সদ্যসমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপির পরাজয়ের নানাবিধ কারণের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি চেতনার একটা প্রভাব আছে বলে নানা মহলের আলোচনা এবং পর্যালোচনায় উঠে আসছে। সামগ্রিকভাবে পরিচিতির (identity) প্রশ্নটি নিছক হেলাফেলার বিষয় নয় বলে অনেকেই মনে করছেন। এমনকি এই পরিচিতির বিষয়ে যাদের কিছুটা ছুতমার্গ আছে,সেই বামপন্থীরাও মনে করছেন শ্রেণি আন্দোলনের সাথে পরিচিতি সত্তার গণতান্ত্রিক উপাদানগুলোকে মেশাতে হবে, সক্রিয় হতে হবে। চিন্তাশীল জনপরিসরেও এ নিয়ে কিছুটা চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপিকে যারা চালায়, সেই সংঘ পরিবারের হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানের আগ্রাসী আধিপত্যের সামনে বহুত্ববাদী ভারতের ভাষা, সংস্কৃতির ভিত্তিতে প্রত্যেকটি জাতিসত্তার লড়াই একটি শক্তিশালী অস্ত্র বলেই চিন্তাশীল ব্যাক্তিরা মনে করেন। কিন্তু এই অস্ত্র ব্যবহার করতে গেলে আত্মপরিচয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা দরকার। তার মধ্যেও ফাটল চিহ্ন থাকলে খুঁজে বার করা দরকার। আমাদের নাভিমূলে শায়িত দর্পন তুলে নির্মোহভাবে জাতির আত্মপ্রতিকৃতি খোঁজা দরকার — কোথায় আমাদের গৌরব, কোনটা আমার দুর্বলতা। মনে রাখতে হবে সংঘ পরিবার আহত বাঘের মত আমাদের দুর্বল গ্রন্থি খুঁজছে প্রত্যাঘাত করার জন্য। ইতোমধ্যেই তার কিছু উদাহরণ সামনে আসছে।

বাংলার প্রয়াত বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আহমেদ শরীফ লিখেছিলেন যে বাঙালি জাতি দুর্ভাগ্যজনকভাবে সুদীর্ঘকাল কোনও অখণ্ড ভূগোলে একই শাসনব্যবস্থার অধীনে থাকেনি। সংহত জাতিসত্তা হিসাবে বিকশিত হবার পথে এটা একটা বড় সমস্যা। ভাষা ধরলে বাঙালি জাতির বয়স মোটামুটি হাজার বছর। তারও আগে ছিল কয়েক হাজার বছরের প্রাক-বাঙালি জীবনচর্যা, বা বলা ভাল বাঙালি হয়ে ওঠার প্রস্তুতিকাল। তারও বহু আগে প্রাচীনকালে এখানে কোম বা উপজাতিদের বাস ছিল। তাদেরই নামে জনপদগুলির নাম। রাঢ় (মধ্য পশ্চিমবঙ্গ),বরেন্দ্র (উত্তরবঙ্গ),বঙ্গাল (পূর্ববঙ্গ), গৌড় ,সমতট, হারিকেল প্রভৃতি। ৭৪০খ্রীষ্টাব্দে বরেন্দ্রভূমিতে পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠা হল। এর দুশো বছরের মধ্যেই খ্রিষ্টীয় দশম শতকে মাগধী প্রাকৃতের অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষা তার নিজস্ব অবয়বে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ত্রয়োদশ শতকে বাংলায় তুর্কি আক্রমণ শুরু হয়। সমগ্র বাংলাকে জয় করতে তুর্কিদের একশো বছরের বেশি সময় লেগেছিল। তুর্কি আক্রমণের আগেই সুফি, দরবেশরা বাংলায় এসেছিলেন। তাঁদের প্রভাবে অনেকে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেন। হিন্দুধর্মের জাতপাতের কঠোর শৃঙ্খলের জন্যও অনেকে দলে দলে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেন। কিছু ধর্মান্তরকরণও হয়েছিল। ১৩৫৩ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ সোনারগাঁ দখল করার মধ্য দিয়ে সমগ্ৰ বাংলাকে ঐক্যবদ্ধ করেন। বাঙালি রক্ত সংমিশ্রণের জাতি। সাঁওতাল, কোল, ভিল, মুন্ডা, পারসিক, তুর্কি, আরবীয়, দ্রাবিড়, আর্যসহ সমস্ত বাইরের জাতির রক্তের চলাচল বাঙালির শরীরে। সেইজন্যই বাংলার সমাজ সংস্কৃতিতে সমন্বয়, সহাবস্থানের বিরাট গুরুত্ব। এই দেশের সাধারণ মুসলমান ও হিন্দুর দেহে একই রক্ত বহমান। যুগ যুগ ধরে পাশাপাশি বসবাস করেছে। জীবনযাত্রার পদ্ধতি একই — কৃষি অথবা কারিগরি বৃত্তি। হিন্দু পীরের দরগায় গেছেন, মুসলমানও বিপদে আপদে লৌকিক দেবদেবীকে স্মরণ করেছেন। রাজারাজড়াদের দর্প দাপটের বাইরে মধ্যযুগের শিল্প-সাহিত্যে সমন্বয় ও সম্প্রীতির অজস্র উদাহরণ আছে। তবে উত্তর ভারত থেকে আর্যরা আসার পরে জাত ব্যবস্থা বাংলাতেও ঢোকে।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

কর্নাটক থেকে আগত সেন শাসনামলে এই যুগসঞ্চিত পাপ আরও দৃঢ় হয় বাংলায়। আবার ব্রাক্ষণ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইও বাংলাতেই সর্বাধিক। চৈতন্য থেকে লালন, বিদ্যাসাগর, রামমোহনসহ আরো অনেকেই সেই অন্ধকারের উৎস থেকে উৎসারিত বাতিঘর। দিল্লি থেকে বারোশো মাইলের দূরত্ব, নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু,উর্বর ভূমি,অসংখ্য নদ-নদী,বিভিন্ন সংস্কৃতির সমন্বয়ের ফলে উদার অন্তরাত্মা — সব মিলিয়েই বাংলা একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য বহন করে। এই বৈশিষ্ট্যকে সে কিছুতেই ধ্বংস হতে দিতে চায় না। তাই মানুষ ভজনা করলেও দ্রোহ আর সংগ্রামের প্রতি ছিল তার অভগ্ন বিশ্বাস। তাই মুঘলদের বাংলা দখল করতে দীর্ঘ একত্রিশ বছর লেগেছিল। অসামান্য লড়াই করেছিল বাংলার বারো ভূইঞারা।

এরপর ১৭৫৭ সালে পলাশির সেই অভিশপ্ত যুদ্ধ। মীরজাফর, জগৎ শেঠদের বিশ্বাসঘাতকতায় অস্তমিত হয়েছিল বাংলার স্বাধীনতার সূর্য। তারপর দুশো বছরের পরাধীনতা। ব্রিটিশ কামানের সাহায্যেই ভারতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল একের পর এক স্বাধীন দেশীয় রাজ্যগুলো গ্রাস করার মধ্য দিয়ে। তা না হলে ভারতীয় বলে কোনও জাতি হয় না। ভারত বহু জাতির দেশ। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনই ভারতবোধের বাস্তব আধার ছিল। শুধু সেই কারণেই জাতি হয় না। তথাকথিত ভারতীয় জাতীয়তাবাদী ধারণার সঙ্গে বাঙালি জাতীয়তাবাদের একটা সাংঘর্ষিক জায়গা ছিল, কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের উন্মাদনায় তা ততটা প্রত্যক্ষ ছিল না। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি আত্মবলিদান বাংলার। আন্দামান সেলুলার জেলের ইট কাঠ পাথরের পাঁচিলে সে ইতিহাস আজও ফিসফিস কথা কয়। হায়, সেই বাঙালীকেই আজ রাষ্ট্র এনআরসির নাম করে বেনাগরিক করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বাংলার সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ভূমিকার জন্যই ব্রিটিশ বারবার বাংলার ভূগোলকে ভেঙেছে। ১৮৭৪ সালে সিলেটকে আসাম প্রদেশে যুক্ত করা হয়েছে। কবিতা লিখলেন বিষণ্ণ রবীন্দ্রনাথ। তারপরে ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ, ১৯১১ সালে মানভূমকে বিহারে ঢুকিয়ে দেওয়া। এরপর ১৯৪৭ সালে একদিকে স্বাধীনতা অর্জন, আরেক দিকে বাংলা ও পাঞ্জাব বিভাজন। যে বিভাজনের অন্যতম ভিত্তি দ্বিজাতিতত্ত্ব।

১৯০৫ সালের বঙ্গবিভাগ জাতীয়তাবাদ ও মাতৃভূমির প্রতি যে আবেগ তৈরি করেছিল, ১৯৪৭ এ এসে দেখা গেল সেই বাঙালি জাতীয়তাবাদ তার চরিত্র হারিয়েছে, সাম্প্রদায়িকতা দোষে দুষ্ট হয়েছে। দেশকে মাতা হিসাবে দেখতে সেই সময়ের জাতীয়তাবাদীরা বিশেষভাবে উৎসাহী ছিল এবং তাদের জাতীয়তাবাদে পৌত্তলিকতার ছায়া ছিল। ফলে মুসলিম লিগের মধ্যে কংগ্রেস বিরোধিতা প্রবল হয়ে উঠেছিল। বাঙালি সমাজের প্রধান সত্য ছিল শ্রেণি বিভাজন। আড়াআড়ি সেই বিভাজন বাঙালিকে ধনী ও দরিদ্র দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছিল। সাম্প্রদায়িকতা উপর তলায় হিন্দু ও মুসলমান মধ্যবিত্তের ভিতর প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতার ব্যাপার। কিন্তু নীচের তলার গরীব মানুষই তাতে সবচেয়ে ভুক্তভোগী। আর ব্রিটিশ তো দুই সম্প্রদায়ের নেতাদেরই উস্কানি দিচ্ছিল। সাম্রাজ্যের স্বার্থেই। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা এতদূর এগোত না, যদি না বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার প্রবেশ পথ তৈরি করে দেওয়া হত। এছাড়া বাংলায় হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রধান অন্তরায় ছিল জমিদারি ব্যবস্থা। যা ছিল শ্রেণি সংগ্রামের উপাদান, তা হয়ে গেল সাম্প্রদায়িক উপাদান। চাষ করা কৃষকরা ছিলেন মুসলমান। কমিউনিস্ট পার্টি সাংগঠনিকভাবে এত বড় ছিল না যে হস্তক্ষেপ করবে শ্রেণি অভিমুখে। দেশভাগের পিছনে দুজন ব্যবসায়ী আড়াল থেকে কলকাঠি নেড়েছিলেন — বিড়লা এবং ইস্পাহানী। দেশভাগ আটকানো না গেলে বাংলা যাতে ভাগ না হয় সচেষ্ট হয়েছিলেন শরৎচন্দ্র বসু, কিরণশঙ্কর রায়,আবুল হাশিমরা। দিল্লির কংগ্রেস হাইকমান্ডের চাপে আটকাতে পারেননি।

এই সময় বাংলা বিভাগের প্রশ্নে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকা ছিল ন্যক্কারজনক। ১৯৪৭ সালের ১১ই মে বল্লভভাই প্যাটেলকে তিনি চিঠি লেখেন, যদি ক্যাবিনেট মিশনের চাপে জিন্না পাকিস্তান প্রস্তাব বাতিল করেন, তা হলেও যেন বাংলা ভাগের পরিকল্পনা বাতিল না হয়। তিনি ছিলেন সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন, ব্রিটিশের অনুরাগী, নিখিল ভারত হিন্দু মহাসভার সভাপতি। কৃষক প্রজা পার্টির ফজলুল হককে সরকার গঠনের জন্য কংগ্রেস সমর্থন দিল না। বাধ্য হয়ে তিনি শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে কোয়ালিশন তৈরি করেন। তারপরে শরৎ বসুর কারাবাস জনিত অনুপস্থিতির জন্যে শ্যামাপ্রসাদ সামনের সারিতে চলে আসেন।

যাই হোক, দেশভাগ হওয়ার পর বাংলার অগণন উদ্বাস্তু স্রোত, কেন্দ্রের বঞ্চনা, জীবনের নানা ধ্বংস যেন ছিল বাঙালির ললাটলিখন। নিম্ন বর্গের উদ্বাস্তুদের অবস্থা আরও খারাপ। মূল ভূখন্ড থেকে ভারতের বিভিন্ন দুর্গম জায়গায় তাদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে জায়গা দেওয়া হয়েছিল। সেই কান্না পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির কানে আজ আর পৌঁছায় না।

এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে আমরা যারা জাতি পরিচয়ে বাঙালি ,রাষ্ট্র পরিচয়ে ভারতীয়, তাদের কর্তব্য নিরূপণ করতে হবে। ভারতীয় বলে কোনও জাতি হয় না। রুশ লেখক ডায়াকোভের মতে একজাতি তত্ত্ব ভারতীয় বুর্জোয়া শ্রেণির শীর্ষস্থানীয়দের, প্রধানত গুজরাট ও মারবাড়ের পুঁজিপতিদের কেন্দ্রমুখিনতার প্রকাশ। এই পুঁজিপতি গোষ্ঠী ভারতের বাজারের উপর আধিপত্য করতে চায়। ভারতের মূল সুর বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য আর ঐক্যের শর্তই হল বৈচিত্র্যকে সম্মান করা। সংঘ পরিবার এই বহুত্বকে ধবংস করতে চায় সাম্প্রদায়িক অ্যাজেন্ডায়, চায় হিন্দুরাষ্ট্র কায়েম করতে। কর্পোরেট পুঁজি এবং পুঁজিপোষিত মিডিয়া সহযাত্রী। আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য তাই ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক স্বাধিকার। ধর্মভিত্তিক জাতি পরিচয়কে মিথ্যা প্রমাণ করে ভাষার ভিত্তিতে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ আজ পঞ্চাশে পা দিয়েছে। অনেকটা এগিয়েছে। শুধু দ্বিজাতি তত্ত্ব হারেনি, ভারতীয় উপমহাদেশের একজাতি তত্ত্বও হেরেছে। ভাষা গণতন্ত্রকে পদদলিত করে অধিপতি ভাষার কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য করছে। ভারত রাষ্ট্র এই সাফাইয়ের কাজ এমনভাবে করেছে যে সেই ফাঁক দিয়ে বাংলাসহ অন্যান্য ভাষাকে কোণঠাসা করে ইংরেজির পক্ষে পরিসর দখল করতে অসুবিধা হয়নি। সংঘ পরিবার উপবিভাগ করে বাংলায় আঘাত হানতে চায়। বাঙাল-ঘটি, হিন্দু-মুসলমান, উচ্চবর্ণ-নিম্নবর্ণ ইত্যাদি বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যের জায়গা ভাষা। সেটাকে ধরেই শুরুতে এগোতে হবে। আবার রাজবংশী, সাঁওতাল, মুন্ডা, গোর্খা প্রভৃতি জনজাতি গোষ্ঠী তাদের ভাষা সংস্কৃতির বিষয়ে যেন আহত অভিমানে গুমরে না মরে তা-ও দেখতে হবে।

উত্তরবঙ্গ, সুন্দরবন, পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে যথেষ্ট খামতি আছে। এই ফল্টলাইনগুলো মেরামত করা দরকার। নাগরিকত্ব নিয়ে মতুয়াদের যে নাচাচ্ছে দিল্লী, সেই সমস্যা নিয়ে জোরদার আন্দোলন চাই। কংগ্রেস শাসনে ভাষা-সংস্কৃতি-জাতিসত্তার উপরে চলত পরোক্ষ আক্রমণ। তাতে অনেক সময় ঘুম ভাঙে না। মোদী-অমিত শাহের বিজেপি উইপোকা, ঘুসপেটিয়া বলে সরাসরি আক্রমণে নেমেছে। চোদ্দ লক্ষ বাঙালির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে আসামের বিজেপি সরকার। ডিটেনশন ক্যাম্পের অমানবিক পরিবেশে বেশ কয়েকজন আত্মহত্যা করেছেন। আসামের বাঙালিদের পৃথক ভূখণ্ড ছাড়া মুক্তি নেই। দক্ষিণ ভারতসহ কেন্দ্রীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে অন্যান্য জাতিসমূহের সাথে বাংলার সংযোগ চাই। গরীব মানুষের জীবন জীবিকার সংগ্রাম থেকে ভাষা, জাতিসত্তার লড়াই বিচ্ছিন্ন নয়, মধ্যে চীনের প্রাচীরও নেই। একুশে ফেব্রুয়ারি, উনিশে মে আর মানভূমের আন্দোলন নিয়ে বাঙালিদের মধ্যে মোট তিনটি ভাষা আন্দোলনের জন্ম বিরাট গৌরবের। বাংলার ছোট ছোট জনগোষ্ঠীগুলোর জাতিসত্তাকে যেন দলন না করি, তাতে শত্রু উপকৃত হবে। নৈতিকতার দিক থেকেও তা নিকৃষ্ট ব্যাপার।

তিরিশ কোটির বেশি বাঙালির আবেগকে সংহত করার মত আন্তর্জাতিক স্তরে কোনও সাংগঠনিক উদ্যোগ নেই — এটা বিস্ময়কর। চেতনা এমনি এমনি তৈরি হয় না, তৈরি করতে হয়। মোদি, অমিত শাহরা আজ রাজ্য ভাগের হুমকি দিচ্ছে আবার। বাঙালির জীবনে আজ তাই নতুন করে প্রাসঙ্গিক মাওলানা ভাসানী, শেখ মুজিব, মণি সিংহরা। অবশ্যই ভারতীয় বাস্তবতার মধ্যেই স্বাধিকারের স্বপ্ন দেখতে হবে। তাই প্রত্যক্ষ আক্রমণ করে বিজেপি বাঙালি জাতির কাছে শুধু সংকট নয়, সম্ভাবনাও নিয়ে এসেছে। সমস্ত আভ্যন্তরীণ কলহ ভুলে আজ তাই এই লড়াইয়ে নামা সময়ের ডাক।

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, শরৎচন্দ্র বসু ও দেশভাগের আলোচনার ছবি – উইকিপিডিয়া থেকে।

Leave a Reply