নতুন বছরের একদম শুরুতেই বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যদিও একে আদৌ নির্বাচন বলা যায় কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আর্ন্তজাতিক মহলে। নির্বাচনের ঠিক আগে একটি আর্ন্তজাতিক সংবাদমাধ্যম আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশ ক্রমশ একদলীয় শাসনের দিকে এগোচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সহ ২৮টি রাজনৈতিক দলের প্রায় ২,০০০ প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন বটে, কিন্তু আর্ন্তজাতিক মহলে এই নির্বাচনের প্রায় কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সমেত সবকটি বিরোধী দল নির্বাচন বয়কটের পথে হেঁটেছে। নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে কয়েকটি ভুঁইফোঁড় রাজনৈতিক দল তৈরি করা হয়েছে, যাদের বলা হচ্ছে ‘কিংস পার্টি’। এর বাইরে প্রচুর আসনে শাসকদল বা তাদের জোটসঙ্গীদের বিরুদ্ধে নির্দল হিসাবে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন আওয়ামী লীগেরই স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা।

একতরফা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে শেখ হাসিনার চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত। আওয়ামী লীগের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, আর্ন্তজাতিক মহলের সামনে নির্বাচনকে খানিকটা হলেও গ্রহণযোগ্য করে তোলা। ২০১৪ সালের নির্বাচনও বয়কট করেছিল বিরোধী দলগুলি। তার ফলে ভোটদানের হার খুব কমে গিয়েছিল। এবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আটকাতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আওয়ায় সুযোগসুবিধা ভোগ করেন, অনেকে নানারকম বৃত্তি পান। অভিযোগ উঠেছে, বহু এলাকায় শাসকদলের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত প্রকল্পের কার্ড জমা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে ভোটকেন্দ্রে গেলে তবেই কার্ড ফেরত দেওয়া হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রবাসী বাংলাদেশী অধ্যাপক আলি রিয়াজের মতে, মূলত তিনটি পদ্ধতিতে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য চেহারা দিতে চাইছে আওয়ামী লীগ। প্রথমত, ‘ডামি’ বা স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করানো। দ্বিতীয়ত, হঠাৎ গজিয়ে ওঠা কিছু রাজনৈতিক দলকে প্রতিপক্ষ হিসাবে দাঁড় করানো এবং তৃতীয়ত, বিভিন্ন উপায়ে চাপ সৃষ্টি করে মানুষকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

নির্বাচনের দিন হরতাল ডেকেছে বিএনপি। গণতন্ত্র মঞ্চ, বাম গণতান্ত্রিক জোট, জামাতে ইসলামি সহ অন্য বিরোধী দলগুলিও নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগেই ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তাতে একাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আওয়ামী লীগ এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছে বিএনপিকে, বিএনপি অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যদিও বাস্তবে নির্বাচনী প্রহসনের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকরী প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। ঢাকা সহ বিভিন্ন শহরে অক্টোবর, নভেম্বর পর্যন্ত বড় বড় জনসমাবেশ করলেও ডিসেম্বর থেকে কার্যত রিংয়ের বাইরে চলে গিয়েছে বিরোধীরা। বিপুলসংখ্যক গ্রেফতারি, সরকারি দমনপীড়নের মুখে প্রায় কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারা যায়নি।

কেন নির্বাচন বয়কটের পথে হাঁটলেন বিরোধীরা? বিএনপি, বাম জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ – আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হয়েছে। হাজার হাজার বিরোধী নেতা-কর্মী কারারুদ্ধ, নির্বাচন কমিশন এবং বিচারব্যবস্থা সরকারের তল্পিবাহক। দেশে কথা বলার স্বাধীনতা নেই। এমনকি অনলাইন অ্যাক্টিভিজমের বিরুদ্ধেও খড়্গহস্ত সরকার। এই পরিস্থিতিতে দলীয় (আওয়ামী লীগ) সরকারের অধীনে নির্বাচন প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। বিরোধীরা দাবি করেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক বা তদারকি সরকারের অধীনে, অর্থাৎ কোনো নিরপেক্ষ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন হোক। প্রত্যাশিতভাবেই শাসকদল সেই দাবি মানেনি।

নির্বাচন বয়কট এবং নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখ্যান অবশ্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচন বয়কট করেছিল আওয়ামী লীগ। সেইসময় তারাও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি তুলেছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলি। সেবারও উঠেছিল দলীয় সরকারের পরিবর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিরোধীরা অংশ নিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘রাত্রিকালীন ভোট’ তকমায় কলঙ্কিত হয়ে আছে। অভিযোগ, নির্বাচনের আগের রাতেই বুথ দখল করে ব্যালট বাক্সে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের ব্যালট দিয়ে ভর্তি করে ফেলা হয়েছিল। কিছু কেন্দ্রে ১০০ শতাংশেরও বেশি ভোট জমা পড়েছিল শাসকদলের প্রার্থীর নামের পাশে।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ভয়াবহ রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার বলে অভিযোগ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি সুপ্রিমো খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ, তিনি দুর্নীতি মামলায় গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তাঁর ছেলে তারেক রহমান বহু বছর ধরে লন্ডনে। বিএনপির দাবি, তারেকের দেশে ফেরার মত পরিস্থিতি নেই। এর ফলে কার্যত নেতৃত্বহীন অবস্থার মধ্যে রয়েছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই বিএনপির প্রধান মুখ। কিন্তু সম্প্রতি তাঁকেও জেলে ঢোকানো হয়েছে। কিছুদিন আগে বিএনপি তার দীর্ঘদিনের ২০ দলীয় জোট ভেঙে দিয়েছে। এই জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক ছিল জামাতে ইসলামি। জোট ভেঙে দেওয়ার ফলে খাতায় কলমে জামাতে ইসলামির সঙ্গে বিএনপির এখন কোনো ঐক্য নেই। সরকারবিরোধিতায় নিজের মত করে কর্মসূচি নিচ্ছে জামাত। এছাড়া সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ময়দানে আছে গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি সহ কয়েকটি দলের জোট – গণতন্ত্র মঞ্চ, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা গণঅধিকার পরিষদ নামে একটি দল এবং বামপন্থীদের প্রধান শক্তি – বাম গণতান্ত্রিক জোট। এই জোটের সদস্য বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী) প্রভৃতি। তবে তাদের শক্তি সীমিত।

গত ২৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকায় গণজমায়েতের ডাক দিয়েছিল বিএনপি। তারপর থেকে বিরোধীদের উপর নির্যাতন আরও বাড়ে বলে অভিযোগ। কুড়ি হাজারেরও বেশি বিরোধী নেতা-কর্মীকে গত কয়েকমাসে জেলে ঢোকানো হয়েছে। দেশের বহু জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জনেরও বেশি মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলিতেও রয়েছে শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের একচেটিয়া দাপট। সবমিলিয়ে গোটা দেশেই একধরনের দমবন্ধ অবস্থা।

নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে যে ‘ডামি’ বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আওয়ামী লীগের সরকারি প্রার্থীর নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে, তাঁরা ট্রাক্টর বা ঈগলের মতো চিহ্ন নিয়ে ভোটে লড়ছেন। অবস্থা এমন যে গত নির্বাচনে জয় পাওয়া ২৮ জন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন। বিএনপির অনুপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসাবে তুলে ধরা হয় যে জাতীয় পার্টিকে, তার প্রধান নেতাও নিজেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বলে প্রচার করছেন। বোঝাই যাচ্ছে, গোটা নির্বাচনটিই একধরণের প্রহসনে পরিণত হয়েছে।

শেখ হাসিনার আমলে গণতন্ত্রের উপর ভয়াবহ আক্রমণ আর্ন্তজাতিক মহলের দৃষ্টি এড়ায়নি। আওয়ামী লীগের আমলে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বারবার আলোচিত হয়েছে আর্ন্তজাতিক মহলে। গত সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানায়, যাঁরা বাংলাদেশে নির্বাচন জালিয়াতিতে যুক্ত থাকবেন তাঁদের মার্কিন মুলুকের ভিসা দেওয়া হবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী ভারত দৃঢ়ভাবে শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। চীন এবং রাশিয়ার অবস্থানও আওয়ামী লীগের পক্ষে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ভারতে এসে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকও করে গিয়েছে।

আরো পড়ুন বিপন্ন সংখ্যালঘু বনাম আওয়ামী রাজনীতি

নির্বাচনের ঠিক আগেই নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুসকে শ্রম আইন ভঙ্গ করার অভিযোগে ছ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত। এই ঘটনায় রীতিমত হইচই পড়ে গিয়েছে আর্ন্তজাতিক মহলে।।আপাতত শর্তাধীনে জামিন পেয়েছেন ইউনুস, কিন্তু বিতর্ক তাতে থামছে না। নোবেলজয়ী ইউনুস দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চক্ষুশূল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার তাঁকে পদ্মার জলে চুবিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছিলেন। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণেই হেনস্থা করা হচ্ছে ইউনুসকে। নোবেলজয়ীর গ্রেফতারির প্রসঙ্গে অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন আর্ন্তজাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী শহীদুল আলমের কথা। বছর পাঁচেক আগে বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন কিশোর কিশোরীরা। একটি আর্ন্তজাতিক সংবাদমাধ্যমে সেই আন্দোলনের পক্ষে মুখ খুলেছিলেন শহীদুল। তারপর তাঁকে গ্রেফতার করে প্রায় চারমাস জেলে আটকে রাখা হয়।

নিবাচনের ঠিক আগেই পোশাক শ্রমিকদের একটানা আন্দোলন এবং সরকারের তরফে যেনতেনপ্রকারেণ সেই আন্দোলন দমনের চেষ্টা আর্ন্তজাতিক মহলে যথেষ্ট সমালোচনা কুড়িয়েছে। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সাভার, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক রাজপথে নেমে পড়েন। তাঁরা বহু এলাকা অবরুদ্ধ করে রাখেন। সেই আন্দোলনে চোখে পড়ার মত অংশগ্রহণ ছিল মহিলা শ্রমিকদের। আন্দোলন দমনে ভয়বহ দমনপীড়ন চালায় শেখ হাসিনার সরকার। সশস্ত্র রাষ্ট্রীয় বাহিনীর গুলিতে একাধিক শ্রমিক প্রাণ হারান। ওই আন্দোলনের ছায়া পড়েছে বাংলাদেশের পোশাকের বাজারেও। পোশাকের বাজারজাতকরণ কমেছে ৭.৪৫%। যেহেতু বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশের কাছাকাছি আসে পোশাক রফতানি থেকে, তাই বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে, কমেছে বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয়। বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ২০২৩ আর্থিক বর্ষের মাঝামাঝিই প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়ে ফেলেছিল, ২০২৪ আর্থিক বর্ষে দেয় সুদের পরিমাণ হতে চলেছে প্রায় ৩.৫৬ বিলিয়ন ডলার। টাকার মূল্য পড়েছে প্রায় ২৮%, ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রও বিপুল পরিমাণ মূল্যহীন সম্পত্তির ভারে নুয়ে পড়েছে। মুডি সমেত তিনটি ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি বাংলাদেশের রেটিং কমিয়ে দিয়েছে। পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার মত আর্থিক সংকটের দোরগোড়ায় বাংলাদেশও দাঁড়িয়ে কিনা – এ প্রশ্ন গত দেড় বছরে বারবার ভাবিয়েছে বিশেষজ্ঞদের৷

শেখ হাসিনার কাছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক সংকটের কোনো উত্তর নেই। একদিকে রাস্তাঘাট, উড়ালপুল, মেট্রো রেলের মতো নয়া উদারবাদী উন্নয়নের ঢক্কানিনাদ, অন্যদিকে সীমাহীন বৈষম্য – এই হল বাংলাদেশের বাস্তবতা। মুদ্রাস্ফীতি চরমে, প্রায় ৯.৫%। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। আইএমএফের কাছ থেকে ৬৯০ মিলিয়নেরও বেশি মার্কিন ডলার ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। দেশে সরকারবিরোধী ক্ষোভ চরমে। এই অবস্থায় গণতান্ত্রিক নির্বাচনের কণ্ঠরোধ করে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মুখে ঠেলে দিল। সম্পূর্ণ গণসমর্থনহীন অবস্থায়, কেবলমাত্র বৈদেশিক শক্তি এবং দেশীয় লেঠেলবাহিনীর ভরসায় প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আরও একবার সরকার গড়বে ঠিকই, কিন্তু আগামীদিনে অনেক বড় সংকটের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কারণ সরকার পরিবর্তনের যাবতীয় স্বাভাবিক, গণতান্ত্রিক পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়ে গিয়েছে।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

মতামত জানান

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.