‘দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে কে না চেনে? ওঁর সাদাকালো দাড়ি, আর ব্যাকব্রাশ করা চুল দেখলেই সবাই ওঁকে চিনতে পারে।’ ট্যাক্সি চালাতে চালাতেই সামনের আয়না দিয়ে আমার দিকে বিরক্তিসূচক দৃষ্টি হেনে বললেন শান্ত, নম্র, মধ্যবয়সী পাটনার বাসিন্দা সন্তোষ কুমার সিং। ভাবটা এমন, যেন প্রশ্নটাই বোকা বোকা।
এবার আমার কৌতূহল একটু বেড়ে গেল। দীপঙ্কর কি তাহলে তাঁর রাজনীতির থেকেও চেহারার জন্যই বেশি পরিচিত? দক্ষিণ-পশ্চিম বিহারের ভোজপুর জেলার গর্তে ভরা রাস্তায় ঝাঁকুনি খেতে খেতে, স্টিয়ারিং সামলিয়ে সন্তোষের জবাব ‘অবশ্যই রাজনীতির জন্য পরিচিত।’ এবছরের জুন মাস। গরমে ঝলসে যাচ্ছে চারিদিক। সূর্য অস্ত যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু বাতাসে যেন আগুনের ছোঁয়া। গুগল বলছে, তাপমাত্রা প্রায় ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাস্তার দিকে মনোযোগী দৃষ্টি রেখেও বলে চলেছেন সন্তোষ – সবসময় গরিবগুরবোদের পাশে থাকা, সহজ সরল দুর্নীতিমুক্ত জীবনযাপনের জন্য ‘মালে’ নেতাদের কীভাবে সম্মান করা হয়।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
দীপঙ্কর হলেন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশন, সংক্ষেপে সিপিআইএমএল লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক। হিন্দি বলয়ের মানুষের কাছে এই দলটাই ‘মা-লে’ বা ‘মালে’ নামে পরিচিত। আর এই মালেই ভারতের একমাত্র বামপন্থী দল, যারা ১৯৭০ ও ১৯৮০-র দশকে আত্মগোপনে থেকে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ অনুসরণ করেছিল, আবার পরবর্তীকালে নির্বাচনী রাজনীতির আঙিনাতেও সাফল্য পেয়েছে। এমনকি ১৯৮০, ৯০-এর দশকে এরা একদিকে যেমন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত, পাশাপাশি সশস্ত্র স্কোয়াডও চালাত।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ১১ বছরের ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদী’ শাসনকালে, একমাত্র রাজ্য হিসাবে বিহারেই বামপন্থীদের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে এই দলটার কারণে। ১৯৮৫ সালে নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে শুরু করে মালে। তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য আসে ২০২০ বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ১২ খানা বিধানসভা আসনে জয়লাভের মধ্যে দিয়ে। সেই ধারাবাহিকতাতেই ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও মালে দুটি আসনে জয়ী হয়। তাদের সংসদীয় ইতিহাসে এটাই সেরা ফলাফল। গতবছর তারা ঝাড়খণ্ড বিধানসভা নির্বাচনেও দুটো আসনে জয়ী হয়েছে।
দীপঙ্করের চুল-দাড়ির স্টাইল অথবা তাঁর দলের রাজনীতি – যে কারণেই হোক, এই বামপন্থী দল ব্যাপক অংশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে। এই নির্বাচনী সাফল্য তাদের সংগঠন বিস্তারের কাজেও অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে। ঝাড়খণ্ডের মার্কসিস্ট কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এমসিসি) এবং মহারাষ্ট্রের লাল নিশান পার্টি (এলএনপি) একীভূত হয়ে গেছে সিপিআইএমএলের সঙ্গে।
বিহারে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতৃত্বাধীন বিরোধীদের বৃহত্তর জোটের নাম – মহাগঠবন্ধনে। এই জোটের সামনের সারির নেতা হয়ে উঠেছেন দীপঙ্কর। ট্যাক্সিচালক সন্তোষের মতে, ১৯৯০ থেকে প্রায় ১৫ বছর, নিজের রাজত্বে যে দুর্নীতির ছাপ লালুপ্রসাদের পরিবারের গায়ে লেগেছিল, তাকে মুছতেই মালের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে কাজে লাগাতে চাইছে আরজেডি।
আমাদের গন্তব্য সাহার ব্লকের একওয়ারি গ্রাম। গাড়িচালক সন্তোষও ওই গ্রাম নিয়ে খুব আগ্রহী। কারণ ওখানেই রাম নরেশ রামের ছোট্ট বাড়ি। রাম নরেশ ছিলেন বিহারে নকশালপন্থী রাজনীতির অন্যতম রূপকার; পরবর্তীকালে সাহার বিধানসভা (অধুনা তারারি বিধানসভা) আসন থেকে চারবারের বিধায়ক। ১৯৯৫ থেকে ২০১০ – আমৃত্যু রাম নরেশ ছিলেন বিহার বিধানসভায় মালের দলনেতা। কখনও পাঁচ, কখনো সাতজন বিধায়ক সেই পর্যায়ে মালে থেকে নির্বাচিত হতেন। আমার গাড়ির চালক সন্তোষ ওই নেতার সাদাসিধে জীবনযাত্রার কথা অনেক শুনেছেন, সংবাদমাধ্যমে তাঁর সেই ছোট্ট ঘরের ছবিও দেখেছেন, কিন্তু স্বচক্ষে এর আগে দেখা হয়নি। এই কারণে তাঁর উৎসাহ তুঙ্গে।
একওয়ারিতে রাম নরেশের পুরনো সহযোদ্ধা পরমেশ্বর রওয়ানি আজও তাঁর প্রিয় নেতার স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে আবেগবিহ্বল হয়ে পড়েন। মালের লড়াই কীভাবে এখানকার দলিত ও ভূমিহীন কৃষকদের জন্য অধিকার ছিনিয়ে এনেছিল তা এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। চেয়ারে, খাটে বসার অধিকার, কুয়ো থেকে জল খাওয়ার অধিকার, ন্যায্য মজুরি, ভোটাধিকার – একসময় দলিত মানুষের কাছে এসব ছিল কল্পনাতীত। আজ মালের লড়াইয়ের ফসল হিসাবে তাঁরা ছিনিয়ে নিতে পেরেছেন সেসব অধিকার, বললেন স্মৃতিকাতর বৃদ্ধ পরমেশ্বর।
১৯৭০ সাল থেকেই উচ্চবর্ণের সামন্তপ্রভুদের সঙ্গে নিম্নবর্ণের জমিহীন মানুষের লড়াইয়ের সাক্ষী একওয়ারি এবং তার আশেপাশের সাহার ও তারারি ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম। নিম্নবর্ণের মানুষের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়েরই ফসল ছিল দীর্ঘকালীন রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত। এই প্রেক্ষাপটেই তৎকালীন সাহার, অধুনা তারারি বিধানসভার অন্তর্গত একওয়ারি মালের দুর্গে পরিণত হয়। ১৯৯৫-২০২০, সাতবারের মধ্যে ছবারই মালের প্রার্থী এখান থেকে বিধায়ক হন।
তবে অতীতের ভাল কাজ কখনোই ভবিষ্যতের নির্বাচনী জয় নিশ্চিত করতে পারে না। একওয়ারি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে তারারির দুবারের মালে বিধায়ক সুদামা প্রসাদ আরা লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার ফলে, এই বিধানসভা আসন খালি হয়। গতবছরেই নভেম্বরে হওয়া উপনির্বাচনে বিজেপি এই আসনে ১০,৬১২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়। এখানকার বাসিন্দা প্রান্তিক কৃষক ভোলা যাদব এই প্রসঙ্গে বললেন ‘বিগত দুই দশকে এই প্রথম আমাদের দল একওয়ারির পঞ্চায়েত এলাকায় পিছিয়ে পড়ল। মাত্র ৪৯ ভোটের ব্যবধান হলেও, আমরা পিছিয়েই ছিলাম।’ মালে সংগঠকদের অভিযোগ, ভোট কেনার জন্য বিজেপি এবার প্রচুর টাকা আর অন্যান্য জিনিসপত্র বিলি করেছে। ভোলা যাদবের সংযোজন ‘ওরা আমাদের বিপদ হিসাবে দেখছে।’
নবজোয়ার?
১৯৯০-এর দশকেও যেসব বামপন্থী শক্তির প্রবল উপস্থিতি বিহারে দেখা যেত, তারা এখন অতীতের ছায়াও নয়। মগধ-ভোজপুর এলাকার সশস্ত্র সংগ্রাম নিস্তেজ হয়ে গেছে, তাদের নির্বাচনী প্রভাবও অনেকটাই স্তিমিত।
বিহারে সিপিআই, সিপিএম এবং মালে – এই তিন বাম দলের প্রাপ্ত মোট আসন ১৯৯০ সালে ছিল ৩০, ১৯৯৫ সালে ৩৪ (২০০০ সালের পরে গঠিত ঝাড়খণ্ডের আসনগুলো বাদ দিয়ে)। সিপিআই একাই ১৯৯০ ও ১৯৯৫ নির্বাচনে যথাক্রমে ১৯ এবং ২৪ আসনে জয়ী হয়েছিল। ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিহারে বাম দলগুলো মোট ছখানা আসনে জেতে। তার মধ্যে সিপিআই ৪, সিপিএম ও মালে একটা করে আসনে জয়ী হয়েছিল। ১৯৯১ লোকসভা নির্বাচনে সিপিআই সাতখানা লোকসভা আসনে জয়ী হয় এবং সিপিএম তাদের একমাত্র আসন ধরে রাখে।
১৯৯০-এর দশকে মণ্ডল কমিশনের সুপারিশ ঘিরে জাতভিত্তিক পরিচিতি সত্তার রাজনীতি বিহারে চালকের আসনে চলে আসে এবং সিপিআই দুর্বল হতে থাকে। গৌরবময় নির্বাচনী ঐতিহ্যের সেই চূড়া থেকে এমন অবনমন হয় যে ২০২০ বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডির নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধনে সামিল সিপিআই ২৯৪ আসনবিশিষ্ট বিধানসভায় মাত্র ছখানা আসনে লড়ার সুযোগ পায় এবং সিপিএম চারখানা আসনে লড়ে। দুই দলই দুটো করে আসন জিততে সক্ষম হয়। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও মহাগঠবন্ধনের পক্ষ থেকে ৪০ আসনের মধ্যে সিপিআই ও সিপিএমকে একটা করে আসন দেওয়া হয়, যদিও কেউই একটা আসনেও জিততে পারেনি।
একদিকে সিপিআই নিম্নবর্ণ ও মধ্যবর্তী বর্ণের মধ্যে নিজেদের গণভিত্তি প্রায় হারিয়ে ফেলেছে, বিশেষত উচ্চবর্ণ ও দলিতদের মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকা অংশের সমর্থন খুইয়েছে। গঙ্গার দক্ষিণে মগধাঞ্চলে তাদের গণভিত্তি প্রায় নিঃশেষিত। অন্যদিকে, মালের কাজের মূল আধার ছিল দলিত অংশের মানুষ। সশস্ত্র সংগ্রামের সময়ে গড়ে ওঠা তাদের মগধ ও ভোজপুরের গণভিত্তি এখনো অটুট। জমি ও মজুরি সংক্রান্ত যেসব জঙ্গি আন্দোলন একসময় মালের ভিত্তি তৈরি করেছিল, সেই লড়াই এখন অনেকটাই পিছনের সারিতে চলে গেছে। তবে বর্গাদার ও প্রান্তিক কৃষকদের দাবিগুলোকে তারা আজও জোরালোভাবে তুলে ধরে। পুরনো জাতিগত সমীকরণ, বিশেষত দলিত ও মধ্যবর্তী বর্ণের মানুষের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছিল, তাও অনেকটাই নিষ্প্রভ। মালে এখন মূলত প্রবাসী ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের মধ্যে কাজ করার উপরেই জোর দিচ্ছে।
বর্তমানে তারা নিম্ন-মধ্যবিত্তদের মধ্যেও নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট। এই লক্ষ্যেই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রাস্তার হকারদের নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ী মহাসংঘ নামে নতুন সংগঠন। ছোট ব্যবসায়ী ও হকারদের ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকটকে এখন নিজেদের কর্মসূচিতে যুক্ত করছে মালে। বিজেপি সমর্থিত জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে রাজ্যে বেড়ে চলা অপরাধ এইসব ছোট ব্যবসায়ী ও হকারদের মধ্যে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে, তাও মালের হাত শক্ত করছে। বর্তমানে তাদের পাখির চোখ নীতীশ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা।
তারারির পাশের কেন্দ্র হল সন্দেশ বিধানসভা। একসময় এটা মালের শক্ত ঘাঁটি ছিল। যদিও ২০১০ পরবর্তী সময়ে আরজেডি ধীরে ধীরে সেখানে থাবা বসায়। তবে এখানকার মালে কর্মীরা হাত গুটিয়ে বসে নেই। এই কেন্দ্রে এখনো তাদের ভোটের হার প্রায় ১০%-১৩%; যা ২০২০ বিধানসভা নির্বাচনে ওই আসনে আরজেডির জয়ের অন্যতম চাবিকাঠি ছিল। জগদীশপুর কেন্দ্রেও একই চিত্র। গত দুই দশক ধরে মালে এখানে নিজেদের ১০%-১৩% ভোট ধরে রেখেছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডির জয়ে সেই ভোট কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছিল।
পাটনা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে মসৌড়ি ব্লকের ঘোরাহুয়ান গ্রাম। একটা বড় গাছের ছায়ায় জনা ১২ পুরুষ বিশ্রাম নিচ্ছেন। কারোর পরনে শুধু গামছা বা লুঙ্গি, কারোর গায়ে স্যান্ডো গেঞ্জি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন খুবই মনোযোগ সহকারে কিছু লিফলেট আর একটা ট্যাবলয়েড আকারের হিন্দি পত্রিকা পড়ছিলেন। পত্রিকার নাম লোকযুদ্ধ – মালের পাক্ষিক হিন্দি মুখপত্র।
তাঁদের জিজ্ঞাসা করলাম ‘আপনারা সবাই কি মালে সমর্থক?’ উৎসাহিত গলায় জবাব দেন মধ্যবয়স্ক রঘু পাসওয়ান ‘হ্যাঁ, আমরা সবাই।’ তারপর একটু থেমে আরেকজনের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলেন ‘ও বাদে। ও কিছুদিন আগে বিজেপিতে চলে গেছে।’ বাকিরা সজোরে হেসে ওঠেন, আর মজা করে সেই ব্যক্তিকে গালমন্দ করতে থাকেন। আমার আবার কৌতূহলী জিজ্ঞাসা ‘তাহলে বিজেপি কি আপনাদের গণভিত্তিতে থাবা বসাচ্ছে?’ তাঁরা হেসে ওঠেন। বলেন ‘এই গ্রামে নয়। আমরা এখানে গত পঞ্চাশ বছর ধরে মজবুতভাবে দাঁড়িয়ে আছি।’ পাশ থেকে আরেকজনের সংযোজন ‘কে জিতল, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। আমরা মালেকেই ভোট দিই। আত্মসম্মানের লড়াই করতে ওরাই আমাদের শিখিয়েছে।’
ওখান থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে একটা শহীদ বেদি। ১৯৭৫ সালের মে মাসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত মালের ১৫ জন স্কোয়াড সদস্যকে উৎসর্গ করা। পাঁচ দশক ধরে এই এলাকায় নকশালপন্থীদের উপস্থিতির প্রমাণ ওই বেদি। সেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পরেও মসৌড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ঘোরাহুয়ান গ্রাম এখনো মালের শক্ত ঘাঁটি। ‘কে মহাগঠবন্ধনের টিকিট পাবে সেটা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। নীতীশ সরকারের ব্যর্থতা, আর মোদী সরকারের জনবিরোধী নীতিগুলোর বিরুদ্ধে মানুষকে সচেতন করাই আমাদের উদ্দেশ্য।’ জোরের সঙ্গে বলেন নাগেশ্বর পাসওয়ান। তাঁর দাদা গীরিজা ১৯৭৫ সালে শহিদ হওয়া ১৫ জনের একজন। ওই ঘটনার পরেই নাগেশ্বরও মালেতে যোগ দেন এবং বর্তমানে তিনি পার্টির পাটনা জেলা কমিটির সদস্য।
নতুন আন্দোলনের জন্ম
১৯৪০-এর দশকে, ভোজপুর অঞ্চলের চৌগাইন ও জগদীশপুরের গ্রামগুলোতে ডুমরাও রাজ, গয়ার টেকারি রাজ এবং দ্বারভাঙার দ্বারভাঙা রাজের মত সামন্ত প্রভুদের বিরুদ্ধে জোরদার সশস্ত্র আন্দোলন পরিচালনা করার পরেও সিপিআই বিহারে সেভাবে ছড়াতে পারেনি। অন্যতম প্রধান অন্তরায় ছিল জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বাধীন সমাজবাদীদের উপস্থিতি।
কিন্তু সমাজবাদীরা যেহেতু ধীরে ধীরে মধ্যপন্থী হয়ে উঠছিল, তাই কমিউনিস্ট পার্টিগুলোর প্রভাব বিস্তারের এক নতুন ক্ষেত্র ও সুযোগ তৈরি হয়। ১৯৬৪ সালে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টি দ্বিখণ্ডিত হওয়ার বিশেষ প্রভাব বিহার সিপিআইয়ের উপর পড়েনি। কারণ নবগঠিত সিপিএম বিহারে প্রান্তিক শক্তি হিসাবেই থেকে গিয়েছিল। ১৯৬৬ সালে বিহারে ভয়াবহ খরা এবং দুর্ভিক্ষের ফলে বামপন্থীদের প্রতি গরিব মানুষের সমর্থন বাড়তে থাকে। গঙ্গার উত্তরে বেগুসরাই, মধুবনী ও উত্তর চম্পারণ, দক্ষিণে নালন্দা, জাহানাবাদ ও পাটনার মত জেলাগুলোতে বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি গড়ে ওঠে।
সশস্ত্র সংগ্রামের ফলে নকশালপন্থী আন্দোলন জনমানসে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। উত্তর বিহারের মুজফফরপুর জেলার মুশাহারি ব্লকে রাজকিশোর সিংয়ের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ১৯৬৮ সালের এপ্রিল মাস থেকেই সংবাদের শিরোনামে উঠে আসে। এদিকে নারায়ণ সান্যাল (নবীন প্রসাদ ওরফে বিজয়দা) এবং সুব্রত দত্তর (জওহর) মত নেতারা বাংলা থেকে ১৯৬৮ সালেই বিহারে যেতে শুরু করেন। ১৯৬৯ সালের এপ্রিলে চারু মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত সিপিআইএমএলের বিহার ইউনিট প্রথম দিন থেকেই সক্রিয় হয়ে উঠেছিল।
১৯৭০-৭১ সালে প্রথম পর্যায়ের ধাক্কার পরে জাহানাবাদ ও পালামৌ অঞ্চলের চারু মজুমদারপন্থী কর্মীরা নারায়ণ সান্যালের নেতৃত্বে আবার সংগঠিত হন। কিন্তু ১৯৭৩ সালের মধ্যে জওহর ছাড়া নতুন নেতৃত্বের প্রায় সবাই গ্রেপ্তার হয়ে যান। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠে ১৯৭৪ সালে জওহর, বিনোদ মিশ্র এবং স্বদেশ ভট্টাচার্য মিলে সিপিআইএমএলের চারু মজুমদারপন্থী অংশকে ফের সংগঠিত করেন। পরবর্তীকালে এই দলই হিন্দি বলয়ে মালে নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
ওই দশকেই আরও দুটো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান শুরু হয়। যেসব নকশালপন্থী নেতা সিপিআইএমএলে যোগ দেননি, তাঁরা ১৯৬৯ সালের অক্টোবর মাসে কানাই চ্যাটার্জির নেতৃত্বে মাওয়িস্ট কমিউনিস্ট সেন্টার (এমসিসি) গঠন করেন। ১৯৭০ সালে এমসিসি সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের কাজের ভরকেন্দ্র বাংলা থেকে বিহারে স্থানান্তরিত করবে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ভরত নামে একজন সংগঠককে পাঠানো হয় গয়া, ঔরঙ্গাবাদ, পালামৌ, চাতরা, জাহানাবাদ প্রভৃতি এলাকায় সংগঠন গড়ে তুলতে। কিছুদিনের মধ্যে কানাই নিজেও বিহারে স্থানান্তরিত হন।
এদিকে ১৯৭৭ সালে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরে নারায়ণ সান্যাল এবং তাঁর সহযোগীরা ১৯৭৮ সালে গঠন করেন সিপিআইএমএলের আরেক নতুন গোষ্ঠী। তা পরবর্তীকালে সিপিআইএমএল পার্টি ইউনিটি বা পিইউ নামে পরিচিত হয়।
পরবর্তী দুই দশক গোটা বিহার এক অভূতপূর্ব সংঘাতের সাক্ষী। যেখানে জমির মালিকানা মূলত উচ্চবর্ণের কুক্ষিগত, সেখানে এই সংঘাতের পরিস্থিতি ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
রক্তাক্ত রণভূমি
আরওয়াল জেলার কামতা গ্রামে মালে কর্মীরা ব্যস্ত গ্রামীণ স্তরে প্রচারের কাজে। ‘বদলো বিহার, বদলো সরকার’ (বিহার বদলাও, সরকার বদলাও) স্লোগান দিয়ে তাঁরা মিছিল, সভা করছেন। এই কামতা গ্রামের পাশেই লখনপুর-বাথে। ১৯৯৭ সালে সেখানে ৬১ জন দলিতকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল ভূমিহার ও রাজপুত জমিদারদের কুখ্যাত অরাষ্ট্রীয় বাহিনী রণবীর সেনা, যা নাড়িয়ে দিয়েছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলকে। এই সেই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিবিজড়িত স্থান।
ষাটের কোঠায় পা দেওয়া মালে সংগঠক সুরেন্দ্র প্রসাদের গলায় প্রত্যয়ের সুর ‘ওই গণহত্যা আমাদের সবাইকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছিল, কিন্তু আমাদের লড়াই থামাতে পারেনি। আমরা এখনো এখানে জোরের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছি, রণবীর সেনা কিন্তু বহু আগেই হারিয়ে গেছে।’ বর্তমানে মালের দখলেই রয়েছে আরওয়াল বিধানসভা কেন্দ্র, কামতা ও লখনপুর-বাথে গ্রাম যার অন্তর্ভুক্ত।
দুটো গ্রামই শোন নদীর দক্ষিণ তীরে। বাথের ঠিক সমান্তরালে, নদীর ওপারে তারারি ব্লকের বাথানিটোলা গ্রাম। ১৯৯৬ সালে রণবীর সেনা প্রকাশ্য দিবালোকে এখানেই ঘটায় আরেকটা নৃশংস গণহত্যা। একুশ জনকে হত্যা করা হয়েছিল, বাচ্চা বুড়ো মহিলা কাউকেই বাদ দেওয়া হয়নি। বাথানিটোলায় এখনো মালের প্রভূত জনসমর্থন রয়েছে।
জমিদারদের জোতদারদের তৈরি জাতভিত্তিক ব্যক্তিগত সশস্ত্র বাহিনীর উত্থানের সাক্ষী বিহার। ১৯৭৯ সালে ভোজপুরে রাজপুত জমিদারদের কুঁয়ার সেনা এবং মগধাঞ্চলে কুর্মি জমিদারদের বাহিনী কিষাণ সুরক্ষা সমিতি আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৮৩ সালে মগধাঞ্চলেই গঠিত হয় কুর্মিদের ভূমি সেনা এবং যাদবদের লোরিক সেনা। ১৯৮৪ সালে ভোজপুর-মগধ এলাকায় ভূমিহারদের ব্রহ্মর্ষি সেনা এবং দক্ষিণ মগধে রাজপুতদের কিষাণ সংঘ গড়ে ওঠে। দক্ষিণ মগধাঞ্চলে পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে, যেমন ১৯৮৫ সালে, রাজপুতদের কিষাণ সেবক সমাজ, ১৯৮৯ সালে সানলাইট সেনা এবং ১৯৯০ সালে ভূমিহারদের সবর্ণ লিবারেশন ফ্রন্ট (এসএলএফ) আত্মপ্রকাশ করে। ওই বছরেই ভোজপুরে ভূমিহারদের বাহিনী কিষাণ সংঘ এবং রাজপুতদের কিষাণ মোর্চা নামে দুটো সংগঠন প্রকাশ্যে আসে।
সামন্তপ্রভুদের গঠিত এইসব জাতভিত্তিক সশস্ত্র অরাষ্ট্রীয় বাহিনীর পিছনে মদত ছিল পুলিশেরও। মালে, পার্টি ইউনিটি ও এমসিসির মত নকশালপন্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে এইসব সামন্ততান্ত্রিক বাহিনীর লাগাতার সংঘর্ষের ফলে বিহার বধ্যভূমিতে পরিণত হয়। পিপলস ইউনিয়ন ফর ডেমোক্র্যাটিক রাইটস (পিইউডিআর) ১৯৮৩ সালে অ্যান্ড কোয়ায়েট ফ্লোজ দ্য গঙ্গা: এ ডকুমেন্টারি রিপোর্ট অন দ্য পলিটিকাল কিলিংস ইন রুরাল বিহার নামে একখানা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮০-১৯৮৩ শুধুমাত্র চাষাবাদজনিত উত্তেজনার কারণে ১৬৩ জনকে হত্যা করা হয় বিহারে। প্রতিবেদনে বলা হয় ‘এইসব সংঘাতের মূল উৎস হল, জমির অসম বণ্টন এবং ক্ষেতমজুরদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত রাখা।’
১৯৮০ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে গঠিত সিপিআইএমএল জনযুদ্ধ গোষ্ঠী বা পিপলস ওয়ার গ্রুপ (পিডব্লিউজি) ১৯৯৩ সালে তাদের বিহার শাখা গঠন করে। অন্যদিকে অরাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর মধ্যে সবথেকে কুখ্যাত ও নৃশংস রণবীর সেনা গঠিত হয় ১৯৯৪ সালে। এরা মূলত ভোজপুর, পাটনা, জাহানাবাদ, রোহতাস, ঔরঙ্গাবাদ এবং গয়া জেলায় তাদের কার্যক্রম চালাত। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল ও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ১৯৭৭-২০০১ অরাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোর সংগঠিত গণহত্যা এবং নকশালপন্থীদের প্রত্যাঘাতের ফলে মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়ে যায়।
কিন্তু শুধুমাত্র পুলিশ ও অরাষ্ট্রীয় বাহিনীই নয়, নকশালপন্থীদের নানা গোষ্ঠীও নিজেদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল। ২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে জনযুদ্ধ গোষ্ঠী অভিযোগ করে, মালে তাদের ৪০ জনেরও বেশি ক্যাডার বা স্কোয়াড সদস্যকে কয়েক মাসের মধ্যে হত্যা করেছে। ২০১০ সালে মালে অভিযোগ করে, প্রতিদ্বন্দ্বী নকশালপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হামলায়, তাদের নেতা, কর্মী, সমর্থক সহ ‘কমপক্ষে ২২৪ জন কমরেড’ প্রাণ হারিয়েছেন। শুধুমাত্র জাহানাবাদ-আরওয়াল অঞ্চলেই নিহত হয়েছেন ১২৭ জন। তার মধ্যে পিইউ-র হামলায় ৬৬ জন, এমসিসির হামলায় ২১ জন এবং জনযুদ্ধ গোষ্ঠীর হাতে ৪০ জন নিহত হয়েছেন।
জনযুদ্ধ, পিইউ আর এমসিসির মধ্যেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে থাকে। তারাও একে অপরের কর্মীদের হত্যা করতে থাকে। সিপিআইয়ের সঙ্গেও নকশালপন্থীদের সংঘর্ষ হত, বিশেষত সিপিআইয়ের তৎকালীন অন্যতম ঘাঁটি জাহানাবাদে। ১৯৬২-১৯৯৬, নবারের মধ্যে ছবার সিপিআই ওই আসনে জয়ী হয়েছিল। ১৯৮৪ সাল থেকে রামাশ্রয় প্রসাদ সিং পরপর চারবার জয়ী হন। নকশালপন্থী গোষ্ঠীগুলো, বিশেষত মালে, রামাশ্রয় প্রসাদ সিংকে ‘লোরিক সেনার মূল মাথা’ বলে চিহ্নিত করত।
২০০৪ সালে পিইউ, জনযুদ্ধ ও এমসিসি এক হয়ে গঠিত হয় সিপিআই (মাওবাদী)। ফলে মাওবাদীদের শক্তি বৃদ্ধি পায়। জাহানাবাদ জেল পালানোর চাঞ্চল্যকর ঘটনার মাধ্যমে পরের বছরই নবগঠিত ওই দল জাতীয় স্তরে সংবাদের শিরোনামে জায়গা করে নেয়। ওই অভিযানে তারা জাহানাবাদ জেলে বন্দি রণবীর সেনার ১২ জন কর্মীকে হত্যা করে এবং নিজেদের তিনশোর বেশি সহযোদ্ধাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
তবে এই রোমাঞ্চকর উত্থান বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এই ঘটনার কয়েক বছরের মধ্যেই মাওবাদীরা মগধ-ভোজপুর অঞ্চল প্রায় ছেড়ে দিয়ে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলাকীর্ণ পার্বত্য এলাকায় সরে যায়।
পাল্টানো সময়ের নতুন চ্যালেঞ্জ
সিপিআই রাজ্য কমিটি সদস্য হরিদেব ঠাকুর স্বীকার করে নিয়েছেন, জাতভিত্তিক পরিচিতি সত্তার রাজনীতি তাঁদের শ্রেণি রাজনীতিকে ক্রমশ দুর্বল করে দিয়েছে। তাঁর মতে, ১৯৯০-এর দশক থেকেই সাধারণ মানুষের কাছে মতাদর্শগত রাজনীতির আবেদন কমে গেছে। যুবসমাজ এখন আরও বেশি আত্মকেন্দ্রিক, তাদের সামনে এখন চোখ ধাঁধানো জীবন আর দ্রুত সাফল্যের হাতছানি। প্রতিবেদকের উদ্দেশে তিনি বলেন ‘লোকেরা এখন বলে যে সিপিআই কর্মীরা ভাল মানুষ, ঘুষ খায় না। তাই ওদের দিয়ে কোনো কাজও করিয়ে নেওয়া যাবে না।’ খানিক থেমে তাঁর সংযোজন ‘দুর্নীতির সাধারণীকরণ আমাদের রাজনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’
আরো পড়ুন বিহার সরকারের উপর নজরদারি করতে চায় লিবারেশন
পাটনার বাসিন্দা সাংবাদিক ও সমাজকর্মী নিবেদিতা ঝায়ের মতে, বিহারে বামপন্থার পুনরুত্থান হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জাতপাতের সমীকরণ এবং অর্থবল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত রাজনীতি এবং নির্বাচনী আবহে একমাত্র বামপন্থীরাই জনজীবনের প্রকৃত সমস্যাগুলো তুলে ধরতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ির রন্ধনকর্মীদের ন্যায্য মজুরি, সর্বজনীন ভোটাধিকার, নাগরিকত্ব যাচাই, মনরেগার বরাদ্দ সংকোচন এবং তার ফলে কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পলায়নের মত ইস্যুগুলো নিয়ে বামপন্থীরা আন্দোলন করেছে। তিনি মনে করেন, যেভাবে টাকা এবং জাতপাতের সমীকরণ সমগ্র রাজনৈতিক পরিসরকে নিয়ন্ত্রণ করছে, সেখানে বামেদের, বিশেষত সিপিআইকে, নিজেদের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য পরিস্থিতি আনুযায়ী নতুন গড়ে তুলে রণকৌশল ঠিক করতে হবে। নিবেদিতা বেশ জোরের সঙ্গে বলেন, ‘বামপন্থীরা যদি একটি ঐক্যবদ্ধ ব্লক হিসাবে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়, তাহলে হয়ত আরও ভাল ফল করতে পারবে।’
প্রতিবেদকের অনুমতিক্রমে আউটলুক পত্রিকায় প্রকাশিত ইংরিজি প্রতিবেদনের এই বাংলা ভাষান্তর প্রকাশিত হল। মতামত ব্যক্তিগত
ভাষান্তর: নীলাশিস বোস
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।








