পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে যে রাজনৈতিক হিংসা শুরু হয়েছে তা অস্বীকার বা উপেক্ষা করার কোন উপায় নেই। সংবাদমাধ্যম থেকে নির্বাচন কমিশন হয়ে আদালতের আঙিনায় গড়িয়েছে তার চর্চা, বেড়েছে রাজনৈতিক চাপান উতোর। এই রাজ্যে তথা দেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক হানাহানি নতুন নয়। বাম জমানা বা তারও আগে কংগ্রেস আমলে নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলো নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। কাজেই বর্তমানের হিংসার ঘটনাগুলোর নিন্দা করার সময়ে অতীতের ঘটনাগুলোর কথা আউড়ে দায় এড়ানোর কোনো উপায় নেই। রাজনৈতিক হিংসা অবশ্য শুধু নির্বাচনকালে সীমিত নয়, এটা বারোমাসের ব্যাপার। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর (এনসিআরবি) প্রতিবেদন বলছে, ২০২১ সালে ৩৪টি রাজনৈতিক হিংসা এবং সংশ্লিষ্ট সাতটি খুনের ঘটনা ঘটেছে এ রাজ্যে। কিন্তু তথ্যের অধিকার আইন নিয়ে সক্রিয় জনৈক বিশ্বনাথ গোস্বামীর আদায় করা তথ্য থেকে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সেই অনুযায়ী, ২০২১ সালে অন্তত ৪০৭টি রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা এবং ৪৯টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। তথ্য নিয়ে মতান্তর থাকলেও, মানতেই হবে রাজনৈতিক হিংসা নামক ব্যাধি আমাদের অতি পরিচিত। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালেও ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন দশজন এবং এই হানাহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কমবেশি সব দলের মানুষ।
কথা হচ্ছে নির্বাচনের সময়ে এবং সাধারণভাবে সারাবছর যে রাজনৈতিক হানাহানি লেগেই থাকে তার কারণ কী? এর জন্য দায়ী কে, আর এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কারা? কারাই বা এর সুযোগ নিচ্ছেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে? দলীয় রাজনীতির কোন্দলের বাইরে থেকে দেখলে যা সহজেই বোঝা যায়, এই হিংসার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গরীব মানুষ আর সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের নির্বাচনী গণতন্ত্রের ভাবমূর্তি।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
রাজনৈতিক হিংসা আসলে হয় না, করানো হয়। হিংসার মূল কারণগুলি সন্ধান করলে বেরিয়ে আসে রাজনৈতিক অবক্ষয়, জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতার অভাব, অন্ধ ও সঙ্কীর্ণ দলীয় রাজনীতির নামে ক্ষমতা দখলের লড়াই, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব ইত্যাদি মৌলিক বিষয়। এর সঙ্গে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, গণতন্ত্রের নানা প্রতিষ্ঠানের কাজকর্মে ঢিলেমি ইত্যাদি পরিস্থিতিকে জটিলতর করে তোলে। সর্বোপরি পঞ্চায়েত স্তরে বিকেন্দ্রীকরণের মূল উদ্দেশ্য – জনগণের প্রশাসনে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা – তার প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর নিষ্ঠা ও সদিচ্ছার অভাব, পঞ্চায়েত নির্বাচনকেও বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনের মতই ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে পরিণত করেছে। কাজেই আজ মানুষের এজেন্ডার বদলে পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের এজেন্ডারই রমরমা।
২০২৩ সালের সমীক্ষায় ধরা পড়েছে, অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীই পঞ্চায়েতের সভা সমিতি সম্পর্কে অবহিত হলেও সক্রিয়ভাবে তাতে অংশ নিতে পারেন কম। প্রায় ১০০% অংশগ্রহণকারী ভোট দেওয়াকে নাগরিক কর্তব্য বলে স্বীকার করেন। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধ করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁদের সম্যক ধারণা নেই।
এই রাজ্যে, তথা দেশে, পঞ্চায়েত নির্বাচন আসলে হয়ে উঠেছে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের প্রথম সোপান, ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করার প্রস্তুতি। সেই প্রস্তুতি বা প্রচারে শাসক দল নির্দ্বিধায় কাজে লাগায় চালু থাকা জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলির জনপ্রিয়তাকে। সাধারণ মানুষ তো পরের কথা, বিরোধী দলগুলিও মনে করিয়ে দিতে ভুলে যায়, জনকল্যাণমুখী প্রকল্প সাধারণ মানুষের অধিকার, কোনো রাজনৈতিক দলের দয়ার দান নয়। এছাড়া পঞ্চায়েতের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন খাতে যে বিপুল টাকা প্রবাহিত হয়, তা নিয়ে দুর্নীতি, ব্যক্তিস্বার্থের সংঘাতও রাজনৈতিক হিংসায় ইন্ধন যোগায়।
বিভিন্ন নির্বাচনের আগে, পরে এবং প্রায় গোটা বছর ধরে আমাদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (এডিআর) ন্যাশনাল/স্টেট ইলেকশন ওয়াচ যেসব সমীক্ষা ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তাতে সবসময়েই নির্বাচনে ক্রমবর্ধমান অর্থশক্তি ও পেশীশক্তির প্রভাবের কথা উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বলা বাহুল্য, পঞ্চায়েত নির্বাচনও তার ঊর্ধ্বে নয়। আমাদের তথ্য বলছে, এ রাজ্যে ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে ১৮ শতাংশের বিরুদ্ধে এবং জয়ী প্রার্থীদের ৩৭ শতাংশের বিরুদ্ধে ছিল নানাবিধ ফৌজদারি মামলা। এক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলই সমান (বিজেপির ৩ জন, তৃণমূল কংগ্রেসের ৩১%, সিপিএমের ৫০%, কংগ্রেসের ৫০%)। প্রার্থীদের গড় সম্পত্তির মূল্য ছিল ৬০ লাখ টাকার মত। অন্যদিকে ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের মধ্যে ২৫ শতাংশের বিরুদ্ধে এবং জয়ী প্রার্থীদের ৪৯ শতাংশের বিরুদ্ধে মামলা ছিল (বিজেপি ৬৫%, তৃণমূল ৪৩%), প্রার্থীদের গড় সম্পত্তির মূল্য ছিল ২.৫৩ কোটি।
পঞ্চায়েত নির্বাচনেও অর্থ ও পেশীশক্তির প্রভাব যে অনেকখানি, তা আমাদের রাজ্য স্তরে করা সমীক্ষায় ধরা পড়েছে। সাতটি জেলার ১১টি পঞ্চায়েতে র্যান্ডম সার্ভে থেকে উঠে আসা তথ্য বলছে, ৬০% অংশগ্রহণকারী (রেসপন্ডেন্ট) মনে করেন, স্থানীয় নির্বাচনে টাকা ও পেশীশক্তি নির্ণায়ক ভূমিকা নেয়। ২০১৮-১৯ সালে এডিআরের সর্বভারতীয় সমীক্ষাতেও দেখা গেছে, ৪১% মানুষ এই মত পোষণ করেন। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী বা দলের নির্বাচনী ব্যয়ের কোন ঊর্ধ্বসীমা থাকে না, যদিও গাড়ি ইত্যাদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ন্ত্রণের কথা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব দলের কাছেই জয় লাভ মোক্ষ আর সেই কারণেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধ রাখার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কিন্তু আমাদের সর্বভারতীয় তথা পশ্চিমবঙ্গে করা একাধিক সমীক্ষা এই ইঙ্গিত দেয়, যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সংস্কৃতি জনপরিসরে সেভাবে গড়ে ওঠেনি, রয়েছে জনসচেতনতার অভাব। আমাদের রাজ্যের সমীক্ষা থেকে স্পষ্ট হয়, তৃণমূল স্তরে দল ভেদে এক স্থায়ী বিভাজন তৈরি হয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক দলগুলো নাগরিকদের নিছক ভোটার ও ভোটযুদ্ধের সৈনিক হিসাবে দেখে, অন্যদিকে নাগরিক বা ভোটাররাও তাঁদের নাগরিক অধিকার বা কর্তব্যের উপরে স্থান দেন দলীয় আনুগত্যকে। এইভাবে শুধু পঞ্চায়েত নয়, নির্বাচনী গণতন্ত্রের ভিতই ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। ২০১৮-১৯ সালে এডি আরের সর্বভারতীয় সার্ভেতে এবং ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ ইলেকশান ওয়াচের ক্ষুদ্র সমীক্ষাতেও ধরা পড়ে, ভোটাররা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থীর ব্যাপারে কম সচেতন। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের কাছে দলের প্রধানের মুখ প্রধান বিচার্য বিষয়, তারপরে দল, শেষে প্রার্থী।
আমাদের সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, ৪১% ভোটার মনে করেন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করে টাকা, মদ ইত্যাদি বিতরণ। তাছাড়া ৩৫% ভোটার মনে করেন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত প্রার্থীদের ভোট দেওয়া যায়, যদি তাদের কাজ করার ইতিহাস ভাল হয়। যদিও ৯৭% ভোটার মনে করেন মামলায় অভিযুক্ত প্রার্থীর জয়ী হওয়া উচিত নয়, মাত্র ৩৫% ভোটার জানেন কোথা থেকে প্রার্থী সম্পর্কে খোঁজ পাওয়া যাবে।
আমাদের সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে রাজনৈতিক হিংসার ব্যাপারে মানুষের বিরক্তি ও উদ্বেগ। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, কার কাছে অভিযোগ করলে রাজনৈতিক হানাহানির অবসান হবে তা মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। মাঝখান থেকে হানাহানির খবরের আড়ালে মানুষের সত্যিকারের দাবিদাওয়া হারিয়ে যাচ্ছে, প্রচারের আলোয় আসছে না। আমাদের সমীক্ষায় ৯৫% মানুষ জানিয়েছেন পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হওয়া উচিত স্থানীয় সুশাসন, ৭০% মানুষ মনে করেন যে স্থানীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় অংশগ্রহণের সুযোগ আরও অবাধ হওয়া দরকার। অন্যদিকে ২০% মানুষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ করলেও ৫৫% মানুষ বলেছেন পঞ্চায়েতের কাছে তাঁদের যা প্রত্যাশা ছিল তা অনেকাংশেই পূর্ণ হয়েছে।
৪১% ভোটার মনে করেন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করে টাকা, মদ ইত্যাদি বিতরণ। তাছাড়া ৩৫% ভোটার মনে করেন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত প্রার্থীদের ভোট দেওয়া যায়, যদি তাদের কাজ করার ইতিহাস ভাল হয়।
অন্যদিকে ২০১৮-১৯ সালে সর্বভারতীয় সমীক্ষার অংশ হিসাবে এ রাজ্যের সমীক্ষায় ধরা পড়েছিল গ্রামীণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা তথা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ণায়ক বিষয়গুলি। প্রথম পাঁচে ছিল কৃষি বিষয়ক পরিকাঠামো, চাষের জন্য ঋণ পাওয়ার সুযোগ, ফসলের দাম, চাষের জন্য জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সঠিকভাবে পাওয়া। আর এই পাঁচ ক্ষেত্রে সরকারের কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীরা সরকারের কাজকে পাঁচের মধ্যে যথাক্রমে ২.২৬, ২.২২, ২.১৮, ২.১২ ও ২.৮১ নম্বর দিয়েছিলেন। অর্থাৎ সরকারের কাজে মানুষ তেমন সন্তুষ্ট ছিলেন না। কর্মসংস্থানের ব্যাপারে তাঁরা সরকারকে মাত্র ২.০৯ নম্বর দেন।
তবে সরকারের কাজের সাফল্য বা বিফলতা পরবর্তী নির্বাচনকে কতটা প্রভাবিত করে, তা নিয়ে যে তথ্য উঠে এসেছে তা স্পষ্টতই বোঝায়, মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। ভোট দেওয়ার ব্যাপারে দলীয় প্রধান, তারকা মুখ বা স্বজাতি, স্বধর্মের প্রার্থীদের প্রাধান্য দিচ্ছেন ভোটাররা। দুর্নীতি ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ইস্যু হয়ে উঠছে না। ২০২৩ সালের সমীক্ষায় ধরা পড়েছে, অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীই পঞ্চায়েতের সভা সমিতি সম্পর্কে অবহিত হলেও সক্রিয়ভাবে তাতে অংশ নিতে পারেন কম। প্রায় ১০০% অংশগ্রহণকারী ভোট দেওয়াকে নাগরিক কর্তব্য বলে স্বীকার করেন। কিন্তু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধ করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁদের সম্যক ধারণা নেই।
সামগ্রিকভাবে এর থেকে মানুষের সত্যিকারের রাজনৈতিক সচেতনতার অভাব প্রকট হয়। রাজনৈতিক দলগুলিরও জনসচেতনতা বাড়াতে বা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থী দিতে অথবা নির্বাচনের ব্যয় নিয়ে স্বচ্ছ তথ্য দিতে অনীহাই দেখা গেছে এ যাবৎ। এহেন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট বৈতরণী পার করা কতটা সম্ভব – সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক হিংসা বাড়লেও এ সমস্যা বরাবরের। বারোমাস প্রতিটি গ্রামে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন সম্ভব নয়, গণতান্ত্রিকও নয়।
আরো পড়ুন পশ্চিমবঙ্গে এত বোমা কেন?
পঞ্চায়েত প্রশাসনের এমন এক স্তর, যেখানে গ্রামের প্রতিটি মানুষের সামনে নিজের উন্নয়নের রূপরেখা নির্ধারণের সুযোগ থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু আমাদের কাজের সূত্রে দেখছি, এই স্তরে দলীয় রাজনীতির চাপে সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ ও উৎসাহ কমছে, যা আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে।
২০২১ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের মধ্যে ২৫ শতাংশের বিরুদ্ধে এবং জয়ী প্রার্থীদের ৪৯ শতাংশের বিরুদ্ধে মামলা ছিল (বিজেপি ৬৫%, তৃণমূল ৪৩%), প্রার্থীদের গড় সম্পত্তির মূল্য ছিল ২.৫৩ কোটি।
রাজ্যের সর্বত্র পঞ্চায়েত নির্বাচন যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয় তার জন্য প্রতিটি মানুষ/ভোটারকে আরও সচেতন হতে হবে। ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে ভোট পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়বদ্ধ করার কাজটি করতে হবে নিয়মিতভাবে। এই নির্বাচনের উদ্দেশ্য জনকল্যাণকামী স্থানীয় সরকার গঠন, যারা সব মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে। তা ঘটছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব সাধারণ মানুষেরই। যতক্ষণ না মানুষ রাজনৈতিক দলগুলোকে পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে যে তারা দলীয় কোন্দলের ঊর্ধ্বে উঠে এক স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও গঠনমূলক সরকার চায়, ততক্ষণ গাদা গাদা পুলিস আর কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে উপসর্গের চিকিৎসাই হবে, মূল রোগ সারবে না। তার চেয়েও বড় কথা, যে আদর্শ নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, সেই আদর্শ – উন্নয়নে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ – বাস্তবায়িত হবে না।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







