তেইশ বছর বয়সে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে প্রথম যখন তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে যোগ দিই, ইনফোসিস তখন খ্যাতির মধ্যগগনে। নাগভারা রামারাও নারায়ণমূর্তি, ওরফে এন আর নারায়ণমূর্তি তার সিইও, প্রায় রূপকথার নায়ক। মোবাইল, ইন্টারনেট, এটিএম – এসব নতুন নতুন শব্দবন্ধের সঙ্গে ভারতের মানুষ তখন সবে পরিচিত হচ্ছে। সেই বাজারে আমি কর্মজীবন শুরু করেছিলাম ইনফোসিসে যোগ দিয়ে। তিন বছরের একটু কম সময় ছিলাম ইনফোসিসের ভুবনেশ্বর অফিসে। বিভিন্ন সময়ে ইনফোসিসের তথাকথিত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সের সদস্যদের খুব কাছ থেকে দেখার, কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। নারায়ণমূর্তির সঙ্গেও কথা হত।

আমরা বাঙালি কর্মচারীরা ভদ্রলোককে আড়ালে উল্লেখ করতাম ‘নাড়ুদা’ বলে। সেই সময়ে নারায়ণমূর্তির ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে যাওয়া খুব সহজ ছিল। নাড়ুদার নামে বিভিন্ন কিংবদন্তি চালু ছিল তথ্যপ্রযুক্তি জগতে। এত বড় কোম্পানি, প্রায় সাম্রাজ্যই বলা চলে, তিনি একা হাতে গড়ে তুলেছেন, দাঁড় করিয়েছেন। অথচ কী সাদামাটা পোষাক, সহজ ব্যবহার! প্রায়শই বিভিন্ন ওড়িয়া ফিল্মের শুটিংয়ের লোকেশন হয়ে যাওয়া ঝাঁ চকচকে রিসর্টসদৃশ ইনফোসিস ভুবনেশ্বর ক্যাম্পাসে কেমন যেন অন্য রকম লেগেছিল।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

আমরা যোগ দেওয়ার ঠিক এক বছরের মাথায় ঘটে নাইন ইলেভেন। আমেরিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, সারা পৃথিবীতে নিরাপত্তার সংজ্ঞাই বদলে যায় রাতারাতি। সেই প্রথম ঝাঁ চকচকে কর্পোরেট অফিসের পলেস্তারার নিচে খানিকটা অন্ধকার সময় দেখতে পাই। না, কারুর চাকরি যায়নি। তবে টলমলে অর্থনীতিতে খাবি খেতে থাকা আমেরিকার বড় বড় মক্কেলদের ব্যবসা ধরে রাখতে, ইনফোসিস সেই সময়ে বেশ কিছু প্রোজেক্টের কাজ বিনা পয়সায় করে দিয়েছিল। সেই খয়রাতির ভার সামলাতে হয়েছিল আমাদের – দিন রাত, শনিবার রবিবার এক করে। প্রায় দুবছর কারোর মাইনে বাড়েনি। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে যোগ দেওয়ার সেই সময়ে যা মুখ্য ইনসেনটিভ ছিল – অন সাইট, প্রায় কারোরই তা হয়নি ২০০৩ অবধি।

মনে আছে, ২০০২-০৩ আর্থিক বছরের শেষে টাউন হল হচ্ছে ইনফোসিস ব্যাঙ্গালোর (নামটা তখনো বেঙ্গালুরু হয়নি) ক্যাম্পাসে। নারায়ণমূর্তি, নন্দন নিলেকানি, শিবুলাল ইত্যাদিরা গম্ভীর মুখে বাণী দিচ্ছেন। বিজনেস টার্গেট, রেভিনিউ টার্গেট, আমাদের আরও উদ্যমী হতে হবে ইত্যাদি। আমরা ভুবনেশ্বরে বসে পডকাস্ট দেখছি, ব্যাঙ্গালোর অফিসের কর্মীরা অফিসের ময়দানে। প্রায় দেড় ঘন্টা এসব হবার পরে কর্মীদের প্রশ্ন করতে অনুরোধ করা হল।

দু-চারটি প্রশ্নোত্তরের পর একটি ছেলে উঠল, সোজা সাপটা ভাষায় জিজ্ঞেস করল “স্যার, নাইন ইলেভেনের গল্প শুনিয়ে প্রায় দুবছর হতে চলল আমাদের কোনও ইনক্রিমেন্ট হয়নি, প্রোমোশন হয়নি, কাজের অবস্থার উন্নতি হয় নি। অথচ ইনফোসিসের নতুন নতুন তাক লাগানো অফিস খুলেছে ভুবনেশ্বরে, মহীশুরে। আপনাদের রেভিনিউ জেনারেশনও খুব খারাপ কিছু হচ্ছে না। স্যার, আমাদের মাইনে কবে বাড়বে?”

নারায়ণমূর্তি স্যার সম্ভবত এই প্রশ্নের জন্য তৈরি ছিলেন না। এক মুহূর্ত নীরবতার পর তিনি বলেছিলেন “ইউ নো, আমি একজন প্রোগ্রামারকে চিনতাম, সে কোবোল প্রোগ্রামিং করত। এত অনায়াসে, যে তার কোডিং পড়ে মনে হত যেন কবিতা। তোমরা যদি ওইরকম কবিতা লিখতে পারো, তোমাদেরও কেরিয়ারে উন্নতি হবে।”

সেই প্রথম মুগ্ধতা কাটে। এর কয়েক মাস পরে আমি ইনফোসিস ছাড়ি। প্রথম দিন থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আমি বিভিন্ন ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শদাতা কোম্পানিতে কাজ করেছি। প্রথম বিদেশ যাবার সুযোগ পেয়েছি ইনফোসিস ছাড়ার দেড় বছর বাদে। ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শদান শিল্পকে ভিতর থেকে আস্তে আস্তে বেশকিছু বদলের মধ্যে দিয়ে যেতে দেখেছি। সিইও বদল প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে বারবার যেতে যেতে ইনফোসিসকে তার পুরনো গৌরব একটু একটু করে হারাতে দেখেছি।

আজ ২০২৩ সালে বৃদ্ধ নারায়ণমূর্তির যে বক্তব্যকে ঘিরে চারদিকে লেখালিখি হচ্ছে, তা আসলে কর্পোরেট জগতের একটা প্রচলিত অভ্যাস। উনি মুখ ফুটে বলে ফেলেছেন, এই যা। এমন কিন্তু নয় যে উনিই প্রথম মুখ ফুটে বলেছেন সপ্তাহে ৭০ ঘন্টা কাজ করার কথা, বা উনি বলার আগে কেউ অত ঘন্টা কাজ করত না। একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দুটো দশক এতটাই ঘটনাবহুল যে প্রায়শই আমাদের স্মৃতিবিভ্রম ঘটে। কিন্তু ইন্টারনেটে একটু খোঁজ করলেই ভেসে উঠবে ২০১১ সালের ২১ মে তারিখের একটা প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদন বলছে, কোরাস এবং জাগুয়ার ল্যান্ডরোভারকে অধিগ্রহণ করার পরে টাটা কোম্পানির কর্ণধার, মহামহিম শ্রী রতন টাটা লন্ডনে গিয়ে ব্রিটিশ কর্মচারীদের কর্মসংস্কৃতি দেখে যারপরনাই বীতশ্রদ্ধ হন এবং বলেন, ব্রাইটনরা ‘এক্সট্রা মাইল’ যেতে প্রস্তুত নয়। ব্রাইটনরা ‘অলস’। এর বিপরীতে প্রশংসনীয় কর্মসংস্কৃতির উদাহরণ দেখাতে গিয়ে তিনি তুলে ধরেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নাম। উল্লেখ করেন যে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর প্রথম দিনই উনি মধ্যরাত্রি পর্যন্ত নিজের অফিসে বসে কাজ করেছেন। রতন টাটার সঙ্গে মমতার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সম্পর্কের আলোচনায় যাব না। সময়টা দেখে পাঠক সহজেই বুঝতে পারছেন, মমতার লাগাতার ধর্না-বিক্ষোভ-অনশনের ফলে সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো কারখানা গড়ার পরিকল্পনা ত্যাগ করা তখনো সুদূর অতীত নয়।

এই ‘এক্সট্রা মাইল’ সংস্কৃতি ভারতীয় কর্পোরেট জগতের এতটাই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, যে এর শুরু কোথায়, কেউ সঠিকভাবে বলতে পারবে না। কথাটার অনেকরকম মানে হতে পারে। তার মধ্যে একটা হল সন্ধে পেরিয়ে গেলেও অফিস ছেড়ে না যাওয়া, অন্তত বস অফিস ডেস্ক ছেড়ে বাড়ির দিকে যাবার আগে তো কোনোভাবেই অধস্তনের অফিস ছেড়ে যাওয় সমীচীন নয়। গেলে অনেক অবাঞ্ছিত পরিণতি হতে পারে। উপরি হিসাবে উইকেন্ড কল, হলিডে সাপোর্ট এসব তো থাকেই। কোনও হুকুমেই ‘না’ বলার দস্তুর ভারতীয় কর্মসংস্কৃতিতে নেই। এটা এতই স্বাভাবিক ব্যাপার যে বেশিরভাগ ভারতীয় সংস্থার কর্ণধারই এটাকে ভুল বলে মনে করেন না। তারই পরিণতি ২০১১ সালে রতন টাটার বাণী বা ২০২৩ সালে নারায়ণমূর্তির বাণী। এঁরা এসব দাবিদাওয়া পেশ করার আগে দুবার ভাবেনও না যে এগুলো বলার মধ্যে দিয়ে এঁরা দেশের কর্মসংস্কৃতির কী ছবি তুলে ধরছেন বিশ্বের সামনে।

ইউরোপের কর্মসংস্কৃতি একটু ঢিলেঢালা টাইপের। এখানে কাজের সময় আর ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে কোনোরকম মেশামিশি সাধারণত হয় না। দেশভেদে সামান্য তারতম্য ঘটে, কিন্তু মধ্য এবং পশ্চিম ইউরোপের প্রায় সমস্ত দেশে কর্মচারীর ব্যক্তিগত সময়কে, মানসিক স্থিতিশীলতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বেশকিছু দেশে কাজের সময়ের পরে বা সপ্তাহান্তে কাজের কারণে কর্মচারীকে ফোন করা নিষিদ্ধ, করলেও কর্মচারীর সম্পূর্ণ অধিকার আছে সেই ফোন না তোলার – এর কোনো অবাঞ্ছিত পরিণতি কেউ কল্পনাও করতে পারে না। বিশেষ ক্ষেত্রে, যেখানে সপ্তাহান্ত বা ছুটির দিনের সাপোর্ট বা কাজ অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়, সেক্ষেত্রে শ্রমমন্ত্রক থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। কাজের সময়ের বাইরে কাজ করা কর্মচারীকে মোটা টাকা ওভারটাইম দিতে হয় এবং ছুটির দিনে কাজ করালে তার বদলে অন্য দিন ছুটি দিতে হয়। সাধারণভাবে দিনে আট ঘন্টা হিসাবে কাজের সময় দাঁড়ায় সপ্তাহে ৪০ ঘন্টা। ইউরোপের বেশ কিছু দেশে লোকে সপ্তাহে চারদিন বা তিনদিন কাজ করে এবং কেবলমাত্র কাজের সময়টুকুতেই কাজ করে। তাতে তাদের কাজের অগ্রগতিতে বিশেষ অসুবিধা হয় না। আরও যা বলার, ছুটির সময়ে এরা ‘ছুটি’ নেয়। ওই সময়ে এদের ফোন করা গর্হিত অপরাধ। করলেও ফোন তোলে না অবশ্য।

ভারতীয় কর্মসংস্কৃতিতে কাজের সময় এবং ব্যক্তিগত সময় খুব সহজে আলাদা করা যায় না। কাজের চাপে নিজের ব্যক্তিগত সময় খোয়ানো, পরিবারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি হঠাৎ চাপিয়ে দেওয়া কাজের চাপে শেষ মুহূর্তে পূরণ করতে না পারা ভারতীয় কর্মসংস্কৃতিতে খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। এই সব অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাননি এমন চাকুরিজীবীর সংখ্যা খুবই কম। ভারতীয় কর্মসংস্কৃতি আমাদের শেখায় – মাঝরাত হোক, ছুটির দিন হোক, বস ফোন করলে তা ধরতেই হয়। কাজে বসতে বললে তক্ষুনি ল্যাপটপ খুলে বসতেই হয়, এর অন্যথা চলে না।

দীর্ঘকাল ধরে ভারতীয় কর্মসংস্কৃতিতে কর্মীকে ‘রিসোর্স’ ভাবার এবং বলার প্রবণতা আছে। ভারতীয়দের ইংরেজি জ্ঞান সময় বিশেষে ইংরেজদের থেকেও বেশি। তাই নিজেদের রিসোর্স বলতে বা ভাবতে তাঁদের এতটুকু খারাপ লাগে না, কিন্তু কোনো পশ্চিমী সাদা চামড়ার কাস্টমার তাঁদের ‘কনট্র্যাক্টর’ বললে সম্মানে ভীষণ লাগে। কারণ ভারতীয় কর্মসংস্কৃতিতে কনট্র্যাক্টর হচ্ছে তারা, যারা পলিটেকনিক পাস কিংবা তাও নয়। তারা ঠা ঠা রোদে দাঁড়িয়ে গালাগাল দিয়ে শ্রমিকদের দিয়ে কায়িক শ্রম করায় এবং মালিকের থেকে দিনের শেষে টাকা বুঝে নেয়।

ইংরেজি ভাষায় লিখিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, রিসোর্স হচ্ছে সেই জিনিস যার মন নেই, আবেগ নেই, ছুটি চায় না, পদোন্নতি চায় না, বর্ধিত মাইনে চায় না; যার মন খারাপ হয় না, উদাস হয় না, যার কোনো শেষ তারিখ থাকতে পারে, না-ও পারে। স্রেফ যে কোনোদিন, যে কোনো সময়ে নিজের ইচ্ছেমত যাকে কেউ ব্যবহার করতে পারে। অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ডেস্ক, চেয়ার, এসি, লিফট – এগুলো হচ্ছে রিসোর্স। মানুষ যে রিসোর্স হতে পারে না, এটা সম্ভবত ভারতের একটি সংস্থারও সিইও, ম্যানেজার বা কর্মীরা জানেন না। জানলেও মানেন না।

আরো পড়ুন টুইটার, বাইজু’স আঁধারে ছাঁটাই সম্পর্কে কয়েকটি কথা

মানুষকে ‘রিসোর্স’ বলে ডাকার এই সার্বিক সংস্কৃতি এক অসহনীয় ইঁদুর দৌড়ের পরিস্থিতির জন্ম দেয়। কর্মক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মানের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। মানুষ তার সহকর্মীকে প্রতিদ্বন্দ্বী বলে ভাবতে শেখে এবং তার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামে। সবসময়ে সেটা সুস্থ প্রতিযোগিতাও থাকে না। চাকরি সীমিত, প্রতিটা পদের জন্য হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ প্রার্থী। কর্মদাতা সংস্থাও জানে, ১৪২ কোটি মানুষের এই দেশে ভাত ছড়ালে রিসোর্সের অভাব হয় না। তাই যোগ্যতম প্রার্থীকে ভারতীয় কর্মসংস্কৃতির অসুস্থ জাঁতাকলে পেষাই করবার আগে তাদের এতটুকুও ভাবতে হয় না। তারা জানে, প্রতিবাদ হবে না। কারণ প্রতিবাদ করা মানেই আরেকজন এসে প্রতিবাদীর পদটা নিয়ে নেবে, যে প্রতিবাদ না করে অনেকদিন টিকে থাকতে পারে। অর্থাৎ যোগ্যতার মাপকাঠি হল প্রতিবাদ না করার ক্ষমতা, মাথা নুইয়ে জো হুজুর বলার ক্ষমতা এবং দিন রাত এক করে কাজে লেগে থাকার প্রবণতা।

এই অসুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতির সাথে আইকনিজমের সংস্কৃতি মিশে তৈরি করে নারায়ণমূর্তি বা রতন টাটার মত সফল পুঁজিবাদী ব্যক্তিত্বদের। তাঁরা এই প্রতিযোগিতার সংস্কৃতিকে জিইয়ে রেখে তার সপক্ষে বিশ্বের দরবারে বাণী দেবার যোগ্যতা অর্জন করেন। তাঁদের সমর্থন জানাবার জন্য সবার আগে মুখ খোলেন গৌতম আদানির মত একজন সফল ক্রোনি পুঁজিবাদী।

গোটা ব্যাপারটায় দুটো জিনিস লক্ষ করার মত। প্রথমত, এঁরা কেউই কর্মীদের বাড়তি সময় কাজ করানোর জন্য বাড়তি মাইনে দেবার কথা ভাবেননি বা বলেননি। দ্বিতীয়ত, কেউই বাড়তি সময় কাজ করানোর বদলে কর্মীদের বা তাদের পরিবারের সামাজিক সুরক্ষা বাড়াবার কথা ভাবেননি বা বলেননি। কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে মুখ খোলেননি।

উপনিবেশ বিস্তারের প্রথম যুগে দাস ব্যবসায়ীরা চাবুক হাতে নিয়ে তাদের রিসোর্সদের কাজ করাত। এ যুগের দাসব্যবসায়ীরা একটু উন্নত। মাইনে-টাইনে দেয়, ছুটিছাটা দেয়। চাবুকের জায়গা নিয়েছে ‘কর্পোরেট পলিসি’। সঙ্গে আছে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে এবং সোশাল মিডিয়ায় সযত্নে তৈরি করা সফল উদ্যোগপতিসুলভ বিশ্বায়িত ভাবমূর্তি আর বিভিন্ন ফোরামে মুখ খুলে ‘মন কি বাত’ বলার খুল্লমখুল্লা স্বাধীনতা। পুঁজি ঠিক নিজের রাস্তা বুঝে নেয়।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.