দেবাশিস সেনগুপ্ত

১) কার্তিক মাইতি, ২) উত্তম চাউলে, ৩) সমীর দাস, ৪) অলোক দাস, ৫) সনৎ বসু, ৬) নবীন নস্কর, ৭) কল্যাণ সামন্ত, ৮) অসীম চ্যাটার্জী, ৯) রবীন আদক, ১০) কার্তিক মাঝি, ১১) ধনঞ্জয় দাস, ১২) শ্যামল বিশ্বাস, ১৩) মদনমোহন বাগলি, ১৪) প্রশান্ত দত্ত, ১৫) হিমাংশুশেখর দাস এবং ১৬) বিশ্বজিত কর।

এই ষোলটি নাম কারো শোনা? এদের কাউকে আপনারা কেউ চেনেন? এদের কারো নাম মনে পড়ছে না ঠিকঠাক? না কি আবছা আবছা মনে আসছে কিছু দৃশ্য, কিছু দুঃসহ আর বীভৎস স্মৃতি? না, আর স্মৃতির উপর চাপ দেবেন না। বরং কলকাতা ময়দানের একটি বিশেষ দিনের “গল্প হলেও সত্যি” শুনুন আজ। ফুটবল লজ্জার সেই গল্প হলেও সত্যির স্থান ইডেন উদ্যান, কাল ১৬ আগস্ট ১৯৮০, পাত্র দুই প্রধানের সে বারের কলকাতা ফুটবল লিগের ম্যাচ।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

“গর্ব কখনো একচেটিয়া হয়না, কখনো কখনো ছায়াসঙ্গী হয় লজ্জাও।” কেউ একজন বলেছিলেন কথাটা। ১৬ আগস্ট ১৯৮০ তারিখটি গত ৪১ বছর ধরে আমাদের তাড়া করে মনে করিয়ে দেয় কলকাতা ময়দানের মেঠো হানাহানির এক নিদারুণ রক্তাক্ত লজ্জার ইতিহাস। আজ আবার এক ১৬ আগস্ট, তবে ২০২১। আসুন, ৪১ বছর পিছিয়ে গিয়ে আজ আবার একবার ফিরে দেখে নিই সেই পঙ্কিল দিনটিকে, আজ আবার জন্ম নিক সেদিনের জন্য কিছু গ্লানিবোধ, আরও আরো একবার প্রায়শ্চিত্ত করি সেদিনের ফুটবল পাপের।

বিগত শতাব্দীর ছয়, সাত আর আটের দশকে বাঙালির ফুটবলকে কেন্দ্র করে অপরিমেয় আবেগ ছিল। আর তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল ফুটবলকে কেন্দ্র করে হিংস্র ঘটনার সম্ভাবনা ও সংখ্যা। বাংলায় সাতের দশকের প্রথম দিকের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও তজ্জনিত সামাজিক হতাশা ছিল সুদূরপ্রসারী। এর রেশ ছিল আরও এক দশক পরেও, আশির দশকের মাঝামাঝি অবধি। এর ফলে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে যে অপ্রাপ্তিজনিত ক্রোধ ও উত্তেজনা ছিল, অনেক সময়েই তার বহিঃপ্রকাশ ঘটত ফুটবল মাঠে নিজের প্রিয় দলের প্রতি সমর্থনে, তার চেয়েও বেশি বিপক্ষ দলের প্রতি বিরূপতায়। এরই ফল ওই দশকের শেষদিকে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান-মহমেডান স্পোর্টিং এবং ইস্টবেঙ্গল-মহমেডান স্পোর্টিং ম্যাচকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া অনেক হিংসাত্মক মেঠো হাঙ্গামা। কিন্তু বাংলার ফুটবল নিয়ামক সংস্থা আই এফ এ এইসব বিষয়কে কোন গুরুত্ব না দিয়ে অবহেলা করে চলছিল, তাদের তরফে এই বিষয়ে কোনও সদর্থক ভূমিকা নেওয়ার পরিকল্পনা তখন অদৃশ্য ছিল। রাজ্যের নবগঠিত বামপন্থী সরকার বেশকিছু উল্লেখযোগ্য আর্থসামাজিক সংস্কারের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে গিয়ে মাঠের এই বিশেষ সমস্যাটিকে কিছুটা অন্তরালেই রেখে দিয়েছিল।

সেইসময় ফুটবল নিয়ে উত্তেজনা এমন ছিল, যে ময়দানের তিন বড় দলের তারকা ফুটবলাররা রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলেও তাদের ঘিরে ফেলত সমর্থক জনতা। কলকাতা তখন মজে ছিল শুধুই ফুটবলে। দুপুর গড়াতে না গড়াতে তখন গড়ের মাঠ হয়ে যেত লোকে লোকারণ্য। বিকেল চারটের খেলা দেখতে লাইন পড়ত সকাল আটটা নটা থেকে। কলকাতার ফুটবল আবেগ অন্য খেলাকে দশ গোল দিত, শেষ সম্বল দিয়ে দর্শকরা খেলার টিকিট কাটাত। কলকাতার ফুটবল আবেগ শেষ পারানির কড়ি হয়ে ঘুরত স্মৃতির পেনাল্টি বক্সে আর শেষ বয়সের জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকত শেষ সম্বল হয়ে। কলকাতার ফুটবল আবেগ চিরকালই একমাত্র ছেলেকে দাহ করে সরাসরি মাঠে আসার আবেগ, মেয়ের বিয়ের বিকেলবেলাতেও মাঠে যাওয়ার আবেগ। ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান ড্র করলেও তখন কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটত জনতাকে সামলাতে। অর্থাৎ ১৬ আগস্টের অনেক আগে থেকেই কলকাতা ময়দান বড় ম্যাচকে কেন্দ্র করে আগ্নেয়গিরি হয়ে ছিল, শুধু বিস্ফোরণ হয়েছিল ওই দিন।

সেবার লিগ দুটো গ্রুপে ভাগ করে খেলা হচ্ছিল। একই গ্রুপে ছিল ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান। অন্য গ্রুপে ছিল সুরজিত সেনগুপ্তর সৌজন্যে সেবারের অমিত শক্তিধর মহমেডান স্পোর্টিং। ১৬ আগস্ট একটি গ্রুপের ম্যাচে ইডেনে মুখোমুখি হয় মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গল। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে সেমিফাইনালে মহমেডান স্পোর্টিংকে এড়িয়ে যাওয়া যেত, তাই মোহনবাগান আর ইস্টবেঙ্গল দুই পক্ষই মরিয়া ছিল ম্যাচ জিততে।

কম্পটন দত্তর নেতৃত্বে মোহনবাগান দলে সেবার দারুণ ভারসাম্য। গোলে শিবাজী ব্যানার্জী, ডিফেন্সে কম্পটন দত্ত-সুব্রত ভট্টাচার্য-প্রদীপ চৌধুরী-শ্যামল ব্যানার্জী, হাফ ব্যাকে গৌতম সরকার-প্রসূন ব্যানার্জী আর ফরোয়ার্ডে মানস ভট্টাচার্য-মিহির বসু-জেভিয়ার পায়াস-বিদেশ বসুরা সেবার মোহনবাগানের হয়ে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলছিলেন শুরু থেকেই। তবু ফেডারেশন কাপে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে যুগ্ম বিজয়ী হতে হয় মোহনবাগানকে। আর তাই মোহনবাগান মুখিয়ে ছিল কলকাতা লিগের ডার্বি এককভাবে জিততে।

অন্যদিকে সুরজিতের চলে যাওয়া সমেত দলবদলের বাজারে তছনছ হয়ে যাওয়া ইস্টবেঙ্গলকে সেবার প্রায় একা টানছিলেন ইরানের প্রাক্তন বিশ্বকাপার মজিদ বাসকার। সাথে বুড়ো ঘোড়া মহম্মদ হাবিব, সুধীর কর্মকার এবং টগবগে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য। কলকাতায় ফেডারেশন কাপে মজিদের খেলা দেখে ইস্টবেঙ্গল জনতা বুঝে যায় যে, ছেড়ে যাওয়া ফুটবলারদের জন্য তাদের আর আফশোস করতে হবে না। তাদের ত্রাণকর্তা এসে গেছে। কলকাতা লুফে নিয়েছিল তাকে। ফেডারেশন কাপে মোহনবাগানের সঙ্গে যুগ্ম বিজয়ী ইস্টবেঙ্গল কলকাতা লিগেও সমানে সমানে টক্কর দিচ্ছিল।

সেই লজ্জার দিনের খেলোয়াড়, কোচ ও রেফারিদের নাম ছিল এইরকম:

মোহনবাগানশিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়, কম্পটন দত্ত (অধিনায়ক), সুব্রত ভট্টাচার্য, প্রদীপ চৌধুরী, শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌতম সরকার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, মানস ভট্টাচার্য, মিহির বসু, জেভিয়ার পায়াস (উলগানাথন) ও বিদেশ বসু। অতিরিক্ত: জগদীশ ঘোষ, প্রতাপ ঘোষ, ফ্রান্সিস ডি’সুজা, শ্যাম থাপা, রঞ্জিত মুখোপাধ্যায়, কৃষ্ণ মিত্র, মুনীশ মান্না, সঞ্জীব চৌধুরী ও অশোক চক্রবর্তী। কোচ: অরুণ ঘোষ।

ইস্টবেঙ্গলদিলীপ পাল, দিলীপ পালিত, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, সমর ভট্টাচার্য, সত্যজিত মিত্র (অধিনায়ক), মহম্মদ হাবিব (হরজিন্দার সিং), সুধীর কর্মকার, মহম্মদ খাবাজী ( কাজল চট্টোপাধ্যায় ), তপন দাস, জামশিদ নাসিরি ও মজিদ বাসকার। অতিরিক্তনাসির আহমেদ, মহম্মদ নাজিব, সুভাষ রায়, অমিত গুহ, সোমনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৈয়দ লতিফুদ্দিন, সুমিত বাগচী, টমাস ম্যাথুজ ও বিভাস সরকার। কোচ: পিকে ব্যানার্জি।

রেফারি: সুধীন চট্টোপাধ্যায়।

ইতিপূর্বে ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ সহ বেশ কয়েকটি ম্যাচে দর্শক হামলার পরিবেশ তৈরি হওয়া সত্ত্বেও আইএফএ গুরুত্ব দেয়নি। উপরন্তু ১৬ আগস্ট গ্যালারিতে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের পাশাপাশি বসানো হয়েছিল। যার ফল ছিল মিশ্র জনতার মধ্যে দাবানলের মত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, খেলা শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই মাঠে ছিল চরম উত্তেজনা। টিকিটের লাইনে দাঁড়ানো নাকাল জনতার মধ্যে ক্ষোভ জমছিল। দুই প্রধানের সমর্থকদের কাছে এটা ছিল ইজ্জতের ব্যাপার।

এই পটভূমিকায় খেলা শুরু হতেই চোরাগোপ্তা এবং সরাসরি বিসদৃশ — দুরকম ফাউলের বন্যা বইতে থাকে। মরিয়া ফাউলের স্ট্র্যাটেজিতে দু পক্ষই প্রতিপক্ষের খেলা নষ্ট করার মারণ খেলায় মেতে ওঠে। তিলধারণের জায়গা না থাকা গ্যালারিতে দু দলের সমর্থকই ফুঁসে উঠছিলেন মাঝে মাঝেই। মাঝে মাঝেই ইঁট ছোঁড়াছুঁড়ির সমান্তরাল খেলা চলছিল আকাশবাণীর সামনের গ্যালারির দর্শকদের মধ্যে। এইভাবে চলতে চলতেই প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়। বিদেশ বসুর তীব্র গতি সামলাতে না পেরে কোচের নির্দেশে অনভ্যস্ত রাইট ব্যাকে খেলা ডিফেন্ডার দিলীপ পালিত প্রথমার্ধেই বেশ কয়েকবার বাজে ফাউল করে ফেলেছিলেন। তখন থেকেই ধৈর্য্চ্যুতি ঘটছিল বিদেশের। দ্বিতীয়ার্ধের খেলার বয়স যখন বারো মিনিট, তখন আবার তাঁকে বিশ্রী ফাউল করেন দিলীপ। এবার বিদেশ বল ছেড়ে পাল্টা লাথি মেরে বসেন। তখন রেফারি দুজনকেই লাল কার্ড দেখান।

অগ্নিগর্ভ গ্যালারিতে ঘৃতাহুতি হয় সেই মুহূর্তে। রঞ্জি স্ট্যান্ডেই দু পক্ষের সমর্থকদের মুখোমুখি সংঘর্ষ, কয়েকজনের পড়ে যাওয়া আর প্রাণভয়ে ভীত সমর্থকদের হুড়োহুড়িতে পড়ে যাওয়া সমর্থকদের মাড়িয়ে চলে যাওয়া — সব মিলিয়ে নরক হয়ে যায় ইডেন। মানুষের রোষ এতটাই নৃশংস রূপ নেয়, যে বিপক্ষ দলের সমর্থককে গ্যালারি থেকে নিচে ছুঁড়ে ফেলে দিতেও কারো কোন কুণ্ঠাবোধ হয়নি। আদতে ইডেন ছিল ক্রিকেট মাঠ। বাইরে যাবার পথও ছিল সঙ্কীর্ণ। আতঙ্কিত জনতা একসাথে ঐ সরু পথ দিয়ে বেরোতে গেলে অনেকেই পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান। আহত আর মৃতদের হাতে হাতে ঝুলিয়ে গ্যালারির উপরের ধাপ থেকে নামানো হতে থাকে নীচের ধাপে। মারা যান অন্তত ১৬ জন সমর্থক এবং গুরুতরভাবে আহত হন বহু মানুষ। কলকাতা পুলিশ এই সময় জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় পুলিস কিছু পরে লাঠিচার্জ শুরু করে অন্য গ্যালারির নিরীহ দর্শকদের উপর। তাতেও বহু লোক আহত হন। কলকাতার হাসপাতালগুলি বীভৎস চেহারা নেয় সেই সন্ধেয়। খেলা কিন্তু সেদিন চলেছিল শেষ অবধি, কারণ মাঠের ভিতর থেকে গ্যালারির অবস্থার কোন আন্দাজই পাওয়া যায়নি সেদিন। খেলা শেষ হয়েছিল গোলশূন্য অবস্থায়, লিগও আর শুরু করা যায়নি সেবার।

পরদিন সংবাদপত্রগুলিতে খবরের সঙ্গে যে ছবি বেরোয় তাতে সাধারণ মানুষ আরও শিহরিত হয়ে ওঠে। সংবাদপত্রের শিরোনামে উল্লিখিত হয় যে এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ফুটবল খেলাই। কিন্তু এই ঘটনার প্রভাব হয়েছিল সূদূরপ্রসারী। ফুটবল খেলাটাই এক ভীতিপ্রদর্শনকারী বিনোদন হয়ে ওঠে সাধারণ বাঙালির চোখে। ঘটনার কয়েকদিন পরে ফুটবলপ্রেমী গায়ক মান্না দে পুলক বন্দোপাধ্যায়ের কথায় ও সুপর্ণকান্তি ঘোষের সুরে তার বিখ্যাত গান “খেলা ফুটবল খেলা” গেয়েছিলেন এই দিনের স্মরণে।

আইএফএ ১৯৮১ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিনটা ফুটবলপ্রেমী দিবস হিসাবে পালন করে, ইডেনের ক্লাবহাউসে রক্তদান শিবির করে। সেখানে শংসাপত্রে সই করেন পুরনো দিনের কোনো বিখ্যাত ফুটবল তারকা। সেদিনের সে লজ্জা কিন্তু এসবে ঢাকেনি, ফিরে আসেনি হারিয়ে যাওয়া জীবনগুলোও। সেদিনের সেই মেঠো লজ্জা আজও তাড়িয়ে বেড়ায় আপামর ফুটবলপ্রেমীদের আর সেদিনের খেলোয়াড়দের। তাঁরা সেই দিনটাকে মনে করতেও ভয় পান।

আজ আবার একটা ১৬ই আগস্ট। আজ মনে পড়বেই ৪১ বছর আগের সেই কালো দিনটার কথা। সে আপনি সবুজ মেরুন বা লাল হলুদ, যে রঙেরই সমর্থক হোন না কেন! আবেগ, উন্মাদনা, উত্তেজনা, সব থাকুক। কিন্তু আর চাইনা ১৬ই আগষ্ট ১৯৮০।

সেদিনের সেই লজ্জাজনক ফুটবলের বলি ১৬ জন সমর্থককে জানাই আমার বিনম্র প্রণাম।

লেখক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ককর্মী, খেলা সম্পর্কিত একাধিক বইয়ের লেখক। মতামত ব্যক্তিগত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.