প্রায় হঠাৎ করেই, কারোর সাথে কোনো শলাপরামর্শ না করে, বিরোধী দলগুলোকে না ডেকে, এমনকি শোনা যাচ্ছে তাঁর নিজের দল এবং ক্যাবিনেটকেও না জানিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রতীকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেললেন। অবশ্য শলাপরামর্শ কি তিনি একেবারে কারোর সাথেই করেননি? নিশ্চয়ই করেছেন, বুদ্ধি আদানপ্রদানও করেছেন, তবে সবটাই পর্দার আড়ালে, গোপনে। খেয়াল করলে দেখা যাবে, নরেন্দ্র মোদীর কাজকর্মের এটাই ধরনধারণ। নোট বাতিল থেকে শুরু করে করোনা মোকাবিলা — সবেতেই এই পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটানো হয়েছে। এই প্রতীক পরিবর্তনকে যে আবার বুক ঠুকে স্বীকার করে নেওয়া হচ্ছে তা কিন্তু নয়। “আসলে নীচ থেকে দেখছ বলেই দাঁতগুলো দেখছ”, “না, মানে এটা হল গিয়ে প্রকাশভঙ্গীর ফারাক” — এই ধরণের নানা কথা নানাজনকে দিয়ে বলানো হচ্ছে। কিন্তু সরকারের তরফে এখনো সোজাসাপটা স্বীকার করা হয়নি, যে জাতীয় প্রতীকে পরিবর্তন করা হয়েছে। সবটাই একরকম পিছনের দরজা দিয়ে করা। কিন্তু দরজা যেদিকেই হোক না কেন, কাজটা যে করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়, নেইও। স্বাভাবিকভাবেই এর সমালোচনা হচ্ছে। জাতীয় নীতিতে যেভাবে গত কয়েক বছর ধরে উগ্র রাষ্ট্রবাদের দাপট শুরু হয়েছে, রাষ্ট্রকে চিমটি কাটলেও যেভাবে রাষ্ট্রদ্রোহিতায় অভিযুক্ত করে জেলে পোরা হচ্ছে; সমাজকর্মী, সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত স্বাধীন চিন্তাশীল এবং প্রতিবাদী মানুষের উপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের খাঁড়া নামিয়ে আনা হচ্ছে, তাতে হিংস্র সিংহের এই নয়া প্রতীকই যে ফ্যাসিবাদের জাতীয় নীতির সঠিক প্রতিফলন তাতে সন্দেহ নেই। অন্তত মুখে অশোকের রাজ্যশাসন নীতির যে স্বীকৃতি এতদিন ভারতের শাসকশ্রেণি দিয়ে এসেছে তা থেকে ব্রাহ্মণ্যবাদী শুঙ্গ নীতিতে সরে আসাই যে ভারতের বর্তমান গৈরিক ফ্যাসিবাদী শাসকদের যাত্রাপথ হবে তা তো দিনের আলোর মত পরিষ্কার। হিংস্র সিংহের রক্তচক্ষুর মত আজকের সময়ও তো চিৎকৃত। অভিযাত্রীদের হেঁকে তো সে বলেই দিয়েছে, “এইটে রোডস, এখানে লাফাও।”

উপরের লাইনটা লিখেই ভাবনা শুরু হয় লাফ দেব যে, আমরা লংজাম্পাররা ময়দানটা চিনি কি? এই ল্যাটিন উপকথাটা হেগেল এবং মার্কস তাঁদের লেখায় বহুবার ব্যবহার করেছিলেন বলে একসময় ফুটনোটে তার তাৎপর্য আবিষ্কার করতে হয়েছিল। তখন তো আর গুগল ছিল না। প্রগতি প্রকাশনের বইতে ফুটনোটে লেখা থাকত, ল্যাটিন উপকথা: পুরাকালে এক অ্যাথলিট ছিল যে সবাইকে বলত, “সেই রোডস শহরে একবার এমন একটা লাফ দিয়েছিলাম না!” এই শুনে একবার একজন তাকে বলে, “মনে করো, এইটা রোডস। এখানে লাফাও!”

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

“Hic Rhodus, hic salta!”

আমরাও কি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা উঠলেই, “সেই স্তালিনগ্রাদে ফ্যাসিস্তদের এমন মার দিয়েছিলাম না” — এই জাতীয় কথাই বলে বেড়াই না? ভারতের জমিকে স্তালিনগ্রাদ বানানোর ক্ষমতা কি আমাদের আছে? এই প্রতীক পরিবর্তন নিয়ে যা যা আলোচনা চলছে চারদিকে তার দিকে একটু নজর দিলেই বোঝা যাবে, আমাদের সে ক্ষমতা নেই। শুধু অতীত রোমন্থনই আমাদের ভরসা। অনেকেরই বক্তব্য, সিংহ তো হিংস্র হবেই, রাষ্ট্র তো শ্রেণিশাসনের এবং দমনেরই হাতিয়ার। সুতরাং রাষ্ট্রীয় প্রতীকে কী পরিবর্তন করা হল তাতে আমাদের কী যায় আসে? আর উল্টোদিকে দেখছি অনেকেই সিংহ কী কী রূপে বৌদ্ধধর্মের প্রতীক, মানবতা অহিংসা করুণার, তদুপরি শাক্যসিংহ গৌতম বুদ্ধের রূপকল্প — তা নিয়ে গুচ্ছের অনৈতিহাসিক চর্চা চালাচ্ছেন। সেই সূত্রে মৌর্য সাম্রাজ্য, বিশেষ করে সম্রাট অশোকের রাজত্বকাল নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে আনতাবড়ি লেখালিখি চলছে। কাজের কথাই তো হচ্ছে না, কাজের কাজটা হবে কী করে?

প্রথমেই একথা বুঝে নেওয়া প্রয়োজন, যে সিংহের সঙ্গে বৌদ্ধ তত্ত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। গৌতম বুদ্ধ কোনো প্রতীকে খুব একটা বিশ্বাস রাখতেন না। মূর্তি নির্মাণেও তাঁর ভয়ানক আপত্তি ছিল। কারণ বৌদ্ধ মতে সব কিছুই অনিত্য, ক্ষণস্থায়ী। এমনকি তিনি ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকেও স্থায়ী বিষয় হিসাবে দেখেননি। সমস্ত কিছুকেই শর্তাধীন মনে করেছেন এবং শর্তগুলোও ভীষণরকম অস্থায়ী। তাই প্রতীক, মূর্তি ইত্যাদি যা কিছু ভাবনা, চিন্তা, চৈতন্যকে স্থায়ী করে তুলতে চায় সে সবকিছুরই তিনি বিরোধিতা করেছেন। প্রসঙ্গত বলে রাখি, তাঁর এই মনোভাবে ঈষৎ বিস্মিত এক তার্কিক তাঁকে একবার প্রশ্ন করেছিলেন “আপনার শিক্ষাও কি অনিত্য, অস্থায়ী?” গৌতম উত্তরে তাঁকে একটা প্রশ্ন করেছিলেন। জিজ্ঞাসা করেছিলেন, নদী পারাপারের জন্যে একটা ভেলা তৈরি করে ওপারে যাবার পর তিনি কি ভেলাটা কাঁধে বহন করে নিয়ে যাবেন, নাকি সেটাকে পরিত্যাগ করে এগিয়ে যাবেন? তার্কিক উত্তরে বলেন, তিনি অবশ্যই ভেলাটা আর বহন করে নিয়ে যাবেন না। নদী পার হবার কাজ শেষ হলে সেটার আর প্রয়োজন নেই। তখন গৌতম তাঁকে বলেন, গৌতমের শিক্ষাও ভেলার মতই। তার উদ্দেশ্য আছে, প্রয়োজন আছে। সে প্রয়োজন মেটার পর একমাত্র মূর্খরাই সেটা বহন করে নিয়ে যাবে। নিজের দর্শনের প্রতি যাঁর এমন মনোভাব ছিল, তিনি প্রতীক নির্মাণ করে তাঁর ধারণাকে স্থায়ী করতে চাইবেন — এটা গল্পকথা ছাড়া কিছু নয়।

সিংহ প্রতীকের সঙ্গে অশোকের সাম্রাজ্যেরও কোনো সম্পর্ক নেই। অশোকের স্তম্ভগুলোর সঙ্গে সরাসরি রাজ্যশাসনের কোনো সম্পর্ক ছিল না। সেগুলো ছিল মূলত ধম্মস্তম্ভ। ধম্মের প্রচারই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। স্তম্ভগুলোর স্থান নির্বাচন থেকেও এটা বোঝা যায়। কিন্তু অশোক ‘ধম্ম’ বলতে যেহেতু রাজধর্মই বুঝিয়েছেন, সেহেতু প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে এগুলো রাজ্যশাসনের দর্শনকেই প্রচার করেছে — এমন ভাবলে ভুল হবে না। কিন্তু এই স্তম্ভগুলো খেয়াল করলে দেখা যাবে, শীর্ষে বিভিন্ন পশুর মূর্তি রয়েছে। এখন অবধি আবিষ্কৃত প্রায় তেইশটা স্তম্ভের মধ্যে দশটাতে অশোকের বার্তা খোদিত আছে। কিন্তু কেন তিনি স্তম্ভমস্তকে পশুর মূর্তি স্থাপন করেছিলেন তা অজানাই রয়ে গেছে। কোনো স্তম্ভে একটা সিংহ দেখা যায়, যেমন লৌরিয়া নন্দনগড়, রামপুরওয়া, কোলহুয়া ইত্যাদি। কোনো স্তম্ভে রয়েছে ষাঁড়। যেমন রামপুরওয়া। কোনোটাতে হাতি। যেমন সঙ্কিস। একটাতে রয়েছে কুমির। এটা পাওয়া গেছে বেশনগরে। আর সারনাথের স্তম্ভমস্তকে পাওয়া গেছে চারটে সিংহ, যারা চারদিকে মুখ করে রয়েছে। আমরা জানি, সারনাথেই গৌতম প্রথম শিক্ষাদান শুরু করেছিলেন। সেখান থেকেই তাঁর ভাবনাচিন্তা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। সুতরাং হয়ত ভাবা চলে, সারনাথের স্তম্ভমস্তকটি নির্মাণের সময়ে এই ভাবনা কাজ করেছে। কিন্তু তা অনুমান মাত্রই হবে। কিন্তু সে অনুমাস সঠিক হলেও তার সঙ্গে অশোকের রাজ্যশাসনের সম্পর্ক খুবই ক্ষীণ। আর অশোক সিংহকে বিশেষ কদর করতেন এমন ভাবারও কারণ নেই। বরং হাতির প্রতিই তাঁর কিছুটা পক্ষপাতিত্ব থাকা সম্ভব। কলসীতে অশোকের প্রস্তরে উৎকীর্ণ অনুশাসনে একটা হাতির রূপরেখা চিহ্নিত আছে যার তলদেশে ‘গাজাতামে’ (সর্বশ্রেষ্ঠ পশু) শব্দটা খোদিত আছে।

কিন্তু স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহরু যখন জাতীয় প্রতীক হিসাবে সারনাথের স্তম্ভের সিংহ চতুষ্টয়কে নির্বাচন করলেন এবং নন্দলাল বসুকে তার নকশা বানানোর দায়িত্ব দিলেন, তখন নিশ্চিতভাবে তাঁর মনে অশোকের রাজ্যশাসনের দর্শনটাকে কাজে না হলেও অন্তত কথায় গ্রহণ করার ভাবনা কাজ করেছিল। নেহরু যে ইতিহাসে সুপণ্ডিত ছিলেন তা সর্বজনবিদিত। তিনি দেখাতে চাইলেন, কলিঙ্গ যুদ্ধোত্তর অশোকের মত তিনিও যুদ্ধজয়কে সদ্যোজাত ভারত রাষ্ট্রের নীতি হিসাবে গ্রহণ করবেন না, বরং তাঁর লক্ষ্য হল অশোকেরই মত ধম্মবিজয়। একথা তো সত্য, যে যুদ্ধ পরিত্যাগ করার পরেও অশোকের সময়ে মৌর্য সাম্রাজ্য উত্তরে হিন্দুকুশ থেকে দক্ষিণে সিংহল সীমান্তে তাম্রপাণি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং তা রক্ষিত হয়েছিল। অশোক শুধু নিজেই যে যুদ্ধবিজয় পরিত্যাগ করেছিলেন তা নয়, তাঁর উত্তরসূরিদেরও তিনি এই রাস্তাতেই স্থিত থাকার উপদেশ দিয়েছিলেন (ত্রয়োদশ শিলালিপি)। এখানে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সীমান্তের রাজ্যগুলো বা ‘অন্ত’-এর প্রতি মনোভাব। অশোকের উত্তরে একগুচ্ছ গ্রীক রাজ্য ছিল, যাদের সঙ্গে তিনি দারুণ সদ্ভাব রেখে চলতেন। শুধু তা-ই নয়, ধর্ম ও দর্শনের আদানপ্রদানের পাশাপাশি গোটা গ্রীক সভ্যতার সাথে কলা, সাহিত্য, স্থাপত্য, এবং অর্থনৈতিক আদানপ্রদান শিখরে আরোহণ করেছিল অশোকের সময়ে। আর সিংহলের কথা তো আমরা সবাই জানি। সদ্য স্বাধীন ভারত রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেহরু গোটা পৃথিবীকে হয়ত এই বার্তাই দিতে চেয়েছিলেন, যে সে তার প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধুত্ব ও সদ্ভাব রাখতে চায়। বিশেষ করে পাকিস্তান গঠন, দেশীয় রাজন্যবর্গের রাজ্যগুলোকে নিয়ে ভারত, পাকিস্তানের কুস্তির পরিমণ্ডলে নেহরুর আপাত অশোকনীতি গ্রহণ অবশ্যই ভারত রাষ্ট্রকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছিল, যা এমনকি সেই সময়ে কাশ্মীরেও শক্তিশালী ভারতপন্থী আন্দোলনের জন্ম দিতে পেরেছিল।

আরো পড়ুন অবনীন্দ্রনাথের সেতুতে আবার হাঁটতে হবে

অশোকের রাজ্যশাসন নীতির আর এক গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ধর্মনিরপেক্ষতা। অনেকেই মনে করেন, অশোক যেহেতু নিজে বৌদ্ধ ছিলেন, তাই বোধহয় তাঁর সময়ে বৌদ্ধধর্ম রাজধর্মের চেহারা নিয়েছিল। কিন্তু ঐতিহাসিকরা এ নিয়ে বারবার আলোচনা করেছেন এবং দেখিয়েছেন, অশোক যাকে ‘ধম্ম’ বলেছেন তা অবশ্যই বৌদ্ধ বিচারধারার দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল, কিন্তু তা নিজেই বৌদ্ধধর্ম ছিল না। প্রথমত, অশোক সমস্ত রাজ্যবাসীকে তাঁদের ধর্ম, বিচার, আচার নিরপেক্ষভাবে সমান দৃষ্টিতে দেখেছেন। তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ করেননি (প্রথম মাইনর শিলালিপি)। এটা অবশ্য গৌতম বুদ্ধের রাজ্যশাসনের সাত উপদেশের প্রেরণাতেই। দ্বিতীয়ত, দান ধ্যান তিনি সব সম্প্রদায়কেই সমানভাবে করেছেন। বৌদ্ধদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেননি। ব্রাহ্মণ, জৈন, আজীবিক — সবাইকেই সমানভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এই নীতিমালা ঘোষণা করেছেন (সপ্তম স্তম্ভ অনুশাসন)। ইরফান হাবিব মন্তব্য করেছেন, “আজীবিকদের প্রসঙ্গটি তো দারুণ আগ্রহের বিষয়। কেননা, বৌদ্ধ পরম্পরায় এই সম্প্রদায়ের সঙ্গে তীব্র বৈরিতা ছিল। তবুও অশোক গয়ার নিকটস্থ পাহাড়ে দুটি অথবা তিনটি গুহা এদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন।” এই ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্যে অশোক তাঁর সময়ে অনুষ্ঠিত তৃতীয় বৌদ্ধ মহাসম্মেলনেও উপস্থিত হননি। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেছিলেন অশোকের ব্যক্তিগত গুরু আচার্য মোগলিপুত্ততিস্যা। ইসলামী পাকিস্তানের উল্টোদিকে নেহরু ভারতকে তার শত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এক ধর্মনিরপেক্ষ চেহারা দিতে চেয়েছিলেন। কংগ্রেসের হিন্দু রাজনীতি, নরম হিন্দুত্ব এইসব সত্ত্বেও ভারত রাষ্ট্রের এক আপাত ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের চেহারা গড়ে তোলার জন্যে অশোকের রাজ্যশাসন নীতির এক আপাত স্বীকৃতি নেহরুর কাছে প্রয়োজনীয় ছিল।

এই সবকিছুর ফলে অশোকস্তম্ভের সিংহ চতুষ্টয় জাতীয় প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

তাহলে মোদীর রাজত্বকালে এই হিংস্র সিংহকে দেশের মুখচ্ছবিতে পরিণত করায় কি আমরা সত্যিই নিস্পৃহ থাকতে পারি? তাহলে কি ফ্যাসিবাদী শাসন আর অফ্যাসিবাদী শাসনের কোনো ফারাকই আমরা করব না? আমাদের ভুলে যাওয়া বোধহয় উচিত হবে না, যে মুখে হলেও নেহরুর ভারত যে কিছু প্রগতিশীল নীতিমালাকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিল তার পিছনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের শ্রেণিসংগ্রামে মেহনতী মানুষ এবং কমিউনিস্টদের অগ্রবর্তী অবস্থান অনেকখানি দায়ী। মোদী সেখান থেকে সরে এসে প্রতিক্রিয়ার পথে সজোরে রথ ছুটিয়ে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে অর্জিত দুর্গকেই যদি আমরা রক্ষা করতে না পারি, তাহলে আরও অগ্রসর হয়ে শুধু ফ্যাসিবাদীই নয়, অফ্যাসিবাদী বুর্জোয়া রাষ্ট্রেরও গণ্ডি ছাড়িয়ে শ্রমিক রাষ্ট্র, আধা রাষ্ট্র, এমনকি রাষ্ট্রহীনতার দিকে যাবার কথা কি শুধুই ফাঁকা আওয়াজ নয়? যুদ্ধক্ষেত্রবিহীন যোদ্ধাদের অবসরযাপন নয়?

মতামত ব্যক্তিগত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.