রাজ্যের সচিবালয়ের নাম নবান্ন। কিন্তু নবান্ন উৎসবের মরশুমে কেমন আছে গ্রামবাংলা? গ্রামে গ্রামে এখন চাষের মরশুম। কারোর ধান কাটার কাজ শেষ। অনেকে ধান বিক্রিও শুরু করে দিয়েছেন। অন্য ফসলের চাষ শুরু হয়েছে। কারোর আবার ধান কাটা, ঝাড়ার কাজ এখনো শেষ হয়নি। রাজ্য সরকারও ধান কেনা শুরু করে দিয়েছে। তা নিয়ে সরকারি প্রচারের শেষ নেই। ব্যানার, মাইক প্রচারে জমজমাট নানা গ্রাম।

তারই সঙ্গে চলছে প্রত্যেকবারের মত ধান কেনা নিয়ে দুর্নীতি, দালাল চক্র, ব্যবসায়ী-চালকল মালিকদের একাংশের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ। তার সঙ্গে জড়িত শাসকদলের মাতব্বর আর কৃষি দপ্তরের একাংশ। প্রত্যেক মরশুমেই দুর্নীতি বন্ধে সরকার নানা পদক্ষেপের ফিরিস্তি দেয়। অর্থাৎ দুর্নীতি যে চলে তা মেনে নেয়। কিন্তু নতুন নতুন পদক্ষেপে কৃষকদের হয়রানিই বাড়ে। দুর্নীতি থামে না।

নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার পাশে দাঁড়ান

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। স্বাধীন মিডিয়া সজীব গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। যে কথাগুলো বলা আবশ্যক এবং যে প্রশ্নগুলো তুলতে হবে, তার জন্যে আমরা আমাদের পাঠকদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
নাগরিক ডট নেটে সাবস্ক্রাইব করুন

~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

সম্প্রতি রেশন দুর্নীতির তদন্তের হাত ধরে চলে এসেছে ধান কেনা নিয়ে দুর্নীতির বাস্তব চিত্র, যা গ্রামবাংলার মানুষের অজানা নয়। চালকলগুলির একাংশ যে তৃণমূলের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, বলা ভাল বেনামে তাদের নেতারাই এসবের মালিক – তা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বীরভূম জেলার যে নেতার প্রতাপে বাঘে গরুতে কিছুকাল আগেও এক ঘাটে জল খেত, তিনি এখন কারাবাসে। তাঁর নিয়ন্ত্রিত চালকলের আসল চেহারা প্রকাশিত হয়েছিল আগেই। এখন রেশন কেলেঙ্কারির তদন্তেও মোটের উপর একই চিত্র উঠে আসছে। ধান কেনা, চালকলে ধান থেকে চাল তৈরির গোটা প্রক্রিয়া এখন অনেকটাই এইসব মাফিয়াদের দখলে।

কৃষক ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, রেশনের চাল চুরি হচ্ছে। খোলা বাজারে চালের দাম বেড়ে যাচ্ছে অথচ উপর উপর সব বন্দোবস্ত ঠিক আছে। সরকারি ধানের ক্রয়কেন্দ্র আছে। সেখানে নানা নিয়মের জট আছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী, সমবায়, কৃষক উৎপাদক গোষ্ঠী, কৃষক উৎপাদক কোম্পানি ইত্যাদির মাধ্যমেও কৃষকের থেকে সরাসরি ধান কেনার ব্যবস্থা আছে। তাকে কেন্দ্র করে ভিড়, হইচইও কম নেই। তবু কৃষকের বঞ্চনার ইতি নেই। অধিকাংশ কৃষক ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ধান কেনার সুযোগ পান না বা পেলেও সকলে সেখানে ধান বিক্রি করেন না। আপাতদৃষ্টিতে সব ঠিকঠাক মনে হলেও গোড়াতেই রয়ে গেছে গলদ।

গতবছর রাজ্য সরকারের ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ লক্ষ টন। সরকারের কাছে ধান বিক্রি হয়েছিল ৫৫ লক্ষ টন। এবছর নভেম্বরে ধান কেনা শুরু হয়েছে। একমাসে বিক্রি হয়েছে ১ লক্ষ ২০ টন। গত বছর প্রথম মাসে বিক্রি হয়েছিল ১ লক্ষ ৯০ টন। অর্থাৎ গতবছরের চেয়ে এবছর কম বিক্রি হয়েছে। যদিও এবছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কিনা তা বলার সময় এখনো আসেনি। এবারে সরকারের ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ৭০ লক্ষ টন। লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে, সহায়ক মূল্যও বেড়েছে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। গতবারের মত এবারেও তা অধরা থেকে যেতে পারে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কতজন প্রকৃত কৃষক সরকারের কাছে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন? যদি সব ঠিকঠাক চলত, তাহলে কৃষক সে সুযোগ পেতেন। অনেক কৃষক সহায়ক মূল্যের চেয়ে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন। আবার সংখ্যায় খুব কম হলেও, কেউ কেউ বেশি দামে বিক্রির সুযোগও পান। চিত্রটা রাজ্যের সব জেলাতেই মোটের উপর এক। হুগলী জেলার কোথাও কৃষক ধান বিক্রি করে এখন পাচ্ছেন কুইন্টালে ১,৭০০ থেকে ১,৭৫০ টাকা। উত্তর ২৪ পরগণার কোথাও কুইন্টালে ১,৮০০ টাকা, বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে ১,৯০০ টাকা। ভাল জাতের ধানের দাম কুইন্টালে ২,৭০০ টাকা। উত্তরবঙ্গে নানা প্রজাতির ধান হয়। সেখানে বৈচিত্র্য বেশি। এখনও দেশি বীজে, জৈব সারে বা খুব কম রাসায়নিক সার ব্যবহার করে ধান চাষের চল রয়ে গেছে অনেকাংশেই। কোচবিহার জেলায় কৃষকরা বঙ্গবন্ধুর দাম পাচ্ছেন কুইন্টালে ১,৮৭৫ টাকা। স্বর্ণ ধানের দাম কুইন্টালে ২,০০০ টাকা। এই দাম কিন্তু এক থাকে না। দ্রুত ওঠানামা করে। এক-দুদিনের মধ্যে দামের অনেক ফারাক হতে পারে। আবার এলাকার ভিত্তিতেও দামের ফারাক হয়। সবটাই চলে বাজার অর্থনীতির নিয়ম মেনে।

এবার খরচের মোটামুটি হিসাব দেখা যাক। যেমন হুগলী জেলার একাংশে কৃষি উপকরণ, শ্রম নিয়ে গড় খরচ পড়েছে বিঘা প্রতি ১০,০০০ থেকে ১০,৫০০ টাকা। উত্তর ২৪ পরগণার সুন্দরবনে আবার বিঘা প্রতি ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা। কোচবিহারেও প্রায় এক। কৃষক এবং এলাকা ভেদে খরচের ফারাক অনেকটাই। অনেকের খরচ কম হলেও ফলন তুলনামূলকভাবে কম। তাই শেষ পর্যন্ত দুরবস্থার বিশেষ পার্থক্য নেই। হুগলী বা উত্তর ২৪ পরগণার যেসব জায়গার খরচ দেওয়া হল, সেখানে বিঘা প্রতি গড় ফলন হয়েছে ৬০০ থেকে ৮০০ কেজি। কোচবিহারে বঙ্গবন্ধুর গড় ফলন বিঘা প্রতি ৮০০ কেজি, স্বর্ণ ধানের ৬০০ কেজি। উত্তরবঙ্গে পাইজাম ধান অনেকে চাষ করেন মূলত নিজেদের খাওয়ার জন্য। এর ফলন বিঘা প্রতি হয়েছে ৬০০ কেজি। এর বাজার দরও বেশি। এখন কোচবিহারে দর চলছে কুইন্টাল প্রতি ২,৩৭৫ টাকা। এতসব হিসাবনিকাশ উল্লেখ করার কারণ হল, সরকারের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণে খরচ ও ধানের প্রজাতির এই বৈচিত্র্য বিবেচিত হয় না। সেই প্রসঙ্গে আসার আগে কৃষকদের লাভ লোকসানের দিকটা দেখে নেওয়া যাক।

কৃষি উপকরণের খরচের সঙ্গে রয়েছে আরও অনেক বাড়তি খরচ। ভাগে, চুক্তিতে, জমি ভাড়া বা বন্ধক নিয়ে চাষ করলে খরচ অনেকটা বাড়ে। জমি মালিককে ফসল বা টাকা দিতে হয়। হয়ত একজন কৃষক বিঘা পিছু ৭২০ কেজি ধান ফলিয়েছেন। জমি মালিককে তার সিকি ভাগ (এক চতুর্থাংশ) দিতে হলে, বিক্রির জন্য কৃষকের কাছে থাকবে মাত্র ৫৪০ কেজি ধান। জমির নথি ঠিক না থাকলে কৃষি ঋণ, কৃষকবন্ধু – কিছুই মিলবে না। ভরসা মহাজন বা মাইক্রোফিন্যান্স কোম্পানির থেকে উচ্চ সুদের হারে নেওয়া ঋণ। মহাজনি কারবারের পাশাপাশি গ্রামে মাইক্রোফিন্যান্স কোম্পানিগুলির রমরমা বুঝিয়ে দেয়, সরকারের কৃষি ঋণ থেকে কতজন কৃষক বঞ্চিত থাকেন। হিসাব করলে দেখা যায়, ২০০০-২২০০ টাকা কুইন্টাল দরে ধান বিক্রি করেও অনেকের লোকসান হয়।

এই মরশুমে ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি ২,১৮৩ টাকা। সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে বেচলে বাড়তি ২০ টাকা পাওয়া যাচ্ছে। হিসাব বলে দিচ্ছে, এই দামে ধান বেচেও বিশেষ লাভ নেই। সরকারি কেন্দ্রে ধান নিয়ে যাওয়া, বস্তাবন্দি করার জন্য বাড়তি খরচ রয়েছে। তারই সঙ্গে রয়েছে কিছু ধান বাদ দেওয়ার অলিখিত নিয়ম। সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছে, গত ৬ ডিসেম্বর হুগলী জেলার গোঘাটে কৃষকরা পথ অবরোধ করেছিলেন। অভিযোগ, কেনার সময়ে কুইন্টাল পিছু পাঁচ কেজি করে ধান বাদ দেওয়া হচ্ছে। খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা কৃষক ও চালকল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঠিক হয় কুইন্টাল পিছু চার কেজি ধান বাদ দেওয়া হবে। অর্থাৎ সরকারই ধান বাদ দেওয়াকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। অনেক কেন্দ্রেই কুইন্টালে সাত থেকে আট কেজি ধান বাদ দেওয়া হয়। তাই সরকার যে দাম ঘোষণা করে, সব নিয়ম মেনেও সেই দাম মেলে না। চালকল মালিকদের ভূমিকা নিয়ে কৃষকদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। আবার ধান ভাঙানোর বরাতে অসাম্য নিয়ে চালকল মালিকদের একাংশেরও সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেই অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত শাসকদলের একাংশ।

যাঁরা সরকারি কেন্দ্রে ধান বিক্রির সুযোগ পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের অনেকেই তাই সরকারের কাছে ধান বিক্রি করেন না। আবার সরকারের কাছে ধান বিক্রি করার সুযোগ পান না অনেক কৃষক। নাম নথিভুক্ত করার হাজার একটা হ্যাপা থাকে। কৃষকবন্ধু পোর্টালে নাম থাকতে হবে, তা আবার আপডেট করে রাখতে হবে। আধারের বায়োমেট্রিক তথ্য ঠিক থাকতে হবে। এসব জটিলতায় অনেকেই নাম নথিভুক্ত করেন না। এত দৌড়াদৌড়ি করলে চাষ করবেন কখন? এসবই নাকি দুর্নীতি দূর করতে। অথচ এই নাম নথিভুক্তকরণ নিয়ে গড়ে উঠেছে দালাল চক্র। নাম নথিভুক্ত করার গুণাগার কম নয়। সরকার দুর্নীতি দমনের নামে যা করে, তাতে নতুন নতুন দুর্নীতির রাস্তা খুলে যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল ইন্ডিয়া থেকে রাজ্য সরকারের ধান কেনার নীতি – সবেতেই এক চিত্র।

কৃষকবন্ধুর সুযোগ কতজন কৃষক পান? তার জন্য নিজের নামে জমি, বর্গা রেকর্ড বা পাট্টা থাকতে হবে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমিতে পঞ্চায়েত প্রধানের দেওয়া উত্তরাধিকারের শংসাপত্র চাই। সেসব পেতে কম কাঠখড় পোড়াতে হয় না। বর্গায় নাম না থাকা বা পাট্টা না পাওয়া কৃষকের তো সেসবের সুযোগই নেই। তাই সেইসব ভাগচাষি, খাস জমির চাষি, চুক্তি, ভাড়াটে বা জমি বন্ধক নিয়ে চাষ করা কৃষকের জন্য কোনো সুযোগ নেই। না আছে সরকারের কাছে ধান বিক্রির সুযোগ, না কৃষি ঋণ বা কৃষকবন্ধুর সুযোগ। অথচ এমন কৃষকের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। মহাজনের কাছে অভাবী বিক্রিতেও অনেক কৃষক বাধ্য হন।

আরো পড়ুন এখন চৈত্র মাস, পেঁয়াজ দামি অথচ চাষির সর্বনাশ

ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করতে চড়া সুদে ঋণের খরচ, সার, বীজের কালোবাজারি – এসবের হিসাব সরকার ধরে না। ধরলে সরকারি নীতির গলদ আর দুর্নীতি রুখতে ব্যর্থতা স্বীকার করতে হয়। অথচ সারের কালোবাজারি বছরের পর বছর বেড়েই চলেছে। সারের প্যাকেটে উল্লেখ থাকা মূল্যে কৃষক সার পান না। সারের দামও ওঠানামা করে। বড় কৃষকের হাতে অর্থ থাকে বলে বাজার দর কিছুটা কম হলে বেশি করে সার কিনে রাখেন। প্রান্তিক, ক্ষুদ্র কৃষকের সেই সুযোগ নেই। সংবাদপত্রে এই কালোবাজারির খবর প্রায়ই প্রকাশিত হয়। কৃষি দপ্তরের কর্তা, শাসকদলের মাতব্বররা সব জানেন। লোক দেখাতে মাঝে মাঝে হানা দেন। কিন্তু কালোবাজারি থামে না।

ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণে মুড়ি মিছরির এক দর। সব ধানেরই এক দাম। উন্নত প্রজাতির ধানের দাম বেশি হলেও সরকারের কেনার ব্যবস্থা নেই। জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা ধানের ক্ষেত্রেও তাই। অনেক ক্ষেত্রেই ফলন কম বলে, বেশি দামে বিক্রি করা ছাড়া কৃষকের উপায় থাকে না। সরকারের কাছে বিক্রি করলে লোকসান, ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করলেও অনেকসময়েই লাভ হয় না। এবছরের জুলাই মাসে একটি সংবাদপত্রে খবর বেরিয়েছিল, সরকারি দামের থেকে বেশি দাম পাওয়ায় আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির ধান বিহারে বিক্রি হচ্ছে। সরকারি কেন্দ্রের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাচ্ছে না। এইসব জেলার চালকলগুলিতেও তাই ধানের আকাল। ২০২২ সালের জুলাই মাসে কোচবিহার জেলার দশটি চালকল মোট ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ধান কিনেছিল। এবছর সেইসময় তাদের কাছে মজুত ছিল মাত্র ৫০০ মেট্রিক টন ধান। সরকারি কেন্দ্রে ধান বিক্রি কম হওয়ায় তারা বেশি ধান পায়নি। বিহারে বেশি দাম পাওয়ার যে লাভ, তার গুড়টা কিন্তু পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কৃষকদের বিশেষ লাভ হচ্ছে না। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য সঠিকভাবে নির্ধারিত হলে এই সমস্যা হত না।

ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কম করে নির্ধারণ করা, নিয়মের জটিলতায় বহু কৃষককে সরকারি কেন্দ্রে ধান বিক্রির সুযোগ না দেওয়া, উন্নত প্রজাতির ধান বেশি দামে কেনার ব্যবস্থা না করা – সবই সরকার হিসাব কষে করে। এমন করে থাকে কৃষিপণ্যের বাজারে ব্যবসায়ী, বড় বড় কোম্পানির ঢোকার সুযোগ করে দিতে।

বছরের পর বছর কৃষক ফসলের দাম না পেলে বড় বড় কোম্পানিরই সুবিধা। আদানি গোষ্ঠী গত বছরেই রাজ্যের রাইস মিল কিনতে শুরু করেছে। জৈব চাষ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নানা প্রচার, মেলা করা হয়। তাতে বিস্তর অর্থও খরচ হয়। কিন্তু কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়ার ব্যবস্থা হয় না।

আপাতদৃষ্টিতে সরকারের নীতি ভুলে ভরা মনে হলেও এর পিছনে কাজ করছে বাজার অর্থনীতির দর্শন। কৃষক সেই অর্থনীতির অসহায় শিকার। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য সঠিকভাবে নির্ধারণ না করলে এবং জমির নথি না থাকা ভাগ, চুক্তি, ভাড়াটে, জমি বন্ধক নিয়ে চাষ করা প্রত্যেক কৃষককে সরকারের কাছে ধান বিক্রির সুযোগ না দিলে কৃষি ব্যবস্থায় কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে। ধান কেনা নিয়ে যতই ঢাক পেটাক, সরকার আসলে সেটাই চায়।

মতামত ব্যক্তিগত

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.