১৯৯৩ সাল থেকে রাজস্থানে একটি ধারা চলে আসছে। রাজস্থানের ভোটাররা কখনো বর্তমান শাসকদলকে পরেরবার সরকার চালানোর সুযোগ দেন না। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবু অশোক গেহলতের সামনে সেই ধারা ভাঙার সুযোগ যে ছিল না তা নয়। কোন পাঁচটি প্রধান কারণে রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার গদিচ্যুত হল?
নারী সুরক্ষায় ব্যর্থতা
নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান
প্রিয় পাঠক,
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।
অন্যান্য রাজ্যের মত রাজস্থানেও কংগ্রেসী মুখ্যমন্ত্রী গেহলত মহিলাদের জন্য একগুচ্ছ প্রকল্প এনেছিলেন। গরিব মহিলাদের জন্য গ্যাস সিলিন্ডারে ৫০০ টাকার ভর্তুকি, বিনামূল্যে বাসযাত্রা, বিধবা এবং পরিবারের মহিলা প্রধানের জন্য আর্থিক সহায়তা, ইন্দিরা গ্রামীণ রসুই স্কিম। কিন্তু ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর রিপোর্টে নারীদের প্রতি অত্যাচারের ঘটনার তালিকায় দ্বিতীয় রাজ্য রাজস্থান। যে রাজ্যে অন্তত ৮৮টি বিধানসভা কেন্দ্রে মহিলা ভোটাররা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেখানে মহিলাদের সুরক্ষার প্রশ্নে পিছিয়ে পড়লেন গেহলত।
কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব
শচীন পাইলটের সঙ্গে অশোক গেহলতের ঝগড়ার কথা সবাই জানে। ২০১৮ নির্বাচনের পর অশোক গেহলত মুখ্যমন্ত্রী হলে উপমুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল রাজস্থান প্রদেশ কংগ্রেসের তদানীন্তন সভাপতি শচীনকে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসার বাসনা তাঁর কখনোই যায়নি। আবার গেহলতও মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা কখনো ভাবেননি। ২০২০ সালে শচীন প্রায় ১৮ জন বিধায়ককে নিয়ে বিদ্রোহ করেন। তাতে মুখ্যমন্ত্রী পদ পাননি, উপমুখ্যমন্ত্রীর পদও খোয়া গিয়েছিল। তারপর নিজের সরকারের বিরুদ্ধেই ধরনায় বসেছিলেন শচীন। নির্বাচনী প্রচারেও বিশেষ গা ঘামাননি কংগ্রেসের প্রয়াত নেতা রাজেশ পাইলটের পুত্র। ফল ভুগতে হয়েছে কংগ্রেসকে।
হিন্দুত্বের হাওয়া
কানহাইয়ালালের হত্যাকে হাতিয়ার করে, গোরক্ষকদের অতিসক্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে হিন্দুত্বের কার্ড খেলেছিল বিজেপি এবং সেই খেলায় বাজিমাত করেছে। ধর্মীয় মেরুকরণ রুখতে ব্যর্থ কংগ্রেস। যে দুটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে সেই পোকারান (৮৭.৭৯%) ও তিজারা (৮৬.১১%) কেন্দ্রেই মুসলমান প্রার্থীদের হারিয়ে জয়ী হয়েছে বিজেপি। পরাজিতদের মধ্যে একজন হলেন রাজস্থানের সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের বিদায়ী মন্ত্রী সালেহ মহম্মদ।
দুর্নীতির অভিযোগ
অশোক গেহলত সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মত ঘটনা চোদ্দবার সামনে এসেছে। বিনামূল্যে রেশন কিট বিতরণ কেলেঙ্কারিতেও জর্জরিত হয়েছে কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রীর কাছের লোকদের সরকারি বরাত পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এমনকি গেহলত মন্ত্রিসভার সদস্য রাজেন্দ্র সিং গুঢ়া নিজের সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন। জয়পুরের মেয়র মুনেশ গুর্জরের স্বামীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় মুনেশকে সাসপেন্ড করতে হয়। এইরকম দুর্নীতিকে বড় ইস্যু বানিয়েছে বিরোধীরা। সামাল দিতে পারেননি গেহলত।
গেহলতের দাদাগিরি
গেহলত নিজের গায়ের জোরে যা ইচ্ছে তাই করেছেন রাজস্থান বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইয়ে। খুব বেশি বিধায়ককে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরাতে চাননি। নিজের পছন্দ মত প্রার্থী বাছাই করেছেন। কোনো ইলেকশন স্ট্র্যাটেজিস্টকে নাক গলাতে দেননি ভোট পরিচালনায়। সতেরোজন মন্ত্রী ভোটে দাঁড়ালেও জিতেছেন মাত্র নজন। গেহলতের দাদাগিরির মাশুল গুনতে হয়েছে কংগ্রেসকে। নিচুতলার নেতাদের উপর ক্ষোভকে প্রশমিত করতে চেষ্টা করেননি বা ব্যর্থ হয়েছেন গেহলত। এর ফলে জাতপাতের সমীকরণ মেলাতেও গাফিলতি হয়েছে। যেমন গুর্জররা রাজস্থানে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে চলে গেছেন।
আরো পড়ুন পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফল যা-ই হোক, ২০২৪ শুরু জানুয়ারিতেই
সবমিলিয়ে ২০১৮ সালে খুব কম ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া বিজেপি রাজস্থানে কাউকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ না করেই গেহলতকে ধরাশায়ী করেছে সহজেই।
মতামত ব্যক্তিগত
নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:
আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন।
টুইটারে আমাদের ফলো করুন।
আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ দিন।







