চৈতালি সিনহা, সুপ্রিয়া দত্ত, শ্রাবণী সাহা

১৫ ডিসেম্বর, ২০২১। প্যারিসে আয়োজিত বিশ্ব সংস্কৃতি রক্ষা সংক্রান্ত ইউনেস্কোর সম্মেলনে বিশেষ স্বীকৃতি পেল কলকাতার দুর্গাপুজো। বাংলার ঐতিহ্যশালী দুর্গাপুজোকে উৎসবের নিরিখে এশিয়ার মধ্যে সর্বপ্রথম ইন্ট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অফ হিউম্যানিটি সম্মানে ভূষিত করল ইউনেস্কো। প্রধানমন্ত্রীর কথায় যা প্রতিটি ভারতবাসীর জন্য গর্ব এবং আনন্দের বিষয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও বাঙালির জীবনে দুর্গাপুজোর বিশেষ অবদানের কথা মনে করিয়েছেন। এই দুর্গোৎসব অসংখ্য প্রান্তিক শ্রমিক, মৃৎশিল্পী এবং খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকার উৎস। দুর্গাপুজোর অনন্যতা এখানেই যে, এই আনন্দোৎসব প্রচুর মানুষের জীবিকা অর্জনেরও উপায়। দুর্গাপুজোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে প্রতিমাশিল্পীদের জীবন ও জীবিকা৷ জড়িয়ে আছে কুমোরটুলির নাম।

কলকাতার সুতানুটি অঞ্চলে, যার আশেপাশের অঞ্চলে ছিল জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ও অন্যান্য বিত্তবান মানুষের বাস। এই এলাকার বিভিন্ন পাড়ার নামকরণ হয় বসবাসকারী মানুষদের জীবিকা আনু্যায়ী। সুরা ব্যবসায়ীদের বসবাসের স্থান নাম হয় সুরিপাড়া। ছুতোরপাড়া নাম হয় কাঠের কাজে জীবিকা নির্ধারণকারীদের মহল্লাটির। তেল ব্যাবসায়ীদের বসতি অঞ্চল পরিচিত হয় কলুটোলা নামে। গরুপালকদের পাড়ার নাম হয় আহিরীটোলা এবং কুমোরটুলি নামে পরিচিত হয় মৃৎশিল্পীদের মহল্লা।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

প্রখ্যাত নৃতত্ববিদ লোপামুদ্রা মৈত্র বাজপেয়ী ২০১৩ সালে চিত্রলেখা ইন্টারন্যাশনাল ম্যাগাজিন অন আর্টে প্রকাশিত তাঁর গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছেন যে, সর্বপ্রথম রাজা নবকৃষ্ণদেব দুর্গাপ্রতিমা নির্মাণ করে দুর্গাপুজো প্রবর্তন করেন। ওই গবেষণাপত্র অনুযায়ী, সিরাজের বিরুদ্ধে পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভ উদযাপন করতে এই দুর্গাপুজো প্রচলন করেন রাজা নবকৃষ্ণ দেব। তিনিই সর্বপ্রথম নদীয়ার কৃষ্ণনগর থেকে কুমোরদের নিয়ে এসেছিলেন দুর্গাপ্রতিমা নির্মাণের জন্য। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী এলাকার অন্যান্য বিত্তবান মানুষরাও ওই এলাকায় বসবাসকারী কুমোরদের দুর্গাপ্রতিমা নির্মাণের আদেশ দেন এবং পারিবারিক দুর্গাপুজো প্রচলন করেন। ক্রমান্বয়ে দুর্গাপ্রতিমা নির্মাণের চাহিদা বাড়তে থাকলে কৃষ্ণনগর থেকে আসা মৃৎশিল্পীরা নিকটবর্তী অঞ্চলে তাদের স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে শুরু করেন। যেহেতু নদীয়া থেকে শিল্পীদের প্রত্যেক বছর যাতায়াত করা আসুবিধাজনক ছিল, সেহেতু কুমোরটুলি ক্রমশ মৃৎপ্রতিমাশিল্পীদের স্থায়ী বাসস্থানে পরিণত হতে থাকে।

শমীক চক্রবর্তী, বিনায়ক আইয়ার, রাজর্ষি ভাওয়াল এবং শাক্য সেনগুপ্ত তাঁদের ২০১৪ সালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছেন যে, মাল্য বংশের রাজা শ্রী জগৎ মাল্য দশম শতাব্দীতে বিষ্ণুপুর অঞ্চলে তাঁর রাজত্বকালে সমৃদ্ধি ও খ্যাতি লাভ করেছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথম মাটির প্রতিমা গড়ে তার পূজা করা এবং পূজার পরে বিসর্জন দেওয়ার রীতি প্রচলন করেন। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে মৃৎপ্রতিমা গড়ে তাতে প্রতি বছর পূজা এবং বিসর্জনের রীতি চলতে থাকে, যা মৃৎশিল্পীদের জন্য বছরে একবার স্থায়ী কর্মসংস্থানের উপায় হয়ে ওঠে এবং ক্রমশ তাঁদের পরিণত করে প্রতিমা শিল্পীতে।

২০১৩ সালে প্রকাশিত তাঁর গবেষণা পত্রে নৃততত্ত্ববিদ লোপামুদ্রা মৈত্র বাজপেয়ী আরও উল্লেখ করেছেন যে, বিংশ শতাব্দীতে দুর্গাপুজোর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বারোয়ারি দুর্গোৎসবের প্রচলন হয়। সর্বপ্রথম বারোয়ারি দুর্গাপুজো আরম্ভ হয় পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার গুপ্তিপাড়া নামক স্থানে ১৭৯০ সালে। ১২ জন বন্ধু মিলে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে আয়োজন করেছিলেন সেই পুজো। পরবর্তীতে এই বারোয়ারি দুর্গাপুজোর রীতি কলকাতাতেও প্রচলিত হয়েছিল। ১৮৩২ সালে কাশিমবাজারের রাজা হরিনাথ কলকাতাতে এই বারোয়ারি দুর্গাপুজো প্রবর্তন করেন। এই বারোয়ারি পূজা বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গাপুজো হিসাবে পরিচিতি পায় – যা জনগনের অবদান এবং অংশগ্রহণে পালিত হতে থাকে।

বারোয়ারি দুর্গাপুজোর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমোরটুলির প্রতিমা শিল্পীদের চাহিদাও বাড়তে থাকে। কুমোরটুলির শিল্পীরা সারাবছরই প্রতিমা গড়ার কাজ করে থাকেন। বছরভর প্রতিমা তৈরি হয় গণেশ, বিশ্বকর্মা, কোজাগরী লক্ষ্মী, কালী, দুর্গা, জগদ্ধাত্রী, কার্তিকের। কেবল সরস্বতীপুজোর পর তাঁদের কাজ দেড় মাস বন্ধ থাকে। ছোট শিল্পীরা যেখানে দশ হাজার থেকে পনেরো হাজার টাকার দুর্গামূর্তি গড়ার বায়না পেয়ে থাকেন সেখানে প্রমাণ সাইজের দুর্গামূর্তি বানানোর হয়ে থাকে পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার টাকার। বড় শিল্পীরা প্রায় দশ ফুট উচ্চতার দুর্গামূর্তির বায়না বাবদ পান আশি হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা। ছোট শিল্পীরা যেখানে গড়ে ছোট থেকে প্রমাণ আকারের ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশটা দুর্গামূর্তি গড়ার কাজ পেয়ে থাকেন, সেখানে বড় শিল্পীরা গড়ে দশ বারোটা প্রায় দশ ফুট উচ্চতার দুর্গামূর্তি গড়ার বায়না পেয়ে থাকেন।

জুলাই মাসে রথের দিন কাঠামো পূজা দিয়ে শুরু হয় দুর্গামূর্তি বায়না ও প্রতিমা গড়ার কাজ। কাঠামোর কাঠ বিশেষতই শাল, তেঁতুল ইত্যাদি। উলুবেড়িয়া থেকে আসা রূপনারায়ণ নদীর খালের এঁটেল মাটি, গঙ্গার পলি মাটি ইত্যাদি মিশ্রিত হয়ে তৈরী হয় প্রতিমা তৈরীর মূল উপাদান। কুমোরটুলির মৃৎশিল্প বংশপরম্পরায় রক্ষিত। এখানে বেশিরভাগ মৃৎশিল্পীই আসেন নবদ্বীপ থেকে।যদিও শান্তিপুর, কৃষ্ণনগর, বর্ধমান এই সমস্ত এলাকা থেকেও শিল্পীরা এখানে এসে জীবিকা উপার্জন করেন। এখানে পুরুষ শিল্পীদের সাথে সাথে মহিলা শিল্পীরাও সমান দক্ষতায় কাজ করে থাকেন৷

কুমোরটুলির অন্ধকার
কুমোরটুলিতে মহিলা মৃৎশিল্পীরা। ছবি: চৈতালি সিনহা

সমীক্ষা অনুযায়ী এখানকার শিল্পীদের ৩০% মহিলা। অন্যান্য জায়গার তুলনায় এখানে দৈনিক মজুরি বেশি পাওয়ার জন্য মৃৎশিল্পীরা কুমোরটুলিতে এসে কাজ করে থাকেন। শমীক চক্রবর্তী, বিনায়ক আইয়ার, রাজর্ষি ভাওয়াল এবং শাক্য সেনগুপ্ত তাঁদের ২০১৪ তে প্রকাশিত গবেষণা পত্রে এও উল্লেখ করেছেন যে মৃৎশিল্পীদের মধ্যে খুব কম শতাংশই স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেছেন । বেশীরভাগেরই শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রাথমিক স্কুল বা মাধ্যামিক স্কুল। তাঁদের সমীক্ষা আনু্যায়ী, ৬৬% মৃৎশিল্পী তাঁদের সন্তানদের অন্য কাজে নিযুক্ত করতে চান এবং মাত্র ২০% মৃৎশিল্পী নিজেদের সন্তানদের প্রতিমা গড়ার কাজে নিযুক্ত করেছেন। কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা সাধারণত তাঁদের সন্তানদের নিকটবর্তী সরকারী স্কুলে পাঠিয়ে থাকেন। যদিও তুলনামূলকভাবে ধনী মৃৎশিল্পীরা অনেকেই তাঁদের সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে পাঠান। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই মৃৎশিল্পীরা চান যে তাঁদের সন্তানরা অন্য কাজে নিযুক্ত হয়ে বেশী টাকা উপার্জন করুক। যেখানে উচ্চশিক্ষিত হয়ে প্রতিমা গড়ার কাজে আরও আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মৃৎশিল্পের উন্নতি করা সম্ভব সেখানে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে এই শিল্পে নিযুক্ত হওয়ার প্রবণতা ক্রমশই কমে আসছে।

তবে প্রযুক্তি এবং শিক্ষার দৌলতেই, ইন্টারনেট প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে বর্তমানে একাধিক মৃৎশিল্পী তাঁদের তৈরী প্রতিমা বিদেশে রফতানি করছেন, যা কুমোরটুলির শিল্পের কিছুটা হলেও উন্নতি ঘটিয়েছে। বিদেশে রফতানির প্রতিমা প্রধানত ফাইবার গ্লাসের তৈরী যা তুলনামূলকভাবে হালকা এবং দীর্ঘায়ুসম্পন্ন। সাংবাদিক শান্তনু গুহ রায় ২০২১ সালে মানি কন্ট্রোল পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর কুমোরটুলির শিল্প সম্বন্ধিত নিবন্ধে লিখেছেন যে, যেখানে মাটির প্রতিমার আয়ু এক বছর সেখানে ফাইবার গ্লাসের তৈরী প্রতিমার আয়ু পাঁচ থেকে দশ বছর। উপরন্তু মাটির প্রতিমা তৈরী করতে চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগে, অথচ ফাইবার গ্লাসের প্রতিমা তৈরী করতে সময় লাগে এক মাসেরও কম। তাছাড়া প্রতিবছর মাটির প্রতিমা বিসর্জন জল দূষণ করে – বিদেশে যা নিষিদ্ধ। সে কারণেও ফাইবার গ্লাসের তৈরী প্রতিমার চাহিদা ক্রমবর্ধমান। উল্লেখ্য, এই শিল্পে মুনাফা কম থাকায় ভবিষৎ প্রজন্মের এই শিল্পে নিযুক্ত হওয়ার প্রবণতা ক্রমশই কমে আসছে। মূলধনের অভাব, শিল্পের কাঁচামালের অভাব, সব মিলিয়ে কুমোরটুলির মৃৎশিল্প এবং মৃৎশিল্পীরা ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন। শান্তনু গুহ রায়ের মতে, একদা যেখানে ৪৫০টির মত স্টুডিও ছিল আজ সেখানে মাত্র ১০০টির মত স্টুডিও বর্তমান।

ডিসকভার ইন্ডিয়া পোগ্রামের (২০১৭-১৮) রিপোর্ট অনুযায়ী কলিকাতা মেট্রোপলিটান ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির (কেএমডিএ) প্রচেষ্টায় এবং জহরলাল নেহেরু ন্যাশনাল আরবান রিনিউয়াল মিশনের সাহায্যে ২০০৭ সালে তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রচেষ্টায় কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীদের পুনর্বাসনের ব্যাবস্থা করা হয়। মৃৎশিল্পীদের জন্য চারতলা বাসস্থান এবং আর্ট গ্যালারির নকশা পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু এই উদ্যোগ পরিত্যক্ত হয় ২০১০ সালে। ২০১৫ সালে অমৃত (AMRUT) নামে আর একটি প্রকল্প সংগঠিত হয়। কিন্তু সেটিও বাস্তবায়িত হয়নি।

কুমোরটুলির শিল্পীদের জন্য সরকারী সাহায্যও বেশ সীমিত। যে বছর খুব বৃষ্টি হয় সে বছর সরকারের তরফ থেকে কিছু ত্রিপল বিতরণ করা হয়ে থাকে। তাছাড়া প্রতিটি মৃৎশিল্পী পরিবার পিছু রেশন পেয়ে থাকেন। করোনা পরিস্থিতিতে মৃৎশিল্পীরা কিছু সরকারি অনুদান পেয়েছেন। এছাড়া মৃৎপ্রতিমা তৈরীর ব্যবসায় মুনাফা কম এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ডিফল্টের ঝুঁকি বেশী থাকায় মৃৎশিল্পীরা ব্যাঙ্ক লোন পায় না। তাঁদের মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। যে বছর বৃষ্টি হয়ে থাকে, সেই বছর তারা গ্যাস চুল্লি ব্যবহার করে প্রতিমার মাটি শুকিয়ে থাকেন। সেই ক্ষেত্রে আনুমানিক দুটো মাঝারি উচ্চতার দুর্গা প্রতিমা শুকনো করতে একটা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যাবহৃত হয়, যা প্রতিমা নির্মাণের খরচ অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া যদি কোন বায়না করা প্রতিমা বিক্রী না হয়, তখন রাখার জায়গার অভাবে ভেঙে ফেলতে হয়। সেক্ষেত্রে পুরোটাই লোকসান। টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় ২০২১ সালে প্রকাশিত প্রখ্যাত সাংবাদিক জিশান জাভেদের রিপোর্ট অনুযায়ী, যে আর্থিক বছরে খুব বৃষ্টি হয় সে বছর প্রতিমা নির্মাণের খরচ প্রায় ১৫% থেকে ২০% বেড়ে যায়।

জিশান জাভেদের (২০২১) রিপোর্ট অনুযায়ী, করোনা কুমোরটুলির প্রতিমা শিল্প ব্যবসায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। অতিমারীর আগে যেখানে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার ব্যবসা হত, অতিমারীর পরে তা নেমে আসে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকায়। ডিসকভার ইন্ডিয়া পোগ্রামেরব(২০১৭-১৮) রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে কুমোরটুলিতে শিল্পীদের কিছু সংগঠন গড়ে উঠেছে। কুমোরটুলি সেবা সমিতি, কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সমিতি তাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ। এই সমিতি ও সংগঠনগুলি মূলত শিল্পীদের আর্থিক সাহায্য, শিক্ষামূলক সাহায্য, স্বাস্থ্যমূলক সাহায্য ইত্যাদি দিয়ে থাকে। ব্যাঙ্ক ঋণ এমনিতে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন৷ এই সমিতিগুলি অনেকক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক এবং শিল্পীদের মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করে। সমিতির সদস্যরা ব্যবসায়িক ঋণ ছাড়াও পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্যও সমিতি থেকে ঋণ পেয়ে থাকেন। এই সমিতি ও সংগঠনগুলি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে কিছু সাহায্য পেয়ে থাকে। কুমোরটুলির দর্শনার্থী এবং ছবিতুলিয়েদের থেকেও  নির্দিষ্ট পরিমাণ টিকিটমূল্য ধারণ করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। যদিও এই সমিতিগুলি শিল্পীদের শিল্পের কাঁচামাল পেতে বা এলাকা উন্নয়নে কোন রকম সাহায্য করে না।

আরো পড়ুন সর্বজনীন পুজোকে গ্রাস করছে রাষ্ট্রীয় আধিপত্যবাদ

সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই সমিতিগুলি সরকারের কাছ থেকে কোন অনুমোদন বা আর্থিক সাহায্য পায় না। দিনের পর দিন সরকারি কোনো সাহায্য না পেয়ে কুমোরটুলির শিল্পীরা সরকারের প্রতি সমস্ত রকম আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। সময়ে সময়ে তাদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্যোগ শুরু হলেও আদতে তা রুপায়িত না হওয়ায় কুমোরটুলির শিল্পীরা সরকারেরর প্রতি আর বিশ্বাস রাখতে পারছেন না।

পুজো আসে। পুজো যায়। কুমোরটুলি রয়ে যায় সেই একই তিমিরে।

চৈতালি ICSSR অর্থনীতির গবেষক, ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইনস্টিটিউট কলকাতা; সুপ্রিয়া টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, কলকাতার অধ্যাপিকা; শ্রাবণী সাহা, ইউনিভার্সিটি অফ লিংকন, ইংল্যান্ডের অধ্যাপিকা। মতামত নিবন্ধকারদের

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.