নেপালের পর ভারতীয় উপমহাদেশের আরও একটি দেশ কি কমিউনিস্ট রাষ্ট্রপ্রধান পেতে চলেছে? এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়, তবে সম্ভাবনা যথেষ্ট। শ্রীলঙ্কার আসন্ন নির্বাচনে মার্কসবাদী জনতা বিমুক্তি পেরুমনা (জেভিপি) দলের প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সেদেশের জনমত সমীক্ষা। উপমহাদেশের বামপন্থী আন্দোলনের ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে এই ঘটনা রীতিমত চমকপ্রদ।
২০২২ সালের ‘অরগলয়’ বা গণঅভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি গোতাবায়া রাজাপক্ষে ও প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষ দেশ ছাড়ার পর শ্রীলঙ্কার প্রথম সাধারণ নির্বাচন হতে চলেছে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর, শনিবার। শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভারতের মত নয়। সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দেশ এবং সরকার উভয়েরই প্রধান হিসাবে প্রধানমন্ত্রীসহ বাকি মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিযুক্ত করেন। সুতরাং কয়েক বছর ধরে চলতে থাকা অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে এবং দেশের গণতন্ত্র এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে এই নির্বাচন।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক, দেশের ভাবী রাষ্ট্রপতি হওয়ার লক্ষ্যে কারা কারা এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমসিংঘের পাশাপাশি এই লড়াইয়ে আছেন আরও ৩৮ জন প্রার্থী, যার মধ্যে সবথেকে বেশি আলোচনায় রয়েছেন তিনজন – প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি গোটাবায়া রাজাপক্ষের ভাইপো এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষের ছেলে নামাল রাজাপক্ষে, বর্তমানে মুখ্য বিরোধী দল ইউনাইটেড পিপলস পাওয়ার পার্টির শীর্ষনেতা এবং শ্রীলঙ্কার তৃতীয় রাষ্ট্রপতি রণসিংঘে প্রেমদাসার ছেলে সজিথ প্রেমদাসা এবং শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় ‘কমিউনিস্ট’ শক্তি জেভিপির শীর্ষনেতা অনুরা কুমারা দিশানায়েকে। এছাড়াও রয়েছেন প্রখ্যাত ব্যবসায়ী দিলিথ জয়াবীরা, জনক রত্নায়েকে, প্রাক্তন সেনাধ্যক্ষ শরৎ ফনসেকা, সামাজিক আন্দোলনকর্মী ওশালা হেরাথ। আছেন আরেক কমিউনিস্ট দল ফ্রন্টলাইন সোশালিস্ট পার্টির নেতা তথা অরগলয়ের সময়ে ধৃতদের হয়ে সওয়াল করা আইনজীবী নুয়ান বোপেগে। উল্লেখযোগ্য, নুয়ান ২০২২ সালের অরগলয় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকেই রাষ্ট্রপতি পদের জন্য লড়ছেন। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয়, রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে কোনো মহিলা নেই। নির্বাচনের জেতার জন্য একজন প্রার্থীকে অন্তত ৫০% ভোট পেতে হবে। ১৯৪৮ সালের পর থেকে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক ক্ষমতা মূলত দুটি দলের হাতেই কেন্দ্রীভূত থেকেছে – ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি এবং শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি। জেভিপির অনুরা জয়ী হলে সেদিক থেকে সেই জয় হবে ঐতিহাসিক।
এবারের নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে রয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের (আইএমএফ) শর্তানুযায়ী আয়করের বিন্যাস ও সরকারি ব্যয়সংকোচের ফলে দেশের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন। ২০২২ সালে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও গণক্ষোভের মুখে রাজাপক্ষেরা পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করে আইএমএফের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য আদায় করেন বিক্রমসিংঘে। এই চুক্তি অনুসারে আয়কর বৃদ্ধি, ভর্তুকি হ্রাস এবং সরকারি পরিষেবায় নানা কাটছাঁট হয়। ফলে অসুবিধায় পড়েন দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলি। একদিকে বর্তমান রাষ্ট্রপতি বিক্রমসিংঘে কঠোরভাবে আইএমএফ নির্দেশিত পথে চলার পক্ষে, অন্যদিকে সজিথ প্রেমাদাসা বা জেভিপির দিশানায়েকে আইএমএফের সঙ্গে কিছুটা দর কষাকষির পক্ষে। বিশেষত অর্থনৈতিক সংকট থেকে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানোর জন্য আইএমএফের শর্ত মানার চাইতেও দুর্নীতি দমন করার ব্যাপারে তাঁরা বেশি জোর দিচ্ছেন। এছাড়া সরকার পরিচালনা, সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রশ্নেও প্রার্থীদের অবস্থান বিভিন্ন।
এখনো পর্যন্ত খুব নিশ্চিতভাবে জনমত একজন বা দুজনের পক্ষে আছে এমনটাও বলা যাচ্ছে না। তবে বেশ কয়েকটি প্রাক-নির্বাচনী জনমত সমীক্ষায় এগিয়ে রয়েছেন অনুরা। যদিও জনসমর্থনের বিচারে তাঁর দল জেভিপি দেশের চতুর্থ বৃহত্তম শক্তি এবং ২২৫ জন সদস্যবিশিষ্ট সংসদে তাদের সদস্যসংখ্যা মাত্র তিন।
তা সত্ত্বেও সাম্প্রতিককালে অনুরার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জেভিপির ‘বিতর্কিত’ অতীত পেরিয়ে দলটিকে নতুন করে গড়ে তোলার পিছনে তাঁর প্রয়াস। যদিও শ্রীলঙ্কার বামপন্থীদের অনেকেই এই প্রয়াসকে সংশোধনবাদ এবং নির্বাচনসর্বস্বতা বলেই চিহ্নিত করেন। ভারতীয় উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে জেভিপির তুলনা মেলা ভার। সেদেশের কিংবদন্তি কমিউনিস্ট নেতা রোহানা বিজয়বেরার নেতৃত্বে সাতের দশকের গোড়ায় এবং আটের দশকে দুবার জেভিপি সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটায়। বিশেষ করে ১৯৮৭-৮৯ সালের কমিউনিস্ট অভ্যুত্থান শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের এক রক্তাক্ত অধ্যায়। জেভিপির বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার শাসকশ্রেণির অভিযোগ, এই কালপর্বে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থেকে শুরু করে শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, শ্রমিক সংগঠনের নেতাসহ প্রচুর মানুষকে খুন করে দেশ জুড়ে ব্যাপক সন্ত্রাসের সৃষ্টি করেছিল জেভিপি। যদিও জেভিপির বিপ্লবী অংশের দাবি, এই তথাকথিত সন্ত্রাস আদতে ছিল বিপ্লবী গণঅভ্যুত্থান। জেভিপির অভ্যুত্থান দমন করতে সরকারের তরফেও নেমে আসে গণগ্রেফতারি, সন্ত্রাসবাদী সন্দেহে অত্যাচার ও গণহত্যা। রাষ্ট্র বনাম কমিউনিস্টদের এই সংঘর্ষে জেভিপির শীর্ষ নেতৃত্বসহ প্রায় ৬০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়।
আটের দশকের দ্বিতীয় অভ্যুত্থানের ব্যর্থতার পরেই সশস্ত্র গণবিদ্রোহের পথ থেকে ধীরে ধীরে সরে আসতে থাকে জেভিপি। ২০১৪ সালে জেভিপির নেতৃত্বের ভার নেন অনুরা। তিনিই সর্বপ্রথম জেভিপির হয়ে দেশের জনগণের কাছে সশস্ত্র অতীতের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। সশস্ত্র বিপ্লব ছেড়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে চলে আসা জেভিপি অনুরার নেতৃত্বে বিপ্লবের পথ হয়ত ত্যাগ করেছে, কিন্তু বিরাট অংশের মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। শিল্পী, বুদ্ধিজীবী থেকে সামরিক নেতৃত্ব – জেভিপির এককালের আক্রমণের লক্ষ্য হয়ে ওঠা বহু মানুষও এখনকার জেভিপিকে আটের দশকের জেভিপির চেয়ে আলাদা মনে করেন। আরও একবার বলে নেওয়া ভাল, শ্রীলঙ্কার কমিউনিস্টদের একাংশ এই পরিবর্তিত জেভিপির তীব্র সমালোচক। তাঁদের মতে, জেভিপি আপসের পথে হাঁটছে। দলটির বিপ্লবী প্রাণসত্তা বিনষ্ট হয়েছে।
আরো পড়ুন বুদ্ধদেব বুঝেছিলেন নিজেকে নিষ্কলঙ্ক রাখতে চাওয়া অপরাধ
কিন্তু এছাড়াও জেভিপির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনা রয়েছে যা নিয়ে অনুরারও কোনো নতুন অবস্থান দেখা যায়নি। তা হল শ্রীলঙ্কার সংখ্যাগুরু সিংহলি বৌদ্ধ এবং সংখ্যালঘু তামিল হিন্দুদের সংঘর্ষে সংখ্যাগুরুর পক্ষ নেওয়া। একটি কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে এ জিনিস বেশ বিরল ও দুর্ভাগ্যজনক। জেভিপি বরাবরই শ্রীলঙ্কার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতীয় হস্তক্ষেপের বিরোধী। ১৯৮০-র দশক থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলম, অর্থাৎ এলটিটিই-র বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজকর্মের পিছনে ভারত রাষ্ট্রের হাত রয়েছে বলে মনে করত জেভিপি। যদিও ১৯৮৭ থেকে ১৯৯০-এর মধ্যে তামিল সন্ত্রাসবাদ দমন করার জন্য ভারতীয় সেনা পাঠানো হয় শ্ৰীলঙ্কার তৎকালীন সরকারের সাহায্যার্থে। একইসঙ্গে প্রদেশগুলির মধ্যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে জয়বর্ধনের সরকারকে রাজি করিয়ে ফেলে রাজীব গান্ধী সরকার। এর ফল শ্রীলঙ্কার সংবিধানের ১৩তম সংস্কার। যদিও এই সংস্কার এখনো পুরোপুরি প্রয়োগ করার চেষ্টা করেনি কোনো সরকারই। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ ছাড়াও এই সংস্কারের মাধ্যমে সিংহলি ও তামিল – দুই ভাষাকেই সরকারি ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়।
জেভিপি বরাবরই তামিল ইলমের বিরুদ্ধে ছিল। পরবর্তীকালে রাজাপক্ষে সরকার যখন তামিল ইলমের আন্দোলনকে শক্ত হাতে, নির্মম রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের মাধ্যমে দমন করে, তখনো জেভিপি রাজাপক্ষেকেই সমর্থন করেছিল। শ্রীলঙ্কার তামিল জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধাপরাধের বিচার চেয়ে চলেছে। কিন্তু এই ব্যাপারে কোনোরকম আগ্রহ দেখাননি অনুরাও, যা তাঁর গণতান্ত্রিক মনোভাবকে প্রশ্নের মুখ ফেলছে।
অর্থনৈতিক প্রশ্নেও কমিউনিস্ট মতাদর্শ থেকে কিছুটা সরে এসে আইএমএফের সঙ্গে সমঝোতামূলক অবস্থানে যেতে চাইছে জেভিপি। দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক শুল্ক ব্যবস্থাকে আরও সরল করা, ব্যবসাবাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নির্মাণ করা এবং সর্বোপরি, বেসরকারি ক্ষেত্রের প্রসারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার কথা বলছেন অনুরা। অন্যদিকে ফ্রন্টলাইন সোশালিস্ট পার্টির মত কট্টর বামপন্থীরা আইএমএফের তীব্র বিরোধী।
পঞ্চান্ন বছর বয়সী জেভিপি নেতা অনুরার রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়তে থাকার অন্যতম প্রমাণ হল ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের আমন্ত্রণ। ভারতের প্রতি জেভিপির রাজনৈতিক সমালোচনা ছিল তীব্র। তাদের অতীত তীব্র ভারতবিরোধিতার। কিন্তু জেভিপি নেতার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাই ভারতকে বাধ্য করেছে তাঁকে আমন্ত্রণ জানাতে। এর দুমাস বাদেই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি উপস্থিত হন অনুরার অফিসে। সুতরাং তাঁর সম্ভাব্য সাফল্য যে উপমহাদেশের ক্ষমতা কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
অনুরার ভাষায় ‘দেশের মানুষ পরিবর্তন চায় এবং আমরাই সেই পরিবর্তনের অগ্রদূত। বাদবাকি প্রার্থীরা সেই একই পুরনো, ব্যর্থ, প্রচলিত ব্যবস্থার প্রতিনিধি।’
শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো থেকে ১৭৭ কিলোমিটার দূরে অনুরাধাপুরা জেলার থামবুটেগামা গ্রামে মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া অনুরা এখন দ্বীপরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তম রাজনৈতিক মুখ। কেলানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞানে স্নাতক এই মধ্যবয়সী কমিউনিস্ট স্কুলজীবন থেকে বাম রাজনীতি করছেন। ২০০০ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে তিনি ভোটে জিতে সংসদে যান। মাত্র ৪৪ বছর বয়সে ২০১৪ সালে তিনি জেভিপি নেতা হয়ে ওঠেন। তারপর থেকে দলের ভাবমূর্তি গড়ে তোলার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করে চলেছেন। অনেকের মতে তিনি সংশোধনবাদী, আপসকামী। অনেকে আবার মনে করে তিনি বাস্তববাদী।
এহেন অনুরা কি কলম্বোর বুকে লাল পতাকা তুলতে পারবেন? উত্তর পাওয়া যাবে আর কয়েকদিন পরেই। বুলেটের জোরে বিপ্লব করে দেশের ক্ষমতা দখল করতে পারেনি জেভিপি। ব্যালটের যুদ্ধ কি শ্রীলঙ্কায় ক্ষমতায় আনবে কমিউনিস্টদের?
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







