অনুদেব মণ্ডল

গত ৫ অগাস্ট উত্তরাখণ্ডের ধারালিতে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই সম্পর্কিত নানা প্রতিবেদন, ভিডিও ঘেঁটে দেখছিলাম। মোটামুটি যা জানা গিয়েছে তা হল, পাহাড়ের উপর থেকে প্রচুর পরিমাণে পলি নেমে এসে একটা বিরাট এলাকাকে খড়কুটোর মতো ভাসিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছে – বাড়িঘর, হোটেল, দোকানপাট, কিছুই রক্ষা পায়নি। এই পলিপ্রবাহের কিছুটা পলি ছিল তরলিত, কিছুটা আবার বেশ ঘন, তাতে জলের অংশ কম। উপগ্রহের ছবি দেখে যা বুঝতে পারছি, ক্ষীরগঙ্গা নদীর পথ ধরেই পুরো প্রবাহটা নেমে এসেছে। ভাগীরথী এখানে অক্ষীয় নদী (axial river), অর্থাৎ এই অঞ্চলের যত নদীনালা, সেসবের জলবাহিত পলি এসে মিশছে ভাগীরথীতে।

ভাবনার কথা হল, যে জায়গায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই জায়গাটা দাঁড়িয়ে আছে একটা পলল পাখা (alluvial fan)-এর উপর। পলল পাখার বৈশিষ্ট্য হল, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটা উল্লম্বভাবেও বাড়ে (একে ভূতত্ত্বের ভাষায় আমরা বলি – aggradation) আবার অনুভূমিক দিকেও বাড়তে পারে (অর্থাৎ progradation)। এই প্রক্রিয়ার সময়ে ধীরে ধীরে পলি জমা হলে ভূমিরূপটা সমুদ্ররেখার অভিমুখে (সামনের দিকে) এগিয়ে যায়। গতি অবশ্যই খুব কম, প্রায় বোঝাই যায় না। যদিও মাঝে মাঝে যখন হড়পা বান আসে, আকস্মিক অনেকটা পলি এসে যাওয়ার ফলে পলল পাখা এক ধাক্কায় অনেকদূর এগিয়ে যায়। এখানে আমরা দেখছি, ক্ষীরগঙ্গা নদী ওই পলল পাখাকে বাঁদিকে রেখে দ্বিতীয়বার বাঁক নিয়েছে। নদী সাধারণত তার গতিপথে কোনো বাধা পেলে তখনই বাঁক নেয়, যাকে ভূতাত্ত্বিক পরিভাষায় বলা হয় meander। এখানে আগের কোনো হড়পা বান প্রচুর পলি বয়ে এনেছিল, যার দ্বারা একটা উচ্চভূমি তৈরি হয়েছে, সেই উচ্চভূমিতে বাধা পেয়ে ক্ষীরগঙ্গা নদী ডানদিকের একটা খাত বেয়ে নেমে এসেছে। নানা সময়ে এখানে বন্যা হয়েছে, বন্যার সময়ে অনেক বেশি পরিমাণে জল ও পলি এসে ওই খাতকে আরও গভীর করে তুলেছে। শেষপর্যন্ত খাতটা নদীর স্থায়ী প্রবাহেরই অংশ হয়ে গিয়েছে। মানুষের জীবৎকালের হিসাবে এটা যথেষ্ট দীর্ঘ সময়ের ঘটনা। মোটামুটি ৮০-১০০ বছরের মধ্যে এখানে এ ধরনের বান এসেছে কিনা জানা যায় না। এগুলো উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি দেখে, ভূতাত্ত্বিক গবেষণা থেকে বুঝতে হয়।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

যখন হড়পা বান এসেছে, নদী আর নিজের ওই বাঁক নেওয়া পথটা অনুসরণ করেনি, সোজা পথ বেয়ে নেমে এসেছে। ওই পথে আগেও হড়পা বান নেমেছিল, যার পদচিহ্নস্বরূপ পলল পাখা ওখানে আগে থেকেই ছিল। বন্যার সময়ে নদী আরও পলি নিয়ে এসে তীব্র গতিতে পাখার উপর ফেলেছে, ফলে পাখা স্বাভাবিক নিয়মেই সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছে। ফলস্বরূপ বাড়িঘর, হোটেল, গ্রাম যা কিছু ছিল, সবই খড়কুটোর মত ভেসে গিয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এরকমই হয়। একে প্রচুর পরিমাণ পলি, তার উপর তীব্র গতি, সব মিলিয়ে তার ভরবেগ এত বেশি থাকে যে সামনে যা পড়ে, সবই ধ্বংস হয়ে যায়।

আরও লক্ষণীয়, এখানে বাড়িঘর, দোকানপাট তৈরি হয়েছিল, যেগুলোকে নদীর বারান্দা বা সোপান (ইংরিজিতে degradational river terrace) বলে, তার উপর। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন কারণে নদী তার নদীখাতের গতিপথকে কাটতে কাটতে নামে, এভাবে নতুন একটা প্লাবনভূমি তৈরি হয়। পুরনো প্লাবনভূমি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে, সেটাই সোপানে পরিণত হয়। এই সোপানগুলোকে লক্ষ করলে আমরা দেখব যে, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নতুন সোপানে। এমনকি তার আগের সোপানও নষ্ট হয়েছে, কিন্তু পুরনো যে সোপানগুলোর উপর বসতি রয়েছে, সেখানে বন্যার জল পৌঁছতে পারেনি। বসতি নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন অংশ বেশি বিপজ্জনক বা কোন অংশ এড়ানো উচিত – সে ব্যাপারে কিছু পরে আলোচনা করছি।

ধারালির ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪ অগাস্ট অবধি প্রায় ৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, মোট একশোর বেশি বাড়ি আর হোটেল ধুয়ে মুছে গিয়েছে। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যাটা বাড়বে বই কমবে না।

কী কী কারণ থাকতে পারে?

দুর্যোগের পরপরই আমাদের কাছে যে রিপোর্ট এসেছিল, সেখানে বলা হয়, এটার কারণ আসলে মেঘ-ভাঙা বৃষ্টি। প্রবল বৃষ্টির কারণে নদীর জল আচমকা বেড়ে যায় – এই ব্যাখ্যাটাই উঠে আসে। কিন্তু মেঘ-ভাঙা বৃষ্টি ছাড়াও এই ঘটনা ঘটতে পারে। হয়ত খুব কম সময়ে বেশি বৃষ্টি হল না (যেমনটা মেঘ-ভাঙা বৃষ্টির ক্ষেত্রে ঘটে)। কিন্তু যদি দীর্ঘদিন ধরে টানা বৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে পলি বেশি ক্ষয়িষ্ণু হওয়ার ফলে অনেকটা পলি এক জায়গায় জমতে পারে, একটা নির্দিষ্ট সীমারেখার পর সেই পলি ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামতে শুরু করে।

দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া কাগজের ৬ অগাস্টের প্রতিবেদনে দেখলাম, আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল মাঝারি। মেঘ ভাঙলে যে অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ার কথা, তা হয়নি। ফলে এখানে অন্য কারণ নিশ্চয়ই আছে, যেগুলো আরও বেশি করে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। কারণগুলো জানলে তবেই বোঝা যাবে, কীভাবে এ ধরনের দুর্যোগের মোকাবিলা সম্ভব। হ্যাঁ, এটা সত্যি যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ করা খুব কঠিন, বিশেষত হিমালয়ের মত উঁচু জায়গায়। তবুও আমাদের নিয়ন্ত্রণে যতটুকু থাকে, ততটুকুও যদি কাজে লাগানো যায়।

মেঘ-ভাঙা বৃষ্টি ছাড়া আরও মোটামুটি সাতটা কারণ থাকতে পারে। একে একে আলোচনা করছি।

প্রথমত, এ ধরনের বন্যার নেপথ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেটা হয়, তাকে আমরা বলি glacial lake outburst flood (সংক্ষেপে GLOF)। হিমবাহজাত হ্রদের (glacial lake) বৈশিষ্ট্য হল, সেখানে জল থাকে, আবার বাহিত পলিও এসে জমা পড়ে। এই হ্রদের একটা নিজস্ব ক্ষয়সীমা আছে। যে নির্দিষ্ট সীমা অবধি নদী তার তলদেশকে কাটতে পারে, সেটাকেই ক্ষয়সীমা বলে। ভূপৃষ্ঠে চূড়ান্ত ক্ষয়সীমা বলতে সমুদ্রপৃষ্ঠকেই বোঝায়, কারণ সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে কেবলই পলি জমা পড়ে, কোনও ক্রমক্ষয়ের সম্ভাবনা নেই (ব্যতিক্রম যদিও আছে)। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, সব নদীরই সমুদ্রে এসে পড়ার কথা। কিন্তু অনেক বেশি উচ্চতায় যে হ্রদগুলো রয়েছে বা স্থলভাগের মধ্যেকার যে হ্রদগুলো, সেখানে ক্ষয়সীমা অস্থায়ী। অর্থাৎ সেখানে পলি জমা হলেও কোনো কারণে যদি সেই হ্রদের সঙ্গে অন্য কোনো খাত যুক্ত হয়ে যায়, তাহলে পলি আবার চেষ্টা করবে চূড়ান্ত ক্ষয়সীমার নিচে নেমে আসতে, মানে সমুদ্রপৃষ্ঠের স্তরে নেমে আসতে। খুব সহজ করে বললে, হিমালয়ের নদীগুলোর প্রবণতা হল হিমালয়কে সমুদ্রপৃষ্ঠে নামিয়ে আনা।

হিমালয় একটা নবীন পর্বত। সেটা ভূগঠনগত বা পাত সঞ্চরণের কারণে এখনো উপরের দিকে উঠছে। ভারতীয় পাত উপরের দিকে যাচ্ছে, হিমালয়ও উপরের দিকে উঠছে। অনবরত ক্রমক্ষয়ও চলছে। যদি বিন্ধ্য পর্বতের কথা ভাবি, সেখানে মেসো-প্রোটেরোজয়িক (১৬০-১০০ কোটি বছর আগের সময়) যুগের পাথর রয়েছে। এর থেকে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, সেইসময় হয়ত ওখানেও হিমালয়ের সমান উচ্চতার পর্বত ছিল। তা ক্ষয়সীমার নিচে না এলেও এখন অনেকটাই ক্ষয়িত। হিমালয়ও একদিন, আজ থেকে আরও কয়েক কোটি বছর পরে, সমান হয়ে যাবে – যখন হিমালয়ের উপরে ওঠা থেমে যাবে, একটা সাম্যাবস্থা তৈরি হবে।

হিমবাহজাত হ্রদের মধ্যে পলি জমা হতে হতে একসময় তার সীমারেখা (boundary) দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া অন্যান্য কারণও রয়েছে। যদি কোনো ভূমিকম্প হয়, সীমারেখার শিলাস্তরে ফাটল দেখা দিতে পারে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ যখন গলতে থাকে, তখন হ্রদের বাউন্ডারি ওয়ালের বরফও গলতে শুরু করে, আশেপাশের হিমবাহজাত পাথর (glacial tillite) তাকে আর ধরে রাখতে পারে না। অন্যদিকে বরফ গলার ফলে হ্রদের জলও বেড়ে যায়, শেষপর্যন্ত বরফের দেওয়াল ভেঙে হ্রদের জল আর পলি একসঙ্গে নামতে থাকে। এই মিশ্র প্রবাহ নিম্নস্রোতের কোনো এক নদীখাতকে বেছে নিয়েই সেই বরাবর নেমে আসে। এই তথ্য আমাদের জানা যে, উত্তরাখণ্ড অঞ্চলে বারোশোর উপর এমন হিমবাহজাত হ্রদ রয়েছে। তার মধ্যে উত্তরকাশীতেই রয়েছে ৪৩০টি হ্রদ। এর ১৩-১৪ খানা ভয়ানক বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে, যে কোনো সময়ে সেখানে বিস্ফোরক বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

দ্বিতীয় যে কারণটার কথা বলব, সেটাকে আমরা বলি হিমবাহ উপত্যকা ধস (glacial valley collapse)। হিমবাহ যদি ভেঙে নেমে আসে বা তার বরফ গলতে থাকে, সেক্ষেত্রে হিমবাহবাহিত পলি বেরিয়ে আসতে পারে। সেই পলি বেরিয়ে এসে প্রথমে হিমবাহজাত পাথর তৈরি করে। যদি সেগুলো স্থিতি কোণের (কোনো বস্তু একটা প্রাকৃতিক ঢালের উপর যতটা খাড়া হয়ে স্থির থাকতে পারে, সেই সর্বোচ্চ কোণকে স্থিতি কোণ বা angle of repose বলে) সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে এই ধরনের ধস নামতে পারে।

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল হিমবাহ ধস, যেখানে পুরো হিমবাহটাই ভেঙে নেমে আসে। এই ধরনের ঘটনায় বিশ্ব উষ্ণায়নেরও ভূমিকা আছে। যদি তুষাররেখা ক্রমশ উপরের দিকে সরতে থাকে, হৈমবাহিক পরিবেশ ধীরে ধীরে glaciofluvial পরিবেশে (যেখানে হিমবাহ গলা জলের ক্রিয়ায় নানা ভূমিরূপ তৈরি হয়) পরিণত হয়। হিমবাহের নিচের দিকটা গলে যেতে থাকে, ঘর্ষণ কমে যায়। একটা সময়ে আশেপাশের এবং উপরের সমস্ত ধরনের পলি মিলেমিশে তৈরি হয় এক দ্রুতগতির ভরপ্রবাহ (mass flow)।

অনেক সময়ে ভূমিঢালে ধস (slope failure) নামলেও তা থেকে দ্রুতগতির ভরপ্রবাহ তৈরি হতে পারে। ধরা যাক, কোনো এক ঢালে পলি জমছিল। এবার কোনো ঝাঁকুনি বা অতিরিক্ত পলি অবক্ষেপণের কারণে পলির স্থিতিশীলতা একটা সময়ের পর সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে। সমস্ত পলি তখন তীব্র গতিতে নেমে আসবে। পলিপ্রবাহের অভিমুখ থাকবে উপত্যকার দিকেই। পাহাড়ি উপত্যকায় নদী থাকা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, সে নদীর স্রোতের সঙ্গে ওই পলিপ্রবাহ মিশে গিয়ে এই ধরনের ভরপ্রবাহ তৈরি করতে পারে। সেটাও কখনো কখনো হড়পা বানের আকার নিতে পারে। অনেকসময় দেখা যায়, বড় কোনো ভূমিধস হচ্ছে। সেই ভূমিধস কোনো নদী উপত্যকায় গিয়ে পড়লে, সেটা আরও গতি পেয়ে নদী বরাবর বয়ে যাবে।

ভরপ্রবাহের আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ নেপথ্য কারণ হতে পারে ছোট, বড় নানা মাপের ভূমিকম্প। ধারালিতে যদি বড় কোনো ভূমিকম্প হয়ে থাকত, সেটা অবশ্যই খবরে আসত। কিন্তু অনেকসময় ছোট মাত্রার কিছু ভূমিকম্প হয়, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা হয়ত তিনের কম। উন্নতমানের ব্যবস্থাপনা না থাকলে সেই ধরনের ভূমিকম্প চিহ্নিত করা কঠিন। হিমালয়ের অনেক জায়গাতেই এরকম ছোটখাটো ভূমিকম্প আকছার হয়। যেহেতু ওই অঞ্চলে ভূমিকম্প রেকর্ড করার স্টেশনের সংখ্যা কম, তাই ছোট মাত্রার ভূমিকম্প ঘটলেও বোঝা সম্ভব হয় না। এখনো কিছুই প্রমাণিত হয়নি, তবে এক্ষেত্রে এটাও যে কারণ নয়, তা কিন্তু জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।

এছাড়া মনুষ্যসৃষ্ট কিছু কারণও দায়ী হতে পারে। তার অন্যতম অস্থায়ী পুকুর খনন। অবশ্য প্রাকৃতিক কারণেও নদীর কোনো এক ধারে জল-পলি জমে গিয়ে অস্থায়ী পুকুর তৈরি হয়ে যেতে পারে।

আবার যখন কোনো রাস্তার যখন সম্প্রসারণ হয়, পাহাড়ের দেওয়াল কেটে সুড়ঙ্গ তৈরি হয় বা ভূমিধস হয়ে যাওয়ার পর আবার রাস্তা বানানো হয়, তখনো অতিরিক্ত পলি জমে ওঠে। সেই পলিকেও বাইরে আর কোথাও ফেলা হচ্ছে না, স্থায়ী কোনো জায়গাও নেই ফেলার। ফলে সেখানেও এই অতিরিক্ত পলি বা বিপুল ভরের পদার্থ এক জায়গায় জড়ো হওয়ার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তা কিন্তু ভবিষ্যতে এমন ঘটনাকে, অর্থাৎ দ্রুতগতির ভরপ্রবাহকে, ত্বরান্বিত করতে পারে।

আরো পড়ুন উন্নয়নের চাপে বিপর্যয়: কত হাজার মরলে তবে মানবে তুমি শেষে?

কিছু কিছু প্রকল্পের কারণেও অতিরিক্ত পলি জমা হতে পারে। যেখানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বাঁধ তৈরি হচ্ছে, সেই বাঁধের পিছনে অনেকদিন ধরে জল জমে থাকার ফলে পলিও জমে থাকছে। পাহাড়ি উপত্যকায় সেতু তৈরি করার সময়েও যখন উপত্যকার দুদিকের দেওয়াল কেটে তাকে স্থিতিশীল করতে হয়, তখনো ওখানকার পলি এই ব্যবস্থার মধ্যে ঢুকে পড়ে। এই ধরনের প্রকল্পে যখন ডিনামাইট দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, এমনিতেও আবহবিকারের ফলে পাথর দুর্বল হয়ে যায়। তবে সেটা ধীরগতির প্রক্রিয়া। তখন এই ধরনের কৃত্রিম fracturing-এর কারণে পাথর আরও শিথিল হয়ে যায়। বিশেষত, ভঙ্গুর প্রকৃতির পাথরের ক্ষেত্রে এই fracturing ভবিষ্যতে টাইম বোমার সমান বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শেষাংশ আগামীকাল

নিবন্ধকার পললবিদ্যার গবেষক ও সহকারী অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত

অনুলিখন: সায়নী ব্যানার্জি ও সোহম দাস

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

মতামত জানান

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.