‘কাজ করতে চাইলে গেরুয়া বসন পরেও কাজ করা যায়, ফেজটুপি পরেও কাজ করা যায়। আবার সদিচ্ছার অভাব হলে সাদা ধুতি পাঞ্জাবিতেও কাজ হয় না’

 

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নিজের দলের একমাত্র বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তিনি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বা বিরোধী দল বিজেপি — কারোর সঙ্গেই নেই। মাত্র ২৯ বছর বয়সী এই একলা বিধায়ক এবং তাঁর দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) সম্পর্কে রাজ্যের সংবাদমাধ্যমে বিশেষ লেখালিখি হয় না। নির্বাচন পর্বে নওশাদের দাদা আব্বাস সিদ্দিকির বক্তৃতা ইতিবাচক এবং নেতিবাচক — দুভাবেই বারবার খবরের শিরোনামে এসেছিল। কিন্তু নির্বাচনে দলটা প্রভাব ফেলতে না পারায় যেন সকলেই আগ্রহ হারিয়েছেন। বাম নেতাদেরও আর আইএসএফের নাম করতে শোনা যায় না। অথচ নওশাদ সক্রিয় বিধায়ক হিসাবে সুনাম কুড়িয়েছেন। সম্প্রতি ভাঙড়ে তাঁর আয়োজিত রক্তদান শিবিরে প্রায় তিন হাজার মানুষ রক্তদান করেছেন। তৃণমূলের সাথেও নাকি এলাকায় সম্মুখসমর চলছে আইএসএফের। তাহলে বাংলার রাজনীতিতে আইএসএফ নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী ভাবছে? দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতার মত বিষয়েই বা তাদের অবস্থান কী? সেসব নিয়ে নাগরিকের সাথে কথা বললেন নওশাদ। সাক্ষাৎকার নিলেন অর্ক

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

নওশাদ, ভাঙড় তো আবার নতুন করে উত্তপ্ত হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা আপনার বিরুদ্ধে চোখা চোখা মন্তব্য করছেন। পরিস্থিতি কেমন?
দেখুন, এসব একটু হবেই। গোটা রাজ্যের মধ্যে একমাত্র ভাঙড়েই জনগণের পক্ষের শক্তির বিধায়ক রয়েছে। বাকি সর্বত্র হয় দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল, নয় সাম্প্রদায়িক বিজেপি দলের বিধায়ক। তাই শাসক দলের প্রধান টার্গেট ভাঙড়। পঞ্চায়েত নির্বাচনে ওরা ভাঙড় দখল করতে চায়। কিন্তু আমরাও ভাঙড়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশে আছি, মানুষের জন্য কাজ করছি। এই সেদিন রক্তদান শিবির করলাম, ২৭২০ জন রক্ত দিলেন। শিবিরের বাইরে আরও হাজার হাজার মানুষ রক্ত দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিট না থাকায় নেওয়া যায়নি। এইরকম অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। ব্যাপক অংশের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা ভাঙড়ে কাজ করছি।

আর কেবল ভাঙড় তো নয়, গোটা রাজ্যের অবস্থা দেখুন। লুঠপাট হিংসার রাজত্ব চলছে। রাজ্য সরকারের এমন কোনো নিয়োগ নেই, যা দুর্নীতিমুক্ত। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহর – সর্বত্র দালাল ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঘুষ দিলেই চাকরি। এরা এত সাহস কী করে পায়? নিশ্চয় কোনো চক্র কাজ করছে। শাসকের মদতেই কাজ করছে। কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হচ্ছে, সর্বোচ্চ নেতারা জেলে যাচ্ছেন। এ তো এক ভয়াবহ পরিস্থিতি। এর সুযোগ নিতে বসে আছে বিজেপি। এই তৃণমূল-বিজেপি চক্র ভাঙতেই হবে। এটা কেবল আমাদের লড়াই নয়, গোটা বাংলার লড়াই। রাজ্যটাকে বাঁচানোর লড়াই।

 

‘বামপন্থার আদর্শের মধ্যে ব্রাহ্মণ্যবাদ নেই, তবে বামপন্থী বলে পরিচিত কারোর মধ্যে থাকতে পারে। নয়ত এক সময়ের কড়া বামেদের অনেকেই বিজেপিতে কেন গেলেন?’

 

সিবিআই বা ইডি কি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়? এই এজেন্সিগুলো কি দিল্লির সরকারের কথায় কাজ করে না?
আমি সিবিআই-ইডি বা এই রাজ্যের সিআইডি – সকলকেই নিরপেক্ষ তদন্তকারীর ভূমিকায় দেখতে চাই। দুঃখের বিষয় হল, এদের রাজনীতিকরণ হচ্ছে। ভরসা কমছে মানুষের। আজ থেকে তো নয়, বহুদিন ধরেই। আমরা তো দেখছি, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় এজেন্সি সিবিআইয়ের তদন্তের গতি কখনো বাড়ছে, কখনো কমছে। বিজেপি আর তৃণমূলের সেটিংয়ের খেলা চলছে না তো? আবার দেখুন চিটফান্ড কাণ্ডে ধৃত দেবযানী ম্যাডামের মা সিআইডির বিরুদ্ধে কী ভয়ঙ্কর অভিযোগ তুললেন! এসবই চলছে। আমার নামেও তো এরা যে কোনো কেস দিতে পারে। আমি ভয় পাই না, আমার আদালতে ভরসা আছে। আসল কথা হল, সিবিআইয়ের নামে নানা অভিযোগ আছে, সিআইডির নামেও আছে। কেউ সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।

বিজেপি বারবার অভিযোগ করে তৃণমূল আমলে ব্যাপক মুসলিম তোষণ হয়েছে। আপনার কী মত?
তৃণমূল আমলে মুসলিমদের সর্বনাশ হয়েছে। বাম আমলের চেয়ে অনেক অনেক বেশি খারাপ আছেন বাংলার মুসলিমরা। ঠিক যেমন নরেন্দ্র মোদীর শাসনে ভারতের হিন্দুরা সবচেয়ে খারাপ আছেন, তেমনই। মোদীবাবু মুড়ির উপর জিএসটি বসাচ্ছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেচে দিচ্ছেন। এসবের আঘাত হিন্দুদের উপরে পড়ছে না? মোদী “হিন্দু খতরে মে হ্যায়” বলে ক্ষমতায় এসেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এক প্রকার “মুসলিম খতরে মে হ্যায়” বলেই সরকারটা করলেন। কিন্তু তারপর? কাজের কাজ কিচ্ছু হয়নি। তৃণমূল ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধারের কথা বলেছিল। স্বাস্থ্য, শিক্ষার উন্নয়নের কথা বলেছিল। এসব বলে মুসলিম ভোট এককাট্টা করেছিল। কিন্তু বাস্তবে কিচ্ছু হয়নি। ২০১০ সালের চেয়ে অনেক বেশি খারাপ আছেন রাজ্যের মুসলমানরা। স্কুলে শিক্ষক নেই। ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধার দূরের কথা, এখন ওয়াকফ সম্পত্তি আগের চেয়ে অনেক বেশি দখল হচ্ছে। বিজেপি পার্টি অফিস করে নিয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তির উপরে শিলিগুড়িতে। সরকার সব জানে।

তৃণমূল সরকার এলাকায় এলাকায় মদের দোকান বানিয়েছে। মুসলিমদের মাতাল করে দিচ্ছে। ভাঙড় বিধানসভায় গত ১১ বছরে একটিও নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়নি, কিন্তু একটার পর একটা লাইসেন্স প্রাপ্ত মদের দোকান হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া ভাটি তো অনেক। প্রশাসনের ইশারাতেই তো চলে এগুলো।

আচ্ছা, একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই। গত বছরের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং আপনাদের দল জোট তৈরি করে লড়েছিল। কিন্তু আজ কি রাজ্যে সংযুক্ত মোর্চার আদৌ কোনো অস্তিত্ব আছে?
দারুণ প্রশ্ন। কিন্তু কী বলি বলুন তো! কেউ যেন দোষ নেবেন না। ভোট পরবর্তী হিংসায় বড় দল বিজেপি সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। তারপরেই যে দল সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত, তার নাম আইএসএফ। সংযুক্ত মোর্চার নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম, তেমন সদর্থক উত্তর পাইনি। একাই লড়তে হয়েছে। আর সীতারাম ইয়েচুরি তো বলেই দিয়েছেন, ভোট শেষ জোট শেষ। অনেকে বলছেন এটা নাকি কংগ্রেসকে উদ্দেশ্য করে বলা। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো দলের নাম করে তো আর উনি বলেননি। আমরাও তো জোটের শরিক, তাই কথাটাকে আমাদেরও সম্মান করতে হচ্ছে। ভোটের পর থেকেই আমাদের একটানা আক্রমণ করেছেন বাম এবং কংগ্রেসের মেজো-সেজো-ছোট নেতারা। উল্টোদিকে দেখুন, আমরা কিন্তু জোটের শরিকদের প্রতি একটিও খারাপ মন্তব্য করিনি৷ একসঙ্গে জোট করেই তো লড়েছিলাম। ফলাফল ভাল হয়নি বলে শরিকদের গালি দেব, এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়। আমি নিজেকে বলি সংযুক্ত মোর্চার এমএলএ। তবে বাকি দলের কথা আমি বলতে পারব না।

আরও একটা কথা বলব। বামপন্থীদের অধিকাংশই অসাধারণ মানুষ। তাঁদের থেকে আমাদের বহু কিছু শেখার আছে। বিমান বসুর মত রাজনীতিবিদ বিরল। তৃণমূলে ওঁর ধারেকাছেও কেউ থাকলে দলটা চোরেদের আখড়ায় পরিণত হত না। আমার ২৯ বছর বয়স। বিমানবাবু ৮০ পেরিয়ে গিয়েছেন, সারাটা জীবন মানুষের সঙ্গে আছেন, মানুষের জন্য লড়েছেন। আমি অসম্ভব শ্রদ্ধা করি। কংগ্রেসের প্রদীপ ভট্টাচার্যও শ্রদ্ধেয় নেতা। আমি তো নগণ্য ব্যক্তি, সদ্যোজাত একটি দলের নেতা। তখনো এমএলএ হইনি, কিন্তু জোটের আলোচনায় ওঁরা আমাকে কখনো নিজেকে ছোট বলে বুঝতে দেননি। মর্যাদা পেয়েছি।

‘তৃণমূল সরকার এলাকায় এলাকায় মদের দোকান বানিয়েছে। মুসলিমদের মাতাল করে দিচ্ছে। ভাঙড় বিধানসভায় গত ১১ বছরে একটিও নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়নি, কিন্তু একটার পর একটা লাইসেন্স প্রাপ্ত মদের দোকান হয়েছে’

 

আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে কি সংযুক্ত মোর্চা থাকবে?
পঞ্চায়েতে জোট নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে আমার মতে, বাংলার বর্তমান অবস্থায় জোটের রাজনীতি জরুরি। আমরা বুথস্তরে শক্তি বাড়াচ্ছি। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির ভোটে আমাদের ভয় পাচ্ছে শাসকদল, ভোট আটকে দিচ্ছে। এই তো সময় হাতে হাত মিলিয়ে লড়াই করার।

মুসলিম বা হিন্দু ভোট নয়, আমরা সব মানুষের ভোট চাইছি। বৃহত্তর সামাজিক-রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে চাইছি। দলিত-মুসলিম-আদিবাসী ঐক্য গড়তে চাইছি। আপনি দেখুন, আদিবাসী সমাজের সর্ববৃহৎ উৎসব হল করম। সেই উৎসবের যথাযথ স্বীকৃতি কই? রাজ্য সরকার সেকশনাল হলিডে করল! কেন? প্রাপ্য স্বীকৃতি দেবে না? খবর নিয়ে দেখুন, আদিবাসী উন্নয়নের বরাদ্দ টাকা খরচ হয় না। সংখ্যালঘু উন্নয়নে ৪৭০০ কোটিরও বেশি বরাদ্দ, খরচ করেছে ১২০০ কোটির একটু বেশি, মানে তিরিশ শতাংশও নয়। মাদ্রাসাগুলো ধুঁকছে, জরাজীর্ণ। এটাই তো আসল সময় জোটবদ্ধ হয়ে লড়ার। বিজেপি যাতে কোনো সুযোগ নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করার।

আব্বাস সিদ্দিকিকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে না কেন?
আমাদের দলে যৌথ নেতৃত্ব রয়েছে। সকলেই কাজ করছি। আব্বাস সিদ্দিকিই দলের সর্বোচ্চ নেতা, তিনিই সবকিছুর মূলে। তিনি ব্যাপক জনসংযোগ করছেন, জেলায় জেলায় যাচ্ছেন। ওটাই আসল কাজ। মানুষকে বোকা বানাচ্ছে সরকারগুলো। রাজ্য সরকার দলিত-আদিবাসী-মুসলিমদের বোকা বানাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার বোকা বানাচ্ছে হিন্দুদের। এই ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির বেড়া ভাঙতে হবে। আব্বাস সেই জনচেতনা তৈরির কাজ করছেন।

আরো পড়ুন সুমন দে-কে খোলা চিঠি: প্রসঙ্গ আব্বাস

আইএসএফকে কিন্তু অনেকেই সাম্প্রদায়িক দল বলছেন।
আমাদের কারোর সার্টিফিকেট লাগবে না। আমরা জানি আমরা কী। এটা নওশাদ সিদ্দিকির দল, আবার বিশ্বজিৎ মাইতিরও দল। আসল সমস্যাটা সাংস্কৃতিক। মাথায় টুপি, গালে দাড়ি থাকলে কেউ মানুষের জন্য কাজ করতে পারবে না – এমন কথা সংবিধানে লেখা নেই। কাজ করতে চাইলে গেরুয়া বসন পরেও কাজ করা যায়, ফেজটুপি পরেও কাজ করা যায়। আবার সদিচ্ছার অভাব হলে সাদা ধুতি পাঞ্জাবিতেও কাজ হয় না।

আরও একটা কথা বলি। কেউ যদি মনে করেন কোনো বিশেষ ধর্মকে রক্ষা করার জন্য কাজ করবেন, তাহলে সদিচ্ছা থাকলেও তাঁর সেই চেষ্টা বৃথা যাবে। আমি যা দেখছি, ইদানীং কিছু ধর্মগুরুর জন্য ধর্মের নাম খারাপ হচ্ছে। প্রকৃত ধর্মগুরুরা শান্তি, সৌভ্রাতৃত্বের কথা বলেন। আবারও বলছি, আমাদের কারোর সার্টিফিকেট লাগবে না। আইএসএফ কাজেই জবাব দেবে। আমরা দলিত-আদিবাসী-মুসলিমের কথা বলি। তেমনই দরিদ্র, নিপীড়িত ব্রাহ্মণদের কথাও বলি। উত্তর ২৪ পরগনার আইএসএফের সভাপতি ব্রাহ্মণ। আমাদের দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে লাভ নেই।

‘কোনো ধর্মকে প্রোমোট করার আমাদের প্রয়োজন নেই। ধর্ম বহু শতক ধরে তার মত করে আছে, তেমন করেই থাকুক। মমতার কী দরকার আছে বারবার “আমি ব্রাহ্মণ বাড়ির মেয়ে” বলার?’

 

সম্প্রতি এক মৌলানা আদিবাসীদের সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ করেছি। নির্মল মাজি মমতার সঙ্গে সারদা মায়ের তুলনা করায় নিন্দা করেছি। আল্লাহপাকের সঙ্গে মমতার তুলনারও নিন্দা করেছি। কাউকে ছাড় দিইনি আমরা। কোনো ধর্মকে প্রোমোট করার আমাদের প্রয়োজন নেই। ধর্ম বহু শতক ধরে তার মত করে আছে, তেমন করেই থাকুক। মমতার কী দরকার আছে বারবার “আমি ব্রাহ্মণ বাড়ির মেয়ে” বলার? সনাতনী ধর্মের প্রয়োজন নেই মমতার সমর্থন। একইভাবে ইসলামের অগ্রগগতির জন্য সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর প্রয়োজন নেই। দু হাজার সাতশো কুড়ি জন রক্ত দিল ভাঙড়ে। সকলের রক্তের এক রং। ভেদাভেদ করে লাভ নেই।

সংখ্যালঘুপ্রধান মুর্শিদাবাদ জেলায় এই প্রথম সিপিএম নাম পরিচয়ে মুসলমান কাউকে সম্পাদক করল। এ নিয়ে কিছু বলবেন?
বামপন্থার আদর্শের মধ্যে ব্রাহ্মণ্যবাদ নেই, তবে বামপন্থী বলে পরিচিত কারোর মধ্যে থাকতে পারে। নয়ত এক সময়ের কড়া বামেদের অনেকেই বিজেপিতে কেন গেলেন? অন্য দল নিয়ে আমি কিছু বলব না। তবে এই সমস্যাটা সার্বিকভাবেই আছে। ভাগিদারী জরুরি। কেবল তত্ত্বে নয়, প্রতিদিনের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক জীবনেই জরুরি।

আপনারাই সম্ভবত একমাত্র রাজনৈতিক দল, যারা পশ্চিমবঙ্গে মওলানা ভাসানীকে স্মরণ করে। এর পিছনের ভাবনাটা একটু বলবেন?
কেবল ভাসানী নন। মাতঙ্গিনী হাজরা, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, বিনয়-বাদল-দীনেশ, ক্ষুদিরাম, রবীন্দ্রনাথ – আমরা সকলকেই স্মরণ করি। এগুলো অবশ্যকর্তব্য। এই মানুষগুলোকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ভাসানী একজন কিংবদন্তি, মহান কৃষক নেতা। তাঁকে স্মরণ করা অত্যন্ত জরুরি। আসলে এই সময়টা খুব খারাপ। খুব দ্রুত হতাশা আমাদের গ্রাস করে। এই মানুষগুলোকে যদি জানি, তাঁদের জীবন চর্চা করি, তাহলে আমরা বুঝব হতাশার জায়গা নেই। আমরা তো নৈরাশ্যবাদী জাতি নই, আমাদের মহান সংগ্রামী ঐতিহ্য রয়েছে। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে কারা সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছে? আন্দামান সেলুলার জেলে কত বাঙালি প্রাণ দিয়েছেন? এই ঐতিহ্য, এই শিক্ষা আমাদের মাথায় করে রাখতে হবে।

আপনি সাম্প্রদায়িকতার কথা তুললেন। আপনি তো জানেন, রবি ঠাকুর বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে পথে নেমেছিলেন। তাঁর হাতে ছিল ঐক্যের প্রতীক রাখী। বড় মসজিদের সামনে হজরত আবু বকর সিদ্দিকির হাতে তিনি রাখি পরিয়ে দেন। যাঁর নামে বিখ্যাত ফুরফুরা শরিফ, আমি তাঁর চতুর্থ প্রজন্ম। আমরা সংহতি এবং ভ্রাতৃত্বের এই সংস্কৃতির উত্তরাধিকার বহন করি।

1 মন্তব্য

  1. ভাঙ্গরে রক্তদান শিবির ছাড়া আর কি গঠনমূলক কাজ হয়েছে জানতে চাই। মুসলিম আদিবাসী দলিত সব শ্রেণীর ঐক্য তো খুবই ভাল কথা, কিন্তু স্পেসিফিকালি জানতে চাই নওশাদ বাবু এলাকার সব মেয়েদের শিক্ষার বাবদে কি করছেন বা ভবিষ্যতে কি করবেন বলে প্ল্যান করছেন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.