এ কোনো প্রাজ্ঞজনের গ্রন্থ সমালোচনা নয়। বরং নিতান্তই এক সাধারণ পাঠকের ব্যক্তিগত পাঠ-প্রতিক্রিয়া। বিদগ্ধজন আপত্তি তুলতেই পারেন যে ব্যক্তির সীমা ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত অভিমত বৃহত্তর পরিসরে এলে তার কতটুকুই বা মূল্য! একেবারেই সত্যি সেই অনুযোগ। কাজেই এরপরেও যিনি এই লেখা পড়বেন, তাঁর মনে যেন এই ‘ব্যক্তিগত পাঠ-প্রতিক্রিয়া’ কথাটা লাল কালিতে দাগানো করা থাকে। আসলে রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিদগ্ধজন এককালে ছোটগল্পের যতই সংজ্ঞা নির্ধারণের চেষ্টা করে থাকুন না কেন, আমরা আজ জানি ছোটগল্পের কোনো সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা হয় না। তেমনই হয় না কোন সুনির্দিষ্ট ব্যাকরণও। পাঠকের বহু বাসনায় সিঞ্চিত ভিন্ন ভিন্ন মনে কোন লেখা কেন যে অনুরণন তুলবে তার নেই কোন ফর্মুলাও। তাই প্রতিটি গল্পপাঠই এক নিতান্ত ব্যক্তিগত, নিজ অভিজ্ঞতার রসে জারিয়ে নেওয়া অনন্য উপলব্ধি।

বই এর নাম গল্প প্রকল্প। বাংলা ছোটগল্পের এক সংকলন। দুই মলাটের বাঁধনে পনেরোটি গল্প। ‘গল্প আপনার, বই আমাদের’ প্রকল্পের দেড়শো গল্পের থেকে বিচারক নির্বাচিত পনেরোটি গল্পের সংকলন। বইয়ের গোড়াতেই এসব কথা জানা হয়ে যায়। সংকলনের লেখক তালিকা দেখলে কিঞ্চিৎ আগ্রহ জন্মায় বইকি। ছাপা বই বেরিয়ে গেছে কিছুদিন আগেই। শুনেছিলাম এর ই-বুক বেরোবে শিগগিরই, অক্টোবরের শেষে, অতএব তারই অপেক্ষায় ছিলাম। সেই ই-বুক হাতে পেতে আর কেনই বা বিলম্ব?

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

তবু বিলম্ব হল। পড়তে বসে ভূমিকা অংশেই একটু হোঁচট খেলাম। ‘নির্বাচকের কথা’ অংশে তিন বিচারকের একজন লিখেছেন, নতুন সহস্রাব্দে “বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির বাতকর্মে কোন নতুন গন্ধ নেই!” লিখেছেন “স্যাগিং গদ্য, তামাদি ফর্ম আর ক্যালাস কন্টেন্ট নিয়ে সে মৃতদেহ ছুঁয়ে বসে আছে”। কথাগুলো পড়লে কোথায় যেন একটু খটকা লাগে। পছন্দ ব্যক্তিগত বলেই যদি ধরে নিই, তাহলে যে মন সেই পছন্দের পিছনে মূল অনুঘটক, সেই মন চেতনে-অচেতনে তৈরি হয় বিভিন্ন সামাজিক-অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ইত্যাদি ঘটনার ঘাত প্রতিঘাতে। আর সেইসব ঘটনাকে নিজের আত্মস্থ করার বিশ্লেষণী ক্ষমতায়। সেই মন নিয়ে নেতিবাদী কেউ হয়ত মৃতদেহ দেখেন, অন্য কোনো আশাবাদী হয়ত দেখেন হয়ত জরা-ভারাবনত তবু প্রাণিত শরীর, নিত্য নিত্য ছোট ভাবে হলেও ভাষা-গড়ন-বক্তব্য নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা যে শরীরে ক্রমাগত রক্তসঞ্চার করে চলেছে। দুই দলের দর্শনে একটা মৌলিক তফাত থাকে। সেইসঙ্গে আরও একটা বড় তফাত থাকে দীক্ষিত আর অদীক্ষিত পাঠকে। দীক্ষিত পাঠক সচেতনে নিজেকে তৈরি করেন আলাদা আলাদা করে শিল্পকর্মের ভাষা, ব্যাকরণ বুঝতে। তাঁদের চোখে গঠন, ভাষারীতি, বক্তব্য আলাদা আলাদা করে প্রতিভাত হয়। সব কিছু খতিয়ে দেখে তিনি যখন “বাঃ” বলেন, তখন ঠিক যেন রাতের আসরের ওস্তাদজির সপাট দীর্ঘ তান নিখুঁত সমে এসে ফেরার আনন্দে সমঝদার শ্রোতার বাহবাদারি। অদীক্ষিত পাঠক তো এত শত বোঝে না। তার দেখা তো পুরু লেন্সের মধ্যে দিয়ে আবছা দেখা। পাড়ের জরির কলকার অবয়ব ধরা পড়ে, কিন্তু কলকার ফুলের কাজ তার চোখে পড়ে না সবসময়। পড়তে পড়তেই লেন্স বদলানোর প্রক্রিয়া চলে, ছবি আরেকটু কম ঝাপসা হয় এই মাত্র, তবু পুরো স্পষ্ট আর হয়ে ওঠে কি? সেই আবছা চোখের দেখায় গত দশ-বিশ বছরে পঠিত সব গল্পই প্রার্থিত মানে না পৌঁছলেও গল্পের ভুবন তো সম্পূর্ণ শূন্য হাতে ফেরায়নি, কখনও কখনও তো “কেয়া বাত” বলতে ইচ্ছে হয়েছে – সে কি তাহলে ভুল জায়গা নির্বাচন? এই দোলাচলের মধ্যে বইটা পড়তে শুরু করা সঙ্গত মনে হল না। এই ভূমিকার অভিঘাত আগে মাথা থেকে না মুছলে নিজের মত করে রসাস্বাদনের ব্যাঘাত ঘটবে।

বই পড়ে অবশ্য নিরাশ হইনি। আজকালকার গল্পের রীতি মেনে অধিকাংশ গল্পই যতটা বৌদ্ধিক স্তরে আবেদন করে, আবেগের স্তরে ততটা ঘা দেয় না। এটা দোষ বললে দোষ, গুণ বললে গুণ। এই পাঠকেরও অবশ্য শুধু আবেগসর্বস্ব গল্পের তুলনায় ভাবনার খোরাক জোগানো গল্পই বেশি ভাল লাগে, কাজেই সমস্যা নেই। আগেই বলেছি, মোট পনেরোখানা গল্প। জানি না, গল্পগুলো সাজানোর ক্রমের কোনো বিশেষ তাৎপর্য আছে কিনা। পড়তে বসে সে ভাবনা বাদই রাখা ছিল।

আরো পড়ুন সময় ও স্বপ্নবোধ: শঙ্খ ঘোষের একটি বই

এবার গল্পের কথায় আসি। বেশ কয়েকটা গল্পে নতুনত্বের চমক আছে। যেমন সহেলী রায় কল্পবিজ্ঞানের মোড়ক ব্যবহার করেছেন ‘মহাশূন্যের শেষ খেয়া’ গল্পে। সেই মোড়কের মধ্যে গল্পের টানাপোড়েনে জড়িয়ে নিয়েছেন মানুষের স্থিতিহীনতার আদিম হাহাকার। ১৯৭১ সালের দাঙ্গার স্মৃতিবিজড়িত দেশত্যাগ দিয়ে নিরালম্বতার শুরু। কিন্তু দেশত্যাগের অতীত গল্পে যতটা বিস্তার পেয়েছে, হয়ত বা প্রয়োজনের থেকে সামান্য বেশিই, বর্তমান ততটা গুরুত্ব পায়নি বলে মনে হয়েছে। আর সে কারণে শেষের অংশটা ততটা স্পষ্ট লাগেনি। বরং আশ্রয় হারানোর আরেকটি গল্প – কৌশিক মিত্রের ‘পলাতক’ – নিতান্ত গতানুগতিক হলেও পরিপাটি গদ্যে আবেগ উসকে দেওয়া লেখা। পাঠকও যেন গল্পের শেষে গোলামের স্মৃতি তছনছ হওয়ার হতাশার কিছুক্ষণের শরিক হয়ে ওঠেন। সৌম্য সাহার ‘কুকুর’ গল্পটাও ভাবনার দিক দিয়ে অভিনব, কিন্তু না-যৌক্তিক, না-অযৌক্তিক হিসাবে কেমন ন যযৌ ন তস্থৌ হয়েই রয়ে গেল বলে মনে হয়েছে। অত সুন্দরভাবে গড়ে তোলা গল্পের অমন ক্লিশে সমাপ্তিতে কেমন যেন দাঁতে বালি পড়ার অনুভূতি ফিরে এল।

সরোজ দরবারের ‘সাত ভাই চম্পা ও একটি মড়ার গল্প’ ধাক্কা দিয়েছে। রূপকের আড়ালে বর্তমানের দর্পণ বলব কি এই গল্পকে? সুন্দর কল্পনা। আশার আলো জ্বালানো শেষটুকু পড়ে যখন জন্ম-সিনিক মন চেঁচিয়ে ওঠে – কিচ্ছু হবে না, এই পচা-গলা-মৃতরাই রাজত্ব করবে; তখনই বোধগম্য হয় যে গল্পকার হিসাবে সরোজ সার্থক। এই লেখা পাঠকের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।  অগ্রদীপ দত্তের গল্প ‘জন্মবীজ’ গল্পটাও ধীরে ধীরে বাস্তবের সীমা ছাড়িয়ে জাল বুনেছে। তবে এই গল্পে কল্পনারা ডানা মেলে উড়লেও, সেই কল্পনা অতি তারিফযোগ্য হলেও গল্পের শুরুর আমেজ মাঝখানে যেন পথহারা হয়েছে। সিনেমার চিত্রনাট্যের মত উপসংহার হতাশ করে।

“চাঁদমনি আকাশের দিকে মুখ তুলে ঠাউর করার চেষ্টা করে, বেলা কত হয়েছে। জোয়ার আসার আগে যেমন করে জলের ঢেউ বাড়ে তেমন করে আকাশে রোদের ঢেউ বাড়ছে। রোদের ঢেউ সেগুন গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে গলে চাঁদমনি [র] কুঁচকানো গালে ছিটকে পড়ে। চাঁদমনির গাল যেন সময়ের সমুদ্র।” মুদ্রণপ্রমাদ সত্ত্বেও পাঠক আঁকড়ে ধরা ভাষার টানে গল্পে জড়িয়ে পড়তে হয়, শুরু হয় খালিদা খানুমের ‘ভারতবর্ষের মুরগি’। কাহিনী গতানুগতিক, ঘটনাক্রম সহজেই অনুমেয়, তবু তিরতিরে গতি টেনে রাখে। ভাষার জোর চোখে পড়েছে সুমিত নাগের ‘মেয়েটির পরিচয় জানা যায়নি’ গল্পেও। ছবির পরে ছবি যেন চোখের সামনে ফুটে ওঠে। অচেতন নারী শরীরকে ঘিরে লালসাময় অবজেক্টিফিকেশনের তীব্র চেহারা। এই গল্পের শেষটা অনেকদিন মাথায় আটকে থাকবে।

‘কেমন দেখতে ছিলেন’ গল্পে অভ্র কণিষ্কের যুগে নিয়ে গেছেন আমাদের। জানি না এটি ইতিহাসাশ্রিত গল্প কিনা, কল্পনা বলেই ধরেছি। প্রথাগত, প্লটভিত্তিক সুন্দরভাবে বলা গল্প। বিশেষত যে অতিসূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক বক্তব্য তিনি তুলে ধরেন সে তো চিরকালীন সত্য। যাঁরা ছোটগল্পের মধ্যে গল্পহীনতা খোঁজেন না, তাঁদের খুবই পছন্দ হবে। তবে এই গল্পে ‘উনাকে’ বা ‘উনার’ ব্যবহার বড্ড চোখে লেগেছে। আগে তো এইরকম ব্যবহার ভুল বলেই শেখানো হত, এখনকার নিয়মে কি এই ব্যবহার শুদ্ধ বলে ধরা হচ্ছে?

‘অসহবাস’ গল্পে এক রহস্য উন্মোচনের আড়ালে শরণ্যা মুখোপাধ্যায় দ্রোহ-প্রতিবাদের গল্প বলেছেন। কৌতূহল জাগানো গঠন। কাহিনীর চলন ভারি বুদ্ধিদীপ্ত। আলাদা আলাদা করে সুতোগুলো খুব আকর্ষণীয়, সামাজিক ক্ষমতাবিন্যাসের বিভিন্ন দিক ছুঁয়ে যাওয়া, কিন্ত সব গুছি একত্রিত করে বাঁধা বিনুনি যেন একটু জট পড়া, একটু খাপছাড়া টাইম ট্র্যাভেলে অবিন্যস্ত।

‘ঘরে ফেরার গান’ গল্পে শ্যামলী আচার্য এক বাঁধা পড়তে অনিচ্ছুক, উচ্চাকাঙ্ক্ষী, প্রবাসী কন্যা আর তার একদা প্রেমিকের কথা সমান্তরালে বুনেছেন। ফড়িংয়ের ভূমিকা নিয়ে সামান্য দ্বন্দ্ব রয়ে যায়। সে কি বিগত প্রেমস্মৃতির ছায়া? ‘নায়িকার ভূমিকায়’ গল্পে নন্দিতা মিশ্র চক্রবর্তী বলেছেন অ্যাসিড আক্রান্তের পুনর্বাসনের সঙ্গে জড়িত এক মানবিক কাহিনী। রাজীব রায় গোস্বামীর ‘তরঙ্গ থেকে তরঙ্গে’ মায়াবী কলমে লেখা এক মানসিক রোগীর রোগ পরবর্তী মনের দলিল। এই সব কটি গল্পই পরিপাটি, মানানসই গদ্যে আধারিত। তবু কোথায় যেন সামান্য কিসের অভাব ঘটে। একান্ত পাঠে হৃদয়ে সুরের অনুরণন হয় না। ব্যক্তিগত অভিমত।

এই পনেরোটি গল্পের মধ্যে ব্যক্তিগত পছন্দের সেরা তিন বাছতে হলে এই মুহূর্তে বেছে নেব ‘শ্মশানে চ’, ‘জুটি’ আর ‘সরকার সব ঠিক করে দেবে’। শাশ্বতী দত্ত রায়ের ‘জুটি’ একটি অন্ত-চমকযুক্ত নিটোল দরদী গল্প। বলার ধরনেই মন টানে। আর ছোট ছোট টানে যে ভাবে হোটেল মালিক আর রাঁধুনির চরিত্র ফুটিয়ে তোলেন, সেটাও খুব ভাল লাগে। কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা নেই। তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ, বুদ্ধি আর দরদের সঠিক অনুপাতে মিশেল অপ্রতিরোধ্য। শেষ পংক্তির লক্ষ্মী শব্দের ব্যবহারের ব্যঞ্জনা সহানুভূতির পাল্লা সামান্য হলেও খর্বচুলোর দিকে ঝুঁকিয়ে দেয়।

প্রতীকের ‘শ্মশানে চ’ নজর কেড়েছে ছক ভাঙ্গা গঠনের অভিনবত্বে। প্রতীক মাধ্যম হিসাবে নিপুণভাবে ব্যবহার করেছেন ফেসবুক পোস্টকে। জে কে রাউলিংকে তাঁর সাম্প্রতিক উপন্যাসে অনেকটা এইভাবেই টুইট ব্যবহার করতে দেখেছি। এক অর্থে হয়ত এই ফর্ম আগেকার পত্রসাহিত্যের উত্তরসূরী। সচেতনভাবে গল্প হয়ত বলতে চাননি লেখক, স্বতঃ-জাজমেন্টাল চক্রে আবর্তিত সমাজের একটা প্রতিবিম্ব তুলে ধরতে চেয়েছেন, তবু গল্পের একটা আবছা রূপরেখা তৈরি হয়েই যায়। আর সেটা সপাট চড়ের মতন আছড়ে পড়ে। গঠনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভাষাও সমসাময়িক ফিগার-জিরো, একদম খাপে খাপ। তবু কাহিনী বা ভাষা নয়, এই গল্পের নায়ক গঠন নিয়ে খেলা।

আমার মতে এই বইয়ের সর্বশ্রেষ্ঠ গল্প প্রবুদ্ধ ঘোষের ‘সরকার সব ঠিক করে দেবে’। নির্মেদ গদ্যভাষা, চাঁদমারি-ভেদী কাহিনী, গল্পের বিন্যাস – সবদিক দিয়েই এই গল্প তীব্র। কি অনায়াসে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ছেদহীন ধারাবাহিক বয়ানে এই সময় থেকে ওই সময় মিশে যায়! আর সেই বিস্তৃত ক্যানভ্যাস জুড়ে লেখকের শাণিত কলমে আঁকা হয় নাগরিক অনুভবহীনতার ছবি। প্রতিবার ‘And they lived happily ever after’-এর ধুয়ো ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র শ্লেষ ছিটকে ওঠে। গল্পকে ঠেলে তুলে দেয় এক ভিন্ন উচ্চতায়। মাত্র একবার পড়ার নয়, আরও বহুবার পড়তে হবে এই গল্প। শুধু এইরকম একটি দুটি লেখা পড়ার জন্যই ‘এক জন্ম লোভাতুর’ (সৈকত মুখোপাধ্যায়ের থেকে ধার নেওয়া) হয়ে থাকা যায়।

এই ই-বুকটি (পিডিএফ নয়, ই-বুক) পড়তে গেলে অবশ্য প্রকাশকের নিজস্ব রিডারের মাধ্যমে পড়তে হবে। নিরাপত্তার কারণে সেই রিডার শুধু অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস মাধ্যমেই কাজ করে। ছোট স্ক্রিনে সিরিয়াস গল্প একটানা পড়া কখনো কখনো সামান্য সমস্যার হলেও বড় মাপের ট্যাবলেটে পাঠ-অভিজ্ঞতা ঠিকঠাক, নির্ঝঞ্ঝাট। ই-ফরম্যাটের সঙ্গে মানানসই ছিমছাম প্রচ্ছদ। সামান্য কিছু মুদ্রণ প্রমাদ চোখে পড়েছে। আশা রাখব ভবিষ্যতে ত্রুটিহীন করার চেষ্টা থাকবে। ই-বুকটি অলংকরণ বর্জিত। হরফ চোখসই। তবে চোখের আরও প্রীতিসাধনের জন্য লাইন স্পেসিং, প্যারাগ্রাফ স্পেসিং ইত্যাদি নিয়ে খেলাধুলো জারি থাক। গুগলবুক বা আরও কিছু বাণিজ্যিক মাধ্যমে বাংলায় আইনসম্মত ইবুক বেশ কিছুদিন ধরেই মিললেও বাংলা বইয়ের মোট বাজারের তুলনায় তা নেহাতই কম। তাই নিতান্ত সমসাময়িক সাহিত্য সাহস করে ইবুকের আওতায় এনে দেওয়ার জন্য প্রকাশকেরও খানিকটা সাধুবাদ প্রাপ্য।

গল্প প্রকল্প
গল্প সংকলন
প্রকাশক: কেতাব-ই
দাম: ৯০ টাকা (ইবুক)
ছাপা বইয়ের দাম: ৩০০ টাকা

মতামত ব্যক্তিগত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.