারের মৃত্যুঘন্টা বাজিয়ে দেন। নাহলে ব্যাটার বেঁচে যান। যখন লাইভ টিভি ছিল না তখনকার কত আউট যে আসলে আউট ছিল না, আর কত নট আউট আসলে আউট ছিল, আমরা কখনো জানতে পারব না। ডিসিশন রিভিউ সিস্টেমের বয়স মাত্র ১৪ বছর (চালু হওয়ার সময়ে নাম ছিল আম্পায়ার ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম)। ফলে লাইভ টিভি চালু হওয়ার পরেও দীর্ঘকাল এল বি ডব্লিউ বোলিং প্রান্তের আম্পায়ারের বিবেচনার উপরেই সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল। ইদানীং ইউটিউব আর টুইটারের কল্যাণে সেই সময়কার বহু আউট নিয়েই হাসাহাসি চলে, কারণ দেখা যায় বহু ব্যাটার কোনো যুক্তিতেই আউট ছিলেন না, আম্পায়ার আউট দিয়েছেন। অনেকে আবার বল ব্যাটে খেলেও এল বি ডব্লিউ আউট হয়েছেন। প্রযুক্তির প্রভূত উন্নতিতে বিপুল পরিমাণ টিভি দর্শকের চোখে আম্পায়ারের ভুল (ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত) নগ্নভাবে ধরা পড়ার কারণেই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আই সি সি) প্রথমে রান আউট ইত্যাদির জন্য তৃতীয় আম্পায়ার, পরে ডি আর এস চালু করতে বাধ্য হয়েছিল। ডি আর এসের আগেই এসেছে নিরপেক্ষ আম্পায়ার নিয়োগের নিয়ম। নব্বইয়ের দশকেও অনেকদিন যে দেশে খেলা হত, সে দেশেরই দুই আম্পায়ার খেলা পরিচালনা করতেন। কিন্তু বিশেষত এল বি ডব্লিউ আউটের ক্ষেত্রেই সন্দেহ জোরদার হয়ে উঠেছিল, যে আম্পায়াররা নিজের দেশের ব্যাটারদের ইচ্ছা করে আউট দেন না, আর প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের আউট না হলেও আউট করে দেন। সেই কারণেই প্রথমে চালু হয় টেস্ট ক্রিকেটে দুজন, একদিনের ক্রিকেটে একজন নিরপেক্ষ দেশের আম্পায়ার নিয়োগ। পরে আসে ডি আর এস। অর্থাৎ এল বি ডব্লিউয়ের সিদ্ধান্তকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে না দেওয়া ডি আর এস প্রবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তাই ডি আর এস যতগুলো প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তার অন্যতম হল হকআই। এল বি ডব্লিউয়ের আবেদন হলে এখন আম্পায়ার প্রথমে দ্যাখেন নো-বল ছিল কিনা, কারণ নো-বলে রান আউট ছাড়া অন্য আউট হয় না। তারপর দ্যাখেন বলটা লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ পড়েছিল কিনা। তেমনটা হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী তখনই আবেদন বাতিল হয়ে যায়। সেখানেও সব ঠিকঠাক থাকলে স্নিকোমিটার বা হটস্পট দিয়ে দ্যাখেন বল পায়ে লাগার আগে ব্যাটে লেগেছিল কিনা। কারণ আগে ব্যাটে লাগলে আর লেগ বিফোর উইকেটের প্রশ্ন ওঠে না। সব শেষে আসে বল ট্র্যাকিং, অর্থাৎ পা ওখানে না থাকলে বলটা উইকেটে গিয়ে লাগত কিনা। বল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি বলের সিম, স্পিনের সঙ্গে সঙ্গে পিচের বাউন্সও বিচার করে। ভারত বা শ্রীলঙ্কার পিচে বল যে মাটিতে পড়ার পর কম লাফায়, অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকায় বেশি — বল ট্র্যাকিংকে তা শেখানো আছে। ডীন এলগারের বেলায় যে দেখানো হয়েছে বল উইকেটের উপর দিয়ে চলে যেত, তা এই কারণেই ঘটেছে। এমন নয় যে বল ট্র্যাকিং অভ্রান্ত। এই সিরিজেরই প্রথম টেস্টে মায়াঙ্ক আগরওয়ালের বিরুদ্ধে আবেদন রিভিউ করতে গিয়ে দেখিয়েছিল বল উইকেটে লাগছে, অথচ প্রায় সকলেরই মনে হয়েছিল পেস বোলারের ওই বল বেশি বাউন্সের কারণে উইকেটে লাগত না। প্রযুক্তিটা সঠিক কিনা, আরও ভাল হতে পারে কিনা — তা নিয়ে তর্ক চলতে পারে। কিন্তু হক আই একটি নিরপেক্ষ সংস্থা। ভারতে যখন কোনো সিরিজ হয় তখনো এই প্রযুক্তি তারাই সরবরাহ করে, সম্প্রচারকারী সংস্থার কোনো হাত থাকে না। অতএব দক্ষিণ আফ্রিকার টিভি সম্প্রচারকারী সুপারস্পোর্টের বিরুদ্ধে বিরাট আর অশ্বিনের বিষোদ্গার একেবারেই অকারণ।

কে এল রাহুলের অভিযোগ আরও অন্যায়। স্টাম্প মাইকে শোনা গেছে তিনি বলছেন গোটা দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতীয় দলের এগারোজনের বিরুদ্ধে লড়ছে। অথচ বোলিং প্রান্তের যে আম্পায়ার এলগারকে আউট দিয়েছিলেন, সেই মারায় ইরাসমাস দক্ষিণ আফ্রিকারই মানুষ। ১৯৯৪ সালে তৈরি হওয়া নিরপেক্ষ আম্পায়ারের নিয়ম কোভিড-১৯ অতিমারি চালু হওয়ার পর থেকে স্থগিত রয়েছে। আপাতত সমস্ত সিরিজেই যে দেশে খেলা হচ্ছে সে দেশের আম্পায়াররাই দায়িত্ব পালন করছেন। স্টাম্প মাইকে শোনা গেছে, টিভি আম্পায়ার এলগারকে আউট ছিলেন না বলার পর ইরাসমাস বলছেন “এ হতে পারে না।” আর আজ বাদে কাল যিনি ভারতের স্থায়ী অধিনায়ক হবেন, তিনি কিনা বলছেন গোটা দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে পড়েছে।

আসল সমস্যা বিরাট, রাহুল বা অশ্বিনের ঔদ্ধত্য নয়। সমস্যা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অর্থবলে (গোদা বাংলায় টাকার গরমে) আইসিসিকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রাখা। বিরাটরা জেনে গেছেন তাঁরা পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ডের কর্মচারী, তাই সব নিয়মকানুনের ঊর্ধ্বে। মাঠে গালিগালাজ করলে একসময় জরিমানা-টরিমানা হত, এখন ওগুলোকে আবেগের বহিঃপ্রকাশ বলে ধরা হয়। কারণ ভারতীয় ক্রিকেটারদের জরিমানা দিতে বলার ক্ষমতা আইসিসির নেই। ফলে গালিগালাজ মাঠের মধ্যেও সীমাবদ্ধ থাকে না। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে রাহুলের মত আপাত ভদ্র ক্রিকেটার গ্যাং ওয়ারের ভাষায় বলেন “আমাদের একজনকে ঘাঁটালে আমরা এগারোজন মিলে ঝাঁপিয়ে পড়ব।”

অভিজ্ঞ সাংবাদিক থেকে শুরু করে রকে বসা ক্রিকেট পণ্ডিত, ব্যক্তিগত জীবনে যথেষ্ট ভদ্র বিশ্লেষক থেকে শুরু করে পাড়ার বৌদি পর্যন্ত সকলের কাছেই এর সপক্ষে যুক্তি মজুত। প্রথমত, এটা আগ্রাসন, এটা ছাড়া জেতা যায় না। দ্বিতীয়ত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের যখন ক্ষমতা ছিল তখন ওরা এসব অনেক করেছে। এখন আমাদের ক্ষমতা আছে তাই করছি। বেশ করছি।

প্রথম যুক্তিটার মানে হল ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা অর্জুন রণতুঙ্গার শ্রীলঙ্কা কোনোদিন কিচ্ছু জেতেনি। অজিত ওয়াড়েকর বা সৌরভ গাঙ্গুলির ভারতীয় দলের কথা ছেড়েই দিন। দেশে যেমন নরেন্দ্র মোদী সরকার আসার আগে কোনো উন্নয়ন হয়নি, তেমনি বিরাট কোহলি আর রবি শাস্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার আগে ভারতীয় ক্রিকেট দলও কখনো কিছু জেতেনি।

দ্বিতীয় যুক্তিটা আরও চমৎকার। বনলতা সেনগিরি (“এতদিন কোথায় ছিলেন?”) বাদ দিলেও যা পড়ে থাকে তা হল, আমরা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের উপর প্রতিশোধ নিচ্ছি তাদের সঙ্গেই হাত মিলিয়ে। কারণ ক্রিকেটের খবর রাখলে আপনি নিশ্চয়ই জানেন, এই তিনটে দেশের ক্রিকেট বোর্ড এখন ‘বিগ থ্রি’। হাত মিলিয়ে আইসিসির রাজস্বের সিংহভাগ দখলে রেখে সংগঠনটিকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রেখেছে। এরা নিজেদের মধ্যেই খেলে বেশি, অন্যদের সাথে খেলে কম। তাই নিউজিল্যান্ড বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন হলেও ভারত তাদের সাথে দুটো টেস্টের বেশি খেলে না, ইংল্যান্ড নড়বড়ে দল হলেও তাদের বিরুদ্ধে খেলে পাঁচ টেস্টের সিরিজ।

বলতেই পারেন, জোর যার মুলুক তার। এভাবেই তো দুনিয়া চলছে। এতে আপত্তি করার কী আছে? ঠিক কথা। সমস্যা একটাই। এরপর আপনার ছেলেকে ক্রিকেট কোচিং সেন্টারে পাঠানোর পাশাপাশি কুস্তি বা বক্সিংও শেখাতে হতে পারে। কারণ মাঠে মাথা গরম হলেই যা ইচ্ছে তাই বলা যখন নিয়ম হয়ে যাচ্ছে, তখন কদিন পরে যা ইচ্ছে তাই করাও নিয়ম হয়ে দাঁড়াতে পারে। ১৯৯০-৯১ দলীপ ট্রফির ফাইনালে রশিদ প্যাটেল আর রমন লাম্বার উইকেট আর ব্যাট নিয়ে মারামারি হয়ত আজকের বাবা-মায়েদের কারো কারো মনে আছে। সেদিন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড দুজনকে যথাক্রমে ১৩ মাস আর দশ মাসের জন্য নির্বাসন দিয়েছিল। এখন অবশ্য তেমন হওয়ার সম্ভাবনা কম। “ক্রিকেট কোনোদিনই ভদ্রলোকের খেলা ছিল না”, “এমন তো আগেও হয়েছে” ইত্যাদি যুক্তি আজকাল সবসময় তৈরি থাকে।

তথ্যসূত্র

১। https://cricketaddictor.com/india-tour-of-south-africa-2021/watch-virat-kohli-ravi-ashwin-kl-rahul-take-a-dig-at-broadcasters-after-dean-elgar-survives-due-to-drs-gaffe/

২। https://twitter.com/thefield_in/status/1481666634138136577?t=LjROQTTUwJIbCvy3p2M3Ew&s=03

৩। https://twitter.com/shreevats1/status/1481648590389149696?s=20

৪। https://www.hindustantimes.com/cricket/if-you-go-after-one-of-us-all-xi-will-come-right-back-rahul-england-s-sledging-against-bumrah-shami-101629168592536.html

৫। https://en.100mbsports.com/on-this-day-ugly-spat-between-rashid-patel-and-raman-lamba-breaks-out/

8 মন্তব্য

  1. একটা ব্যাপার ঠিক বুঝলাম না। বাউন্স বোঝার জন্য কোন দেশের পিচে কেমন লাফায় এটা আলাদা করে হক-আই কে ফীড করে রাখতে হবে কেন? যখন ব্যাটারের পায়ে লাগছে তখন তো already বাউন্স করেই লাগছে। তাহলে কতটা বাউন্স করল সেটা তো হক-আই জানেই।

    • ওটা একটা সফটওয়্যার। সফটওয়্যারকে শেখাতে হয় কোন দেশে বল বাউন্স করে শেষ অব্দি কতটা ওঠে। এল বি ডব্লিউ মানেই শেষ পর্যন্ত বল কোথায় যেত। কোথায় গেছে নয়।

      • এতেও ঠিক পরিষ্কার হল না। ধরুন একটা বিশেষ বল বাউন্স করে ব্যাটারের পায়ে লাগার পর উইকেটে লাগত কিনা আমি জানতে চাই। সহজ ভাবে বললে এটারই মানে হল এল বি ডব্লিউ হয়েছে কিনা জানা। এখন এই বিশেষ বলটি কতটা লাফিয়েছে সেটা তো এই বলটিকে ট্র্যাক করলেই বুঝতে পারা যাবে। তার জন্য আগে থেকে ওই দেশের পিচে সাধারণভাবে বল কতটা বাউন্স করে এই তথ্য ওই সফটওয়্যারে দিয়ে রাখার দরকার কি?

        আর একটা দেশের সব টেস্ট কেন্দ্রের পিচ তো একরকম হয় না। ধরুন সিডনি আর পার্থের পিচের বাউন্স কি এক? এছাড়াও বাউন্স করাটা নির্ভর করবে কত জোরে বল ছোঁড়া হচ্ছে তার ওপরেও। অশ্বিন আর বুমরার বল নিশ্চয়ই একরকম লাফাবে না পিচে পড়ার পর। পিচে কোনও ক্ষত থাকলে সেটাও বিবেচনার মধ্যে আসা উচিত।

        অর্থাৎ যেটা বলতে চাইছি সেটা হল সবটাই নির্ভর করছে ওই বিশেষ বলটির ওপর যেটাতে রিভিউ চাওয়া হয়েছে। এই দেশে বল এরকমই লাফাবে এমন কোনও তথ্য আগে থেকে সফটওয়্যারকে বলে রাখার যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না।

      • পুরো ব্যাপারটাই প্রোজেকশন। আসল বলটা দিয়ে বিচার করার প্রযুক্তি এখনো নেই। প্রত্যেক পিচের আলাদা বাউন্স বা পিচের ক্ষতের জন্যে আলাদা হিসাব করার প্রযুক্তিও এখন পর্যন্ত নেই। সাধারণভাবে কিছু দেশের পিচের বাউন্স বেশি। সেটা বহু বছরের অভিজ্ঞতা। সেটাকেই সফটওয়্যারে ব্যবহার করা হয়েছে

  2. মোটামুটি যেটা বোঝা গেল একটা সোজা বল ( অর্থাৎ কোনও রকম স্পিন বা সিম মুভমেন্ট ছাড়া ) ড্রপ পড়ার পর সেটা স্টাম্পে লাগবে কিনা জানতে হলে দুটো জিনিস জানা দরকার। বলটা কত কোণ করে পিচের থেকে উঠল এবং সে সময় তার গতিবেগ কত ছিল। কোণের মানটা ট্র্যাক করা যেতে পারে। কিন্তু গতিবেগ কিভাবে জানব? গতিবেগটা জানা দরকার এই কারণেই যে যদি গতিবেগ বেশি থাকে তাহলে বলটা যখন উঠছে তখনই স্টাম্পের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু যদি গতি কম থাকার কারণে বলটা স্টাম্পের কাছাকাছি পৌঁছোবার আগেই নামার দিকে চলে আসে তাহলে স্টাম্পে লাগার সম্ভাবনা বেশি। এরপর স্পিন, সিম বা সুইং এর জন্য কোনও correction দরকার হলে করতে হবে। কিন্তু বাউন্সটা না জানলে ড্রপ পড়ার পর গতিবেগ কত হল সেটা জানার উপায় নেই। সেই জন্যই খুব সম্ভব বাউন্স সংক্রান্ত assumption টা করার দরকার হয়।

  3. একটা ব্যাপার লক্ষ্য করার। এই লেখাটিতে কোথাও যে কথাটার উল্লেখ নেই সেটা হল হক আই কিন্তু শুধুমাত্র সফটওয়্যার নয়। সেই সফটওয়্যারটা operate করে কিছু লোক। অর্থাৎ এমন নয় যে ওই বলটির সমস্ত তথ্য হক আই নামক প্রোগ্রামে ইনপুট দিয়ে দিলেই বলটা কোথায় যেতে পারত সেটা হিসেব করে আউটপুট হিসেবে হক আই দেখিয়ে দেবে। সেরকম হলে তো হক আই এর একটা অ্যাপ বানিয়ে সেই অ্যাপ একটা স্মার্টফোনে ইন্সটল করে আম্পায়ারের কাছে সেই মোবাইলটা দিয়ে দিলেই হয়ে যেত। তা তো হয় না। বল কোথায় পিচ পড়েছে তার থেকে শুরু করে পায়ে না লাগলে বলটা কোথায় যেত সেই ট্র্যাকটা পুরোটাই তৈরি করেন হক আই যিনি operate করছেন তিনি। মানে শেষ যে image টা আমরা টিভি তে দেখি সেটা কয়েকজন মানুষ মিলে হক আই এর সাহায্যে তৈরি করেছেন। এখানেই manipulation এর সম্ভাবনা এসে যাচ্ছে না কি? বার বার যদি একই দলের বিরুদ্ধে ( যেমন আগে মায়াঙ্ক আগরওয়ালের ক্ষেত্রে ) এরকম হতে থাকে তাহলে সেই দলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হবে এটা কি খুব আস্বাভাবিক?

    বস্তুত ভারতীয় দল বরাবরই ডি আর এস এর বিরোধী। তাদের বক্তব্য হল যখন প্রযুক্তি ব্যবহার করাই হচ্ছে তখন সেটা foolproof হওয়া দরকার। ধোনির সময় থেকেই তাদের এই অবস্থান। নতুন নয়।

    আপনি বলেছেন হক আই নিরপেক্ষ। সেভাবে বললে তো নিরপেক্ষ দেশের আম্পায়ারও নিরপেক্ষ। কিন্তু দুদিকেই নিরপেক্ষ দেশের আম্পায়ার থাকা সত্ত্বেও আম্পায়ারিং নিয়ে বহু অভিযোগ কি ওঠেনি? Steve Bucknor এর কথা মনে করে দেখুন। তিনি তো নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবেই ছিলেন। হক আই যারা operate করছেন তাঁরা যে সেরকম ‘নিরপেক্ষ’ নন, তা কি কেউ বলতে পারে?

    কোহলিদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ যেভাবে হয়েছে সেটা অসভ্যতা। সুপারস্পোর্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলাটাও ভুল। কিন্তু তার মানে এই নয় যে হক আই নিরপেক্ষ এটা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।

  4. কে এল রাহুলের কথাটা নিয়েও একই কথা বলা যায়। গোটা দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে লড়ছে এই কথাতে আপত্তি জানাতে গিয়ে লেখক বলছেন যে কেন, আম্পায়ার মারায় ইরাসমাস তো ভারতীয় দলের পক্ষেই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। তাহলে তিনি কি দক্ষিণ আফ্রিকান নন? অর্থাৎ একজন দক্ষিণ আফ্রিকানকে খুঁজে পেয়েছেন লেখক যিনি অন্তত ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে লড়ছেন না।

    এরকম আক্ষরিক অর্থে কথাটা নেবার কি কোনও দরকার আছে? বীর দাস যখন বলেন আমি এমন এক ভারত থেকে এসেছি যেখানে দিনে মেয়েদের পুজো করা হয় আর রাতে গণধর্ষণ, তার মানে নিশ্চয়ই এই নয় যে প্রত্যেকটি ভারতীয়ই এটাই করে। এটা একটা কথা বলার ধরণ। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ১০০% মানুষই কোনও না কোনও ভাবে ভারতকে হারাতে উঠে পড়ে লেগেছেন এর থেকে যদি কেউ এই অর্থ বের করার চেষ্টা করেন তো সেটা নেহাতই কষ্টকল্পনা।

    তর্কের খাতিরে ধরে নিন যে ঘটনাটা উলটো হল। অর্থাৎ ইরাসমাস এলগারকে আউট দিলেন না এবং তারপর ভারতীয় দল রিভিউ করে আউট পেল। তখন কি তাহলে লেখক বলতেন যে রাহুলের অভিযোগ সত্যি হতেও পারে?

    সত্যি বলতে কি এই অভিযোগ অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার মত দলের বিরুদ্ধে নতুন নয় একেবারেই। বিশেষত এই দুটি দেশে খেলতে গেলেই দেখা যায় যে ওই দেশের ক্রীড়া সাংবাদিক থেকে শুরু করে প্রাক্তন খেলোয়াড়রা সব্বাই একযোগে (মাঠে একটিও বল পড়ার আগেই) এই কথা বলতে শুরু করে দিয়েছেন যে ভারতীয় দল কিছুই করতে পারবে না। আগে যখন নিরপেক্ষ আম্পায়ারের প্রথা ছিল না তখন মাঠে বল পড়ার পর এই দায়িত্বটা তুলে নিতেন আম্পায়াররাও। এখন নিরপেক্ষ আম্পায়ার নিযুক্ত হওয়ার ফলে পরোক্ষ ভাবে নানারকম চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলে। এ কথা কোহলির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলই যে প্রথম বলল তাও নয়। আগের তিন চার জন অধিনায়ককে প্রশ্ন করলে তাঁরাও সম্ভবত একমত হবেন। রাহুল সেটাই বলেছেন।

    রাহুল যেভাবে বলেছেন আবারও বলি সেটা অসভ্যতা। কিন্তু কথাটা ভিত্তিহীন বললে ভুল হবে। লেখাটিতে কিন্তু সেই কথাটা কোথাও নেই।

    • ভাই, সম্ভবত দিয়ে তর্ক হয় না। আপনি আগের অধিনায়কদের সাথে কথা বলেছেন? কিছু জানা থাকলে কথা বলুন। নইলে নিজের মতামত, নিজের আবেগ নিয়ে নিজে পোস্ট লিখুন

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.