জানি, এ দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খুব একটা নেই। এই যে দেশটার মাঠে ময়দানে বুম হাতে ঘুরে ঘুরে সাংবাদিকরা খবর করেন, সেই দেশ বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় ১৬১ নম্বর জায়গা নিশ্চিত করেছে। হয়ত যত দিন যাবে ওই তালিকায় তত পিছোবে দেশটা। বিলক্ষণ জানি, এদেশে জেল খাটতে হয় সিদ্দিক কাপ্পানের মত সাংবাদিককে। সোশাল মিডিয়ায় শাসক দলের বিরুদ্ধে দু-চার লাইন লেখার জন্য নিজেদের সাংবাদিককে বরখাস্ত করেছে – এমন সংবাদসংস্থাও বিরল নয় এই ভারতে। সংবাদমাধ্যম যে মানুষের কাছে সত্যি ঘটনা নৈর্ব্যক্তিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার গোড়ার কাজটিই ভুলেছে, তা নিয়েও সন্দেহ নেই। বরং এরা এখন পুতুল নাচের পুতুলের মত সামনে বসে থাকা দর্শকদের মনোরঞ্জন করে আর এদের হাতে বাঁধা দড়ি নিয়ন্ত্রণ করে অন্য কেউ। এদের এহেন বন্দিদশা দেখে খানিক করুণা হতে পারত; কিন্তু যে ক্ষতিটা এরা করে চলেছে দেশজুড়ে, তাতে রাগ ছাড়া আর কিছু হচ্ছে না আপাতত। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গতমাসে ঘটে যাওয়া ভয়ানক, মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাজকর্ম আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সেই রাগ। জমে ওঠা ক্ষোভ থেকেই কিছু কথা বলবে পরের অনুচ্ছেদগুলোতে।

ঘটনাটির পর শোকস্তব্ধ সবাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা পরের দিন থেকে আন্দোলনে। র‍্যাগিংবিরোধী সেই আন্দোলনের অন্যতম দাবি – দ্রুত তদন্ত শেষ করে র‍্যাগিংয়ে যুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া হোক। অথচ চ্যানেলে চ্যানেলে জোর গলায় সঞ্চালকরা এই একমাস ধরে বলে গেলেন “কোথায় হোক কলরব?” প্রথমত, এইভাবে ক্যাম্পাসে চলমান র‍্যাগিংবিরোধী আন্দোলনকে ইচ্ছাকৃতভাবে না দেখিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা র‍্যাগিং নিয়ে নীরব – এমন প্রচার করা গেল। দ্বিতীয়ত, ২০১৪ সালের ‘হোক কলরব’ নামের ব্যাপক ছাত্র আন্দোলনকেও এই সূত্রে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখানো গেল।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

হোক কলরব মূলত যৌন হেনস্থার ঘটনার বিচার চেয়ে একটি ছাত্র আন্দোলন। সেই আন্দোলনে রাতের অন্ধকারে পুলিস ডেকে আলো নিভিয়ে ছাত্রদের পেটানোর ব্যবস্থা করেন তৎকালীন উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তী। তাঁর পদত্যাগের দাবি ওঠে সঙ্গতভাবেই। তাঁকে আন্দোলনের চাপে শেষপর্যন্ত সরেও যেতে হয়। এবারের র‍্যাগিংয়ের ঘটনার পরেই সমস্ত বাংলা খবরের চ্যানেলে তাঁর পুনরাবির্ভাব। তিনি এই সুযোগে নিজের আমলে নেওয়া বিভিন্ন ব্যবস্থার প্রচার করতে লাগলেন। মিডিয়া সেই বয়ানের ব্যাপক প্রচার করে একজন ছাত্র পেটানো উপাচার্যকেও ছাত্রদরদী বানিয়ে ফেলল। এমনকি হোক কলরব আন্দোলন আসলে ড্রাগ ডিলারদের টাকায় হওয়া আন্দোলন – এমন প্রচারও চালিয়ে যাওয়া হল অনায়াসে। অর্থাৎ আলো ছাত্রদের আলো নিভিয়ে পেটানো কোনো অপরাধই নয় – এই বয়ানকেই পরোক্ষে সামাজিক স্বীকৃতি আদায় করে দিল বাংলার সংবাদমাধ্যম।

এবারের ঘটনাটি যখন র‍্যাগিং সংক্রান্ত, তখন অভিজিৎবাবু র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ নিয়ে ঠিক কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন একটু তলিয়ে দেখা যাক। তিনি উপাচার্য হয়েই বিশেষ রিভিউ কমিটি বানিয়ে আগের উপাচার্যের আমলে হওয়া একটি র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে সব শাস্তি তুলে নেন। যদিও তাঁর বক্তব্য তাঁকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল ছাত্র, শিক্ষকদেরই চাপে। মোদ্দাকথা, তাঁর আমলে র‍্যাগিং করেও ছাড় পেয়ে গেছে কিছু ছাত্র। তিনি আটকাতে পারেননি। আজ তিনি টালমাটাল সময়ের সুযোগ নিয়ে শেখাচ্ছেন কর্তৃপক্ষের কাজ আর তাঁকে নায়কের আসনে বসাচ্ছে বাংলার মূলধারার সংবাদমাধ্যম।

ঘটনাটি ঘটার পর থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-গবেষক-কর্মচারীরা যে ঐক্যবদ্ধ র‍্যাগিংবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছেন তা বিরলতম নয়? খড়গপুর আইআইটির ছাত্র ফয়জান আহমেদের মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা আমরা জানি। আইআইটি কর্তৃপক্ষ আর পুলিস একত্রে যে ফয়জানের খুনকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছে তাও এখন আদালতের রায়ে প্রমাণিত। এই ভয়ানক ঘটনা নিয়ে কোনো আন্দোলন করছে আইআইটির ছাত্ররা? কেন তারা মুখ বুজে মেনে নিচ্ছে? আইআইটিতে তো ছাত্রদের রাজনীতি থেকে একেবারেই দূরে রাখা হয়। ফলে আরেকজন ছাত্র খুন হলেও তা নিয়ে যাতে বাকি ছাত্ররা চিৎকার চেঁচামেচি না করে তার পাকা ব্যবস্থা করতে পেরেছে দেশের সরকার। এখানে তো সত্যিই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা। যাদবপুর তো মুখ বুজে মেনে নেয়নি র‍্যাগিংকে। অথচ কী হাস্যকরভাবে যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদ মিডিয়ার চোখ এড়িয়ে যায় আর ফয়জানের মৃত্যুর পর প্রতিবাদহীনতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন জাগে না। এই দুটি আচরণকে পাশাপাশি রাখলেই বেশ বোঝা যাবে কর্পোরেট মিডিয়া হাউসগুলির অভিপ্রায়।

ফয়জানের ঘটনা নিয়ে ঠিক কতখানি সময় ব্যয় করেছেন তাঁরা? যাদবপুরে মদের বোতল, গর্ভনিরোধক ট্যাবলেটের প্যাকেট খুঁজে না বেড়িয়ে ফয়জানের খুন নিয়ে প্রশ্ন তুললে কি মালিকরা রাগ করবে? ফয়জান হত্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে তো কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত আইআইটি আর রাজ্য সরকারের পুলিসকে প্রশ্নের মুখে ফেলা। সেটা বোধহয় পুতুলনাচের দক্ষ বাজিকরদের পছন্দ হবে না। তার চেয়ে যাদবপুরের সদ্য কুড়ির কোঠায় পা রাখা ছাত্রছাত্রীদের স্টুডিওতে ডেকে হেনস্থা করা অনেক সহজ কাজ, তাই না?

আরো পড়ুন রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অসহায় বাবা-মায়ের দীর্ঘ লড়াই

“কে তুমি?” বলে একজন সঞ্চালক শুরু করলেন চিলচিৎকার। উল্টোদিকের ছাত্রটি মেজাজ হারিয়ে বলে চললেন একের পর এক আলগা কথা। যত আলগা কথা সঞ্চালকের তত চিৎকার এবং রুঢ় আচরণ। সঙ্গে একটা বাক্যও শেষ না করতে দেওয়ার অসৌজন্য। একটি স্টুডিও, যা সেই সঞ্চালকের চেনা পরিবেশ, সেখানে একজন অচেনা মানুষকে, নবাগতকে এমন অপ্রস্তুত করে মজা পাওয়া – একে কীভাবে দেখবেন? একটা ছোট উদ্ধৃতি দিই “Any disorderly conduct whether by words spoken or written or by an act which has the effect of teasing, treating or handling with rudeness a fresher or a junior…”— এটি র‍্যাগিংয়ের সংজ্ঞা। সংবাদমাধ্যমের অতি প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-র দেওয়া সংজ্ঞা। এই সংজ্ঞা অনুযায়ী স্টুডিওতে ডেকে এনে একজন নবাগতকে হেনস্থা করাও কি একপ্রকার র‍্যাগিং নয়? সামান্য মানবিকতা থাকলেও কি এমন আচরণ করা যায়?

অবশ্য টিভি চ্যানেলের মানবিকতার দৌড় জানতে আমাদের বাকি নেই। টিআরপির জন্য তাঁরা পারেন না এমন কাজ নেই। নইলে সদ্য সন্তানহারা একজন মানুষ আর সেই খুনের অভিযোগে অভিযুক্তের অভিভাবকের লাইভ বিতর্ক করাতে পারে? অন্তত চোখের চামড়া থাকলে এ জিনিস করা সম্ভব?

এসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে গোটা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিযুক্ত করার প্রক্রিয়া। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ক্যাম্পাসের ছাত্রদের বললেন “টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং”। বিজেপির মিছিল থেকে জুতো দেখানো হল রাজ্যের এক নম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। এগুলো সংবাদমাধ্যমের আপত্তিকর লাগেনি। যে সঞ্চালকরা যাদবপুরের ছাত্র বা শিক্ষকদের অবান্তর বিভিন্ন প্রশ্ন করে জর্জরিত করেছেন, তাঁদের বিজেপির এই আচরণ নিয়ে মন্তব্য করার সাহস হয়নি। বরং যাদবপুরের ছাত্ররা “টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং” বলে চিৎকার করে অনুষ্ঠান করলেন প্লেটোর বিখ্যাত গ্রন্থের সমনামী এক চ্যানেলের সঞ্চালকও। যাদবপুরের সমস্ত ছাত্রকে কাঠগড়ায় তুলে এঁরা কী প্রমাণ করতে চাইলেন? যাদবপুরকে মুখ্যমন্ত্রীর “আতঙ্কপুর” আর বিরোধী দলনেতার “র‍্যাগিংপুর” হিসাবে প্রমাণ করার দালালিসুলভ দায়িত্ব নিয়েছে নাকি সংবাদমাধ্যম?

মমতা ব্যানার্জি নিজের রাজ্যের একটি স্টেট ইউনিভার্সিটিকে বললেন “আতঙ্কপুর”। যোগ করলেন “আগমার্কা সিপিএমের কাজ”। এমনকি বিজেপি ঘুরে তৃণমূলে যাওয়া জয়প্রকাশ মজুমদার বললেন, কমিউনিস্টমুক্ত যাদবপুর গড়তে হবে। সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে সেসব দেখাল অথচ যা প্রায় অনুক্ত রয়ে গেল, তা হল র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্তরা কেউ সিপিএম তো নয়ই, বরং সিপিএম বিদ্বেষী। মুখ্যমন্ত্রীর মিথ্যাচারকে কোনো সংবাদমাধ্যম তথ্য দিয়ে অপ্রমাণ করল না। মমতার মিথ্যাচারকে দুহাত তুলে সমর্থন জানাল খোলাখুলি বিজেপি ঘনিষ্ঠ ওয়েবসাইট স্বরাজ্যম্যাগ। তারা লিখল ‘For Once, Mamata Banerjee Is Right: Jadavpur University Is ‘Atanka-Pur’, Thanks To Communist Radicals’। এ কি নেহাতই সমাপতন, নাকি এক গভীর চক্রান্ত? যার জাল বুনেছে মূলধারার সংবাদমাধ্যম, সঙ্গে আছে তৃণমূল আর বিজেপি?

একমাসের বেশি সময়ে কেটে গিয়েছে ছাত্রটির মৃত্যুর পর। একের পর এক গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তরা এখন জামিন পেতে শুরু করেছে, সংবাদমাধ্যমও যাদবপুর ভুলে অন্য জিনিস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এখনই প্রশ্ন তোলার সময়, যে সংবাদমাধ্যমের যাদবপুরবিরোধী প্রচারের আসল উদ্দেশ্য কি ছিল র‍্যাগিংয়ের আসল ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে বামপন্থী ছাত্র ও গণআন্দোলনের গায়ে কালি ছেটানো? সেই কারণেই কি ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের র‍্যাগিংবিরোধী বিরাট সমাবেশকে সংবাদমাধ্যম সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছে অথচ বিজেপির শ আটেক লোকের মিছিলকে দেখিয়ে বলেছে ‘বিপুল মানুষের ঢল’? সংবাদমাধ্যম এই ষড়যন্ত্রের অংশীদার বলেই কি ক্যাম্পাসে চলা র‍্যাগিংবিরোধী আন্দোলন তাদের চোখে পড়েনি, অথচ ক্যাম্পাসে পড়ে থাকা একটা কন্ডোম বা গর্ভনিরোধকের প্যাকেট ক্যামেরার নজর এড়ায়নি? এই কারণেই কি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতাদের নিয়ে ওঠা র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ নিয়ে সঞ্চালকরা নির্লিপ্ত, অথচ এসএফআইয়ের র‍্যাগিংবিরোধী আন্দোলনে শামিল কর্মীদের প্রতিবেদকরা প্রশ্ন করেন, এতদিন কেন তারা র‍্যাগিং নিয়ে কিছু বলেনি? গত ৩-৪ বছরে যাদবপুরেই র‍্যাগিং নিয়ে কর্তৃপক্ষকে আধ ডজন ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে, অবস্থান বিক্ষোভ হয়েছে বলা হলে প্রতিবেদক প্রশ্ন করেন “কেন মিছিল করোনি?” মিছিলও হয়েছে বলা হলে প্রশ্ন করেন “কেন করোনি হোক কলরব?” অর্থাৎ অহেতুক, অযৌক্তিক কথাবার্তায় গুলিয়ে দিতে চাওয়া হয় বাস্তবতা। কারণ তৃণমূল র‍্যাগিং আটকাতে কিছু তো করেইনি, বরং রাজ্যের হোস্টেলে হোস্টেলে নিজেরাই র‍্যাগিং করেছে – একথা প্রকাশ্যে এলে সাংবাদিকদের চাকরি নিয়ে টানাটানি হবে।

টিভি চ্যানেলের সঞ্চালকদের কার্যকলাপ দেখে মনে হয়, হয় তাঁরা অর্ধশিক্ষিত, নয় ধৈর্যহীন। অবশ্য স্বার্থান্বেষীও হতে পারেন। তাই শুধু সিসিটিভি নিয়ে লাফান। ইউজিসির ২০২২ সালের গাইডলাইনে সিসিটিভি শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র একটিবার, ২০০৯ সালের যে গাইডলাইন নিয়ে আপনারা দিনরাত লাফালাফি করলেন তাতে আদৌ সিসিটিভির কথা বলা হয়নি। অথচ আপনাদের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্ত প্রশ্নই আবর্তিত হয়েছে এই একটি বিষয় নিয়েই। দুজন ছাত্রের আলগা বক্তব্যকে গোটা যাদবপুরের বয়ান বানিয়েছেন। অথচ স্টেকহোল্ডার জিবিতে হওয়া সিদ্ধান্ত সাংবাদিক সম্মেলন করে যখন জানানো হয়েছে যে, সিসিটিভি নিয়ে আপত্তি নেই; কোথায় বসানো হবে, স্থান নির্বাচনের নীতি কী হবে – এসব নিয়ে কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে আলোচনা করুক, তা সংবাদমাধ্যমের কানে পৌঁছয়নি। আসলে তারা শুনতে চায়নি। চেয়েছে নিজেদের মনোমত বয়ান বানিয়ে তা রাজ্যজুড়ে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে।

যাদবপুর নিয়ে সত্যিই ভাবিত হলে আর্থিক দৈন্যদশায় বিশ্ববিদ্যালয় যখন তিল তিল করে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছিল, উপাচার্য যখন চিঠি লিখে প্রাক্তনীদের কাছে হাত পেতেছিলেন, তা সন্ধের টক শোয়ের রোজকার বিষয় হয়ে ওঠেনি কেন? ২০১৮ সালে রাজ্য সরকার-কেন্দ্রীয় সরকার দড়ি টানাটানিতে যখন সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ইনস্টিটিউট অফ এমিনেন্সের শিরোপা পেল না যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বিজেপি বা তৃণমূলের প্রতিনিধিদের প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছিল? অ্যান্টি-র‍্যাগিং হেল্পলাইনের খাতে কেন্দ্রের বরাদ্দ কেন ২০১৯ সাল থেকে ক্রমাগত কমছে – এখনো এই প্রশ্ন করতে পারা গেছে বিজেপির প্রতিনিধিদের? করা যাবেও না। আসলে বাংলার অন্যতম গর্বের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা শুধু পরীক্ষায় ভাল ফল করতে শেখায় না, সঙ্গে দেয় মুক্ত চিন্তা আর গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার পাঠ – তাকে ভাঙতে গাঁইতি হাতে নেমে পড়েছিল সংবাদমাধ্যমও। এখনো এই ক্যাম্পাসে কম খরচে পড়াশোনা করতে পারে প্রান্তিক অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরাও। সেই ব্যবস্থাকে ভাঙতে উঠে পড়ে লেগেছে কর্পোরেটচালিত সংবাদমাধ্যম।

যাদবপুরের কি সবই ভাল? এমন দাবি কেউ কখনো করেনি। কিন্তু যাদবপুরের আন্দোলন বলছে যা যা খারাপ, তা আন্দোলনের মাটি থেকেই সারিয়ে নেব, পরিবর্তন করব।

আপনাদের ক্যামেরায় ধরে রাখা ঘন্টার পর ঘন্টার ফুটেজ থেকে যাবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ও থাকবে পরিচিত আন্দোলনমুখরতা নিয়ে। সুদূর ভবিষ্যতে অনেকে খুঁজে দেখবে এই সময়টাকে। তখন নিশ্চিত জানা যাবে, কারা সত্যি সত্যি ছাত্রমৃত্যুর বিচার চেয়েছিল, কারা চেয়েছিল র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস। আর কারা এই সুযোগে নিজের গায়ে লাগা পাঁক পরিষ্কার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। কারা দালালের ভূমিকা নিয়েছিল আর কারা বিদ্রোহীর।

-মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

1 মন্তব্য

  1. প্রথমত ল্যাংটো হয়ে দেশের লুটেরাদের দালালিতে পটু বর্তমান সংবাদ(?) মাধ্যমকে আর কি কাপড় খোলা যায় !! এখন তো আবার গায়ের পশমও পরিষ্কার করার চল হয়েছে।ফলে ওদের সেটাও নেই রে একটু সরিয়ে আরো একটু লজ্জা দেওয়া যাবে !
    কিন্তু প্রশ্ন হলো জনগন খাচ্ছে বলেই তো ওদের ব্যাবসা চলছে। ফলে তাদের ছাড়লে চলবে কেন ?
    আর এতে অবাক হবার কি আছে যে মুক্ত চিন্তার লোকেরাই বিপজ্জনক। এরা প্রশ্ন করতে জানে।উত্তর খুঁজতে জানে। ভয় হলো, সঠিক রাস্তায় লোককে পাছে নিয়ে যায়।তাহলে ছদ্মনেতা, আমলা, প্রশাষক, কোলেচড়া উদ্যোপতি,ব্যাংক আমলা, বিদেশি উদ্যোগপতি মিলে যে উন্নয়নের নামে দেশের সম্পদ আত্মস্বাত করছে সেটা যদি বাঁধা পায়।
    তাই মু্ক্তচিন্তার কবর খোঁড়ো, বাম চিন্তাকে ভিলেন বানাও,টুকরে টুকরে গ্যাং আখ্যা দিয়ে সমাজ থেকে বিচ্যুত করো আর বিনা বাঁধায় লুট করো।
    মুক্তচিন্তার ছাত্রছাত্রীরাই বয়ে বেড়ায় বিপ্লবের বার্তা।ওটাই ওদের ভয়….

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.