শাহাদাৎ হোসাইন (স্বাধীন)
বাংলাদেশে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়ে গেছে। অনেকে সেটাকে বিপ্লব বলছে। তবে বিপ্লব বলবে নাকি গণঅভ্যুত্থান বলবে, তা নিয়ে ঢাকার তরুণ বু্দ্ধিজীবী সমাজে তর্কবিতর্ক চলছে। কোনো সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী পুরো আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে তা নয়। কিন্তু দেশপ্রেমিক, সাহসী মেধাবী তরুণ প্রজন্ম বাঁশিতে ফুঁ দিয়েছিল, তাতে যোগ দিয়েছিলেন হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ। দেশ, বিদেশ, প্রবাস থেকেও। বাংলাদেশে বামপন্থী ও মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে যথাযথ সংযোগ তৈরি করতে পারছিল না দীর্ঘদিন। বিশেষ করে তরুণরা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তার দায় যতটা না বিরোধী দলগুলোর, তার চেয়ে বেশি পতিত ফ্যাসিবাদী শাসক শেখ হাসিনার। কারণ তাঁর আমলে ভিন্নমতের কোনো পরিসরই রাখা হয়নি। বিশেষ করে তাঁর ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগ ক্যাম্পাসগুলোতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এই পরিস্থিতিতে দেশে বিদেশে বেশকিছু স্বতন্ত্র অ্যাক্টিভিস্ট ও প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠেছিল। তরুণ ছাত্রদের কর্মসূচি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এই গ্রুপগুলো তাদের সমস্ত ক্ষমতা দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সেই গণঅভ্যুত্থানে যোগ দেয় নারী, আদিবাসী, হিন্দু, কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি জনতা।
গণঅভ্যুত্থানের পরপর যে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তার কিছুটা সম্প্রতি ফিকে হয়েছে সত্য, তবে তা ভারতীয় মিডিয়ার প্রোপ্রাগান্ডায় যতটা দেখানো হচ্ছে ততটা নয়। যে কোনো বিপ্লব/গণঅভ্যুত্থানে সমস্ত শ্রেণি, পেশার মানুষ যোগ দেয়। বিপ্লবের পর সকলের নিজের নিজের প্রত্যাশা তৈরি হয়। অসংখ্য মতবাদের সমন্বয় এবং সবার প্রত্যাশা পূরণের এক জটিল চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে বর্তমান সরকার এবং ছাত্র নেতৃত্ব। তার মধ্যে এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা।
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা ভারতবর্ষে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। এমনকি বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানকে যাঁরা সমর্থন করেছেন তাঁদের অনেকের মধ্যেও অনেক ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ভারতের এক শ্রেণির গণমাধ্যম শিষ্টাচারবহির্ভূত বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডাও চালাচ্ছে। সেই হিন্দুত্ববাদী উগ্র শক্তিগুলোকে জবাব দেওয়ার বিশেষ প্রয়োজন বোধ করছি না। তবে যেসব যৌক্তিক প্রশ্ন উঠে এসেছে সেগুলি নিয়ে আলোচনা জরুরি।
বিএনপি বনাম জামাত এবং উদীয়মান নাগরিক শক্তি
গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের সূচনা হয়েছে। বিএনপি এবং জামাতের দীর্ঘ রাজনৈতিক মিত্রতার প্রশ্ন আজ নতুন করে সামনে এসেছে। রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে সে জোট যে শুধু ভেঙে গেছে তা নয়, এরা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে। নতুন একটি রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও নাগরিক কমিটি, যাদের দাবি ছিল সাম্প্রদায়িকতা ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির অবসান।
আরো পড়ুন ‘ভারতের সকলের সাথে বাংলাদেশের মানুষের বিদ্বেষ থাকার কারণ নাই’
তাদের শক্তিশালী অবস্থান বিএনপি-জামাত ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে। বামপন্থীরা ঐতিহ্যগতভাবে গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দিলেও নতুন প্রজন্মের এই আন্দোলনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ফলে বামপন্থী দলগুলোর তৃতীয় শক্তি হয়ে ওঠার কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং তৃতীয় শক্তি হয়ে উঠতে পারে নতুন ছাত্র-নাগরিক শক্তি। অন্যদিকে ইসলামিস্টরা নতুন কৌশলে সমাজের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করছে। তারা নিজেদের মধ্যে ঐক্য তৈরি করতে আগ্রহী। তবে নানা আদর্শগত দলে, উপদলে বিভক্ত ইসলামিস্টদের পক্ষে তা কঠিনও বটে। বিএনপির পর ইসলামিস্টরা দ্বিতীয় শক্তি হয়ে উঠলে তা ঢাকার রাজনীতির জন্য রীতিমত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে চাওয়া ছাত্র-নাগরিক শক্তির সামনেও এই মুহূর্তে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে। তার মধ্যে আর্থিক সীমাবদ্ধতা, আদর্শের জায়গায় আপোস না করা এবং সুপরিচিত রাজনৈতিক মুখের অভাব অন্যতম। তবে ছাত্র-নাগরিক শক্তির রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে উঠে আসা যেমন বাস্তব, তারা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে একটা বড় জায়গা নেবে তাতেও কোনো সন্দেহ নেই। তাদের বড় শক্তি তাদের সাহস, দায় ও দায়বদ্ধতা।
নির্বাচন সংক্রান্ত জল্পনা: কোন পদ্ধতিতে ভোট হবে?
নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলির মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। আনুপাতিক হারে নির্বাচনের পদ্ধতি এবং আওয়ামী লীগকে লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়া হবে কিনা – এই প্রশ্নে বিরোধী দলগুলির মধ্যে বিরোধ চলছে।। ছোট ছোট দলগুলি আনুপাতিক হারে নির্বাচনই চাইছে, কারণ অতীতে দেখা গেছে তাদের অনেকে ২%-৩% মানুষের ভোট পেলেও সংসদে কোনো আসন পায়নি। তবে এই মুহূর্তে আনুপাতিক হারে নির্বাচন পদ্ধতি চালু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম, যদি বিএনপি না চায়। তবে আপাতত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যাপারে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। ফলে আগামীদিনের রাজনীতির ময়দান এখন উন্মুক্ত। রাজনৈতিক দলগুলিকে জনপ্রিয়তার পরীক্ষা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে হবে। তবে আওয়ামী লীগের আগামী এক দশকে রাজনীতিতে ফেরা কঠিন।
সংবিধান সংক্রান্ত বিতর্ক: সংস্কারের দাবি
গণঅভ্যুত্থানের পর সংবিধান সংস্কারের দাবিতে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে নাগরিক কমিটি, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ আসাদুজ্জামান যে মন্তব্য করেছেন – শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের প্রয়োজন নেই – তার সঙ্গে বেশিরভাগ মূল ধারার রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব, একমত নয়। ছাত্ররা রাষ্ট্রের পরিচয় ও ধর্মের পরিচয়কে আলাদাই রাখতে চায়। সংবিধান সংস্কার কমিটির প্রধান হিসাবে আছেন প্রখ্যাত পণ্ডিত আলী রিয়াজ। তাঁর হাত ধরে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান আসবে বলে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে।
ছাত্র লীগ নিষিদ্ধকরণ এবং ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব
ছাত্র লীগকে নিষিদ্ধ করা এবং ছাত্র রাজনীতি বন্ধের প্রস্তাব রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্র এই প্রস্তাবকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিপরীতমুখী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। তবে ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় রয়েছে, কারণ তারা হাসিনার দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগের ট্রমা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১৫ বছরে ছাত্রলীগ শিক্ষাঙ্গনে ৮৬টি হত্যা, ১৪টি ধর্ষণ, ৬৯টি যৌন নিপীড়ন এবং ১,০৩২টি হিংসার ঘটনা ঘটিয়েছে। এছাড়া ৯৯ বার বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলির উপর হামলা চালিয়েছে, যাতে ৪৫১ জন আহত হয়েছে। ক্যাম্পাসগুলিতে ছাত্র লীগের হাতে ১০১ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-শিক্ষার্থী এবং ৩৮জন সাংবাদিক লাঞ্ছিত হয়েছেন।
এছাড়াও রাজনীতিতে কোথাও কোথাও আধিপত্যবাদী প্রবণতা এখনো দেখা যাচ্ছে। হাসিনা সরকারের লেজুড়বৃত্তি করা কিছু ভুঁইফোঁড় বাম ছাত্র সংগঠনগুলির পাশাপাশি কমিউনিস্ট পার্টি অফ বাংলাদেশ (সিপিবি) এবং বাংলাদেশের সমাজতন্ত্রী দলকে (বাসদ) নিষিদ্ধ করতে চেয়ে হাইকোর্টে রিট দাখিল করেছিল। তীব্র সমালোচনার মুখে সেই রিট প্রত্যাহার করা হয়।
ইতিহাস ফিরে দেখা: বিতর্কের নতুন দিগন্ত
৭ মার্চ এবং ‘জাতির পিতা’ সম্পর্কিত বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এতদিন শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের সমস্ত কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব সেখান থেকে বের হতে চায়। তারা বলছে শেখ মুজিব, মওলানা ভাসানী, জিয়াউর রহমানসহ সবার ঐতিহাসিক অর্জনকে স্বীকার করে নিতে হবে। শুধু তাই নয় আবুল হাসেম, শেরে বাংলা, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শরৎচন্দ্র বসু, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ – এঁদেরও বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া উচিত। এছাড়া তাজউদ্দীন, যোগেন মন্ডল এবং ভাসানীর ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরী হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশ একজন জাতির জনকের ধারণা থেকে ‘ফাউন্ডিং ফাদারস’ ধারণার দিকে যাচ্ছে।
এখন প্রশ্ন উঠবে, শেখ মুজিবকে যদি তাঁর ঐতিহাসিক অবদানের মর্যাদা দেওয়া হয়, তবে দেশজুড়ে তাঁর মূর্তি ভাঙা চলল কেন? প্রথমত, বাংলাদেশের বাইরের, বিশেষ করে ভারতের, মানুষ মুজিবের শাসনকাল (১৯৭২-৭৫) সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শেখ মুজিব পাকিস্তান থেকে ফিরে নিজ মতাদর্শের বাইরের লোকজনের পরিসর আর রাখেননি। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) হাজার হাজার নেতা, কর্মীকে হত্যা করেছিল মুজিবের ছাত্র লীগ ও রক্ষী বাহিনী। শুধু তাই নয়, সমস্ত রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা (বাকশাল) কায়েম করেছিলেন। চারটি সরকারি সংবাদপত্র রেখে বাকি সব পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাসিনার গত ১৫ বছরের দানবিক ফ্যাসিবাদী শাসনামল গড়ে উঠেছিল শেখ মুজিবকে দেবতার পর্যায়ে উন্নীত করে। তাঁর সমাধিতে বাঁ হাতে ফুল দেওয়ায় শিক্ষককে গ্রেফতারের মত ঘটনাও ঘটেছে। ফলে জনগণের মধ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ছিল শেখ মুজিব, হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।
সাংস্কৃতিক লড়াই: মূল্যবোধের সংঘাত
বাংলাদেশে শাহবাগ-হেফাজত দ্বন্দ্ব নিরসন কঠিন কাজ। কারণ ঢাকায় চরম বামপন্থী ও চরম দক্ষিণপন্থী – উভয় শক্তিই সবসময় সক্রিয়। এটি বাংলাদেশের রাজনীতির ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন, মাজার ভাঙার ঘটনা এবং এলজিবিটিকিউ গোষ্ঠীর অধিকারের প্রতি মৌলবাদীদের অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক যে শুধু গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিরোধী তা নয়, দেশে অহেতুক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করে জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার পাঁয়তারাও বটে। যদিও সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন নিয়ে এই মুহূর্তে ভারত সরকার যে রাজনীতি করছে তা কূটনৈতিক শিষ্টাচারবিরোধী। এখন দিবালোকের মত পরিষ্কার যে ভারত সরকার ও হাসিনা বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের দুঃখ লাঘবের চেয়ে বরং তাঁদের নিয়ে রাজনীতিই করে এসেছে। এই নিয়ে আমি অন্যত্র বিস্তারিত লিখেছি।
তদারকি সরকার এখনো সালাফি, ওয়াহাবি মৌলবাদীদের হাত থেকে মাজারগুলোকে নিরাপদ করতে পারেনি। তবে ছাত্র নেতৃত্ব মাজারের পক্ষে তাদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী এক্ষেত্রে কোন সক্ষমতার পরিচয় দিতে পারেনি।
গণঅভ্যুত্থানের পরিণতি
গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ দেশটির সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক নতুন সূচনার ইঙ্গিত দেয়। তবে এই পরিবর্তন কতটা টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে তা নির্ভর করছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দূরদর্শিতা এবং সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর। বর্তমান সরকার ছাত্র নেতৃত্ব, বিএনপি সমেত সমস্ত রাজনৈতিক শক্তি ও নাগরিক শক্তির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে গণঅভ্যুত্থানের মূল নীতি ধরে রেখে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়া যায়। এই সরকারের সবে চারমাস চলছে। আশা করা যায় আগামী ২-৪ মাসের মধ্যে সরকার ও ছাত্র নেতৃত্বের আন্তরিকতা ও একাগ্রতা দৃশ্যমান হবে।
উপসংহার
গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতি যে এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, সেকথা অস্বীকার করার উপায় নেই। চ্যালেঞ্জ যেমন আভ্যন্তরীণ, তেমন ভারতের দিক থেকেও। গণঅভ্যুত্থানের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয় ইউনিয়ন যেভাবে সংস্কার প্রক্রিয়ার পাশে থেকেছে, ভারতও থাকলে তা ভারতের জন্যও লাভজনক হত, হাসিনা পরবর্তী সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কেরও নতুন দিগন্ত সূচিত হত। কিন্তু তা ঘটছে না। তবে বাংলাদেশ বসে নেই, থাকবে না। নাগরিক শক্তির উত্থান এবং ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন প্রমাণ করে যে ঢাকায় এক বিশেষ পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিদ্যমান। এখন প্রয়োজন গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পথে এগিয়ে যাওয়ার স্থায়ী রূপরেখা। বাংলাদেশের স্বনামধন্য গবেষক এবং বরিষ্ঠ নাগরিকরা তার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দিন শেষে ছাত্র জনতার জয় হবে, জয় হবে বাংলাদেশের – এই আশা রাখি।
নিবন্ধকার বাংলাদেশি গবেষক ও কলামনিস্ট। মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







