বিজেপি/আরএসএস হিন্দুত্বের রাজনীতি করে একথা সবাই জানেন এবং মানেন। কিন্তু সেই হিন্দুত্বের স্বরূপ নিয়ে চর্চা, আলোচনা, বিশ্লেষণ খুব একটা হয় না। বিনায়ক দামোদর সাভারকর খুব স্পষ্ট করেই হিন্দুধর্ম এবং হিন্দুত্ব, অর্থাৎ যে ধারণার উপর তাঁর রাজনৈতিক নির্মাণটি গড়ে উঠেছে, তার পার্থক্য বলে গেছেন। বর্তমান প্রবন্ধে সেই বক্তব্যের গভীরে যাবার অবকাশ নেই। কিন্তু সাভারকরের হিন্দুত্ব যেহেতু একটি রাজনৈতিক প্রকল্পকে নির্মাণ করে, তাই তা খুব সঙ্গত কারণেই তীব্রভাবে একমাত্রিক এবং ইতিহাসবর্জিত হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করার খুব একটা সুযোগ নেই। সমস্ত শাসকের রাজনীতিই এই গোত্রের। নইলে আমরা সবাই জানি যে, তথাকথিত হিন্দুধর্মের মূলে রয়েছে যে বৈদিক ধর্ম, তার প্রধান দেবতা ইন্দ্র চূড়ান্ত মাতাল। ইন্দ্র দেবরাজ বলে কথিত। ঋগ্বেদে ইন্দ্রস্তুতি একটি প্রধান বিষয়। সেখানে ছত্রে ছত্রে লেখা আছে ইন্দ্রের সোমাসক্তির কাহিনী। সোমরস পান করে উল্লসিত ইন্দ্রের যুদ্ধে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার বহু কাহিনী ঋগ্বেদে বর্ণিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পঞ্চম মণ্ডলের ৩৫ নম্বর সূক্তের দ্বিতীয় ঋক্ দ্রষ্টব্য: “ইন্দ্র সোমরস দ্বারা নিজ উদর পরিপূর্ণ করিয়াছিলেন এবং সুমধুর রস পানে উল্লসিত হইয়াছিলেন। অনন্তর মৃগনামক শত্রুকে সংহার করিতে ইচ্ছা করিয়া অপরিমিতবলশালী মহাবজ্র উত্তোলন করিয়াছিলেন।” আর একটি উদাহরণ নেওয়া যাক। চতুর্থ মণ্ডলের ২৬ নম্বর সূক্তের তৃতীয় ঋক্। এখানে ইন্দ্র নিজেই বলছেন “আমি সোমপানে মত্ত হইয়া শম্বরের নবনবতিসংখ্যক পুরী এককালে ধ্বংস করিয়াছি।”

আমি মাত্র দুখানা উদাহরণ দিলাম। ঋগ্বেদে এরকম ঋকের সংখ্যা অনেক। বিজেপির হিন্দুত্ব অনুযায়ী বলতে হবে, খোদ ঋগ্বেদ ইন্দ্রের মানহানি করেছে। এখন কার বিরুদ্ধে এফআইআর হবে সে অবশ্য অন্য কথা। কথা আরও আছে। মানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে অনেক কথাই বলা যায়। কূটতর্ক সম্ভব, যে সোম এবং সুরা এক নয়। মহুয়া মৈত্রের বিরোধিতা করতে গিয়ে কেউ কেউ বলেছেন দেখলাম, কালীর পুজোয় মদ নয়, কারনবারি দেওয়া হয়। কয়েক দশক আগে অপাপবিদ্ধ কৈশোরে লোকে যেমন বলত “আমি মদ নয়, ব্র‍্যান্ডি খেয়েছি।” এই ধরণের কূটতর্ককে গুরুত্ব না দিয়ে আমরা বরং আলোচনার আরও একটু গভীরে যাই।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

তৃণমূল কংগ্রেস মহুয়া মৈত্রের পাশে দাঁড়ায়নি। দাঁড়াবার কথাও নয়। “ওটি তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য” বলে দায় এড়িয়ে গেছে। বিজেপি নেতারা সারা দেশ থেকে গর্জন শুরু করেছেন, “মামলা করব মোকদ্দমা করব”, “দেবীর অবমাননা মানব না” ইত্যাদি। মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপিবিরোধী হম্বিতম্বি হিন্দুত্বের প্রশ্ন উঠলেই যে ফুটো হয়ে যায়, একথা রাজ্যবাসী খুব ভালোই জানেন। বিজেপি তারস্বরে গণপতি বাপ্পা করছে তো তৃণমূলও আরও জোরে মাইক লাগিয়ে তা-ই করছে। বিজেপি রামনবমী করছে তো তৃণমূল তাকে ছাপিয়ে গিয়ে একই কাজ করছে। হনুমানকে নিয়েও বিজেপি, তৃণমূলে সাংঘাতিক টানাটানি। হিন্দুত্বের প্রশ্নে তৃণমূল সদাই বিজেপির থেকে বড় বিজেপি হয়ে ওঠার চেষ্টায় নিয়োজিত। অথচ বিজেপির হিন্দুত্বের ধারণার সাথে বঙ্গীয় হিন্দুধর্মের তীব্র বিরোধ খুব সহজেই বোঝা যায়। তৃণমূল কখনোই সেই বিরোধকে কাজে লাগিয়ে বিজেপিকে তার মাঠেই হারিয়ে দেবার হিম্মত দেখায়নি। সেই সাংস্কৃতিক উচ্চতা এই পার্টির নেই।

সেই উচ্চতা কি ভারতীয় বামেদেরও আছে? তাদের বিভিন্ন ধারা, উপধারা গত একশো বছর ধরে মূলত জোর দিয়েছে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের লড়াইয়ে। এটাকেই তাঁরা ভেবে নিয়েছেন শ্রেণি রাজনীতি। সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের প্রশ্নটি তাঁদের কাছে হয় অপাংক্তেয় থেকেছে অথবা সেটিও আবর্তিত হয়েছে খুবই খণ্ডিত চেহারায় ওই তথাকথিত “ভাতের লড়াই”-এর চারপাশেই। ফলে এক ধরনের জঙ্গী অর্থনীতিবাদের গণ্ডির মধ্যেই তাঁরা ঘোরাফেরা করেছেন এবং তাকেই বাম রাজনীতি বলে ভেবে নিয়েছেন। তাঁরা দেখতে চাননি, মার্কস-এঙ্গেলস কী নিবিড়ভাবে এবং বিস্তারিতভাবে খ্রিস্টধর্ম নিয়ে চর্চা করেছেন, আলোচনা করেছেন। যদিও তাঁদের এই কাজের চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিলেন নব্য হেগেলীয়রা, বিশেষ করে ব্রুনো বাউয়ের। কিন্তু বাউয়ের এবং তাঁর কমরেডদের পেটিবুর্জোয়া কট্টরতা থেকে মার্কস নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজস্ব পথে হেঁটেছিলেন। ‘পবিত্র পরিবার’ এবং ‘ইহুদী প্রশ্ন’—এই লেখাগুলোতে সেই সংক্রান্ত পার্থক্য নিয়ে আলোচনা আছে। কিন্তু খ্রিস্টধর্মের মূলগত সমালোচনার অনেক কাজই হেগেলীয়রা করে গিয়েছিলেন। তথাপি মার্কস তাতে ঢিলে দেননি। ব্রিটিশ কমিউনিস্টরা যে অধ্যবসায়ে ইংল্যান্ডে খ্রিস্টধর্মের ইতিহাস চর্চা করেছেন তা-ও প্রণিধানযোগ্য। এমনকি, অ্যানাব্যাপটিজম মতামত কীভাবে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার জন্ম দিয়েছে তার ইতিহাস চর্চা তো এককথায় অনবদ্য। প্রকৃতপক্ষে দেশে দেশে মূলধারার ধর্মগুলির বাইরেকার প্রতিবাদী লোকায়ত ধর্মমতগুলির সঙ্গে সমাজতন্ত্রীদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থেকেছে এবং এখনো আছে। চীনে বিপ্লবের আগে পালিয়ে বেড়ানো কমিউনিস্ট নেতারা যে প্রায়শই বৌদ্ধ মঠে আশ্রয় নিতেন সেকথা অনেকেই জানেন। লাতিন আমেরিকা জুড়ে মুক্তিকামী চার্চগুলি যে বিপ্লবের সমর্থক সেকথাও বহু চর্চিত। আজও আমেরিকাতে কমিউনিস্টদের বহু গোপন বৈঠক যে লাতিন আমেরিকান চার্চে হয়ে থাকে সে কথাও ওয়াকিবহাল বন্ধুদের কাছ থেকে শুনতে পাওয়া যায়। সেই তুলনায় ভারত তো এমন একটা দেশ যেখানে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের চর্চা ছাড়া সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ একপ্রকার অসম্ভব। অথচ ভারতীয় বামেরা মার্কসবাদকে ছোট করে বামনাকৃতিতে বোঝার ফলে শুধু পেটের লড়াইতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেলেন এবং ক্রমশ ক্ষয়ে গেলেন। ফলত, পেটের লড়াইটাও ভাল করে করে উঠতে পারলেন না, অন্যদিকে ফাঁকা মাঠে বিজেপি ক্রমশ ফুলে ফেঁপে উঠল।

খ্রিস্টধর্ম অথবা ইসলাম তুলনায় নবীন ধর্মমত। আমরা অধুনা যাকে হিন্দুধর্ম বলে জানি, তার উৎস যদি হয় বৈদিক ধর্মচর্চা, তাহলে তার ইতিহাস অনেক প্রাচীন। ফলত, তার একটা বহুমাত্রিক জটিল চেহারা আছে। ঋগ্বেদের আদি দেবতারা, যথা ইন্দ্র, মিত্র, বরুণ, অগ্নি, অশ্বিনী ভ্রাতারা অনেক আগেই ধীরে ধীরে পিছনে চলে গিয়েছেন, অনেকেই মুছে গেছেন। এর গভীর সমাজতাত্ত্বিক কারণ আছে। আমরা তার ভিতর এই লেখায় ঢুকব না। কিন্তু লক্ষণীয় হল, শ্রেণিবিভক্ত সমাজের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ‘হিন্দুধর্মে’ নতুন দেবতার আবির্ভাব হয়েছে। রামচন্দ্র তেমনই একজন নতুন দেবতা। অন্যদিকে, শাসকশ্রেণির পক্ষে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী এবং কার্যকরী যে দর্শন উপনিষদের সময় থেকে আজ পর্যন্ত সক্রিয় থেকেছে, সেই অদ্বৈত বেদান্ত দেবতাদের স্বীকার করেনি। একমাত্র ব্রহ্ম ছাড়া অন্য কোনো কিছুকেই এই দর্শনে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। দেবতা বলতে আমরা যা বুঝি, ব্রহ্মের ধারণা কিন্তু তা নয়। ব্রহ্ম কোনো কার্য করেন না, কোনো কার্যের দ্বারা প্রভাবিতও হন না। কিন্তু অদ্বৈত বেদান্তের সর্বাপেক্ষা সফল নেতা আচার্য শংকর কিন্তু রাজনীতিতে ছিলেন বাস্তববাদী। তাঁর বুঝতে ভুল হয়নি, যে মধ্য এবং পূর্ব ভারতে আর্যবিস্তারের ফলে যে নতুন এলাকায় বৈদিক পদার্পণ ঘটছে সেখানে শক্তি সংহত করতে গেলে সেখানকার লোকায়ত ধর্মগুলিকে এক বৃহৎ ছাতার তলায় নিয়ে আসতে হবে। এই বৃহৎ ছাতাটিই কালে কালে হিন্দুধর্ম বলে পরিচিত হয়। সুতরাং, মধ্য এবং পূর্ব ভারতের তন্ত্রমতকে হিন্দু মত হিসাবে যখন ধরে নেওয়া হল, তখন এক আদি দ্বন্দ্বের সমাধান করা হল তন্ত্রকে আত্মসাৎ করে। তন্ত্রের আদি উৎস যে সাংখ্য মত, যাকে শংকর নিজেই তাঁর ব্রহ্মসূত্রভাষ্যে সর্বাপেক্ষা আক্রমণ করেছেন এবং মল্লভূমিতে প্রধান মল্ল বলে অভিহিত করেছেন, পরবর্তীকালে সেই সাংখ্যের বিষদাঁত উৎপাটন করে গীতায় প্রক্ষিপ্ত করে দেখানো হল, আহা, দ্যাখো, সাংখ্য বেদান্ত ভাই ভাই। ফলে তন্ত্রাচার কালে কালে হিন্দুধর্ম হয়ে দাঁড়াল। কালীর আরাধনা অবশ্যই তন্ত্রাচার, কারণ তা শক্তিসাধনা। তাকে ঈষৎ সংস্কৃত করে যতই বৈদিকঘেঁষা বানানোর চেষ্টা হোক না কেন, কালীসাধনা প্রকৃতপক্ষে তন্ত্রাচারই। নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী এসব জানেন না তা নয়। কিন্তু এসব বলতে বর্তমান ভারতে বুকের পাটা লাগে, যা তাঁর নেই, তাঁর দলেরও নেই।

আরো পড়ুন সবই ব্যাদে আছে ক্যালেন্ডার: একটি গর্বের মৃত্যু

তা-ও তো মহুয়া মৈত্র কালীসাধনায় শুধু মদ্য এবং মাংসের কথাই বলেছেন। তন্ত্রাচার আসলে পাঁচটি ম-এর উপর প্রতিষ্ঠিত। মদ্য, মাংস, মৎস্য, মুদ্রা এবং মৈথুন। পশ্চিমবঙ্গে এখনো তো মৈথুন বিতর্ক উত্থাপিতই হয়নি। মদ্যেই যদি তৃণমূল পালানোর পথ না পায়, বিজেপির রক্তচক্ষুর সামনে গুটিয়ে যায়, তবে মৈথুন বিতর্কে কোথায় দাঁড়াবে? পূর্ব এবং মধ্য ভারতের মন্দিরগাত্রে কেন যৌনতার ছড়াছড়ি, তা নিয়ে ফ্যাসিবিরোধী শক্তিগুলোর আদৌ কোনো চর্চা আছে? ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির ছোট, বড় নানা নেতা নানা সময়ে মন্দির ধ্বংসের নিদান দিয়েছেন। সেইসব মন্দির, যেখানে তন্ত্রাচারী কামাচার খোদিত হয়েছে। সুতরাং শুধু মসজিদ নয়, মন্দিরও তাঁদের লক্ষ্য। বামেরা তো এসব প্রসঙ্গে ঢোকেনই না। ফালতু জ্ঞানে পরিত্যাগ করে তাঁরা শুধু রান্নার গ্যাসের দামবৃদ্ধির বিরুদ্ধে কামান দেগে ফ্যাসিবাদ আটকানোর স্বপ্নে বিভোর। অথচ পূর্ব ভারতে বিজেপির একগুঁয়ে একমাত্রিক রামকেন্দ্রিক পুরুষতান্ত্রিক হিন্দুত্ব বিপুল প্রতিরোধের সামনে পড়তে পারে আঞ্চলিক লোকায়ত ধর্মমতগুলির সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের দ্বারা। প্রখ্যাত মার্কসবাদী দার্শনিক দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় দেখিয়েছিলেন ভারতে তন্ত্র-সাংখ্য-চার্বাক – এই ধারাবাহিকতাতেই প্রোটোবস্তুবাদ থেকে বস্তুবাদের বিকাশ ঘটেছে। তা আবার একইসঙ্গে বৈদিক পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে তান্ত্রিক বামাচারী নারীবাদের বিদ্রোহও বটে। তন্ত্রের কাম-ধারণা তাই বৈদিক কাম-ধারণার থেকে চিরকালই আলাদা থেকেছে। বৈদিক দেবতারাও যে পুরুষপ্রধান, তা তাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার প্রতিফলন। অন্যদিকে তান্ত্রিক কামাচার মূলত বামাচার। ‘বামা’ শব্দের অর্থ নারী। তান্ত্রিক কামাচার তাই নারীর নেতৃত্বে পরিচালিত এক সাধনা হিসাবে বিরাজ করেছে, যার লক্ষ্য জৈবিক লিঙ্গ নির্বিশেষে সাধকের নারীত্বপ্রাপ্তি। “বামা ভূত্ত্বা যজেৎ পরম!” কারণ মাতৃতান্ত্রিক সমাজ থেকে উদ্ভূত তান্ত্রিক কামাচার বিশ্বাস করেছে, যে চৈতন্যে নারী হয়ে উঠতে না পারলে সমাজের প্রকৃত উৎপাদক হয়ে ওঠা যায় না। মদ্য, মাংস, মৎস্য হল কামাচারের অংশ যা নারীশক্তির (কুলকুণ্ডলিনী) উত্থানের মধ্যে দিয়ে পুরুষ ও প্রকৃতির মিলনের ফলে সর্বচৈতন্যকে এক পরম নারীত্বে বিলীন করে দেওয়া। এই হল শক্তিসাধনার মূল কথা। কালীসাধনা তারই এক বিশেষ রূপ মাত্র। বিজেপির রামচন্দ্রীয় হিন্দুত্বের সঙ্গে এর তীব্র বিরোধ রয়েছে।

কিন্তু সে বিরোধকে কাজে লাগিয়ে এক দেশজ প্রতিরোধী সংস্কৃতির জন্ম দিতে পারবে কি বিজেপিবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো? যা বৈদিক সূত্রে আগত বর্ণ-জাতি বিভাজনকে নির্মূল করার রাজনীতি এবং লিঙ্গসংগ্রামের রাজনীতির সঙ্গে ফ্যাসিবিরোধী রাজনৈতিক সংগ্রামের সফল মেলবন্ধন ঘটিয়ে এক নতুন ভারত গড়ে তুলবে? ডান, বাম নির্বিশেষে রাজনৈতিক চৈতন্যের যা অবস্থা তাতে আপাতত সে সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

মতামত ব্যক্তিগত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.