কল্যাণ চ্যাটার্জি

ভারতের উপকূলবর্তী এলাকাগুলো ধীরে হলেও নিশ্চিতভাবেই সমুদ্রের গর্ভে চলে যাচ্ছে। পূর্ব উপকূল বেশি বিপন্ন; বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী কোনো কোনো জায়গায় বছরে ২০ মিটার পর্যন্ত উপকূল ভেঙে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে। যদিও উপকূল এলাকায় প্রায় দু কোটি ২৫ লক্ষ মানুষের বাস, এই বিষয়টার যতটা গুরুত্ব পাওয়া উচিত ততটা পাচ্ছে না। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতীয় দেশের প্রাণকেন্দ্রে বা অনেক ভিতরের দিকে বাস করেন। সমুদ্র জিনিসটা তাঁদের কল্পনাতেও আসে না। ভারতের মূল ভূখণ্ডের উপকূল ৬,৬৩২ বর্গ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর অর্ধেকের সামান্য কম অংশ প্রতিনিয়ত ক্ষয়ে যাচ্ছে।

ওড়িশার কেন্দ্রাপাড়া জেলার উপকূলবর্তী গ্রাম পেন্থার কথাই ধরুন। ১৯৬০ থেকে পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে এখানে সমুদ্রের পাড় ভেঙে চার কিলোমিটার এলাকা জলে চলে গেছে। ১৯৯৯ সালের সুপার সাইক্লোনে পেন্থার উপকূলের বেশিরভাগ অংশই খোয়া যায়। উপগ্রহ চিত্র দিয়ে করা বিস্তারিত সার্ভেগুলোতে দেখা গেছে, ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু করে মাত্র ১৭ বছরে সমুদ্র ভারতের ২৫০ বর্গ কিলোমিটার জমি গিলে নিয়েছে। এর বেশিরভাগটাই বঙ্গোপসাগরের পাড়ে।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক (ADB) বেশকিছু উপকূল রক্ষা প্রকল্পের অর্থ জুগিয়েছে। তাদের এক রিপোর্ট অনুসারে “ভারতের তটরেখার ঢাল এবং অবস্থানের কারণে সমুদ্রের জলস্তর এক মিটার বাড়লেই ৫,৪৭৫ বর্গ কিলোমিটার জমি খোয়া যেতে পারে, যার ফলে ৭০ লক্ষের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হতে পারেন।” তাছাড়া চাষের জমি, বাড়িঘর এবং অন্যান্য পরিকাঠামোও নষ্ট হবে।

কেবল ওড়িশাই উপকূলের ক্ষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা নয়। পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের জমিও সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। উপকূল ক্ষয়ে যাওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম অবশ্যই বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং সমুদ্রের জলস্তর বেড়ে যাওয়ার মত প্রাকৃতিক বা বৈশ্বিক সমস্যাগুলো। কিন্তু অনেকটাই আবার ‘অ্যানথ্রোপোজেনিক’, অর্থাৎ মনুষ্য সৃষ্ট। মানুষের এইসব কার্যকলাপ উপকূলবর্তী এলাকায় হয়, আবার উপকূল থেকে ভিতরের দিকে যেসব নদী সমুদ্রে এসে পড়ে সেগুলোর তীরবর্তী এলাকাতেও হতে পারে। এই নদীগুলোই তাদের বয়ে আনা পলি দিয়ে উপকূলকে মজবুত করে, যা সমুদ্র আর ডাঙার সংঘর্ষ হ্রাস করে।

ভারতের পশ্চিম উপকূল হল আরবসাগর আর পশ্চিমঘাটের মধ্যে একটা সংকীর্ণ জায়গা। কচ্ছ থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত এই এলাকা গড়ে ৫০ কিলোমিটারের বেশি চওড়া নয়। কিন্তু পূর্বঘাট আর বঙ্গোপসাগরের মধ্যে অবস্থিত পূর্ব উপকূল তুলনামূলকভাবে বেশি প্রশস্ত (৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার) এবং এখানে উর্বর সমভূমি রয়েছে। এই এলাকা উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে যে ঘূর্ণিঝড়গুলো হয় তাতে ক্ষতিগ্রস্ত, এমনকি ধ্বংসও হয়ে যেতে পারে।

সম্প্রতি ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে ব্লু ইকোনমি ও ওশান ম্যানেজমেন্টের উন্নয়নের জন্য রোডম্যাপ তৈরি করার ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতীয় উপকূলের উপর এই চুক্তির প্রভাব আলোচনা করা প্রয়োজন, কারণ এই চুক্তির ভিত্তি হল মাছ ধরা, বন্দর এবং জাহাজ ব্যবসার মত একগুচ্ছ ‘অ্যানথ্রোপোজেনিক’ কার্যকলাপ। এমনিতে এই চুক্তি খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং ব্লু ইকোনমির খসড়া নীতিগুলোরই প্রতিফলন, কিন্তু একইসঙ্গে সাস্টেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল ১৪ (SDG 14) যেসব লক্ষ্য ধার্য করেছে সেগুলো পূরণ করাও জরুরি। এই গোলের উদ্দেশ্য সাগর, মহাসাগর এবং সামুদ্রিক সংস্থানগুলোকে এমনভাবে ব্যবহার করা যা পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর নয়।

২০২১ সালে প্রকাশিত সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওশান অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টে কন্যাকুমারী থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত ভারতের পূর্ব উপকূলের ব্যাপক ক্ষয়ের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই রিপোর্টের দ্বিতীয় খণ্ডে বলা হয়েছে ভারতের পূর্ব উপকূল হল পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষয়িষ্ণু উপকূল। একমাত্র কাস্পিয়ান সাগরের উপকূল এর চেয়েও দ্রুত ক্ষয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর গড়ে ২০ মিটার ক্ষয় হচ্ছে ভারতের পূর্ব উপকূলে, যা প্রবল চিন্তার বিষয়। এই অঙ্কটার সঙ্গে পেন্থার অভিজ্ঞতা মিলে যায়। সেখানে ক্ষয়ের মাত্রা গড় মাত্রার চার গুণ।

২০১৫ সালে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ‘রেগুলার প্রোসেস’ বলে একটি প্রক্রিয়া চালু করে। তার প্রথম চক্রে বিশ্বের সামুদ্রিক পরিবেশের মূল্যায়নই হল এই প্রথম অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট। দ্বিতীয় চক্র চলেছিল ২০১৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত, আর তৃতীয় চক্র চলবে ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত। তৃতীয় চক্রের আসল কাজ সবে শুরু হচ্ছে। এ বছরের মার্চ মাসে পর্তুগালের লিসবনে দি ইকোনমিস্ট আয়োজিত বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ওশান সামিট ভার্চুয়াল উইক দেখিয়ে দিয়েছে সাগরের ভবিষ্যতে সারা পৃথিবীর স্বার্থ কতটা।

আরো পড়ুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস: প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাস

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতিয়েরেজ একটি ভাল কথা বলেছেন। তিনি বলেন প্রথম ওয়ার্ল্ড ওশান অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট সতর্ক করেছিল, যে মানুষের কার্যকলাপই সমুদ্রের সবচেয়ে বড় বিপদ হয়ে উঠেছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর অবনমন হয়েছে। তা সত্ত্বেও ছ বছর পরের দ্বিতীয় রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। তিনি বলেন “আমাদের সমুদ্রের সঙ্গে আদানপ্রদান করার ধরন এই মুহূর্তে বদলানো দরকার।” তিনি জোর দিয়ে বলেন SDG-র লক্ষ্য পূরণ করার ব্যাপারে এবং কোটি কোটি মানুষের জীবিকা নির্বাহে সমুদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলের পরিবেশই ডাঙা আর সমুদ্রের মধ্যে ইন্টারফেস তৈরি করে। উপকূল এলাকায় জরুরি পরিকাঠামো ও বাস্তুতন্ত্রগুলো থাকে এবং পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০% উপকূল অঞ্চলেই বসবাস করে। ভারতের জনগণনা অনুসারে প্রায় দু কোটি ২৫ লক্ষ মানুষ উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দা।

১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকেই সব সরকার উপকূল ক্ষয় সম্পর্কে সচেতন ছিল, কারণ সেই সময়েই কেরালায় এই সমস্যা প্রথম ধরা পড়ে। কিন্তু ভারতের উপকূল এবং তার সংরক্ষণের অবস্থা সম্পর্কে প্রথম পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় জল কমিশন (CWC), ২০১৬ সালে। প্রথমবার উপকূল ক্ষয় ধরার পড়ার পরই তার মোকাবিলায় বিচ ইরোশন বোর্ড (BEB) গঠন করা হয়েছিল, পরে যার কাজের পরিধি বাড়িয়ে সমগ্র উপকূলকেই আওতার মধ্যে নিয়ে আসা হয়। কারণ বোঝা গিয়েছিল সমস্যাটা বিপুল। ১৯৯৫ সালে এই সংস্থার নাম বদলে কোস্টাল প্রোটেকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাডভাইসরি কমিটি (CPDAC) রাখা হয়।

CPDAC-র মতে, উপকূল ক্ষয় প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্ট — দুরকম কারণেই ঘটলেও, দ্বিতীয়টা মূলত পরিকল্পনাহীন কাজকর্মের ফল। সুতরাং সেই ক্ষতি সহজেই পূরণ করা সম্ভব। ঝড়, ঢেউ বা স্রোত “বিরামহীন এবং প্রায়শই অপ্রতিরোধ্য”। তাছাড়া সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের হিসাব এখনো করাই হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও ঢেউ এবং স্রোতের সম্মিলিত প্রভাবে তটরেখার স্থিতিশীলতা বজায় থাকে, কোনো কারণে একটি সমুদ্র সৈকতে পলি জমা কমে গেলে ব্যাপক ভূমিক্ষয় সম্ভব। উপকূলে জমা পলির অন্যতম প্রধান উৎস হল উপকূল থেকে দূরবর্তী এলাকার ভূমিক্ষয়। সেখানকার ভূমি নদীগুলোর মাধ্যমে সমুদ্রের দিকে বয়ে আসে এবং উপকূল বরাবর বালিয়াড়ি, সমুদ্র সৈকত, জলা জমি এবং প্রবাল প্রাচীরের আকারে জায়গা করে নেয়। ভারতে প্রায় ১০০ নদী আছে, যেগুলো উপকূলে বিরাট পরিমাণ পলি বয়ে নিয়ে আসে। এই নদীগুলোর মধ্যে প্রধান হল পূর্ব দিকে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, কৃষ্ণা, কাবেরী ও গোদাবরী। পশ্চিম দিকে নর্মদা ও তাপ্তি। ২০০১ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, এই নদীগুলো ভারতের উপকূলে প্রতি বছর ১.২ ট্রিলিয়ন কেজি পলি জমা করে।

সি ওয়াল এবং ব্রেকওয়াটারের মত উপকূলবর্তী স্রোত প্রতিরোধ কাঠামোগুলো, নদীর উপর দিকে তৈরি বাঁধ, বালি খনন এবং বন্দর, পোতাশ্রয় তৈরি হল উপকূলের স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। ম্যানগ্রোভের মত উদ্ভিজ্জ বাধা উৎপাটন বা প্রবাল খননের ফলেও গুরুতর ভূমিক্ষয় হয়।

লোরেঞ্জো মেন্তাস্কির নেতৃত্বাধীন ইউরোপিয়ান কমিশনের এক বিজ্ঞানীদল বাঁধগুলোকেই ভূমিক্ষয়ের সবচেয়ে বড় কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। কারণ বাঁধগুলো অনেকখানি পলি ধরে রাখে, যা বাঁধ না থাকলে সমুদ্রের কাছাকাছি এলাকার ফাঁকগুলোকে ভরাট করে দিত। দক্ষিণ এশিয়ায় এর প্রধান উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে সিন্ধু ও ব্রহ্মপুত্র বা গঙ্গা বদ্বীপ, যা ভারত আর প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থিত। ২০১৮ সালে প্রকাশিত এই রিপোর্ট উল্লেখ করেছে যে ১৯৮৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সিন্ধুর বদ্বীপ অঞ্চল প্রায় ৪০ কিলোমিটার কমে গেছে। যদিও সিন্ধু বদ্বীপের বেশিরভাগটাই পাকিস্তানে, প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা ভারতে। রিপোর্ট বলছে এই বদ্বীপের সেচ নেটওয়ার্ক পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্কগুলোর অন্যতম। দুটো বদ্বীপই ঘন জনবসতিপূর্ণ। গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় এই সময়কালে প্রায় ৩,৬০০ বর্গ কিলোমিটার জমি সমুদ্রে তলিয়ে গেছে।

ভারতে সমুদ্রের উপকূল ক্ষয় গুরুতর সমস্যা হিসাবে চেনা গেছে অর্ধশতাব্দীরও বেশি আগে। তবু ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিক পর্যন্ত বিভিন্ন উপকূলবর্তী রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো বিচ্ছিন্নভাবে ভূমিক্ষয় রোধে ব্যবস্থা নিচ্ছিল। কেন্দ্রীয় জল কমিশনের একটি নথিতে উপকূল রক্ষণাবেক্ষণের নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ওই সংরক্ষণ ব্যবস্থাগুলো পরিকল্পিত হলেও সেগুলো আশপাশের উপকূলগুলোর উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। এই উপলব্ধির পর থেকে সরকার উপকূল রক্ষণাবেক্ষণে অনেক বেশি সমন্বয়পূর্ণ এবং বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করেছে। সমগ্র ভারতীয় উপকূল এবং তার সমস্যার সামগ্রিক মূল্যায়ন করে এবং পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূবিজ্ঞান মন্ত্রক ছাড়াও জলসম্পদ মন্ত্রককে এই প্রয়াসে যুক্ত করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় জল কমিশনে সমুদ্র সৈকত ক্ষয়ের ডিরেক্টর জে চন্দ্রশেখর আয়ার বললেন “উপকূলের প্রত্যেক অংশের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। সুতরাং কোনো নির্দিষ্ট জায়গার জন্য একটা সমাধানে পৌঁছবার আগে অবশ্যই ওই উপকূলের আচরণ সামগ্রিকভাবে বুঝতে হবে এবং বিভিন্ন বিকল্প পরীক্ষা করে দেখতে হবে।” আগে প্রধানত সি ওয়াল, এমব্যাঙ্কমেন্ট, ব্রেকওয়াটার (যা তীরে এসে পড়ার আগে ঢেউয়ের জোর কমিয়ে দেয়) ও গ্রয়েন তৈরি করার মত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হত। কিন্তু অবিলম্বে বোঝা গেল যে এই কঠোর ব্যবস্থাগুলোর বিরাট অসুবিধা হল, এর ফলে ভূমিক্ষয় পার্শ্ববর্তী এলাকায় সরে যায়। সেই কারণে গত কয়েক বছরে উপকূল সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ‘কঠোর’ আর ‘নমনীয়’ ব্যবস্থার সুচিন্তিত সংমিশ্রণ নিয়েই এগোনো হচ্ছে।

নমনীয় ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে পড়ে সমুদ্র সৈকতকে কৃত্রিমভাবে পুষ্ট করা, ম্যানগ্রোভ ও পামজাতীয় গাছ ফের রোপণ করা, জোয়ারের সময়ে যে খাঁড়িগুলোতে জল ঢোকে সেগুলো জেটি বা অন্যান্য কাঠামোয় আটকে গিয়ে থাকলে বালির বাইপাস তৈরি করা এবং বালিয়াড়ি পুনর্গঠন। সাবেকি ব্রেকওয়াটারগুলো কঠোর ব্যবস্থার মধ্যে পড়লেও সাম্প্রতিককালে স্যান্ড স্লারি (বালি, সিমেন্ট ও জলের মিশ্রণ) ভরা জিও-টেক্সটাইল টিউবের তৈরি সফট ব্রেকওয়াটার বা রিফ ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতে প্রথম পেন্থাতে এই ধরনের জিও-টেক্সটাইল টিউব ব্যবহার করা হয়। ২০১৬ সালে ৪৫৫ মিটার লম্বা ব্রেকওয়াটার তৈরি হওয়ার পর থেকে এই ত্রিস্তরীয় টিউবগুলো তিনটে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় (ফাইলিন, হুদ হুদ ও ফানি) সামলাতে সাহায্য করেছে। একইরকম হাইব্রিড পদ্ধতি (সিন্থেটিক টেক্সটাইলের তৈরি অফশোর রিফ, সমুদ্র সৈকতের পুষ্টিকরণ ও শক্ত বার্ম তৈরি) অবলম্বন করা হয়েছে পশ্চিম উপকূলের মির্যা বে (মহারাষ্ট্রের রত্নগিরিতে) এবং উল্লাল বে-তে (কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোরে) ADB-র অর্থানুকূল্যে হওয়া প্রকল্পে।

নিবন্ধকার ৩৮ বছর ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। অ্যামিটি স্কুল অফ কমিউনিকেশন, অ্যামিটি ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান। মূল লেখাটি তৎসৎ ক্রনিকল ওয়েবসাইটে ইংরেজিতে প্রকাশিত। সম্পাদকের অনুমতিক্রমে ভাষান্তর প্রকাশ করা হল

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.