দেশ হতে কোরোনা উধাও হয়েচে। মাস্ক থুতনি হতে বুকে নাবচে, বাবু বিবি মলে পার্লারে যাচ্চেন, মাতালে শুঁড়িখানা, অ্যাক্টরে স্টুডিও যাচ্চে। সেলেব্রিটি সম্পাদকেরা কোরোনাকে কাগচের ভিতরের পাতায় গুঁজে দিচ্চেন। ভাইরাসটিকে ইস্কুলে ও কালেজে আটক রাখা হয়েচে। কোরোনা বুনো ওল তো গবর্নমেন্ট বাঘা তেঁতুল। তার রেলে চেপে ছড়িয়ে পড়ার ষড়টিও বানচাল কত্তে শুভঙ্করী আঁক কষে দু চাট্টি মোটে ট্রেন চালানো হচ্চে। পাবলিক এম্নি ঢ্যামনা যে তাদের জন্যে প্রধান সেবকবাবু আর ছোট সেবক দেবীর পরান কেমন কাঁদচে, সেটি না বুঝে মদ্যে মদ্যে লাইনে বসে পড়ে মিছে হুজ্জত কচ্ছে। তবে পাঠক কোরোনা নেই বলে রগড়ের অভাব আচে ভাববেন না। কোরোনা নেই, ভ্যাক্সিন আচে। ভ্যাক্সিন নিয়ে পুব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ — চাদ্দিকেই বেজায় রঙ্গ হচ্চে।

প্রধান সেবকবাবুকে খোঁচড়ে খবর দিলে, লোকে ভ্যাক্সিন না পেয়ে গোঁসা কচ্ছে, এদানি ভোট দিচ্চে না। বাবুর ভগবানে ভক্তি আচে কিনা মন্দির ট্রাস্ট জানে, কিন্তু ভোটারে ভক্তিটি খাঁটি। তার দরুন তিনি দাড়ী চুমরে বল্লেন ‘সকলকে ফ্রিতে ভ্যাক্সিন দেয়া হবে।’ দেবকুল, থুড়ি সাংবাদিককুল, পুষ্পবৃষ্টি কল্লেন। পালাগানের যশোদা যেমন গোপালের মাখন চুরি মাপ করে দিয়ে কেঁদে বুক ভাসান, ভক্তগণ তেম্নি কেঁদে আকুল হলে। যাদের বাপ-মা-ভাইবোন আদি মরেচে, তাদের কান্না আর ভক্তদের চোকের জলে ভেদ করা দায় হল। এদিকে দেশে নিন্দুকের অভাব নেই, তাদের অ্যান্ড্রয়েড, আইফোনে ক্যালকুলেটরের ছড়াছড়ি কিন্তু প্রধান সেবকে বিশ্বেস নেই। নিন্দুকেরা দিনরাত অখাদ্য কুখাদ্য খাচ্চে আর খুঁচিয়ে প্রধান সেবকের ভুল বার কচ্ছে। তারা হিসেব কষে গ্রাফ এঁকে বল্লে ভ্যাক্সিন তেমন দেয়াই হচ্চে না। এম্নি অ্যান্টিন্যাশনাল দেশে গিজগিজ কচ্ছে জানলে স্বয়ং রামচন্দ্র অযোধ্যার উপর অভিমান করে বন ওয়াপসি কত্তেন, ভালমানুষ প্রধান সেবক রাগ করবেন না এ বা কি কতা? তবে তিনি ছেলে বয়সে সুদু হাতে কুম্ভীর জব্দ করেচেন, দু চার নিন্দুক জব্দ করা বাম হাতের খেল। একটি দিনে কয়েক কোটি লোকেরে ভ্যাক্সিন দিয়ে প্রুভ কল্লেন তিনি কল্কি অবতার না হোক কলকে অবতার বটেন। পরদিন হতে ভ্যাক্সিন ফের কমে গ্যাচে বলে গোল করা হয় না। প্রধান সেবক কি কেবল এ পোড়া দেশের নেতা? ফরাসী নকশাল জজসায়েব আর ব্রেজিলের কেরেস্তান বাদে সকলেরই তিনি গুরু। তাদের চোকে ইমেজটি তো রক্ষে হয়েচে। গ্লোবাল মার্কেটে কাঁচা তেলের দাম ওতেই কমে যাবে একন।

নাগরিকের পক্ষ থেকে আবেদন:

 প্রিয় পাঠক,
      আপনাদের সাহায্য আমাদের বিশেষভাবে প্রয়োজন। নাগরিক ডট নেটের সমস্ত লেখা নিয়মিত পড়তে আমাদের গ্রাহক হোন।
~ ধন্যবাদান্তে টিম নাগরিক।

প্রধান সেবকের দাড়ী বাংলায় কলকে পেলে না। ঘোষজা, দাশগুপ্তজা, চাটুজ্জে বাড়ীর মা জননী, নাউনবাবু প্রভৃতি মিলে তেনাকে দেবেন ঠাকুরের পো সাজাতে চেয়েছিলেন। ভোটারে স্নো হোয়াইটের বামন ভাবলে। তবে প্রধান সেবকের স্বনির্ভর হবার অ্যাডভাইস দেববাড়ীর বয়াটে ছেলেটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেচে। ভ্যাক্সিন ক্যাম্প কত্তে তিনি ভ্যাক্সিনের অপেক্ষায় থাকেননি। শিশির ভিতর যা হোক পুরে দু পয়সা কামিয়েচেন। আমজনতাকে বেকুব বানিয়ে বাবুর শখ মেটেনি, হিরোইন লিডারকেও কাঁচকলা দ্যাকাতে গিয়ে গাড্ডায় পল্লেন। শোনা যাচ্চে পিপীলিকার পাখার কাহিনীটি যকন ইস্কুলে পড়ানো হচ্চিল তকন বাবুটি শেষ বেঞ্চে বসে মাধুরী দীক্ষিত তেনার তুতো দিদি — এই গপ্পোটি শুনিয়ে এক মেধাবী ছাত্রের ট্রান্সলেশন খাতাটি হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। এ বচ্ছর তার মাশুল দিতে হল। তা বলে বাবুর এলেমে আমল না দেয়া চলে না। তিনি গেরেফতার হয়েচেন কি হননি, শিশিতে ভ্যাক্সিনের বদলি যা দেয়া ছিল সেটি যে ক্ষতিকারক নয় সে সার্টিফিকেট ছোট সরকার দিয়ে ফেলেচেন। এমন স্বনির্ভর মহাপুরুষটি অ্যাদ্দিন কলকেতা আলো করে থেকেচেন, সেবক দেবী ও তেনার চ্যালারা কিন্তু টেরটি পাননি। এম্নি ট্যালেন্টকে বিভূষণ না করে কারাভূষণ করা হয়েচে। এমনধারা অনাচার লর্ড হেস্টিংসের আমলে বাংলায় শেষ দ্যাকা গিয়েচিল।

দুই মাস আগে ভোটের পরে আপনাদের হুতোম ভেবেছিলেন রগড়ের সিজন খতম হয়েচে। একন দ্যাকা যাচ্চে কমেডির নেশায় এক বৎসর তেতো ট্র্যাজেডি গিলেও দেশের নেশা একুনো সরেস। দুনিয়াসুদ্ধ লোকে ময়দানে বসে খেলা দেকচে, কনসার্টে নাচানাচি কচ্ছে, এ দেশের বাবু বিবি অনন্ত লকডাউনে ওয়েব সিরিজ দেকে খাসা আচেন। একন অব্দি সবচে হিট ওয়েব সিরিজ দুটির নাম ‘দু নৌকায় এক নেতা’ ও ‘মন্ত্রী আসে মন্ত্রী যায় কেউ জানে না কী কাম পায়’। পয়লা সিরিজটিতে দ্যাকা যায় নেতারা সকালে এক দল হতে অন্য দলে যাচ্চেন, সন্দেবেলা গোধূলি লগ্নে গোমাতাদের ল্যাজ ধরে পুরাতন দলে ফিরচেন। অন্যটিতে একটি দেশে হাতুড়ে হতে খুনে পাগল, সকলকেই মিনিস্টারি দেয়া হয়েচে আর কোরোনায় কজন মল্ল কি বাঁচল, কারা খামোকা হাজতে অক্কা পেল, লোকে খেতে পাচ্চে কিনা — ওসব ফালতো হিসেব ভুলে সকলে খোল করতাল সমেত সদ্দার মিনিস্টারের গুণগান কচ্ছে।

দুটিই বিঞ্জ ওয়াচের পক্ষে খাসা। তবে চোকে জল এলে হুতোমকে দোষ দেবেন না। ভূতের খিদে পায় না, ভূতের বাড়ীর লোক প্যান্ডেমিকে মরে না, তেলের দামেও ভূতের ঘন্টা। অতেব আপনাদের নাকের জলে চোকের জলে দশা দেকে হুতোম হাসলে দোষ হয় না।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.