১৯৭৩ সালে জেনারেল পিনোশে চিলের নির্বাচিত সালভাদোর আয়েন্দে সরকারকে অস্ত্রের জোরে পদচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৭৪ বিশ্বকাপের যোগ্যতার্জন পর্বের ফিরতি খেলা সান্তিয়াগোর এস্তাদিও নাশিওনালে খেলতে অস্বীকার করে সেখানে বন্দি শিবির চালানো হচ্ছে অভিযোগে। ফিফার পরিদর্শন নামক প্রহসনের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন বাদ পড়ে, চিলে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পায়। তারপর কী ঘটল পশ্চিম জার্মানির বিশ্বকাপে? পড়ুন আজ শেষ পর্বে

১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ নিয়ে পশ্চিম জার্মান কর্তৃপক্ষ বেশ চিন্তায় ছিলেন। ঠাণ্ডা যুদ্ধের আঁচ ধনতান্ত্রিক পশ্চিম আর সমাজতান্ত্রিক পূর্বের সম্পর্কেও ছাপ ফেলেছিল। ফলে পূর্ব জার্মান ফুটবল দলের বিশ্বকাপ খেলতে আসা কূটনৈতিক দিক থেকে অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। দুবছর আগে মিউনিখ অলিম্পিকে ইজরায়েলের অ্যাথলিটদের উপর প্রাণঘাতী আক্রমণের ঘা তখনো টাটকা। এই অবস্থায় খবর এল পূর্ব জার্মান দলের উপর বোমারু হামলা হতে পারে। কর্তৃপক্ষের রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানাল অতি বামপন্থী রেড আর্মি ফ্যাকশন (RAF) হামবুর্গের স্টেডিয়ামে রকেট হানার পরিকল্পনা করছে আর আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির (IRA) লক্ষ্য স্কটল্যান্ড দল। নিরাপত্তার নামে শুরু হল পাগলামি। বাতিল হয়ে গেল যুগোস্লাভিয়ার রাষ্ট্রপতি টিটোর পশ্চিম জার্মানি সফর। ১৩ জুন ফ্র্যাঙ্কফুর্টে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পশ্চিম জার্মানির রাষ্ট্রপতি গুস্তাফ হাইনম্যান এলেন সাঁজোয়া মার্সিডিজে চেপে, সঙ্গে এল আপৎকালীন অপারেশনের মোবাইল ইউনিট।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

চিলের খেলা পড়েছিল পশ্চিম বার্লিন আর হামবুর্গে। পশ্চিম জার্মান কর্তৃপক্ষ আঁচ করেছিলেন চিলেকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ হতে পারে। সামরিক শাসন চালু হওয়ার পরেই চিলের প্রতি সংহতি জানিয়ে জার্মানি জুড়ে তৈরি হয়েছিল একাধিক সংগঠন। বার্লিনের ফ্রেই বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা চিলে সলিডারিটি কমিটি এবং সোশালিস্ট ওয়ার্ক কালেক্টিভের সদস্যরা চিলের ম্যাচগুলোতে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করলেন। স্লোগান ঠিক হল “Chile Si, Junta No!” অর্থাৎ “চিলে হ্যাঁ, জুন্টা না”। প্রাথমিকভাবে ঠিক হল অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালীন মাঠে নেমে ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হবে যাতে চিলেসহ গোটা পৃথিবী টেলিভিশনে দেখতে পায়। কিন্তু স্টেডিয়াম পরিদর্শন করার সময়ে তাঁরা বুঝতে পারলেন গ্যালারি আর মাঠের মধ্যে প্লেক্সিগ্লাসের দেওয়াল আর খুঁড়ে রাখা ট্রেঞ্চ পেরিয়ে মাঠে নামা অসম্ভব।

১৪ জুন চিলের প্রথম ম্যাচ পশ্চিম জার্মানির সঙ্গে। চিলের খেলোয়াড়দের পক্ষে ম্যাচে মনসংযোগ করা ভীষণ কঠিন হচ্ছিল। পিনোশের সঙ্গে হাত না মেলানোর ফল হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিলেন কার্লোস কাজেলি। জার্মানির উদ্দেশে রওনা হওয়ার ঠিক আগে খবর এল, কাজেলির মাকে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। পরবর্তীকালে জানা যায়, পিনোশে ক্ষমতায় এসে নির্দেশ দেন ফুটবলারদের কোনোভাবে স্পর্শ না করতে, কিন্তু ফুটবলারদের পরিবারের ক্ষেত্রে সে বাধা ছিল না। কাজেলির স্পর্ধায় রাগে অগ্নিশর্মা পিনোশে ঝিকে মেরে বৌকে শেখানোর পন্থা অবলম্বন করে কাজেলি এবং গোটা দলকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন। ম্যাচের ৩৬ ঘন্টা আগে ১৩ জুন মাঝরাতে বোমার আঘাতে বিধ্বস্ত হল পশ্চিম বার্লিনের চিলে দূতাবাস। একের পর এক ঘটনার অভিঘাত খেলোয়াড়দের মনে কতটা প্রভাব ফেলেছিল বোঝা যায় ভেলিজের স্মৃতিচারণায়। “চিলের জার্সি পরে বিশ্বকাপে খেলতে নামা প্রতিটি চিলিয়ানের কাছে গর্বের বিষয়। অথচ তখন আমাদের মিশ্র অনুভূতি। জাতীয় দলের লাল জার্সি গর্বের রং নাকি দেশে ঘটে চলা সন্ত্রাসের রং – এই দ্বন্দ্বে ভুগছিলাম কমবেশি সবাই।”

খেলাতেও এর প্রভাব পড়ল। গোল করার জন্য মূল ভরসা কাজেলি বর্ণহীন খেলা খেলে ৬৭ মিনিটে লাল কার্ড দেখলেন। শিন গার্ডহীন কাজেলি জার্মান ডিফেন্ডারের কড়া ট্যাকলে আঘাত পেয়ে পাল্টা লাথি চালান। হয়ত মানসিক পরিস্থিতির কারণেই মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারেননি। শূন্য দৃষ্টিতে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান দলের প্রধান স্ট্রাইকার। চিলেও হেরে যায় ০-১ গোলে।

মাঠে নেমে বিক্ষোভের পরিকল্পনা বাতিল করতে হলেও সলিডারিটি কমিটি কিন্তু হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। ১,৫০০ টিকিট কিনে তারা বিক্ষোভকারীদের মাঠে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। খেলা শুরুর আগে চিলের জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পূর্বদিকের ৪১ নম্বর ব্লকে স্লোগান উঠল “Chile Si, Junta No!” তার সঙ্গে পতপত করে উড়তে থাকল একাধিক পতাকা আর পোস্টার। ৬ মিটার X ৪ মিটার মাপের একটা পতাকা ধরেছিলেন কয়েক ডজন বিক্ষোভকারী। একটা পতাকায় পিনোশের (Pinochet) সি আর এইচ বদলে দেওয়া হয়েছিল নাজি স্বস্তিকা চিহ্নে। জার্মানিতে জনসমক্ষে স্বস্তিকা দেখানো দণ্ডনীয় অপরাধ। পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে পতাকা ছিনিয়ে নিতে নিতে গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে ছোট ছোট বিক্ষোভ চালু হয়ে গেল। পরদিন সলিডারিটি কমিটির ডাকে সমাবেশ হল। ভাষণ দিলেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ পাকিস্তানি ট্রটস্কিবাদী তারিক আলি। সমাবেশের শেষে ৭,০০০ মানুষের মিছিল রওনা হল বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির সদর দপ্তর সোয়েগার হফ হোটেলের দিকে। হোটেলের সামনে গান গাইলেন উরুগুয়ের গায়ক ড্যানিয়েল ভিলিয়েত্তি। মিছিল থেকে এক প্রতিনিধিদল আয়োজক কমিটির অফিসে ঢুকে পিনোশে-বিরোধী বিক্ষোভ দমনের বিরুদ্ধে প্রস্তাবের স্মারকলিপি দিয়ে এলেন।

তিনদিন পরে চিলে খেলবে পূর্ব জার্মানির সঙ্গে। স্বভাবতই পুলিশ এবার নিরাপত্তায় কোনো ফাঁক রাখেনি। স্টেডিয়ামে পোস্টার, ব্যানার, পতাকা নিষিদ্ধ হল। একাধিকবার শরীর হাতড়ে তল্লাশি করা হল প্রতিটি দর্শককে। বিক্ষোভকারীরা কিন্তু এসবের জন্য ব্যবস্থা করেই রেখেছিলেন। তাঁরা জানতেন প্রথম ম্যাচের পুনরাবৃত্তি প্রায় অসম্ভব। ম্যাচ শুরু হতেই হলদে বর্ষাতি গায়ে জড়িয়ে তাঁরা এমনভাবে দাঁড়ালেন যাতে হলুদ রঙের বিরাট স্বস্তিকা চিহ্ন তৈরি হয়। সঙ্গে স্লোগান “চিলের জন্য সমাজতন্ত্র”, “লুই কোর্ভালানের মুক্তি চাই।” কোর্ভালান ছিলেন জেলে বন্দি চিলে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা। চিলের খেলাতেও বিশেষ উন্নতি দেখা গেল না। ফল হল ১-১।

চিলের শেষ ম্যাচ ছিল ২২ জুন, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। সে খেলার বিশেষ গুরুত্ব না থাকলেও পুলিসি আয়োজন ছিল যথেষ্ট। প্রথমার্ধ ঘটনাহীন কাটার পর দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হল প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে গ্যালারির দায়িত্বে থাকা সাদা পোশাকের পুলিসবাহিনী এদিক ওদিক ছুটল। সেই সুযোগে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েকজন প্লেক্সিগ্লাসের ব্যারিকেড টপকে, ট্রেঞ্চ ডিঙিয়ে পৌঁছে গেল মাঠের মাঝখানে। খেলোয়াড় এবং রেফারি কিছু বোঝার আগেই তাঁরা ‘সমাজতান্ত্রিক চিলে’ লেখা চিলের পতাকা মেলে ধরলেন। রেফারি খেলা থামিয়ে দিতে বাধ্য হলেন। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করল ১১ জন ছাত্রকে। এই ঘটনা ঘটার সময়ে ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল গোটা বিশ্বের সঙ্গে চিলেতেও। জুন্টা অফিসাররা বিক্ষোভের ব্যাপারটা প্রথমে বুঝতে পারেননি, যখন বুঝলেন ততক্ষণে মুখ পুড়েছে। তখন যান্ত্রিক গোলযোগের অজুহাতে সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হল। বিক্ষোভকারীরা যা হাসিল করতে চেয়েছিলেন তা করে দেখালেন।

জুন্টার সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিম জার্মানির পুলিসও বিব্রত হল। ঘটনার দুদিন পরে Die Welt কাগজ ব্যঙ্গ করে লিখল “অলিম্পিক স্টেডিয়ামের খেলাতে মোটে তিনটে গোল হয়েছে। তার মধ্যে দুটো আত্মঘাতী গোল পুলিশের। প্রথমটা যখন যথেষ্ট নিরাপত্তার অভাবে চিলে দূতাবাসে বোমাবাজি হল আর দ্বিতীয়টা যখন বিক্ষোভকারীরা খেলাটাকে দিব্যি রাজনৈতিক মঞ্চ হিসাবে ব্যবহার করে গেল।”

শেষ ম্যাচেও গোলশূন্য ড্র করে মাত্র দু পয়েন্ট নিয়ে ভগ্নমনোরথ চিলে দল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করল। বিশ্বকাপের মঞ্চকে ব্যবহার করে পিনোশের নিজের শাসনের ন্যায্যতা প্রমাণ করার চেষ্টা ব্যুমেরাং হল। বরং গোটা বিশ্বের কাছে চিলের আভ্যন্তরীণ অবস্থার ছবি স্পষ্ট হয়ে গিয়ে একপ্রকারের কূটনৈতিক পরাজয় হল। বিশ্বকাপের পর বিভিন্ন দেশে পিনোশে-বিরোধী রাজনৈতিক বন্দিদের সমর্থনে মঞ্চ গড়ে ওঠে। এই মঞ্চগুলি নিজের দেশের সরকারের উপর চিলের জুন্টা শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

কথায় বলে “স্মৃতিভ্রষ্ট দেশ মানে শিকড়হীন দেশ।” নিরপরাধ মানুষের রক্তে এস্তাদিও নাশিওনালকে কলঙ্কিত করা পিনোশে এবং তার তাঁবেদারদের কর্তৃত্ব এরপর দেড় দশকও স্থায়ী হয়নি। এস্তাদিও নাশিওনালের বধ্যভূমি থেকে হর্হে মন্তেআলেগ্রের মত বহু মানুষকে মুক্তি দিলেও সবুজ ঘাসে জমাট বাঁধা কালচে রক্তের স্মৃতি মানুষ ভোলেনি। ফুটবল দুনিয়ায় “কুলাঙ্গার” কাজেলি বিশ্বকাপের দুঃস্বপ্ন ঝেড়ে ফেলে সর্বকালের সেরা চিলে স্ট্রাইকারের শিরোপা পেয়েছিলেন, কিন্তু ভুলে যাননি মায়ের শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকার চিহ্নগুলো। ১৯৮৫ সালে পিনোশের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাতে তাঁর লাল টাইয়ের দিকে তাক করা হাতের মুদ্রায় পিনোশে বুঝিয়ে দেন লাল অর্থাৎ কমিউনিস্ট রং দেখলেই তিনি এভাবে খতম করেন। ঘাতকের চোখে চোখ রেখে কাজেলি বলেছিলেন “করতে পারেন, তবে এ হৃদয় দপ্তর বদলায় না।” সেবছর এস্তাদিও নাশিওনালে কাজেলির বিদায়ী ম্যাচে গ্যালারি উত্তাল হয়েছিল পিনোশে-বিরোধী বিক্ষোভে। বিপদ আঁচ করে কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই ম্যাচের সম্প্রচার বন্ধ রেখেছিল। ১৯৮৮ সালে গণভোটে হেরে গিয়ে পিনোশেকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। ফুটবলপ্রেমী, স্বজনহারা চিলিয়ানরা স্মৃতিভ্রংশতা দোষে দুষ্ট হতে চায়নি। আজ এস্তাদিও নাশিওনাল পুরোদস্তুর ফুটবল স্টেডিয়াম, কিন্তু তার মধ্যে জ্বলজ্বল করছে একটি শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ – স্বৈরতন্ত্রী ঘাতক, গণতন্ত্রের ঢাক পেটানো তার আন্তর্জাতিক মদতদাতা আর ফুটবল নিয়ামক সংস্থার জোটের নোংরা খেলার প্রতীক হয়ে।

চিলে
কার্লোস কাজেলি। ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স

কার্ল মার্কস বলেছিলেন “ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়। প্রথমে ট্র্যাজেডি হিসাবে, তারপর প্রহসন হিসাবে।” প্রায় ৫০ বছর পরে ১৯৭৩ সালের ২১ নভেম্বরের ঘটনা ফিরে দেখতে গিয়ে উক্তিটি দৈববাণীর মত শোনায়। যে যুক্তি দেখিয়ে যারা ২০২২ সালের বিশ্বকাপ যোগ্যতার্জন পর্ব থেকে রাশিয়াকে নির্বাসন দিল, তারাই ৫০ বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়নের দেওয়া একই যুক্তিকে খণ্ডন করে ফুটবলের নামে প্রহসন রচনা করেছিল। ট্র্যাজেডি হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ন্যাটো গোষ্ঠীর এই দেশগুলো ফিফাকে ঢাল করে যে রাজনীতির খেলা খেলল তাতে দুবারই হেরোদের দলে থাকল রাশিয়া বা পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়ন। সেদিন ফুটবল মাঠকে বধ্যভূমি বানানো সত্ত্বেও যারা চোখ বুজে ছিল, তারাই পিনোশে রাজের অবসানে সেই বধ্যভূমির গল্প ফলাও করে প্রচার করে, জুন্টার অত্যাচারের শিকারদের প্রতি সহানুভূতি দেখায়, দেখানোর চেষ্টা করে তারা সবসময় ন্যায়ের পথে থেকেছে। আমরাও চুপ করে মেনে নিই, প্রশ্ন তুলি না তাদের নৈতিকতা নিয়ে। সেই নীরবতার পথ ধরে ১৯৭৩ ঘটে, আসে ২০২২। সময় এসেছে, আহা, খেলাধুলোয় আবার রাজনীতি কেন – এই সুবিধাবাদী অবস্থান ছেড়ে সত্যি কথাটা জোর গলায় বলার। হ্যাঁ, এমনকি খেলাধুলার মত আপাত অরাজনৈতিক বিষয়েও। নইলে খেলাটা আর উপভোগের বিষয় থাকবে না।

তথ্যসূত্র

(১) গারেথ থমাস, দ্য ফুটবল হিস্ট্রি বয়েজ, সেপ্টেম্বর ২০২১
(২) পিট স্পেন্সার, footballpink.net, ফেব্রুয়ারি ২০২২
(৩) উলফগ্যাং ক্রাউশার, ইউরোজিন, অগস্ট ২০০৮
(৪) ফিলিপ বেকার, insidethegames.biz, মার্চ ২০২২
(৫) রবি দেব, medium.com, এপ্রিল ২০১৪
(৬) তথ্যচিত্র দি অপোজিশন, প্রযোজক: ইএসপিএন
(৭) নিউ ইয়র্ক টাইমস, ১৩ জুন, ১৯৭৪
(৮) দ্য গার্ডিয়ান, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মতামত ব্যক্তিগত

প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.