বাংলা গানের পরম্পরায় সংলাপের মাধ্যমে গানকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া খুব যে নতুন ব্যাপার তা নয়। রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গানে শুক ও সারি নামের দুই পাখি কৃষ্ণ ও রাধার হয়ে কথা বলে, গানের শরীর নির্মাণ করে দ্বন্দ্ব-কীর্তন।
শুক বলে, আমার কৃষ্ণের চূড়া বামে হেলে।
সারী বলে, আমার রাধার চরণ পাবে বলে, চূড়া তাই তো হেলে
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
এইভাবে এগোয় গান। দুই পাখির আপাত ঝগড়া আদপে হয়ে ওঠে বৃন্দাবন লীলার সঙ্গীত। দুই পাখির কথা উঠলেই আমাদের মনে পড়ে যায় রবীন্দ্রনাথের গানের আরেক পাখির জুড়িকে। বনের পাখি, খাঁচার পাখি। দুজনের কথা বলার ভিতর দিয়ে নির্মিত হচ্ছে গান। খাঁচার পাখি কেবলই বলে খাঁচার ভিতরে তার সন্তুষ্টির কথা আর বনের পাখি বলে এক মুক্তির উড়ালের কথা। আদপে এই দ্বন্দ্বের কোনো মীমাংসা ছাড়াই ফুরিয়ে যায় গান। গানের শেষে ‘দুজনে কেহ কারে বুঝিতে নাহি পারে, বুঝাতে নারে আপনায়।’
পাখির প্রসঙ্গ নিয়ে আরেকটি গানেও আছে সংলাপের ধরন। এখানে পাখির সঙ্গে কথা হচ্ছে চাঁপার। ‘পাখি বলে চাঁপা, ‘আমারে কও/কেন তুমি হেন নীরবে রও’। এরপরে তার জবাব দেয় চাঁপা ‘চাঁপা শুনে বলে, হায় গো হায়/ যে আমারই পাওয়া শুনিতে পায়/নহ নহ পাখি, সে তুমি নও।’ আরেকটা গানে প্রশ্ন থাকে ‘তোমার বাস কোথা যে পথিক?’ আর তার জবাবও থাকে গানে। আরেকটা চেনা গান হল ‘আমি পথভোলা এক পথিক এসেছি’। এখানেও দুই সত্তার এক ধরনের কথোপকথন আছে। বলা হয় ‘তোমায় চোখে দেখার আগে/তোমার স্বপন চোখে লাগে,/বেদন জাগে গো—/না চিনিতেই ভালো বেসেছি’। সংলাপের কাঠামোয় এগিয়ে চলে গান। আজ এমনই এক গানের কথা মনে পড়ছে, সেখানেও আছে এক সংলাপের ধাঁচ। একটি শিরীষ গাছের সঙ্গে কবির কথা বলা আর তারই মধ্য দিয়ে চিত্রিত হয় এক আশ্চর্য অপেক্ষার ছবি। প্রশ্ন আর প্রতীক্ষা। এমনই ব্যতিক্রমী এই গানটি, যে এর সম্পর্কে বিশেষ বলা হয় না, বিশেষ গাওয়াও হয় না। তার একটা কারণ সম্ভবত এই যে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় তাঁর স্বর্ণকণ্ঠে গানটিকে যে উচ্চতায় গেয়ে দিয়েছেন তাঁর পরের প্রায় সাত দশকে কোনো রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী গানটি সাহস করে গেয়ে উঠতে পারেননি।
আমরা একবার ফিরে তাকাই গানটির দিকে।
প্রাঙ্গণে মোর শিরীষশাখায় ফাগুন মাসে
কী উচ্ছ্বাসে
ক্লান্তিবিহীন ফুল ফোটানোর খেলা।
ক্ষান্তকূজন শান্তবিজন সন্ধ্যাবেলা
প্রত্যহ সেই ফুল্ল শিরীষ প্রশ্ন শুধায় আমায় দেখি
‘এসেছে কি— এসেছে কি।’
আর বছরেই এমনি দিনেই ফাগুন মাসে
কী উচ্ছ্বাসে
নাচের মাতন লাগল শিরীষ-ডালে,
স্বর্গপুরের কোন্ নূপুরের তালে।
প্রত্যহ সেই চঞ্চল প্রাণ শুধিয়েছিল, ‘শুনাও দেখি,
আসে নি কি— আসে নি কি।’
আবার কখন এমনি দিনেই ফাগুন মাসে
কী আশ্বাসে
ডালগুলি তার রইবে শ্রবণ পেতে
অলখ জনের চরণ-শব্দে মেতে।
প্রত্যহ তার মর্মরস্বর বলবে আমায় কী বিশ্বাসে,
‘সে কি আসে— সে কি আসে।’
প্রশ্ন জানাই পুষ্পবিভোর ফাগুন মাসে
কী আশ্বাসে,
‘হায় গো আমার ভাগ্যরাতের তারা,
নিমেষ-গণন হয় নি কি মোর সারা।’
প্রত্যহ বয় প্রাঙ্গণময় বনের বাতাস এলোমেলো—
‘সে কি এল — সে কি এল।’
মহুয়া কাব্যগ্রন্থের ‘প্রত্যাশা’ নামের এই কবিতাটিতে রবীন্দ্রনাথ সুর দিয়েছিলেন আজ থেকে ৯৭ বছর আগের এক শ্রাবণে।
প্রাথমিকভাবে পড়লে বোঝা যায়, গানটি আসলে একটি প্রতিবেদনের মত। আর তার মধ্যে রয়েছে সময়ের এক আবর্তন। যে সময়ে গানটির প্রথম ভাগ উচ্চারিত হয়, গান ফিরে আসে সেই একই বর্তমানে। শুধু মাঝের স্তবকগুলিতে কালখণ্ড অতীত ও ভবিষ্যতের প্রান্ত ছুঁয়ে ছুঁয়ে আসে। এই প্রতিবেদনের মেজাজ ধরে রাখার জন্যই সম্ভবত গানের শুরু হয় খাদের স্বর অবলম্বন করে। কোমল ধৈবত দিয়ে আরম্ভ হয় গান: প্রাঙ্গণে মোর শিরীষশাখায় ফাগুন মাসে’। ফুলে ফুলে ছেয়ে থাকা শিরীষ গানের গোড়ার স্তবকে প্রশ্ন করে কারও আগমন নিয়ে। এসেছে কি? কার আসবার কথা ছিল? এর উত্তর প্রত্যক্ষভাবে গানে নেই, কিন্তু আছে সেই আসার বারম্বার উল্লেখ। একটি গাছের কী প্রত্যাশা থাকতে পারে? ফুল্ল শিরীষ কি চাইছে তার ফুল থেকে ফলের সঞ্চারপথে এসে দাঁড়াক কোনো অনুঘটক? সাধারণভাবে কোনো পাখি এই প্রাকৃতিক কাজটি করে থাকে। কিন্তু সে তো কোনো নির্বিশেষ পাখি, কোনো এক বিশেষ পাখি নয়। অথচ গানের উচ্চারণ ইঙ্গিত করে কোনো এক চিহ্নিত সত্তাকে। এ এক আশ্চর্য প্রতীক্ষা এবং জিজ্ঞাসা। সেইসঙ্গে খেয়াল করতে হবে, গানের প্রথম স্তবক মূলত গাছের ভাষ্য। সে প্রশ্ন করছে কথককে। ‘প্রাঙ্গণে মোর’ বলা হলেও আসলে ‘প্রত্যহ সেই ফুল্ল শিরীষ প্রশ্ন শুধায় আমায় দেখি’। এই অভিমুখ পালটে যায় পরের স্তবকে।
দ্বিতীয় স্তবকের গোড়াতেই সময়কাল পালটে হয়ে গেল অতীত। এবার বলা হচ্ছে আগের বছরের কথা। যেবার এই ফাগুনেই আশ্চর্য এক প্রাণস্পন্দন জেগে উঠেছিল শিরীষের ডালে, যে ছন্দকে মিলিয়ে নেওয়া যায় স্বর্গপুরীর নূপুরের তালে তালে। স্বর্গপুরী ও সেখানকার নাচের রূপকে আমাদের হয়তো মনে পড়ে ইন্দ্রপুরীর নটিনী নৃত্যের ছবি – সেই ব্যঞ্জনাময় নাচের ছন্দ এসে পৌঁছয় মর্ত ভূমিতে, আন্দোলিত করে বৃক্ষের গোপন আনন্দের কলতান। তাঁর অন্য একটি গানে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন ‘মর্ত-কাছে স্বর্গ যা চায়/সেই মাধুরী কোথা রে পাই’। আর এখানে দেখা গেল স্বর্গের আনন্দ উত্তাপ ছুয়ে যাচ্ছে মর্তের ভূমিতল, শিহরিত হচ্ছে বৃক্ষ। এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে এক চঞ্চল প্রাণের কথা। বৃক্ষ তো স্থাণু। তার সঙ্গে কেমনভাবে যুক্ত হতে পারে গতির বোধ? এর উত্তর এই গানে নেই ঠিকই, কিন্তু অন্য এক গানে রবীন্দ্রনাথ চাঁপাগাছের জবানিতে বলেছেন ‘আমার চলা যায় না বলা—/আলোর পানে প্রাণের চলা—/আকাশ বোঝে আনন্দ তার,/বোঝে নিশার নীরব তারা’। শিরীষ গাছেরও তাহলে আছে এমন চলা আর প্রাণের সঙ্গে প্রাণ মিলিয়ে দেওয়ার এক উদযোগ। সেই কথাই কথক মনে করেছেন দ্বিতীয় স্তবকের প্রথম অংশে। তাই ওই ফুল্লবৃক্ষকে ‘চঞ্চল প্রাণ’ ভেবে নিতে এবার আমাদের আর অসুবিধা হয় না। আর চঞ্চল শব্দের মধ্যে যে গতির আভাস ও প্রতীক্ষার ছবি, তা এই বৃক্ষ-প্রাণের বিশেষণ হিসাবে ব্যবহৃত হলে কোনো অস্পষ্টতার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না। অতীতের এক দীর্ণ প্রশ্ন ‘আসে নি কি’ নিয়ে গান চলে আসে আবার এক অন্য পর্বে।
কিন্তু এই কালান্তরের ভেসে চলায় একটি শব্দকে আলাদা করে ওজন করে দেখা দরকার। ‘আর বছরেই এমনি দিনেই’-এর ভিতর ওই আর বছর মানে হল আগের বছর। মূলত উত্তর কলকাতার প্রচলিত মুখের ভাষায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আখ্যান সাহিত্যে ব্যবহার হলেও, গানে বা কবিতায় এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করার কথা কেউ ভাবতেই পারেন না, অথচ নিজের গানে কী অনায়াসে সেটিকে ব্যবহার করে ফেললেন রবীন্দ্রনাথ! আজ থেকে সাত দশক আগে বাংলা গানের ভাষায় ‘আর বছর’ এর মত আকাঁড়া শব্দের প্রয়োগ কেউ মনে করতে পারেন? তার পরের ৫০ বছরের গানেও কি পাবেন? উত্তর হল, না নেই। কিন্তু এই গানে তা আছে। আছে আমাদের আরও চেনা একখানা গানের ভিতর। ‘গ্রামছাড়া ওই রাঙামাটির পথ’ গানে খেয়াল করুন ‘ও যে আমায় ঘরের বাহির করে, পায়ে-পায়ে পায়ে ধরে—/ও যে কেড়ে আমায় নিয়ে যায় রে যায় রে কোন্ চুলায় রে।’
কোন চুলোয় নিয়ে যাওয়া একেবারেই মৌখিক ভাষার লব্জ। তারও অনায়াস ব্যবহার হয়ে গেল এবং আমাদের কানে একটুও লাগল না। যাঁরা রবীন্দ্রনাথের গানের ভাষাকে অতি কাব্যিক ও সুললিত বলে আহ্লাদিত হন, তাঁরা একবার আগাপাশতলা ভাববেন। ভাবলে দেখবেন, ওই দুটি শব্দের প্রয়োগে বাংলা গানের ভাষাকে একশো বছর এগিয়ে দিয়েছেন তিনি। গান শুনতে বা পড়তে গেলে একথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
যা-ই হোক, আমাদের আলোচ্য গানটিতে গানের কথা ঠিক এরপরেই অতীত থেকে ভবিষ্যতে সরে যায়। আগের বছরের যে স্পন্দিত বৃক্ষের আখ্যান বলা হল, সংশয় জাগে আগামী বছরের ফাগুনে একই প্রত্যাশার অবসান ঘটবে, নাকি ‘ডালগুলি তার রইবে শ্রবণ পেতে/ অলখ জনের চরণ-শব্দে মেতে’? এই প্রশ্নের আপাতভাবে কোনো জবাব নেই। কারণ এই সময়কাল আগামীর। কিন্তু কথকের মনে প্রশ্ন জাগছে, আজকের যে শিরীষ প্রত্যাশা ও অপেক্ষায় স্পৃষ্ট, আগামীতেও কি পূর্ণ হবে তার অভিলাষ? কিন্তু এই যে প্রতীক্ষা আর প্রশ্ন, তার উদ্দিষ্ট কে? কার জন্য এমন উতরোল প্রত্যাশা আর অকারণে চঞ্চল হয়ে ওঠা?
আরো পড়ুন উদযাপিত সলিল, বিস্মৃত সলিল
রবীন্দ্রনাথের আরও নানা গানের মতই, এখানেও আছে এক রহস্যের মায়া। দুয়েকটা ইশারা কুড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে বড়জোর। ‘অলখ জন’ কথাটির অর্থ হল এমন কেউ, যাকে দৃষ্টির প্রত্যক্ষতায় পাওয়া যায় না। তাহলে তার আগমনের চিহ্ন কেমন হবে? উত্তর হল, ‘চরণ-শব্দ’, অর্থাৎ পায়ের আওয়াজ। অন্য এক গানে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ‘তার চলে যাওয়ার শব্দ শুনে ভাঙল রে ঘুম—/ ও তোর ভাঙল রে ঘুম অন্ধকারে’। কোথাও লিখেছেন ‘তোরা শুনিস নি কি শুনিস নি তার পায়ের ধ্বনি’। গীতাঞ্জলির এক লেখায় ‘শ্রাবণঘন গহন মোহে’ সবার দৃষ্টি এড়িয়ে নিশার মত নীরব হয়ে কারও আগমনের বার্তা পেয়েছেন। ফলে অগোচর হলেও শব্দের কম্পাঙ্কেও চিনে নেওয়া যায় প্রার্থিতকে। তাই শিরীষের ডালগুলি ‘শ্রবণ পেতে’ থাকে সেই সত্তার জন্যে। কান পেতে থাকার এই অনিবার্যতা থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পথ নেই এই গাছের। আর তাই, অনিশ্চয়তার দোলার মুখে জেগে থাকে সেই সূচিমুখ জিজ্ঞাসা: সে কি আসে?
কার্যত এই পর্যন্ত এসেও সেই প্রতীক্ষা আর প্রশ্নের কোনো উপশম নেই। সুতীব্র দোলাচলের চৌকাঠ পেরিয়ে গান এসে দাঁড়ায় তার অন্তিম স্তবকে। প্রথমে বর্তমান, তারপরে অতীত এবং আগামীর কথা বলে আবার তার পুনরাবর্তন হয় ঘটমান বর্তমানে। সেই সঙ্গে গানের ভাষ্য জানায়, গোড়ায় যে কথার খেই ধরেছিল শিরীষ গাছ এবং তা সরে এসেছিল কথকের উচ্চারণে একেবারে শেষে, সমস্ত কথাটাই শিরীষের। উপরন্তু তার এই কথার কোনো স্পষ্ট উদ্দিষ্ট নেই। যে প্রশ্ন সে একাধিকবার ভাসিয়ে দিয়েছে কথকের কাছে আর কার্যত কোনো উত্তরের দিশা পায়নি, শেষ পর্বে যেন সেই প্রত্যাখ্যানের চাপ খুব বেশি, যেন বা আর কোনো গন্তব্য নেই জিজ্ঞাসার।
এইখানে গানটি ঘুরে যায় বাইরের থেকে ভিতরের দিকে, বাহিরমহল থেকে অন্তরমহলে, সদর থেকে অন্দরে। জিজ্ঞাসা থেকে আত্মজিজ্ঞাসায়। কারণ আর কোনো ব্যক্তিবিশেষের সামনে নয়, ফুল্লকুসুমিত শিরীষ এবার পুষ্পিত ফাগুনমাসের কাছেই টুকরো টুকরো করে ছড়িয়ে দেয় তার প্রশ্ন। সঙ্গে মিশে থাকে গোপন এক হাহাকার, না পাওয়ার অবদমিত বেদনা। ভাগ্যহত শিরীষের কেবলই মনে হতে থাকে এই প্রতীক্ষা যেন অন্তহীন, হয়ত বা অর্থহীনও বটে। কেউ আসবে না আর, দিগ্বিদিকের শেষে এসে সমস্ত পথের খোঁজ যেন বৃথা। গানের প্রথম স্তবক থেকে যার প্রত্যাশা মুড়ে রেখেছে গানের যাবতীয় উত্তেজনা, এইবারে তা স্তিমিত, স্তব্ধপ্রায়।
কিন্তু একেবারেই কি শূন্য? এইখানে একটি আবছায়া আবরণ যে বয়ন করা থাকে তার ইঙ্গিত। ‘প্রত্যহ বয় বনের বাতাস এলোমেলো—’। বনের ভিতর বাতাস বইলে তার একটি শব্দ তৈরি হয়, যার পিছনে কোনো অবয়ব থাকে না। কারণ তা কোনো ব্যক্তি বা সমষ্টির সৃজন নয়, একেবারেই প্রাকৃতিক এক সংঘর্ষ থেকে উৎপন্ন। এই যে জড়ো হওয়া শব্দ, এরই ভিতর কি কারও পদশব্দ লুকিয়ে থাকে? এই কি সেই প্রশ্নের জিজ্ঞাসা? গানে তার উত্তর নেই, কিন্তু আছে এরই প্রতিস্পর্ধী এক প্রশ্ন ‘সে কি আসে— সে কি আসে।’ এই প্রশ্নও যেন যুগযুগান্তের এক আর্তি নিয়ে ছড়িয়ে থাকে স্তরে স্তরান্তরে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এই বিপজ্জনক ভুল করেননি, কিন্তু কেউ যদি এই গানের শেষে আবার ফিরে যেতে চান সমে, তাহলে তিনি আসলে হত্যা করবেন গানের এই সূক্ষ্ম মাধুর্যকে। উত্তরের সমতল নয়, প্রশ্নের উচ্চাবচ উপত্যকাই ধারণ করতে পারে এই গানের ব্যপ্ত হাহারব।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








