তিনি এসেছেন, সাতদিন ধরে ঘুরছেনও। মুর্শিদাবাদে বহরমপুর শহরের ‘ফোর স্টার’ হোটেল থেকে বেরিয়ে কখনো যাচ্ছেন কান্দি, কখনো নওদা। বহরমপুরে ভোটের ময়দানে নেমে পড়েছেন ক্রিকেট তারকা ইউসুফ পাঠান।

তবে সাতদিনে রাজনীতি নিয়ে একটিও শব্দ খরচ করেননি তিনি। তৃণমূল নেতারা যখন মোদীবিরোধিতায় মঞ্চে ঝড় তুলছেন, যখন রাজ্যের বঞ্চনা নিয়ে গলা ফাটাচ্ছেন, সেইসময় ইউসুফ এসব নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ। যথার্থ তারকার মতই অনুগামীদের সঙ্গে নিজস্বী তোলার কাজেই সময় দিচ্ছেন সবথেকে বেশি। মাঝে মাঝে মিষ্টি করে রাজ্যের সুনাম করছেন, রাজ্যের সংস্কৃতির সুনাম করছেন। বলছেন বহরমপুরের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনায় এগিয়ে যাচ্ছে, এবার খেলাধুলোয় এগোতে হবে।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

২৭ মার্চ বিকেলে যখন বহরমপুর ঋত্বিক সদনে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ডাকা সভায় পড়াশোনায় এগিয়ে যাওয়ার কথা বলছেন, তখন সেখান থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে খাঁ খাঁ করছে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৮ সালে পাশ হয়েছিল মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় আইন। ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন ডঃ সুজাতা বাগচী ব্যানার্জি। এরপর প্রায় প্রতিবছর এসেছেন নতুন উপাচার্য। তিনজন উপাচার্যের পর দায়িত্ব নিয়েছেন ডঃ অচিন্ত্য সাহা। কিন্তু শিক্ষা পরিকাঠামোর কোনো উন্নয়ন হয়নি। রয়েছে ১৮টি ডিপার্টমেন্ট, নেই কোনো স্থায়ী অধ্যাপক। ক্লাস চালাচ্ছেন অস্থায়ী আর অতিথি অধ্যাপকরা, নেই গবেষণার পরিকাঠামোও। এই জেলাতেই স্কুলের ছাত্ররাও ক্লাসঘর ছেড়ে প্রবাসী শ্রমিক হয়ে ভিনরাজ্যের ট্রেনে চাপছেন প্রতিদিন।

এরকম মুর্শিদাবাদে ইউসুফ কখনো বলছেন, খেলা হবে। কখনও জানাচ্ছেন, মানুষের জন্য কাজ করতে চান। কী কাজ? তা কিন্তু খোলসা করছেন না। সিএএ-র মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখন পর্যন্ত একটি কথাও বলেননি তিনি। জানাননি দেশের সংবিধান, গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে নিজের মনোভাবের কথাও।

বহরমপুর কেন্দ্রে অনেক তৃণমূল নেতাই এবার অধীর বধের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ‘জায়েন্ট কিলার’ হিসাবে নিজেদের নাম খবরের কাগজের পাতায়, টিভির পর্দাতেও দেখতে চেয়েছিলেন অনেকে। ইউসুফের নাম ঘোষণার পর তাঁদের কারো কারো মোহভঙ্গ হয়েছে। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ গোপনে প্রশ্ন তুলেছেন প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে। প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেও অভিষেক ব্যানার্জির সঙ্গে বৈঠকের পর পিছিয়ে এসেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ব্যাট ধরেছেন ইউসুফের হয়ে। তবে সেই মাঠে নামা কতটা লোক দেখানো আর কতটা আন্তরিক তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তৃণমূলের অন্দরেও।

বহরমপুরের পাঁচবারের সাংসদের বিরুদ্ধে এবার বিজেপি প্রার্থী করেছে চিকিৎসক নির্মল সাহাকে। হিন্দু-নিবিড় এলাকায় প্রচারে গিয়ে নির্মল হাতিয়ার করছেন সিএএ-কে। এলাকা চিহ্নিত করেই চালাচ্ছেন ভোটের প্রচার। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর লোকসভা এলাকায় ভাল ফল করেছিল বিজেপি। যদিও পৌরসভা এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি নেতারা লড়াইয়ের মেজাজ দেখাতে পারেননি, ফলে ধস নামে ভোটে। সেই ভোট ফিরিয়ে আনাই বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। তবে বহরমপুরে বিজেপির প্রচারের সিংহভাগ জুড়েই রয়েছে তৃণমূলের বিরোধিতা। তৃণমূলবিরোধী হিসাবে বিজেপি যে কংগ্রেসের থেকে শক্তিশালী, তা প্রমাণে মরিয়া বিজেপি নেতারা। জেলার হিন্দু, মুসলমান দুই ধর্মের মানুষের সংখ্যার কথা মাথায় রেখে প্রচারে আনা হচ্ছে বিজেপির সংখ্যালঘু নেতাদেরও।

পাঁচ বারের সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী অবশ্য ভোটের ময়দানে নেমেছেন নিজস্ব মেজাজে। অধীরের জেলা মুর্শিদাবাদের তিন লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে আসন সমঝোতা করে দুটোতে লড়ছে কংগ্রেস, একটায় লড়ছে সিপিএম। বহরমপুর শহরে অধীরের হয়ে ভোট চাইতে মিছিলও করেছে সিপিএম। জোটের নিশ্চয়তা এবারের ভোটে অধীরের বড় শক্তি। তবে তাঁর চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের সরকারি প্রকল্পের উপর নির্ভরশীল ভোটব্যাঙ্ক। বাড়তি পাওনা পঞ্চায়েত থেকে জেলাস্তরের তৃণমূল নেতাদের একাংশের সঙ্গে অধীরের নিজস্ব যোগাযোগ।

তবে অধীর নিজের প্রচারে তৃণমূল এবং বিজেপি – দুই দলকেই একসঙ্গে নিশানা করছেন। সিএএ থেকে দুর্নীতি – সব ইস্যুতেই অভিযোগ তুলছেন তৃণমূল এবং বিজেপির যোগসাজশের। তাঁর বিরুদ্ধে দুজন বিজেপি প্রার্থী রয়েছেন বলেও দাবি করেছেন।

বহরমপুর কেন্দ্রকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূলও। জেলায় এসে নেতাদের ভোট কৌশল বুঝিয়ে গিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। দফায় দফায় বৈঠক করে নেতাদের মনোমালিন্য মেটানোর চেষ্টা করেছেন। বহরমপুরে এসে সভা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও। সবমিলিয়ে টানটান বহরমপুরের লড়াই।

বহরমপুর লাগোয়া মুর্শিদাবাদে অনেক হিসাব কষে লড়তে নেমেছে সিপিএম-ও। বামফ্রন্টের বৈঠক থেকে এই কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণা হয়েছে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের। নাম ঘোষণার রাতেই বহরমপুরে পার্টির জেলা দফতরে এসে উঠেছেন সেলিম। টানা প্রচার করছেন। মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে বড় ভোট রয়েছে কংগ্রেসের। সেই ভোট টানতে সেলিম নিজে নেমেছেন আসরে। যে ডোমকল এক সময় বারবার সিপিএম-কংগ্রেস সংঘর্ষে রক্তাক্ত হয়েছে সেই ডোমকলে দাঁড়িয়ে বলেছেন, অধীর চৌধুরী আর মহম্মদ সেলিম একজোট হলে তৃণমূল, বিজেপিকে হারানো যাবে। অধীরের মত ভোট প্রচারে সেলিমও বারবার বলছেন, সিএএ আর দুর্নীতির কথা। প্রচারে জোর দিচ্ছেন নির্বাচনী বন্ডের ইস্যুর উপর। একইসঙ্গে নিশানা করছেন তৃণমূল আর বিজেপিকে।

দেওয়াল লিখন থেকে ছোট মিছিল, কর্মীসভায় সিপিএম কর্মীরাও বেশি বেশি করে চেষ্টা করছেন কংগ্রেসকে জোড়ার। এই মুর্শিদাবাদ থেকেই ২০২৩ পঞ্চায়েত নির্বাচনে ‘জোট পার্টি’ শব্দবন্ধ রাজনীতিতে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। রানিনগর থেকে ডোমকল পর্যন্ত জোট পার্টি পঞ্চায়েত পর্বে তৃণমূলের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়েছে।

বামফ্রন্ট নেতারা সিপিএম এবং কংগ্রেসের আসন বন্টনকে ‘সমঝোতা’ হিসাবে দেখলেও সাধারণ কর্মীরা নিজেদের জোট কর্মী হিসাবেই নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সেলিম এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর প্রকাশ্যে একত্রে কোনো বৈঠক না করলেও, দুই দলের বুথ স্তরের কর্মীরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক সেরে ফেলছেন। বেশকিছু এলাকায় পতাকা নিয়ে সেলিমের প্রচারে নেমেছেন কংগ্রেস কর্মীরা। তবে কিছু এলাকার কংগ্রেস কর্মীদের দাবি, এখনো আসেনি হাইকমান্ডের নির্দেশ। সেই কর্মীদের সঙ্গেও বৈঠকে জোর দিচ্ছেন স্থানীয় সিপিএম নেতারা।

তৃণমূল মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে গতবারের বিজয়ী আবু তাহের খানকে। নিজের প্রচারে বিজেপির পাশাপাশি সিপিএম, কংগ্রেসকেও এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ তাহের। তাঁর প্রচারে উঠে আসছে কেন্দ্রের বঞ্চনা এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প। মূলত মুখ্যমন্ত্রীর দয়া ও করুণার বর্ণনাই প্রচারের মূল বিষয়।

তবে নিজের মত করে গুটি সাজাচ্ছেন আবু তাহেরও। কংগ্রেসের পুরনো এই নেতা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন পরবর্তী সময়ে। এই কেন্দ্রে তাহেরের শক্তি হল পুরনো সংগঠন এবং সংগঠক হিসাবে নিজের দক্ষতা। যদিও মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৃণমূলের চিন্তার বিষয়। নওদা থেকে জলঙ্গী, ভগবানগোলা থেকে মুর্শিদাবাদ জিয়াগঞ্জ ব্লক এলাকায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে চরমে উঠেছিল তৃণমূলের বিভিন্ন গোষ্ঠীর কোন্দল। অন্যদিকে রানিনগর এক নম্বর ব্লক, হরিহরপাড়া এবং মুর্শিদাবাদ জিয়াগঞ্জ ব্লকের বেশিরভাগ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নির্বাচনের দিন ঘটা অশান্তিও তৃণমূলকে স্বস্তি দিচ্ছে না। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত দখলের ঘটনা যে ২০১৯ ভোটে প্রভাব ফেলেছিল তা মনে করিয়ে দিচ্ছেন তৃণমূল নেতাদের একাংশই।

তৃণমূল নেতাদের আরেক অংশ ভেবেছিলেন শারীরিক অসুস্থতার জন্য এবার অব্যাহতি দেওয়া হবে আবু তাহেরকে। অনেকেই স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রার্থী হওয়ার। সেই স্বপ্নভঙ্গের কী প্রভাব লোকসভার ভোটে পড়বে তা জানেন না তৃণমূল নেতারা। এই কেন্দ্রে বড় ফ্যাক্টর হতে পারেন বিজেপি প্রার্থী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। বর্তমানে মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক গৌরীর প্রভাব রয়েছে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা এলাকায়। তার বাইরে করিমপুর বিধানসভা এলাকাকেও টার্গেট করছেন গৌরী। তবে এই দুই কেন্দ্রের বাইরে সেরকম ভোট বা সংগঠন নেই বিজেপির। গৌরীর প্রচারে মূল বিষয় হিন্দু আবেগ।

জঙ্গিপুর কেন্দ্রে যদিও লড়াইটা এই দুই কেন্দ্রের থেকে অনেকটাই আলাদা। এই কেন্দ্রে তৃণমূল ফের প্রার্থী করেছে খলিলুর রহমানকে। তৃণমূলের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতিও খলিলুর। কংগ্রেস এই কেন্দ্রে ভরসা রেখেছে তাদের পুরনো ভোটের উপরে। প্রার্থী করেছে মর্তুজা হোসেন ওরফে বকুলকে। এই কেন্দ্রে একসময় কংগ্রেসের টিকিটে লড়াই করেছেন প্রণব মুখার্জি। তাঁর ছেলে অভিজিৎ মুখার্জিও ছিলেন এই কেন্দ্রের সাংসদ। তবে তৃণমূলে যোগ দিয়ে কোণঠাসা অভিজিৎ।

কংগ্রেস প্রার্থী মর্তুজা প্রয়াত প্রাক্তন মন্ত্রী আব্দুস সাত্তারের পরিবারের সদস্য। তিনি বর্তমানে লালবাগ মহকুমা কংগ্রেসের সভাপতি। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের টিকিটে ভোটে জিতে পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন তিনি। এরপর ২০০৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে জেলা পরিষদে কংগ্রেসের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। ২০১৩ সালে জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ কর্মাধ্যক্ষ হন। তাঁকে প্রার্থী করে বকুলের আনুগত্যকে দাম দিল কংগ্রেস।

এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী হিসাবে হাওয়ায় ভেসেছিল এক বিড়িশিল্পের মালিকের নাম। তবে সাগরদীঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জেতার পর বায়রন বিশ্বাসের দলবদলের ক্ষত এখনো তাজা। সে পথে আর হাঁটেননি কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। মর্তুজার হয়ে প্রচারে নেমেছে সিপিএম-ও। বিজেপিও চমক দিয়েছে জঙ্গিপুরে। গতবারের প্রার্থী মাফুজা খাতুনকে সরিয়ে প্রার্থী করেছে জেলা সভাপতি ধনঞ্জয় ঘোষকে। প্রচারের প্রথম দিনই তিনি ঘোষণা করেছেন, রামমন্দির ইস্যুতেই প্রচার চালাবেন তিনি।

জঙ্গিপুর লাগোয়া মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রে কংগ্রেস এবার প্রার্থী করেছে আবু হাসেম খান চৌধুরীর পুত্র ইশা খানকে। সুজাপুর ও বৈষ্ণবনগরের প্রাক্তন বিধায়কের পুঁজি গনি খান চৌধুরীর ঐতিহ্য এবং এলাকায় কংগ্রসের প্রভাব। রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা মানুষের সাড়া পেয়েছিল এই কেন্দ্রে। বাড়তি অক্সিজেন পেয়েছে কংগ্রেসও।

আরো পড়ুন ন্যায় যাত্রার কাঁটা বিছানো পথেও মানুষের থেকে ফুল পাচ্ছেন রাহুল

মালদার মানিকচক, ইংরেজবাজার, মোথাবাড়ি, সুজাপুর, বৈষ্ণবনগর এবং মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ও সামসেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে গঠিত এই লোকসভায় একসময় কংগ্রেসের শক্তপোক্ত সংগঠন ছিল। কিন্তু দলের পুরনো নেতাদের একাংশ তৃণমূলে চলে গেছেন আর একাংশ কার্যত বসে গিয়েছেন। কংগ্রেসের সেই নেতাদের ফিরিয়ে না আনলে ইশা খানের পক্ষ এই নির্বাচন জেতা মুশকিল হবে।

তৃণমূল এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে দলে নবাগত শাহনওয়াজ আলি রায়হানকে। তৃণমূলে নতুন হলেও, রাজনীতিতে পুরনো রায়হান চষছেন মানিকচক থেকে সামসেরগঞ্জ। তবে তৃণমূল নেতারা রায়হানকে কতটা ভরসা করছেন তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিগত লোকসভা নির্বাচনে মালদা দক্ষিণে বড় ভোট টেনেছিলেন বিজেপির শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। এবার ফের প্রার্থী বিধায়ক শ্রীরূপা। এবারও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের সম্ভাবনা।

মালদা উত্তরে ধর্মের তাস নিয়েই ময়দানে নেমেছে বিজেপি। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন খগেন মুর্মু। ২০১৯ সালে জিতেছিলেন তিনিই। খগেনকে নিয়ে বিজেপির অন্দরেও রয়েছে দ্বন্দ্ব। তবে জয়ী প্রার্থীকে সরানোর ঝুঁকি নেয়নি বিজেপি। তৃণমূল এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়কে আর কংগ্রেসের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছেন গনি খানেরই শিষ্য মোস্তাক আলম। এই কেন্দ্রে বিজেপিকে রোখা তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। কংগ্রেসের পাওনা মালদা উত্তরেও বামেদের সমর্থন।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

মতামত জানান

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.