ভাস্কর গুপ্ত

দেশ অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দেশে বেকারত্বের হার অসহনীয় রকমের বেশি। যারা কর্মরত তাদেরও একটা বড় অংশ অত্যন্ত স্বল্প আয়ে দিনপাত করছে। দেশে যে হারে মূল্যস্ফীতি হয়েছে বিগত কয়েক বছরে, দেশের একটা বড় অংশের মানুষের সেই অনুসারে আয় বৃদ্ধি হয়নি। স্বভাবতই এমন লোকেদের জীবন, জীবিকা নির্বাহ দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। লক্ষ করার বিষয় হল, দেশের সার্বিক আয় বৃদ্ধি কিন্তু খারাপ নয়। বরং ভারত সেইসব দেশগুলোর অন্যতম যাদের গড় আয় বৃদ্ধির পরিমাণ সারা পৃথিবীর মধ্যে বেশ উপরের দিকে। একথাও ঠিক যে সারা পৃথিবী জুড়েই অর্থব্যবস্থা বেশ সংকটের মধ্যে। করোনা অতিমারী থেকে বেরোতে না বেরোতেই শুরু হয়ে গেল ইউক্রেন যুদ্ধ। সেটাও যেন যথেষ্ট নয়, সঙ্গে এখন পশ্চিম এশিয়াতেও যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি। তবে পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই তা অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হারেই প্রতিফলিত হচ্ছে। ভারতের ক্ষেত্রেই যেন ব্যতিক্রম।

যা-ই হোক, গড় আয়ের ভাল রকমের বৃদ্ধি অথচ দেশের বড় অংশের মানুষের আয় সেভাবে না বাড়ার অর্থই হল দেশে অসাম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার একথাও প্রায় স্পষ্ট যে বেশকিছু মানুষ যত কাজ করছে সেই অনুযায়ী আয় করতে পারছে না। অর্থশাস্ত্রের পরিভাষায় যাকে বলা ছদ্মবেশী বেকারত্ব। একজন ব্যক্তি যদি সারাদিন ধরে দোকান খুলে বসে থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই বেকার বলা যাবে না। কিন্তু তার আয় যদি হয় একজন সাধারণ মজুরের থেকেও কম, তাহলে সে বেকার না হলেও ছদ্মবেশী বেকার। এখানে আরও একটা লক্ষ করার মত বিষয় হল, দেশের গড় আয় বৃদ্ধির হার যথেষ্ট ভাল এবং সাম্প্রতিককালে সামান্য কিছুটা হলেও কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি হয়েছে। অথচ এসব হয়েছে দেশে যথেষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ না হওয়া সত্ত্বেও। কেউ কেউ হয়ত সরকারের বৃদ্ধি হারের হিসাবকেই প্রশ্ন করবে, তবে এরকম হওয়া কিন্তু একেবারেই অসম্ভব নয়; বিশেষত ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিতে।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

একথা তো সত্যি যে গত কয়েক বছরে দেশে বড়সড় বিনিয়োগ হয়নি। তবে বিনিয়োগ ছাড়া বৃদ্ধি হলে তার একটা বড় অংশ আসবে উপস্থিত বিনিয়োগের উপর বর্ধিত লাভের মাধ্যমে। সেক্ষেত্রে সেইসব জায়গায় কর্মসংস্থান সেভাবে বাড়বে না এবং যারা কর্মরত তাদের বেতনও সেভাবে বাড়বে না। দেশে যখন বেকারত্বের হার এমনিতেই বেশি, তখন বেতন না বাড়ালে কর্মীরা ছেড়ে চলে যাবে – এমন ঝুঁকি খুব একটা থাকে না। আবার কোনো সংস্থার যদি লাভ বা লভ্যাংশের হার না বাড়ে তাহলে সেই সংস্থার শেয়ার মূল্যে ধ্বস নামতে পারে, তাই তারা লাভের হার বাড়ানোর চেষ্টা করে যাবে – এটাই স্বাভাবিক। তবে এমন পরিস্থিতিতে অনেক সাধারণ মানুষ খুব সামান্য পুঁজি নিয়ে ছোটখাটো ব্যবসায় নেমে পড়বে। তাতে তাদের আয় যা-ই হোক না কেন, তারা কর্মরত বলে গণ্য হবে এবং সামান্য হলেও কিছুটা আয় হয়ত হবে। ভারতে বর্তমানে যা হচ্ছে তা হল, দলে দলে যুবক ডেলিভারি বয় হিসাবে নাম লেখাচ্ছে। যেসব সংস্থা এরকম কাজে যুক্ত, তাদের কিন্তু আরও বেশি ডেলিভারি বয়কে নথিভুক্ত করার জন্য কোনো বাড়তি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না। বরং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সংখ্যক ডেলিভারি বয় থাকলে তবেই আধঘন্টায় পিৎজা বা দশ মিনিটে মুদিখানা থেকে জিনিসপত্র ডেলিভারি দেওয়ার মত গ্যারান্টি দেওয়া যাবে। খুব কম খরচে বাড়িতে বসে ডেলিভারি পাওয়ার কারণে বেশ কিছু মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ নিজের সময় এবং বাজার যাওয়ার খরচ বাঁচাতে এই পথে হাঁটছে। তবে এতে করে দেশের দ্রব্য বা পরিষেবা উৎপাদন বিশেষ বৃদ্ধি না পেলেও হস্তান্তর আয়ের কারণে অথবা যে পরিষেবা আগে বাজারে মূল্যায়িত হত না, তা এখন মূল্যায়িত হওয়ার কারণে দেশের মোট আয় বৃদ্ধি হচ্ছে।

 

দেশে যে হারে মূল্যস্ফীতি হয়েছে বিগত কয়েক বছরে, দেশের একটা বড় অংশের মানুষের সেই অনুসারে আয় বৃদ্ধি হয়নি। স্বভাবতই এমন লোকেদের জীবন, জীবিকা নির্বাহ দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।

 

সাম্প্রতিককালে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সংকোচন হয়েছে। অনেক পুরনো কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী নতুন কর্মী নিয়োগ হয়নি। এর ফলে দেখা যাচ্ছে আইআইটি বা আইআইএমের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আশানুরূপ ক্যাম্পাস প্লেসমেন্ট হয়নি। যেহেতু তথ্যপ্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো শিক্ষিত লোকেদের নিয়োগে একটা বড় ভূমিকা পালন করে, সেহেতু বর্তমানে শিক্ষিত যুবসম্প্রদায়ের মধ্যে বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

কর্মসংস্থানের অবস্থা যখন এমনিতেই বেশ সঙ্গীন, তখন শুরু হয়েছে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপাদাপি। এটা আমাদের দেশে বসে হয়ত এখনো খুব একটা বোঝা যাচ্ছে না, তবে এর অগ্রগতির ফলে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা ক্ষেত্র তার বিদেশি বাজারের একটা অংশ ক্রমান্বয়ে হারাচ্ছে। আসলে আমরা যাকে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্র বলি, তার একটা বড় অংশ প্রকৃতপক্ষে তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা নয়। তা হল ইন্টারনেট তথা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে কিছু পরিষেবা দেওয়া, যেগুলোতে খুব উচ্চস্তরের দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র সমস্তরের দক্ষ শ্রমিক পাশ্চাত্যের দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম বেতনে পাওয়া যায় বলেই আমাদের দেশ এই পরিষেবাগুলো দিতে পেরেছে। এগুলোর একটা বড় অংশকে সাধারণত কল সেন্টার বলা হয়ে থাকে। এগুলো শুরু হয়েছিল ক্রেতা সহায়তা পরিষেবা দিয়ে, তবে পরবর্তীকালে কিছু অন্যান্য পরিষেবা দেওয়াও শুরু হয়েছে। এই কাজগুলোই এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে যান্ত্রিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে। বিদেশ তো বটেই, এমনকি আমাদের দেশেও এখন ক্রেতা সহায়তা পরিষেবা পাওয়ার জন্য কোনো মানুষের সঙ্গে কথা বলার দরকার হয় না। আমাদের দেশ তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে যে সাফল্য পেয়েছে তা যতটা না প্রযুক্তিগত দক্ষতার জন্য, তার থেকে বেশি শ্রমিকের সহজলভ্যতার জন্য। এটা ঠিক যে একটা উন্নয়নশীল দেশ শুরুতে এমন সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যায় যেখানে প্রযুক্তির তুলনায় শস্তার শ্রমিক দিয়ে বাজিমাত করা যায়। যেমন শুরুতে তারা জামাকাপড় বা জুতো সেলাইয়ের মত কাজে এগিয়ে যায়। কিন্তু একটা সময়ের পর এভাবে বেশি এগোনো যায় না। তথন প্রযুক্তির সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে আমাদের দেশ যেমন একদিকে প্রযুক্তির সিঁড়িতে খুব বেশি উপরে উঠতে পারেনি, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সিঁড়ির নিচের দিকের কাজগুলো খেয়ে নিচ্ছে।

আরো পড়ুন ৭০ ঘন্টার নিদান: কর্পোরেট দাস ব্যবসায়ীর মন কি বাত

তবে আজকের পরিস্থিতি যে শুধুমাত্র গত কয়েক বছরের ব্যর্থতার ফলে উদ্ভূত হয়েছে এমন নয়। কিছু অর্থনৈতিক নীতি তথা করোনা ও লকডাউনের ফলে ছোট ও মাঝারি শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়ত হয়েছে। তবে সমস্যার বীজ বোনা হয়েছিল অনেক আগে – নব্য উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতির কাছে দেশের অর্থব্যবস্থাকে সঁপে দেওয়ার মাধ্যমে। ১৯৯১ সালে আমাদের দেশে যে অর্থনৈতিক সংস্কার করা হয়েছিল, তার মূল্য উদ্দেশ্য ছিল শিল্পক্ষেত্রে অগ্রগতি। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল পরিষেবা ক্ষেত্রে ভালরকমের অগ্রগতি হলেও শিল্পে, বিশেষ করে উৎপাদন শিল্পে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি। তবে এটা শুরুতে তেমন বোঝা না গেলেও বর্তমান শতাব্দীর প্রথম দশকেই অনুভূত হতে শুরু করেছিল। সেইসময়েই ভারতের উৎপাদন শিল্প ধুঁকতে শুরু করে আর ভারতের বাজার চীনা দ্রব্যে ছেয়ে যেতে শুরু করে। নব্য উদারবাদীরা ব্যাপারটাকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে বলতে থাকে, চীন হবে ‘পৃথিবীর ফ্যাক্টরি’ আর ভারত হবে ‘পৃথিবীর ব্যাক অফিস’, তাই আমাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। যদিও আমাদের ব্যাক অফিস সাফল্য ছিল অনেকটাই পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মত, কোন অর্থনৈতিক সংস্কার বা কৌশলের ফল নয়। কিন্তু এই প্রচার নব্য উদারবাদী নীতির ব্যর্থতাকে ঢাকতে সক্ষম হয় এবং আমাদের মূল রোগটা ধরতে অনেক দেরি হয়ে যায়।

 

একজন ব্যক্তি যদি সারাদিন ধরে দোকান খুলে বসে থাকে,
তাহলে তাকে অবশ্যই বেকার বলা যাবে না। কিন্তু তার আয়
যদি হয় একজন সাধারণ মজুরের থেকেও কম, তাহলে
সে বেকার না হলেও ছদ্মবেশী বেকার।

 

তাছাড়া শিল্পের অগ্রগতি ছাড়াই শুধুমাত্র পরিষেবা, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির উপর, ভিত্তি করে যে খুব বেশিদূর যাওয়া সম্ভব নয় সেকথা পুরোপুরি অগ্রাহ্য করা হয়। বাংলাদেশের মত ছোট দেশ যখন চিন্তিত ছিল যে শুধুমাত্র রেডিমেড পোশাক রফতানির উপর নির্ভরশীলতা দেশকে দুর্বল করে রাখবে এবং বেশিদূর এগোনো যাবে না, তখন আমরা ভাবতে থাকি শুধুমাত্র তথ্যপ্রযুক্তির উপর ভিত্তি করেই আমরা এগিয়ে যাব। অনেক অর্থনৈতিক গবেষণায় কিন্ত একথা প্রতিষ্ঠিত যে শিল্পের সঙ্গে পরিষেবার একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। কারণ পরিষেবা শুধু মানুষ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করে তা নয়, শিল্পও তার এক বড় উপভোক্তা।

মজার ব্যাপার হল, সামগ্রিকভাবে পরিষেবা ক্ষেত্রের যোগদান জাতীয় আয়ে যে বেড়েছে তার মূল ভিত্তি হল তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা – একথা হয়ত অনেকেই মনে করেন, কিন্তু সেটা সত্যি নয়। বরং সবথেকে বেশি বৃদ্ধি হয়েছে যে উপক্ষেত্রে সেগুলো হল – বাণিজ্য, হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, যোগাযোগ ইত্যাদি। এই উপক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ তৈরি করা সবথেকে সহজ। কারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা বা দক্ষতা এবং মূলধন – কোনোটাই খুব বেশি না থাকলেও শুরু করা যায়। তবে এরই উল্টোদিক হল, এখানেই ছদ্মবেশী বেকারত্ব থাকার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি। ঠিক যে কারণে কৃষিক্ষেত্রে নিয়োজিতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি, এখানেও ঠিক তাই। তবে শিল্পক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ছাড়া এখানে বৃদ্ধি হওয়াও বেশ কষ্টকর।

 

এখন শিল্পক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবথেকে বেশি
চেষ্টা দরকার। আর তার জন্য সবথেকে বেশি দরকার,
নব্য উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতি ছেড়ে সরকার তথা সরকারি
নীতির ভূমিকাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া।

 

তাই এখন শিল্পক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবথেকে বেশি চেষ্টা দরকার। আর তার জন্য সবথেকে বেশি দরকার, নব্য উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতি ছেড়ে সরকার তথা সরকারি নীতির ভূমিকাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া। কারণ বাজারের হাতে সবকিছু ছেড়ে দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে আর দেশ তথা দেশের অর্থব্যবস্থা তরতরিয়ে এগিয়ে যাবে – এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। পথ বদলানোর জন্যে পরিকাঠামোর উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে যেগুলো দরকার সেগুলো হল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রের স্বাস্থ্যোদ্ধার। অসাম্য ও মানুষের সঞ্চয় হ্রাস যেমন চিন্তার কারণ, তেমন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থাও করা দরকার, যাতে মানুষ টাকা খরচ করে।

লেখক অর্থনীতির গবেষক। মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.