কলকাতা থেকে দূরে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার গণ্ডগ্রাম বহড়ুতে জন্ম, গাঁয়ের ছেলে, মনে ভয় পুরোদস্তুর, পিতৃবিয়োগের পর কলকাতায় মামারবাড়ির গলগ্রহ হয়ে থাকা — এ মত শৈশবের শেষ প্রান্তে এসে শক্তি চট্টোপাধ্যায় কলকাতা শহরে দেখতে পেলেন একটি বিশাল ক্ষুৎকাতর হাঁ। ‘…একটা রাস্তা যেন জলপ্রপাত, তার গা থেকে গাড়িঘোড়া সব হুড়মুড় করে ধারাবাহিক গড়িয়ে পড়ছে। নিচে গভীর খাদ। হাঁ করে আছে কলকাতা শহর। তার খিদে সাংঘাতিক’। (এই সব পদ্য, যুগলবন্দী) এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, শক্তির কবিতায় যে সর্বভুক মায়ার উপস্থিতি অনুভূত হয়, যে অনমনীয় প্যাশন মানুষকে বিদ্যুতস্পৃষ্ট করে রাখে, সোজা কথায় – শক্তির কবিতায় যে উদাত্ত দাবিটি থাকে – তার অন্তরালে দেখা গেল কবিও একটি সর্বগ্রাসী হাঁ পালটা পেতে রেখেছেন পৃথিবীর প্রতি, জীবনের প্রতি। একটি কাঙাল হাঁ – যা চায় সবকিছু আত্মসাৎ করতে। শক্তির সেই আত্মীকৃত পৃথিবীতে প্রবেশ করা মর্মবোধের পক্ষে যে একেবারে শ্রমসাধ্য নয় – তা বলা যায় না। তবে সে শ্রমটি খুব সূক্ষ্ম। সেই সূক্ষ্ম শ্রমের একটি বর্ণনা সুভাষ মুখোপাধ্যায় দিয়েছেন – শক্তির পদ্যসমগ্র প্রথম খণ্ডের ‘মুখবন্ধের মুখোসে’ শীর্ষক ভূমিকায়: ‘বোঝা বলতে কি তাহলে অর্থ করা নয়? মনে ধরা?

মন্ত্র থেকে কবিতার জন্ম। কথার জোরে মনস্কামনা পূর্ণ করা। ডাঙায় দাঁড়িয়ে তা হওয়ার নয়। নিজেকে কথার স্রোতে ভাসিয়ে দিতে হবে’। এই কথার স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দেওয়াটি আসলে আনুগত্য স্বীকারের নামান্তর। এই পৃথিবীর কতিপয় মহান কবি নিজের কবিতার পৃথিবীতে সর্বোচ্চ শাসক হয়ে উঠতে পারেন, সেখানে লাগু সব নিয়ম – তালজ্ঞানহীন হোক আর যা-ই হোক – গড়া কবির নিজের হাতে। শক্তির কবিতা যুক্তিহীন নয় – তার যুক্তিক্রম একেবারেই স্বতন্ত্র। তার নিয়ম নিজের। এই নিয়মের কাছেই পাঠকের নতিস্বীকার। দুটি দশক আগে এক পাঠকের কথা স্মরণে আসে – শক্তির কবিতার দরজা তার কাছে খুলে যাচ্ছে এক দ্বিপ্রহরে – পাড়ের কাঁথা মাটির বাড়ি কাব্যগ্রন্থ অন্তর্ভুক্ত ‘মুঠোভরা রঙ-বেরঙ টিকিট’ লেখাটির কাছে এসে।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

অনেকদিন কোনো সেতুর উপর দিয়ে পার হইনি নদী-সমুদ্র,

পাহাড় কিংবা লোকালয়

প্রত্যেক জিনিসের ভিতর দিয়ে ছুঁচের মতন, প্রত্যেক সামগ্রীর ভিতর

দিয়ে সামগ্রীর ধ্বংসের মতন

ফলের এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত পর্যন্ত সরাসরি কূট পোকার মতন, কাথের

ভিতর ঘুণের মতন ভেসে বেড়িয়েছি –

একে এখানকার সবাই বেড়ানোই বলে –

পার্কে, ময়দানের ঘাসে হাতে-ঠাসা অ্যালশেসিয়ান আর

দু-গণ্ডা, পুড্‌ল

নাক কামড়ে ধরেছে কালো ডেয়ো-পিঁপড়ে –

পড়ন্ত রোদ্দুর নরম করে ভেসে বেড়িয়েছি

– একে এখানকার সবাই বেড়ানোই বলে।

অনেকদিন কোনো সেতুর উপর দিয়ে পার হইনি নদী-সমুদ্র, পাহাড়

কিংবা লোকালয়

অর্থাৎ এককথায়, এড়িয়ে যাইনি কিছুই

হাতে লাঠি জানালার প্রত্যেকটা গরাদ বাজিয়ে গেছি – দিয়েছি টংকার

ইস্টিশান-ঘেরা তারের বেড়া এখনও তাই কাঁপছে

ছেলেবেলাতেই হাটে গিয়ে রোদ্দুর কেনাবেচা করেছি, অভিজ্ঞতাও

যথেষ্ট –

সুতরাং, এক লহমা দেখেই ভবিষ্যৎ বলে দিতে পারি, দর বেঁধে দিতে

পারি

দুপক্ষের ভালই মার্জিন থাকবে তাতে।

যেতে যেতে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি – ভয় কী?

মুঠোভরা রঙবেরঙ টিকিট – ঘাঁটলে কি একটাও সাচ্চা বেরুবে না!

যে-রঙেই মন বসুক, সই-এর কাগজ তৈরি,

একটা তৎক্ষণাৎ রেডিসেডিভাব

সুতরাং, যেতে-যেতে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

কথাটা ফস্‌ করে বললে, দেশলাইকাঠির মুখও পুড়লো – একটু

ভেবে দেখবে নাকি? সেগেন-থট্‌, অ্যাঁ

– ভেবেই বলেছি, যেতে যেতে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি

সুতরাং, ভেবেই বলেছি, বলার আগে বহুবার ভেবেছি, তাছাড়া

ইয়ার-এণ্ডিং-এর কাজকর্ম এখনও তেমন শুরু হয় নি তো –

অবসর আছে, তাছাড়া ইতস্তত সট্‌কে পড়ার কথাই ভেবেছি শুধু

কল্পনার কাঁটামাছ এসে দাঁড়িয়েছে কোর্মায়

যাওয়া তো আর হয় নি! সুতরাং, যেতে যেতে আর

পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি – ভয় কী?

মুঠোভরা রঙবেরঙ টিকিট – ঘাঁটলে কি একটাও সাচ্চা বেরুবে না?

আজ মনে হয়, শক্তিকে উন্মোচন করার প্রথম কবিতাটি যে কোনো কবিতাই হতে পারত – শুধু দরকার ছিল সময়-উপযোগী একটি প্রশ্ন উত্থাপনের – ‘কেন’, এবং দরকার ছিল তার উত্তরহীনতায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার। কেননা, উপরের কবিতাটি নিপুণভাবে অবান্তর কথা দিয়ে গাঁথা। একাধিকবার সেখানে বাঁক নিয়েছে চিন্তাপ্রবাহ। ভিতরের স্বর বদল হল – মাঝে মাঝে এমনতরও লাগে। প্রথম পাঠে বোধ হয়েছিল এতোল বেতোল কথা যত এসে জুড়ে বসেছে কবিতায় – তৎসত্ত্বেও লেখার প্রসাদগুণ টাল খায়নি, এ কথা খেয়াল থাকছে। গতি কমেনি কবিতার; তা কবিতা বোধের অগম্য যেদিকেই যাক না কেন! এখন উপলব্ধি করা যায় যে, কোন বাক্য কোন যুক্তিতে কবিতায় প্রবেশাধিকার পাবে তার কোনো সংবিধান-সমর্থিত ধরা-বাঁধা শর্ত নেই। অতএব, কবিতা কী যখন আমাদের তা আজও অজানা, কী যে কবিতা নয় – তা-ও তো কেউ নির্ধারিত করে দেয়নি। তবু, এ কথা সত্যি যে, কবিতা ও না-কবিতার মাঝ-বরাবর একটি প্রস্তরনির্মিত সীমারেখা আমাদের ধারণায় প্রতিষ্ঠিত। শক্তি সেই প্রতিষ্ঠানের ভিত আক্রমণ করে টলিয়ে দিয়েছেন এখানে। কিন্তু এরপরেও যদি সে যুক্তির দিকে তাকানো যায় – মুঠোভরা রঙবেরঙের টিকিট – কী তার তাৎপর্য? এ-ই যে তা কোথাও না কোথাও চলে যাওয়ার ছাড়পত্র হিসেবে এসেছে! কিন্তু কোনটা সাচ্চা কোনটা নকল জানা নেই – জানার যে খুব প্রয়োজন কবির পড়েছে – তা-ও না – সফর তো শুরুই হয়ে গিয়েছে, কবিতায়। দ্রুতগামী সফর। বাস্তব থেকে কল্পনায়, কল্পনা থেকে স্মৃতিতে, ঝটতি সেখান থেকে অফিসের করণিকের জীবনে – এবং এই সবকিছু থেকে পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে থেকে ইচ্ছে অবধি বিছিয়ে আছে এই কবিতা। এ কবিতার জন্ম ও পরিণতি আবেগে এবং আবেগের অতিরেকে হতে পারত – এখানে আবেগ তো আছেই, কিন্তু সেই থাকাটি নিশ্চিতভাবে একমাত্র শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের প্রযত্নেই থাকে। এই কবিতার মূল বিকিরণ বাক্যের, রূপকল্পের, বা শব্দের বিন্যাসে নয় – বরং কবিতা কী অপূর্বভাবে অবিন্যস্ত – তাতে। এই অকস্মাৎ উলটে পালটে দেওয়ার ইচ্ছে সবকিছুকে – এর পিছনে প্রবল প্রাণশক্তি যেমন আছে, প্রকাণ্ড অবুঝ ছেলেমানুষিও থেকে গেছে। এই ছেলেমানুষিই সব ভাঙে, ভেঙে নিজের শাসনে আনতে চায়। এই ছেলেমানুষিই জন্ম দেয় ‘জরাসন্ধ’ কবিতাটির।

আমাকে তুই আনলি কেন, ফিরিয়ে নে।

যে-মুখ অন্ধকারের মতো শীতল, চোখ দুটি রিক্ত হ্রদের মতো কৃপণ করুণ, তাকে

তোর মায়ের হাতে ছুঁয়ে ফিরিয়ে নিতে বলি। এ-মাঠ আর নয়, ধানের নাড়ায়

বিঁধে কাতর হলো পা। সেবন্নে শাকের শরীর মাড়িয়ে মাড়িয়ে মাড়িয়ে আমাকে

তুই আনলি কেন, ফিরিয়ে নে।

পচা ধানের গন্ধ, শ্যাওলার গন্ধ, ডুবো জলে তেচোকো মাছের আঁশ গন্ধ সব

আমার অন্ধকার অনুভবের ঘরে সারি-সারি তোর ভাঁড়ারের নুনমশলার পাত্র

হলো, মা। আমি যখন অনঙ্গ অন্ধকারের হাত দেখি না, পা দেখি না, তখন

তোর জরায় ভর করে এ আমায় কোথায় নিয়ে এলি। আমি কখনো অনঙ্গ

অন্ধকারের হাত দেখি না, পা দেখি না।

কোমল বাতাস এলে ভাবি, কাছেই সমুদ্র। তুই তোর জরার হাতে কঠিন

বাঁধন দিস। অর্থ হয়, আমার যা-কিছু আছে তার অন্ধকার নিয়ে নাইতে

নামলে সমুদ্র সরে যাবে শীতল সরে যাবে মৃত্যু সরে যাবে।

তবে হয়তো মৃত্যু প্রসব করেছিস জীবনের ভুলে। অন্ধকার আছি, অন্ধকার

থাকবো, বা অন্ধকার হবো।

আমাকে তুই আনলি কেন, ফিরিয়ে নে।।

এই রাক্ষুসে অভিমান, এই হাপুস-জড়িয়ে-ধরা রুষ্ট ভক্তি, এই চিৎকার, এই হাত-পা ছড়িয়ে কান্না – এই সবকিছুই একটি প্রাবল্য থেকে এসেছে। যে প্রাবল্য শক্তির কবিতার চরিত্রগুণ। এই এক প্রাবল্য আর একটি অমলিন সমারোহ। অস্থিরতা। অবিশ্বাস্য সারল্য। প্রবৃত্তিতাড়িতভাবে শব্দকে ঠাহর করতে পারা। এই ইন্সটিংক্টিভ রেস্পন্সটি চতুর্দিকে ছড়িয়ে আছে। ‘অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে’ (ধর্মে আছো জিরাফেও আছো) কবিতাটিতেই যেমন:

দেয়ালির আলো মেখে নক্ষত্র গিয়েছে পুড়ে কাল সারারাত

কাল সারারাত তার পাখা ঝরে পড়েছে বাতাসে

চরের বালিতে তাকে চিকিচিকি মাছের মতন মনে হয়

মনে হয় হৃদয়ের আলো পেলে সে উজ্জ্বল হতো।

সারারাত ধরে তার পাখা-খসা শব্দ আসে কানে

মনে হয় দূর হতে নক্ষত্রের তামাম উইল

উলোট-পালোট হয়ে পড়ে আছে আমার বাগানে।

এবার তোমাকে নিয়ে যাবো আমি নক্ষত্র-খামারে নবান্নের দিন

পৃথিবীর সমস্ত রঙিন

পর্দাগুলি নিয়ে যাবো, নিয়ে যাবো শেফালির চারা

গোলা বাড়ি থেকে কিছু দূরে রবে সূর্যমুখী-পাড়া

এবার তোমাকে নিয়ে যাবো আমি নক্ষত্র-খামারে নবান্নের দিন।

যদি কোনো পৃথিবীর কিশলয়ে বেসে থাকো ভালো

যদি কোনো আন্তরিক পর্যটনে জানালার আলো

দেখে যেতে চেয়ে থাকো, তাহাদের ঘরের ভিতরে–

আমাকে যাবার আগে বলো তা-ও, নেবো সঙ্গে করে।

ভুলে যেয়োনাকো তুমি আমাদের উঠানের কাছে

অনন্ত কুয়ার জলে চাঁদ পড়ে আছে

নক্ষত্রের উইল। কী হতে পারে তা? মৃতপ্রায় নক্ষত্র তার সব আলো লিখে যাচ্ছে তরুণতর নক্ষত্রের প্রতি? তা ঝরে পড়ছে? কবি পাড়ি দেবেন নক্ষত্র-খামারে নবান্নের দিনে। সঙ্গে নিয়ে যাবেন পৃথিবীর সমস্ত রঙিন পর্দাগুলি। সব ছেড়ে যাবেন, কিন্তু নিজের বাড়ির প্রতি যে মায়াটি থেকে গেল – যে মায়া কুয়োর জলে চাঁদের ছায়াকে মানুষের স্থাবর সম্পত্তির মতো ঐশ্বর্যমণ্ডিত করে তোলে – তাকে কী করে কেউ ভুলে যাবে? এই স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মধ্যেই আছে এক অতল সারল্য।

ভেবেছিলাম এইখানে তার সর্বনাশের শেষ হয়েছে

ভেবেছিলাম মুখটি যখন পুড়েছে তার মুখচ্ছিরির

কী আর থাকে অবশিষ্ট?

ভুল ভেঙেছেন তেমনি ক’রে আধ-ক্ষ্যাপাটে যীশু খ্রীস্ট –

আমি সিঁড়ির

সুন্দরী ধাপ সরিয়ে, দেখি অন্ধকারেও পথ রয়েছে!

(সুন্দরী ধাপ, সুন্দর এখানে একা নয়)

মুখচ্ছিরি শব্দটি ‘মুখশ্রী’ অর্থে এসেও কী অনায়াসে ঘরোয়া ও আত্মগত হয়ে উঠল। যীশু খ্রীস্টের বিশেষণ হিসেবে এল অবিস্মরণীয় প্রয়োগ – আধ-ক্ষ্যাপাটে! কিন্তু সেই আধ-ক্ষ্যাপাটে অবতার কী শিখিয়েছেন? সমস্ত ধ্বংসের পরেও পথ থেকে যায়। ঘন ভয়াল অন্ধকারেও একটি পথ। এখানেই আসে এক অফুরন্ত জীবনতৃষ্ণার কথা।

হঠাৎ হারিয়ে গেলো, এলোমেলো হাওয়া, ভুল চাঁদ

তার নিচে দাঁত খুলে খোয়াই পেতেছে নীল ফাঁদ

বনের ভিতরে হিংস্র জন্তু আছে, মানুষেরা আছে

গাছের শিরার মতো সাপ আছে ছড়িয়ে সেখানে—

এখন কোথায় সে কে জানে?

এখন কোথায় সে কে জানে?

তাকে ছন্নছাড়া করে অগ্নির গণ্ডুষ

মানুষের সব হুঁশ ছেড়ে তাকে পাথর করেছে

পাথরের খেলাধূলা নদীর ভিতরে—

নদীতে কোথায় সে কে জানে

নদীতে কোথায় সে কে জানে?

খুঁটিয়ে দেখেছি বন, বনাঞ্চল, গাছের শিখরে

যদি সে আনন্দ কিছু করে

গভীর রাত্রের খেলা যদি তাকে পায়

আমোদ বিন্যস্ত থাকে লতায় পাতায়

যদি তাকে টানে

এই প্রান্ত থেকে ভুল চাঁদ অন্যখানে—

তাকে পাওয়া!

কেন বা সন্ধান দেবে এলোমেলো হাওয়া?

ইন্দ্র, ইন্দ্র, ইন্দ্রনাথ ? প্রতিধ্বনি ফেরে

বিপুল অসহ্য শব্দে ভাঙে নির্জনতা।

পাথর গড়িয়ে পড়ে, গাছ পড়ে বোধে

মানুষ হারায়, তা কি মানুষেরই ক্রোধে?

কাব্যগ্রন্থ – ঈশ্বর থাকেন জলে। কবিতা – পাথর গড়িয়ে পড়ে গাছ পড়ে বোধে। শিরোধার্য প্রশ্ন – মানুষ হারায়, তা কি মানুষেরই ক্রোধে? শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিরচিত শ্রীকান্ত উপন্যাসের‘নৈশ অভিযান’ পরিচ্ছেদ। কবিতায় শক্তি সেখানে অতর্কিতে প্রবেশ করেছেন – অবলীলায় উপন্যাসের মুহূর্তটি লুন্ঠন করে কবিতাটিকে প্রেক্ষাপট থেকে মুক্ত করে দিয়েছেন। অবশিষ্ট থেকে গিয়েছে একটি ডাক, প্রতিধ্বনি – ইন্দ্র, ইন্দ্র, ইন্দ্রনাথ… সেই দুর্দান্ত বোহেমিয়ান ইন্দ্রনাথ, যাকে কোনো শৃঙ্খল জব্দ করতে পারেনি। সে শুধু হারিয়ে যায় – সর্বগ্রাসী জীবনতৃষ্ণা তাকে দুরূহ করেছে। এক দ্বিপ্রহরে আমার মনে হয়েছিল এখানে মাতাল, দামাল, কবি ও কাঙাল শক্তি নিজের উত্তরাধিকার স্বীকার করছেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.