অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় মে দিবসে ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ নিলেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকরা। একটি বাম কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা মে দিবসের অনুষ্ঠানে শ্রমিক ঐক্য অটুট রাখার শপথ নেওয়া হল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকরা আবার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এর আগে লাভ জিহাদ, গোমাংস খাওয়ার রটনায় গণপিটুনি থেকে হরিয়ানার দাঙ্গা – দেশের নানা প্রান্তে নানা উপলক্ষে আক্রান্ত হয়েছেন বাংলাভাষী শ্রমিকরা। কয়েকজন প্রাণও হারিয়েছেন। মালদা জেলার কালিয়াচকের আফরাজুল খান কাজ করতেন রাজস্থানে। ২০১৭ সালে সেখানে তাঁকে লাভ জেহাদের অভিযোগে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জীবন্ত অবস্থাতেই গায়ে আগুন দিয়ে দিয়েছিল শম্ভুলাল রেগর। গত বছরেই দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বাসন্তীর ২৪ বছরের যুবক সাবির মল্লিককে হরিয়ানায় গোরক্ষার নামে খুন করা হয়। পরে প্রমাণিত হয়, সাবিরের কাছে গরুর মাংস ছিল না। পুরোটাই গুজব।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

এবার আক্রমণ হচ্ছে আরও সংগঠিতভাবে। উপলক্ষ পহলগামের বয়সারান সন্ত্রাসবাদীদের নৃশংস গণহত্যা। পহলগামের সেই ঘটনার পরেই দেশজুড়ে মুসলিম বিদ্বেষের আবহ তৈরি করতে নেমেছে সংঘ পরিবার। সেই আক্রমণের নিশানায় রয়েছে অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলাভাষী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারও। বাংলাভাষী হলেই বাংলাদেশি বলে দেগে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁরা মুসলমান হলে তো কথাই নেই। বাংলাভাষী মুসলমান মানেই বাংলাদেশি – এমন এক ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করা হচ্ছে। আরএসএস সমেত বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন তো বটেই, বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যের সরকারও একই কাজ করছে। পহলগামের ঘটনার পরে বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্য থেকে এই অভিযোগ আসছে। হিন্দুত্ববাদীরা যেমন বাংলাভাষী শ্রমিকদের পরিচয় জানতে চাইছে, হেনস্থা করছে, তেমন পুলিসও তাঁদের আটক করছে।

বুলডোজাররাজ কায়েম করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট উত্তরপ্রদেশ সরকারকে তিরস্কার করেছে। কিন্তু বিচারব্যবস্থার পরোয়া না করে রাজ্যে রাজ্যে বুলডোজাররাজ চালু আছে। গুজরাটের সুরাট, আমেদাবাদ সমেত বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক বাংলাভাষী অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক রয়েছেন। তাঁরা আজ গুজরাট সরকারের আক্রমণের শিকার। গত ২৬ এপ্রিল ভোররাত থেকে বিদেশি চিহ্নিত করার পুলিসি অভিযান শুরু হয়। ২৮ এপ্রিল রাত পর্যন্ত প্রায় ৬,৫০০ মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে গুজরাট পুলিস আটক করে। ২৮ এপ্রিল গুজরাট রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক বিকাশ সহায়ের বিবৃতি অনুযায়ী, এঁদের মধ্যে ৪৫০ জন বাংলাদেশি বলে প্রমাণিত হয়েছেন। অর্থাৎ আটকদের সিংহভাগই বিদেশি কিনা তা নিয়ে পুলিস নিশ্চিত নয়। অবশ্য শুধুমাত্র বাংলাভাষীদের উপরেই এই অত্যাচার চলছে তা নয়। গুজরাটের সর্বত্র মুসলমান পরিচয় পেলেই শ্রমিকদের পাকিস্তানি বা বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বস্তি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে যে, আমেদাবাদে বিয়েবাড়ির অতিথিদের পর্যন্ত আটক করা হয়েছিল। তাঁরা অনেকে মহারাষ্ট্র থেকে বিয়েবাড়িতে এসেছিলেন। আমেদাবাদে বাড়ি ভাঙতে ৮০টি জেসিবি ও ৬০টি ডাম্পার ব্যবহার করা হয়েছে। শহরের চোন্ডলা লেক অঞ্চলে ২,০০০ বস্তি বাড়ি ভাঙা হয়েছে। বস্তিবাসীদের অনেকেই উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে গিয়ে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে সপরিবারে বসবাস করছেন। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী উপেন্দ্র প্যাটেল এই অভিযান জারি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের কথা বলেছেন। পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, এরা মানুষ পাচার ও মাদক দ্রব্য পাচারে যুক্ত।

পহলগামের ঘটনার পরেই এত কিছু রাতারাতি গুজরাট সরকার জেনে গেল? এতদিন জানতে পারেনি কেন? মার্চ মাসে সংসদে দেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানিয়েছিলেন, গত পাঁচ বছরে দেশের সমুদ্র বন্দরে বাজেয়াপ্ত মাদক দ্রব্যের মোট অর্থমূল্য ১১,৩১১ কোটি টাকা। বাজেয়াপ্ত করার মোট ১৯টি ঘটনার মধ্যে আটটি ঘটেছে গুজরাটে। ২০২১ সালে গৌতম আদানির মালিকানাধীন মুন্দ্রা পোর্টে প্রায় ৩,০০০ কেজি হেরোইন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, যার অর্থমূল্য প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা। কদিন আগেই এনআইএ সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেছে, ওই হেরোইনের টাকা নাকি পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-এ-তৈবার কাজে লেগে থাকতে পারে। তা আদানি বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? এদিকে প্রমাণিত না হলেও বাংলাদেশি বলে বাংলাভাষীদের ঘর ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালে হরিয়ানায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর এমনভাবেই বুলডোজার দিয়ে বহু বাংলাভাষী শ্রমিকের বস্তি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।

ওড়িশায় গতবছর বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অনেক বাংলাভাষী শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছিলেন। অনেকেই বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। পহলগামের ঘটনার পর আবার নতুন করে আক্রমণ নেমে এসেছে। বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দিয়ে তাঁদের বন্দি করা, আক্রমণ করা – বাদ যাচ্ছে না কিছুই। গত ১৫ এপ্রিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থেকে ২০ জন নির্মাণ কর্মী কাজ করতে গিয়েছিলেন ওড়িশার সম্বলপুরে। কয়েকজন স্থানীয় দুর্বৃত্ত নাম ঠিকানা জেনেই তাঁদের আক্রমণ করে। অভিযোগ – শ্রমিকদের আধার কার্ড পর্যন্ত ছিঁড়ে দেওয়া হয়। মারতে মারতে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে বাধ্য করা হয়। শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে আসেন। মালদা জেলার চাঁচল থেকে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকরাও আক্রান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন। অনেকের অভিযোগ – ধর্মীয় পরিচয় নয়, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা জেনেই তাঁদের উপর আক্রমণ করা হয়

মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, আসামেও এই রাজ্য থেকে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। উত্তরপ্রদেশের কুশীনগরে মালদা জেলা থেকে যাওয়া ২৩ জন ফেরিওয়ালাকে বাংলাদেশি বলে মারধর ও আটক করার অভিযোগ উঠেছে। অনেক রাজ্যেই পুলিস আটক করে ২৪ ঘন্টা পরেও তাঁদের আদালতে তুলছে না বলে অভিযোগ। বিনা বিচারে পুলিসি হেফাজতে রাখা হচ্ছে। আধার কার্ডকেও ভারতের বাসিন্দা হওয়ার প্রামাণ্য নথি হিসাবে ধরা হচ্ছে না। অনেককে নাকি জমির দলিলও দেখাতে হচ্ছে। সেসব নথি না দেখাতে পারলেই সন্দেহজনক বলে আটকে রাখা হচ্ছে।

এভাবেই কি ঘুরপথে দেশজুড়ে এনআরসি লাগু করা হবে? কারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে সাধারণত অভিযোগকারীকেই তার সত্যতা প্রমাণ করতে হয়। এনআরসির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঠিক উলটো। আসামে কারোর বিরুদ্ধে বিদেশি বলে অভিযোগ উঠলে অভিযুক্তকেই প্রমাণ করতে হয় তিনি বিদেশি নন। ওই রাজ্যে এভাবে লক্ষ লক্ষ বাংলাভাষী বহুবছর ধরে হেনস্থার শিকার হয়ে চলেছেন, সন্দেহভাজন বা ‘ডি ভোটার’ হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।

গুজরাট সহ বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি বলে যাঁদের আটক করা হচ্ছে, তাঁদেরই প্রমাণ করতে হচ্ছে তাঁরা ভারতীয়। বৈধ কাগজ বলে যেসব নথিকে মানা হচ্ছে তা এনআরসি অনুসারী। দেশজুড়ে এনআরসি এবং সিএএ প্রবল আন্দোলনের চাপে বাস্তবায়িত করতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। এই সুযোগে তা কার্যকর করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, প্রথমে মুসলমান প্রবাসী শ্রমিকদের উপরে পরীক্ষা চালাচ্ছে বিজেপি।

আরো পড়ুন তিলোত্তমার জন্য গণআন্দোলনই সাবির হত্যার বিচার চাইতে পারে

মুসলমানরা আক্রমণের নিশানা হচ্ছে বলে বাংলা বা অন্য ভাষাভাষী হিন্দুরা ভাবছেন তাঁরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। কিন্তু সে নিশ্চিন্ততা যে অর্থহীন তার বড় প্রমাণ আসামই। সেখানে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকা ১৯ লক্ষের মধ্যে আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ লক্ষ হিন্দু বাঙালি। পহলগামের ঘটনার পর আসামে নতুন করে বাংলাভাষী মুসলমানদের উপর আক্রমণ নেমে এসেছে। সিএএ-র টোপ দিয়ে ধর্ম ও ভাষাভিত্তিক বিভাজনের ভিত আরও পোক্ত করা হচ্ছে। এটা দিয়ে যেমন বাঙালি হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভাজন বাড়ানো হয়েছে, তেমন অসমিয়াভাষী এবং বাংলাভাষীদের মধ্যে বিভাজনও বেড়েছে।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনআরসি এবং সিএএ বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সারা দেশে এনআরসি চালু করার কথা বলেছিল বিজেপি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে, সংসদে পাশ হওয়ার প্রায় সাড়ে চার বছর পর সিএএ-র বিধি চূড়ান্ত করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। এনআরসি এবং সিএএ-কে আলাদাভাবে দেখিয়ে সবকিছু গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়। যদিও এনআরসি আর সিএএ-কে আলাদা করা যায় না। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন অনুসারেই সারা দেশে এনআরসি চালু করতে চায় বিজেপি। পহলগামের নৃশংস হত্যাকাণ্ড তাদের কাছে সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। বিজেপির বিভাজনের ঘৃণ্য রাজনীতির শিকার হচ্ছেন বাংলার প্রবাসী শ্রমিকরা। আগামীদিনে সেই আক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কা।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী গুজরাট ও ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে চিঠি লিখেই দায় সেরেছেন। তৃণমূল-বিজেপি তরজাও নিয়ম মেনে শুরু হয়েছে। তৃণমূল যেমন বিজেপির বিদ্বেষের রাজনীতিকে দায়ী করছে, তেমন বিজেপি এই রাজ্যে কর্মসংস্থানের বে‌হাল দশার কথা তুলছে। বাংলাভাষীরা অন্য রাজ্যে বিদ্বেষের রাজনীতির শিকার হচ্ছেন এটা যেমন সত্য, উপার্জনের সুযোগ কমে যাওয়ায় এই রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির অভিযোগও সত্য। তৃণমূল জানে, অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের উপর আক্রমণ যত বাড়বে, ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি তত পুষ্ট হবে। পাশাপাশি বাঙালি জাতিসত্তার রাজনীতিকেও কাজে লাগানো যাবে। বেকার সমস্যার জ্বলন্ত বাস্তবতা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে রাখা যাবে। বিজেপি এর মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে আরও পুষ্ট করবে। একে অপরের পরিপূরক হিসাবে কাজ করছে বিজেপি ও তৃণমূল।

ট্রাম্প সরকার মার্কিন মুলুক থেকে ভারতীয়দের হাতে পায়ে শিকল পরিয়ে দেশে ফেরত পাঠালেও ভারত সরকার নীরব থাকে, কোনো বিজেপি ভক্তের দেশপ্রেম উথলে ওঠে না। তাদের দেশপ্রেমের প্রমাণ দিতে এই দেশেরই অন্য নাগরিকদের আক্রমণ, হত্যা, ধর্ষণ ইত্যাদি করতে হয়। বিদ্বেষের এই রাজনীতির বলি হচ্ছেন কম মজুরিতে কাজ করা শ্রমিকরা, যাঁরা মূলত অসংগঠিত ক্ষেত্রে যুক্ত। অথবা অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ফেরিওয়ালারা। আমেরিকায় যেমন ভারতীয়রা, ভারতে তেমন মুসলমান বা বাংলাভাষীরা আক্রান্ত হচ্ছেন।

বিদ্বেষের রাজনীতি শ্রমিকশ্রেণির উপর কীভাবে বিপর্যয় নামিয়ে আনে তা আজ স্পষ্ট। অতি দক্ষিণপন্থা ক্রমশ বেপরোয়া হচ্ছে। এখন পশ্চিমবঙ্গেও প্রকাশ্যে বলা হচ্ছে – লড়াই ভাতের নয়, জাতের। ওদের ‘মন কি বাত’ প্রকাশ্য হচ্ছে। রাজ্য বিধানসভায় তাই ভাতের কথা স্থান পায় না, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো হয়। রুটিরুজির লড়াইয়ের উপর এর চেয়ে বড় আঘাত আর কী হতে পারে?

আসলে ভাতের লড়াইকে দুর্বল করতেই এই বিদ্বেষের রাজনীতি। রাজ্যে কাজের সুযোগ কম বলে অন্য রাজ্যে যেমন মানুষ কাজ করতে যাচ্ছেন, তেমন সেই রাজ্যগুলিতেও কাজের সুযোগ কমছে। অন্য রাজ্যে মজুরির হার, উপার্জনের সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি বলে রাজ্যবাসী ঘর ছাড়ছেন। কিন্তু যেখানে যাচ্ছেন সেখানেও বেকার সমস্যা আছে, শ্রমিকদের প্রতি বঞ্চনা আছে। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভও আছে। চাকরি, শ্রমিকের অধিকার নিয়ে লড়াইকে দুর্বল করতে তাই বিদ্বেষের রাজনীতিকে পুষ্ট করা হচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেমন অভিবাসীদের কেন্দ্র করে ঘৃণার রাজনীতি ছড়ানো হচ্ছে, তেমন এই দেশে ধর্ম ও ভাষাকে কেন্দ্র করে জাতের লড়াইকে হাতিয়ার করা হচ্ছে। তাই মে দিবসে বিজয়ওয়াড়ায় শ্রমিকদের এক থাকার শপথ নিতে হয়। ঐক্যবদ্ধ ভাতের লড়াইতেই এই বিদ্বেষের রাজনীতির মোকাবিলা করা সম্ভব

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.